রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
উত্তর : এমতাবস্থায় ঐ নারীর উপর আত্মরক্ষা করা ফরজ। তিনি কিছুতেই ধর্ষকের কাছে নিজেকে অর্পণ করবেন না। এজন্য যদি দুর্বৃত্তকে হত্যা করা সম্ভব হয়, তবে নিজেকে বাঁচাতে তাই করবে। উদ্যত ব্যক্তিকে হত্যা করলে ঐ নারী দায়ী হবেন না। এমনকি কোন নারী প্রাণান্তকর চেষ্টা করার পর যদি নিজে নিহত হয়, তবে তিনি শহীদের মর্যাদা পাবেন। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, مَنْ قُتِلَ دُوْنَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيْدٌ وَمَنْ قُتِلَ دُوْنَ أَهْلِهِ أَوْ دُوْنَ دَمِهِ أَوْ دُوْنَ دِيْنِهِ فَهُوَ شَهِيْدٌ ‘যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার জীবন রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার দ্বীন রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ’ (আবূ দাঊদ, হা/ ৪৭৭২)। অন্য হাদীছে এসেছে, উবাইদ ইবনু উমাইর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

أَنَّ رَجُلًا أَضَافَ نَاسًا مِنْ هُذَيْلٍ فَأَرَادَ امْرَأَةً عَلَى نَفْسِهَا فَرَمَتْهُ بِحَجَرٍ فَقَتَلَتْهُ فَقَالَ عُمَرُ وَاَللهِ لَا يُودَى أَبَدًا

‘হুযাইল গোত্রের এক ব্যক্তি কিছু লোককে মেহমান হিসাবে গ্রহণ করল। সে ব্যক্তি মেহমানদের মধ্য থেকে এক মহিলাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছিল। তখন সে মহিলা তাকে পাথর ছুড়ে মেরে লোকটিকে হত্যা করল। সে মহিলার ব্যাপারে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! কখনই পরিশোধ গ্রহণ করা হবে না (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/১৭৯১৯)।

ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘এইটুকু যখন সাব্যস্ত হল তখন ঐ নারীর আত্মরক্ষা করার সামর্থ্য থাকলে সেটা করা তার উপর ওয়াজিব। কেননা দুর্বৃত্তকে সুযোগ দেয়া হারাম। এক্ষেত্রে আত্মরক্ষা না করাটাই তো সুযোগ দেয়া’ (ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, ২০তম খণ্ড, পৃ. ৩৭৯)। আর যদি কোন অসহায় নারী নিহত হওয়ার আশংকায় ধর্ষণের শিকার হয় তাহলে তার উপর কোন অপরাধ বা শাস্তি বর্তাবে না। তবে ধৈর্যধারণ করে মৃত্যুকে বরণ করে নিলে সেটা তার জন্য উত্তম হবে। কিন্তু মৃত্যুকে বরণ করে নেয়া তার উপর ফরজ নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَمَنِ اضۡطُرَّ غَیۡرَ بَاغٍ وَّ لَا عَادٍ فَلَاۤ اِثۡمَ عَلَیۡہِ ‘অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৭৩, বিস্তারিত দ্র. সুনানে বায়হাক্বী, হা/১৭০৫০; ইবনুল কাইয়্যিম, আত-তুরুকুল হুকমিয়্যা, ‘অনুচ্ছেদ- ১)। তবে ধর্ষকের শাস্তি হল, তাকে তাৎক্ষণিক হত্যা করতে হবে অথবা শূলে চড়িয়ে মারতে হবে কিংবা বিপরীত পক্ষে হাত-পা কেটে দিতে হবে (মায়েদাহ ৩৩)।


প্রশ্নকারী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।




প্রশ্ন (১২) : ইসলাম ‘ক্রেডিট কার্ড’ সম্পর্কে কী বলে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : জনৈক আলেম বলেন, মসজিদে প্রবেশ করে ইচ্ছা করে ছালাত না পড়ে বসলে কোন গুনাহ হবে না, কারণ এটা নফল ছালাত। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মাকহূল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে লোক ‘লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ওয়ালা মানজায়া মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি’ পাঠ করে, আল্লাহ তা‘আলা তার হতে সত্তর প্রকারের অনিষ্ট অপসারণ করেন এবং এগুলোর মাঝে সাধারণ বা ক্ষুদ্র বিপদ হল দরিদ্রতা। হাদীছটি কি আমলযোগ্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : শরী‘আতের দৃষ্টিতে খাওয়া ও ছাদাক্বাহ করার ক্ষেত্রে কুরবানীর পশুর গোশত বণ্টন করার পদ্ধতি কীরূপ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : শরী‘আতে শরীরে ট্যাটু করা হারাম। কিন্তু ভিটিলিগো বা শ্বেত রোগের চিকিৎসা হিসাবে ট্যাটুর মত করে কালার করা হয়; যা ত্বকের পূর্বের রং ফিরিয়ে আনে। এমতাবস্থায় শ্বেত রোগ থেকে মুক্তির জন্য এমনটি করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : হজ্জ থেকে প্রত্যাবর্তনকারী হাজ্জীদের স্বাগত জানানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : কোন ব্যক্তি মসজিদ করে দিলে তার নামে মসজিদের নামকরণ করা যাবে কি? ঐ ব্যক্তিকে মসজিদের মুতাওয়াল্লী নির্বাচন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : আল্লাহকে ‘খোদা’ বলে ডাকা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : তায়াম্মুমের সঠিক পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : আমরা জানি, নানাবিধ চিকিৎসায় ঔষধ হিসাবে এবং রান্নায় স্বাদ বৃদ্ধি কারণে ‘জায়ফল’ একটি অন্যতম জনপ্রিয় মসলা। এতে কোন মাদকতা নেই বা ক্ষতিকর কোন বৈশিষ্ট্য নেই। কিন্তু এ নিয়ে আলেমদের মাঝে দ্বিমত দেখতে পাই, কেউ বলে হারাম আবার কেউ বলে হালাল। এখন প্রশ্ন হল- জায়ফল খাওয়া কি হারাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ছিয়াম অবস্থায় ক্যাথেটার ও সাপোজিটোরী ব্যবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে বলেছেন, গর্ভবতী মায়ের পেটে কী আছে তিনি ছাড়া কেউ জানে না। কিন্তু বর্তমানে আল্ট্রাসনোগ্রাফীর মাধ্যমে জানা যাচ্ছে। কুরআনের উক্ত আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ