রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন
উত্তর : মানুষের মনে দুঃখ, ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক ক্লান্তি আসা একদম স্বাভাবিক মানবীয় অনুভূতি। নবী-রাসূলগণও মানসিক ব্যথায় ভুগেছেন। নবী ইয়াকূব (আলাইহিস সালাম) সন্তান হারানোর শোকে কাঁদতে কাঁদতে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন (সূরা ইউসুফ ৮৪)। মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর জীবনেও এমন সময় এসেছিল, যাকে ইতিহাসে ‘আমুল হুজন’ বা ‘শোকের বছর’ বলা হয় (আর রাহীকুল মাখতুম, আমুল হুযন অধ্যায়)। আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, তিনি মানুষকে ভয়, ক্ষুধা, ধন-সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি দিয়ে পরীক্ষা করবেন। যেমন তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব; আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৫৫)। এটা হতে পারে গোনাহ বা পাপ কাটানোর মাধ্যম। মানসিক কষ্ট বা বিষন্নতার ফলে বান্দার আগের পাপসমূহ মুছে যায়। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘কোন মুসলিম যখনই কোন ক্লান্তি, অসুস্থতা, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, কষ্ট কিংবা শোকে আক্রান্ত হয়- এমনকি তার পায়ে একটি কাঁটা বিঁধলেও আল্লাহ তা‘আলা এর মাধ্যমে তার গোনাহগুলো ক্ষমা করে দেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৬৪১)।

অনেক সময় বান্দার অবাধ্যতা, গোনাহে লিপ্ত থাকা কিংবা আল্লাহর নাফরমানির কারণে মানসিক শাস্তি বা দুশ্চিন্তাকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর একটি শাস্তি বা সতর্কবার্তা হিসাবে পাঠাতে পারেন। এটি মানুষকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার এবং তওবা করার তাকীদ দেয়ার একটি মাধ্যম। মহান আল্লাহ বলেন, وَ مَنۡ اَعۡرَضَ عَنۡ ذِکۡرِیۡ فَاِنَّ لَہٗ مَعِیۡشَۃً ضَنۡکًا وَّ نَحۡشُرُہٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ  اَعۡمٰی ‘আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য হবে সংকীর্ণ জীবন এবং ক্বিয়ামতের দিন আমরা তাকে অন্ধ অবস্থায় উঠাব’ (সূরা ত্বো-হা : ১২৪)। সুতরাং প্রত্যেক দুশ্চিন্তাকে নিজের পাপের কারণ হিসাবে ধরা উচিত নয়।  আল্লাহ তা‘আলার পরীক্ষা বা পাপ মোচনের জন্য আল্লাহ তা‘আলা এই সমস্ত বিপদ দিতে পারেন। দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই দু‘আ করতেন,

اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে, ঋণের ভার এবং মানুষের প্রাধান্য ও নিপীড়ন থেকে আশ্রয় চাই’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩৬৯)।


প্রশ্নকারী : গোলাম রাব্বি, বরিশাল।





প্রশ্ন (৩১) : একশ্রেণীর আলেম জোরালোভাবে প্রচার করেন যে, রাফ‘উল ইয়াদায়েনের হাদীছগুলো মানসূখ বা হুকুম রহিত হয়ে গেছে। তাদের উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : ছালাতুল ইশরাক, ছালাতু যোহা, ছালাতুল আউয়াবীন কোন্ সময় পড়তে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : জুমু‘আর ছালাতের পর টাকা উঠানোর জন্য কৌটা চালানো কি বিদ‘আত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : আমি ১০০% রপ্তানিমুখী একটি গার্মেন্টস কোম্পানিতে নিরাপত্তা বিভাগে চাকুরী করি। কোম্পানিতে অন্যান্য পোশাকের পাশাপাশি খ্রিস্টানদের ধর্মীয় পরিচয় এবং উৎসবের (যেমন: X MAS ইত্যাদি) দিকে সম্পর্কিত পোশাক তৈরি হয়। তাছাড়া এখানে কুকুরের পোশাকও তৈরি হয়। এমন কোম্পানিতে চাকুরি করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : মৃতব্যক্তিকে ‘মরহূম’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : শুক্রবারে সূরা আলে ‘ইমরান তেলাওয়াত করার ব্যাপারে কোন ছহীহ হাদীছ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ছিয়াম শুরু করা ও শেষ করার জন্য জ্যোর্তিবিদ্যার উপর নির্ভর করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মাহরাম নয় এমন কোন মহিলাকে ব্যক্তিগতভাবে দ্বীনের দাওয়াত দেয়া কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৯) : ছিয়াম অবস্থায় ওযূ করার পর স্ত্রীকে স্পর্শ করলে ছিয়াম ও ওযূ ভঙ্গ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : অনেকেই গ্রামের বাড়ির আশেপাশে থেকে ছোট ছোট মাছ ধরে থাকে। এসব মাছ কেউ চাষ করে না কিংবা টাকা দিয়ে জমিতে ছাড়েও না। জমির মালিকের অনুমতি ছাড়া এসব মাছ ধরা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : অশ্লীল গান শোনা হারাম। কিন্তু ধর্মীয় ও দেশাত্মবোধক গান, শিশুদের গান এবং জন্মদিনের গান শোনা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : রাসূল (ﷺ) কখনো কি একাই ফরয ছালাতের পর মুনাজাত করেছেন?       - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ