উত্তর : চরম রাগের মাথায় একই মজলিসে মুখে ‘তিন ত্বালাক্ব’ উচ্চারণ করলেও ইসলামী শরী‘আতের ছহীহ বিধান অনুযায়ী তা কেবল ‘এক ত্বালাক্ব’ গণ্য হবে।
রাগের অবস্থায় ত্বালাক্বের বিধান : ত্বালাক্ব কার্যকর হওয়ার জন্য ব্যক্তির সুস্থ মানসিক অবস্থা ও জ্ঞান থাকা পূর্বশর্ত। রাগ যদি এতই তীব্র হয় যে, মানুষ তার বিবেক-বুদ্ধি হারিয়ে ফেলে, কী বলছে তা অনুধাবন করতে না পারে (যাকে ফিকহের পরিভাষায় ‘ইগলাক্ব’ বলা হয়), তবে সেই অবস্থায় প্রদত্ত ত্বালাক্ব একেবারেই কার্যকর হয় না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘ইগলাক্ব বা চরম বিবশতা/অতিরিক্ত রাগের অবস্থায় কোন ত্বালাক্ব ও দাসমুক্তি কার্যকর হয় না’ (আবূ দাঊদ, হা/২১৯৩; ইবনে মাজাহ, হা/২০৪৬, সনদ ছহীহ)। তবে রাগ যদি স্বাভাবিক বা মাঝারি মাত্রার হয়, যেখানে মানুষ তার কথা ও কাজের পরিণতি বুঝতে পারে, তবে সেই অবস্থায় প্রদত্ত ত্বালাক্ব কার্যকর হবে।
এক মজলিসে তিন ত্বালাক্বের বিধান : যদি রাগ থাকা সত্ত্বেও বিবেক-বুদ্ধি পুরোপুরি লোপ না পেয়ে থাকে এবং ব্যক্তি এক মজলিসে স্ত্রীকে তিন ত্বালাক্ব প্রদান করে, তবে কুরআন ও ছহীহ হাদীসের নির্দেশ অনুযায়ী তা তিন ত্বালাক্ব হিসাবে গণ্য হবে না; বরং ‘এক ত্বালাক্ব’ হিসাবে গণ্য হবে। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায়, আবূবকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে এবং উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতের প্রথম দুই বছর এক সাথে তিন ত্বালাক্বকে এক ত্বালাক্ব হিসাবেই গণ্য করা হত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৭২)। অন্য এক হাদীছে এসেছে, রুকানা ইবনু আবদে ইয়াযীদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর স্ত্রীকে এক মজলিসে তিন ত্বালাক্ব দিলে অত্যন্ত অনুশোচনা প্রকাশ করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি কীভাবে ত্বালাক্ব দিয়েছ?’ তিনি বললেন, ‘আমি একই মজলিসে তিন ত্বালাক্ব দিয়েছি’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘এটি তো কেবল এক ত্বালাক্ব হিসাবে গণ্য হবে। সুতরাং তুমি ইচ্ছা করলে তাকে ফিরিয়ে নিতে পার’ (আহমাদ, হা/২৩৮৭; আবু দাঊদ, হা/২১৯৬; ইরওয়াউল গালীল, হা/২০৪৭, সনদ ছহীহ)।
স্বামী-স্ত্রীর করণীয় : এক মজলিসে তিন ত্বালাক্ব দেয়া শরী‘আতে একটি মারাত্মক অপরাধ এবং এটা বিদ‘আত। তবে এতে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় না। এটি এক ত্বালাক্বে রাজ‘ঈ (প্রত্যাবর্তনযোগ্য ত্বালাক্ব) হিসাবে কার্যকর হয়। ইদ্দতকালীন সময় (তিন হায়েয পার হওয়ার পূর্বে) স্বামী যদি মুখে বা কাজের মাধ্যমে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়, তবে নতুন কোন আক্বদ বা দেনমোহর ছাড়াই তাদের দাম্পত্য জীবন পুনরায় বৈধ হয়ে যাবে (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২২৮; মাজমূ‘উল ফাতাওয়া, ৩৩/৯-১০; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমা, ২০/৮৩ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : জাহেদ হোসাইন, রাউজান, চট্টগ্রাম।