উত্তর : কুরআন কারীম সঠিক উচ্চারণ ও তাজবীদের সাথে তিলাওয়াত করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। মূলত সাধারণ মুসলিমের জন্য ততটুকু তাজবীদ শেখা ‘ফারযে আইন’ বা বাধ্যতামূলক, যতটুকু শেখার মাধ্যমে কুরআনুল কারীমের হরফগুলো সঠিকভাবে উচ্চারণ (মাখরাজ ও ছিফাত) করা সম্ভব হয় এবং অর্থের মারাত্মক পরিবর্তন বা বিকৃতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বিশেষ করে ছালাত আদায়ের জন্য যতটুকু সূরা ও ক্বিরাআত পড়া যরূরী, তা শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করার ইলম অর্জন করা প্রত্যেক বিবেকবান প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব (আল-ইতকান ফী উলুমিল কুরআন, ১/২৯৮ পৃ.; আল-নাসর ফিদ-কিরাআতিল আশর, ১/২১৩ পৃ.)।
পক্ষান্তরে তাজবীদের সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক পরিভাষা, নিয়মকানুন (যেমন- ইদগাম, ইখফা, গুন্নাহ, মাদের প্রকারভেদ ইত্যাদির বিশদ ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ), ক্বিরাআতসমূহের বিভিন্ন রেওয়ায়াত ও তুরুক এবং সেগুলোর গভীর গবেষণা হল ‘ফারযে কেফায়া’। সমাজের কিছু মানুষ যদি এই গভীর ইলম অর্জন করেন, তবে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু যদি কেউ অর্জন না করে, তবে পুরো সমাজ গুনাহগার হবে। অতএব সাধারণ মুসলিমের দায়িত্ব হল ছালাত ও তেলাওয়াতের জন্য যতটুকু শুদ্ধ উচ্চারণ ও তাজবীদ দরকার তা শিক্ষা করা, আর এর তাত্ত্বিক ও গভীর গবেষণা সংরক্ষণ করা উম্মতের জন্য ফারযে কেফায়ার অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্নকারী : তাসনুভা, ঢাকা।