রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
উত্তর : মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ও অন্যান্য আদম সন্তানের ন্যায় একজন মাটির তৈরি মানুষ। এটাই সঠিক আক্বীদা এবং সালফে ছালেহীন ছাহাবায়ে কেরামের আক্বীদা। আল্লাহ বলেন, قُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ یُوۡحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰـہُکُمۡ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি অহি করা হয় যে, তোমাদের মা‘বূদ একজন’ (সূরা আল-কাহ্ফ : ১১০)। উক্ত আয়াত ছাড়াও আরো আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন মানুষ (সূরা বানী ইসরাঈল ৯৩; সূরা হা-মীম সিজদা ৬)। আর মানুষ হল মাটির তৈরি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ مِنۡ اٰیٰتِہٖۤ اَنۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ تُرَابٍ ثُمَّ اِذَاۤ اَنۡتُمۡ بَشَرٌ تَنۡتَشِرُوۡنَ ‘আর তাঁর নিদর্শন সমূহের মধ্যে হচ্ছে- তিনি তোমাদেরকে মাটি হতে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমরা মানুষ হিসাবে ছড়িয়ে গেছ’ (সূরা আর-রূম : ২০)।

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, اِنَّ مَثَلَ عِیۡسٰی عِنۡدَ اللّٰہِ کَمَثَلِ اٰدَمَ خَلَقَہٗ مِنۡ تُرَابٍ ‘নিশ্চয় ঈসা আদমের মত। আল্লাহ তাকে মাটি হতে সৃষ্টি করেছেন’ (সূরা আলে ‘ইমরান : ৫৯)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, خُلِقَتِ الْمَلاَئِكَةُ مِنْ نُوْرٍ وَخُلِقَ الْجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ ‘ফেরেশতাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জিন জাতিকে আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই সমস্ত ছিফাত দ্বারা, যে ছিফাতে তোমাদের ভূষিত করা হয়েছে’। অর্থাৎ মানব জাতিকে মাটি ও পানি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে (ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৯৬, ২/৪১৩ পৃ., (ইফাবা হা/৭২২৫); মিশকাত, হা/৫৭০১)। অন্য বর্ণনায় সরাসরি বলা হয়েছে, وَالنَّاسُ بَنُوْ آدَمَ وَخَلَقَ اللهُ آدَمَ مِنْ تُرَابٍ ‘মানুষ আদমের সন্তান। আর আল্লাহ আদম (আলাইহিস সালাম)-কে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন’ (তিরমিযী হা/৩২৭০, ২/১৬৩ পৃ, ‘তাফসীর’ অধ্যায়, সূরা হুজুরাতের ১৩ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্র.)। উল্লেখ্য, মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নূরের তৈরি মর্মে সমাজে ভ্রান্ত আক্বীদা বহুল প্রচলিত। এমনকি এর পক্ষে কতিপয় যেসকল বর্ণনা উপস্থাপন করা হয় তার সবটাই জাল ও ভিত্তিহীন (আল-আছারুল মারফূ‘আহ ফিল আখবারিল মাওযূ‘আহ, পৃ. ৪৩; সিলসিলাতুল আহাদীছিল ওয়াহেয়াহ, পৃ. ১৫৭; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৪৫৮-এর আলোচনা দ্র.)। এমনকি অনেক আয়াতের অপব্যাখ্যাও করা হয়।


প্রশ্নকারী : হাবীবুর রহমান, ফরীদপুর।




প্রশ্ন (৩৫) : ‘যে ব্যক্তি জুম‘আর দিনে আমার উপর ৮০ বার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তার ৮০ বছরের পাপ ক্ষমা করে দিবেন’ মর্মে প্রচলিত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : জনৈক আলেম বলেন, রাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর যে ব্যক্তি নিম্নের দু‘আটি পাঠ করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যদি সে দু‘আ করে, তবে তার দু‘আ কবুল হবে। আর সে যদি উঠে ওযয় করে ছালাত আদায় করে, তাহলে তার ছালাত কবুল হবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : সূরা আন-নিসার ৩৪ নং আয়াতে অবাধ্য স্ত্রীকে প্রহার করার কথা বলা হয়েছে। কেউ বলেন লাঠি মেসওয়াক পরিমাণ হতে হবে। এর সঠিক সমাধান জানতে চাই? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : আবূ হুরায়রাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘এমন সময় খুব বেশি দূরে নয়, মানুষ যখন জ্ঞানের সন্ধানে উটের কলিজায় আঘাত করবে (অর্থাৎ উটে আরোহণ করে দুনিয়া ঘুরে বেড়াবে)। কিন্তু মদীনার আলিমদের চেয়ে বড় কোন আলিম কোথাও খুঁজে পাবে না’ (তিরমিযী, হা/২৬৮০; মিশকাত, হা/২৪৬) মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : সিজার করে সন্তান প্রসাব করানো কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ব্যাংকে চাকরীর পর প্রাপ্ত পেনশনের টাকায় ব্যবসা করলে উপার্জন হালাল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ইসলামে বায়‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : পাপ কাজের জন্য কি মানুষ রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : কোন বিদ‘আতী মারা গেলে তার জন্য দু‘আ করা এবং তার প্রশংসা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : রুক্বিয়া বা ঝাড়ফুঁক করে টাকা নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : সাধারণ বিদ‘আত কিংবা কুফরী বিদ‘আত; যেকোনো বিদ‘আতে লিপ্ত থাকা ব্যক্তির তাওবা এবং অন্যান্য আমল কবুল হবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ইসলামে দাড়ি রাখার প্রয়োজনীয়তা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ