রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
উত্তর : মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ও অন্যান্য আদম সন্তানের ন্যায় একজন মাটির তৈরি মানুষ। এটাই সঠিক আক্বীদা এবং সালফে ছালেহীন ছাহাবায়ে কেরামের আক্বীদা। আল্লাহ বলেন, قُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ یُوۡحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰـہُکُمۡ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি অহি করা হয় যে, তোমাদের মা‘বূদ একজন’ (সূরা আল-কাহ্ফ : ১১০)। উক্ত আয়াত ছাড়াও আরো আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন মানুষ (সূরা বানী ইসরাঈল ৯৩; সূরা হা-মীম সিজদা ৬)। আর মানুষ হল মাটির তৈরি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ مِنۡ اٰیٰتِہٖۤ اَنۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ تُرَابٍ ثُمَّ اِذَاۤ اَنۡتُمۡ بَشَرٌ تَنۡتَشِرُوۡنَ ‘আর তাঁর নিদর্শন সমূহের মধ্যে হচ্ছে- তিনি তোমাদেরকে মাটি হতে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমরা মানুষ হিসাবে ছড়িয়ে গেছ’ (সূরা আর-রূম : ২০)।

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, اِنَّ مَثَلَ عِیۡسٰی عِنۡدَ اللّٰہِ کَمَثَلِ اٰدَمَ خَلَقَہٗ مِنۡ تُرَابٍ ‘নিশ্চয় ঈসা আদমের মত। আল্লাহ তাকে মাটি হতে সৃষ্টি করেছেন’ (সূরা আলে ‘ইমরান : ৫৯)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, خُلِقَتِ الْمَلاَئِكَةُ مِنْ نُوْرٍ وَخُلِقَ الْجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ ‘ফেরেশতাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জিন জাতিকে আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেই সমস্ত ছিফাত দ্বারা, যে ছিফাতে তোমাদের ভূষিত করা হয়েছে’। অর্থাৎ মানব জাতিকে মাটি ও পানি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে (ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৯৬, ২/৪১৩ পৃ., (ইফাবা হা/৭২২৫); মিশকাত, হা/৫৭০১)। অন্য বর্ণনায় সরাসরি বলা হয়েছে, وَالنَّاسُ بَنُوْ آدَمَ وَخَلَقَ اللهُ آدَمَ مِنْ تُرَابٍ ‘মানুষ আদমের সন্তান। আর আল্লাহ আদম (আলাইহিস সালাম)-কে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন’ (তিরমিযী হা/৩২৭০, ২/১৬৩ পৃ, ‘তাফসীর’ অধ্যায়, সূরা হুজুরাতের ১৩ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্র.)। উল্লেখ্য, মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নূরের তৈরি মর্মে সমাজে ভ্রান্ত আক্বীদা বহুল প্রচলিত। এমনকি এর পক্ষে কতিপয় যেসকল বর্ণনা উপস্থাপন করা হয় তার সবটাই জাল ও ভিত্তিহীন (আল-আছারুল মারফূ‘আহ ফিল আখবারিল মাওযূ‘আহ, পৃ. ৪৩; সিলসিলাতুল আহাদীছিল ওয়াহেয়াহ, পৃ. ১৫৭; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৪৫৮-এর আলোচনা দ্র.)। এমনকি অনেক আয়াতের অপব্যাখ্যাও করা হয়।


প্রশ্নকারী : হাবীবুর রহমান, ফরীদপুর।




প্রশ্ন (৩০) : শুধু কুলি করে ও নাকে পানি দিয়ে সারা শরীরে পানি দিয়ে গোসল করলে কি ফরয গোসল আদায় হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : হাজারে আসওয়াদ একটি ফেরেশতা ছিল। আল্লাহ তাকে পাথর বানিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ইমাম আবূ হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে কেমন আক্বীদা পোষণ করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ শ্লোগানের শারঈ ভিত্তি কী এবং এরূপ কথায় বিশ্বাস করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : কিছুদিন আগে আমার পরিবার আমার বিয়ে ইনগেজড করে রেখেছে। শরী‘আত মোতাবেক এখনো আমাদের বিয়ে হয়নি। আমরা কি ফোনে কথাবার্তা বলতে পারব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মুক্তিযুদ্ধের ভাতা সরকার ভাই ও বোনকে সমান করে ভাগ করে দিয়েছে। এখন ভাইকে ২ ভাগ দিতে হবে, না-কি যেমন সরকার করে দিয়েছে তেমনি নিতে পারব? এ ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : গর্ভধারণের প্রথম মাসগুলোতে (১/৩) রূহ ফুঁকে দেয়ার পূর্বে গর্ভপাত করার হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : ইমামের পিছনে ১ রাক‘আত ছালাত না পেলে ইমামের যদি সাহু সিজদাহ থাকে, তাহলে ইমামের সাথে কি সাহু সিজদাহ দিতে হবে, না-কি উঠে যেতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : ‘আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জিনের সাথে লড়াই করেছেন এবং তাদেরকে সাত যমীন পর্যন্ত পাঠিয়ে দিয়েছেন’ মর্মে বর্ণিত ঘটনা কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : হাদীছে এসেছে, ‘যা তোমার হাতে নেই তা বিক্রি করো না’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৫০৩)। এই হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : সহবাস করার পর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ফজরের ছালাত দেরিতে পড়া হয়, তাহলে কি ছালাত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যিনাকারীর শাস্তি কি দুনিয়ার জীবনে কার্যকর করতে হবে, না-কি খালিছ অন্তরে তাওবা করলে মাফ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ