উত্তর : গোটা দুনিয়ার সকল স্বাস্থ্যবিদের ঐকমত্য হলো, জর্দা ভক্ষণ ও ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এতে ক্যান্সারসহ ভয়ানক সব রোগের সৃষ্টি হয়। বিড়ি, সিগারেট, গুল-জর্দার মূল উপাদান হলো তামাক। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে মাদকতা আছে, এটা সর্বজনস্বীকৃত। কোন বস্তুর মধ্যে মাদকতা থাকলে সেটা সুস্পষ্ট হারাম। জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, مَا أَسْكَرَ كَثِيْرُهُ فَقَلِيْلُهُ حَرَامٌ ‘যে বস্তুর বেশি পরিমাণ নেশার সৃষ্টি করে, তার অল্প পরিমাণও হারাম’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৬৮১; তিরমিযী, হা/১৮৭১, সনদ হাসান ছহীহ)।
শরীয়তের মূলনীতি হলো, কারো যেমন ক্ষতি করা যাবে না, তেমনি নিজেকেও ক্ষতির সম্মুখীন করা যাবে না। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ ‘ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও যাবে না’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৩৪১)। এছাড়া আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালোবাসেন’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৯৫)।
যে সকল নীতির মাধ্যমে বিড়ি-সিগারেটকে হারাম করা হয়, তার কিছু নিম্নরূপ: (ক) এতে রয়েছে অনর্থক অর্থ অপচয়। আর ইসলামে অপচয় হারাম। (খ) এতে রয়েছে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি। আর যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, ইসলামে তা হারাম। (গ) বেশি পরিমাণ পান করলে, তাতে জ্ঞানশূন্যতা আসতে পারে। আর যাতে নেশা, মাদকতা ও জ্ঞানশূন্যতা আসে, ইসলামে তা হারাম। (ঘ) এতে দুর্গন্ধ আছে। এর দুর্গন্ধে অধূমপায়ীরা কষ্ট পায়। সুতরাং তা পবিত্র জিনিস নয়। আর ইসলাম পবিত্র জিনিস খাওয়াকে হালাল এবং অপবিত্র জিনিস খাওয়াকে হারাম ঘোষণা করেছে।
প্রশ্নকারী : আলাউদ্দীন, নাটোর।