শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন
উত্তর : প্রথমতঃ দু’টি শর্তসাপেক্ষে নগদ অর্থের উপর যাকাত ফরয হয়। (ক) নগদ অর্থ নিছাব পরিমাণ হওয়া। (খ) নিছাব পরিমাণ অর্থের উপর এক অতিবাহিত হওয়া। সুতরাং সঞ্চিত অর্থ যদি নিছাবের চেয়ে কম হয় তাহলে যাকাত ফরয হবে না। যদি সঞ্চিত অর্থ নিছাব পরিমাণ হয় এবং নিছাব পরিমাণ অর্থের এক বছর অতিবাহিত হয় অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ এক চন্দ্র বছর (হিজরী সাল) অতিবাহিত হয়, তখন যাকাত ফরয হবে। নিছাবের পরিমাণ হল ৮৫ গ্রাম স্বর্ণ অথবা ৫৯৫ গ্রাম রৌপ্য। মোট অর্থের ২.৫% যাকাত দেয়া ফরয।

দ্বিতীয়তঃ যদি কারো কাছে নিছাব পরিমাণ অর্থ থাকে, ধরে নিই সেটা ১ লক্ষ টাকা আর বছর শেষে তার অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লক্ষতে, তাহলে সে কিভাবে যাকাত আদায় করবে? এ ব্যাপারে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

(১) এই অতিরিক্ত অর্থ যদি মূল অর্থের মাধ্যমে অর্জিত হয় যেমন, মূল এক হাজার যদি বিনিয়োগ করার মাধ্যমে লাভ হয় চার হাজার, তাহলে বছর শেষে সর্বমোট অর্থের যাকাত আদায় করতে হবে। কেননা বিধি হচ্ছে লাভ পুঁজির বিধানের অনুগত।

(২) যদি এই অর্থ মূল অর্থের মাধ্যমে অর্জিত না হয়, অন্য কোন মাধ্যমে অর্জিত হয়ে থাকে যেমন উত্তরাধিকার, উপঢৌকন, কোন কিছু বিক্রি ইত্যাদি। তাহলে এ সম্পদের আলাদা বছর হিসাব করা হবে। যেদিন এই অতিরিক্ত সম্পদ মালিকানায় এসেছে সেদিন থেকে বছর গণনা শুরু হবে। আর যদি মূল এক হাজারের সঙ্গে সমস্ত অর্থের যাকাত আদায় করে দিতে চায় সেটাও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তিনি এ অতিরিক্ত অর্থের যাকাত ফরয হওয়ার আগেই অগ্রিম আদায় করে দিলেন। এতেও কোন অসুবিধা নেই।

(৩) কারো ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত অর্থ ক্রমান্বয়ে অর্জিত হয়ে থাকতে পারে। যেমন আপনি মাসিক বেতন থেকে কিছু কিছু সঞ্চয় করলেন। যেমন একমাসে ৫০০ সঞ্চয় করলেন, অন্য মাসে ১০০০ সঞ্চয় করলেন, এভাবে বছর শেষে ৪০০০ হল। তাহলে আপনার এই সুযোগ আছে যে, মূল এক হাজারের যাকাত আদায়ের সময় অতিরিক্ত অর্জিত অর্থের যাকাতও আদায় করে দিবেন। সেক্ষেত্রে আপনি অতিরিক্ত অর্জিত অর্থের যাকাত নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আদায় করে দিলেন। আর ইচ্ছা করলে আপনি প্রত্যেকবার অর্জিত সম্পদের আলাদা আলাদা বছর হিসাব করতে পারেন। তবে এভাবে প্রত্যেকের পৃথক পৃথক হিসাব রাখাটা বেশ কঠিন। কারণ এক্ষেত্রে আপনাকে এক বছরে কয়েকবার যাকাত আদায় করতে হবে (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৯৩৪১৪)।


প্রশ্নকারী : রামাযান, কৌটালা, বেড়া, পাবনা।





প্রশ্ন (৪০) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, যে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর দরূদ পাঠ করে তার জন্য সত্তর জন ফেরেশতা এক হাজার দিন পর্যন্ত নেকী লিখেন। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : যে নারী ক্বাযা ছিয়াম পালন করার আগেই গর্ভবতী হয়ে গেছেন এবং আগত রামাযানেও তার পক্ষে ছিয়াম রাখা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় পূর্বের ক্বাযা ছিয়াম ও আগত ছিয়ামের হুকুম কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : সরকারি চাকরিজীবীরা কল্যাণ পদ্ধতিতে (কল্যাণ ফান্ড/কল্যাণ তহবিল) প্রতি মাসে বেতন থেকে টাকা রাখেন, এবং চাকরি শেষে সেই টাকায় সরকার অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে ফেরত দেয়- এটা কি সূদ হিসাবে গণ্য হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : হাদীছে এসেছে, ৭০ হাজার ব্যক্তি বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তার মধ্যে একটা হল- তারা ঝাড়-ফুঁকের আশ্রয় নিবে না। অথচ হাদীছ থেকে আমরা জানতে পারি, ঝাড়-ফুঁক বৈধ। যেমন সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করা। প্রশ্ন হল-ঝাড়-ফুঁক না করলে বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে, তাহলে সেটা কী ধরনের ঝাড়-ফুঁক?- - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬): মাতাল বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ত্বালাক্ব দিলে, ত্বালাক্ব সংঘটিত হবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ‘ইয়া মুহাম্মদ! শাফা‘আত (চাই)’। এ কথাটি কি শিরক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : পরীক্ষার্থীদের জন্য বিদায় অনুষ্ঠান করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদের নিকট থেকে পরীক্ষার ফী বাবদ যে অর্থ গ্রহণ করা হয়ে থাকে, সেই অর্থ কি শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে? উল্লেখ্য, শিক্ষকগণ নির্ধারিত হারে বেতন পেয়ে থাকেন। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : পিতা যদি নাবালিকা সন্তানের জন্য স্বর্ণ ক্রয় করে রাখে, আর সেটা যদি নিছাব পরিমাণ হয়, তাহলে কি যাকাত দিতে হবে? আবার যদি তা নিছাব পরিমাণ না হয়, তাহলে কি পিতার সম্পদের সাথে সংযুক্ত করে পিতাকে যাকাত দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : জনৈক আলেম বলেন, যে ব্যক্তি বিড়ি-সিগারেট, গুল, জর্দা পান করবে তার চল্লিশ দিনের ছালাত কবুল হবে না। তিনি দলীল হিসাবে ইবনু মাজাহর ৩৩৭৭ নং হাদীছ পেশ করেছেন। উপরিউক্ত নেশাদার দ্রবগুলোর প্রেক্ষিতে উক্ত দলীল পেশ করা যুক্তিযুক্ত হয়েছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : তিন ব্যক্তির দু‘আ কবুল হয় না; যে তার চরিত্রহীনা স্ত্রীকে ত্বালাক্ব দেয় না, যে ঋণ প্রদান করে সাক্ষী রাখে না এবং যে মূর্খ বা বুদ্ধিহীন ব্যক্তি (অপচয়কারী)-এর হাতে অর্থ প্রদান করে। উক্ত হাদীছ কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ছালাতের মধ্যে শেষ বৈঠকে বাংলায় দু‘আ করা যাবে কি ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ