শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন
উত্তর : ১- হায়েয ও নিফাস হওয়া। এ অবস্থায় ছিয়াম ভঙ্গ করে পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করে নেবে (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৫/২২০, ২৫/২৬৭, ২৬/১৭৬; মুসলিম, ৪/২৬)। নবী (ﷺ) বলেছেন, أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ ‘আর হায়িয অবস্থায় তারা কি ছালাত ও ছিয়াম হতে বিরত থাকে না?’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩০৪, ১৯৫১, ২৬৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৯, ৮০)। সুতরাং একজন নারীর জন্য উত্তম হল তার স্বভাবজাত প্রকৃতির উপর অটল থাকা। আল্লাহ তার জন্য যা লিখে রেখেছেন তার উপর সন্তুষ্ট থাকা, রক্ত বন্ধ করে এমন কিছু গ্রহণ না করা। কেননা এর মধ্যে নানাবিধ ক্ষতি আছে। তাই হায়িযের সময় ছিয়াম ভঙ্গ করা ও পরে ক্বাযা আদায় করার যে বিধান আল্লাহ তার জন্য প্রদান করেছেন, তা গ্রহণ করা কর্তব্য। এমনই করতেন উম্মুল মুমিনীনগণ, পরবর্তী ছাহাবী ও তাবি‘ঈগণের স্ত্রীরা (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১০/১৫১ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩৮০২৩)।

২- কাপিং করা বা শিঙ্গার মাধ্যমে রক্ত বের করা : এ বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ), সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ, শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) ও শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ছিয়াম থাকাবস্থায় হিজামাহ বা কাপিং করলে ছিয়াম ভঙ্গ হয়ে যায়। কেননা এর ফলে শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে (আল-ইনছাফ, ৩/২১৪; আশ-শারহুল কাবীর, ৩/৪০; মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৫/২৫২; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৫/২৭১; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ২০/১৪৫ পৃ.)। যেমন নবী (ﷺ) বলেছেন, أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُوْمُ ‘রক্তমোক্ষণকারী এবং যার রক্তমোক্ষণ করানো হয়েছে, তাদের উভয়ের ছিয়াম নষ্ট হয়েছে গিয়েছে’ (আবূ দাঊদ, হা/২৩৬৭-২৩৭০; ইবনু মাজাহ, হা/১৬৮০-১৬৮১, সনদ ছহীহ)।

৩- রক্ত পরীক্ষা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান করা : ছিয়াম থাকাবস্থায় প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করলে ছিয়াম ভঙ্গ হয় না। কেননা এতে খুবই যৎসামান্য রক্ত নেয়া হয়ে থাকে, যার ফলে শরীরে কোন প্রভাব পড়ে না। আর এটি হিজামার অন্তর্ভুক্ত নয়। পক্ষান্তরে অধিক মাত্রায় রক্ত নেয়া হলে ছিয়াম ভঙ্গ হয়ে যাবে। যেমন কাউকে রক্তদান করার উদ্দেশ্যে, কেননা এটি হিজামাহ বা কাপিং-এর অন্তর্ভুক্ত। সেই জন্য ছিয়াম থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছায় রক্তদান করা জায়েয নয়, কেননা এর ফলে ছিয়াম ভঙ্গ হয়ে যায়। তবে হ্যাঁ, যদি রোগীর অবস্থা খুবই বিপদজনক হয়, আর সে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করতে না পারে এবং ডাক্তারেরা সিদ্ধান্ত নেয় যে, ছিয়াম পালনকারী ব্যক্তির রক্ত পেলে রোগী উপকৃত হবে তার প্রয়োজন পূরণ হবে, সেক্ষেত্রে রক্তদান করা জায়েয। পরে অবশ্যই এই দিনের ক্বাযা আদায় করে নেবে (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৫/২৭৪; ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃ. ৪৭৮; মাজালিসু শাহরি রামাযান, পৃ. ৭১; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫০৪০৬)। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোন কারণে রক্তপাত হয়ে গেলে, তার ছিয়াম শুদ্ধ হবে। কেননা সে ইচ্ছাকৃতভাবে তা করেনি (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১০/২৬৪ পৃ.)। অনুরূপ দাঁত তোলা বা ক্ষতস্থান ড্রেসিং করা বা রক্ত পরীক্ষা ইত্যাদির জন্য রক্ত বের হলে ছিয়াম ভঙ্গ হয় না। কারণ তা হিজামাহ বা শিঙ্গা লাগানোর অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তা হিজামাহ বা শিঙ্গা লাগানোর ন্যায় শরীরের উপর প্রভাবও ফেলে না (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৫/২৭৪; ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃ. ৪৭৮; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫০৪০৬)।

প্রশ্নকারী : সামিঊল ইসলাম, রাজশাহী।





প্রশ্ন (৩০) : দাইয়ূছের পরিণতি কেমন হতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : পৃথিবীতে যেখানে যারা কুরআন ও ছহীহ হাদীছ দ্বারা জীবন পরিচালিত করে তারাই আহলেহাদীছ। প্রশ্ন হল- ‘আহলেহাদীছ’ নাম না দিয়ে ‘আহলুস সুন্নাত’ নাম দেয়া যাবে কি? কারণ হাদীছের মধ্যে জাল-যঈফ আছে কিন্তু নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর মধ্যে জাল-যঈফ নেই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : আঁটসাঁট পোশাকে ছালাত পড়ার হুকুম কী? যে ব্যক্তি আঁটসাঁট পোশাক পরেন সে কি ইমামতি করতে পারেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : হাদীছে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কুরআনে নিজের মত পেশ করবে সে জাহান্নামে যাবে। যুগ যুগ ধরে মুফাসসিরগণ কুরআনের তাফসীর করতে কুরআন, হাদীছ, ছাহাবী, তাবেঈদের উক্তির পাশাপাশি নিজ চিন্তা, গবেষণা ও মত প্রকাশ করেন। তাহলে হাদীছে নিজ মত প্রকাশ করা বলতে কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : নানীর আপন ভাইয়ের মেয়ে মাহরাম, না-কি গায়রে মাহরাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : রাসূল (ﷺ) ও দুই ছাহাবীর কবর যিয়ারতের সময় কি পৃথক দু‘আ পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : সূরা আন-নিসার ৩৪ নং আয়াতে অবাধ্য স্ত্রীকে প্রহার করার কথা বলা হয়েছে। কেউ বলেন লাঠি মেসওয়াক পরিমাণ হতে হবে। এর সঠিক সমাধান জানতে চাই? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : ‘জুমু‘আহ মুবারক’- বলা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : শ্বশুর যদি কোন জিনিস ইচ্ছা করে দেয়, তাহলে সেটা নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : জিনেরা কি মানুষের ক্ষতি করতে পারে? কারীন জিন কি মানুষের সাথে থাকে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : যে ব্যক্তি ক্বিয়ামতের মাঠে স্থাপিত মীযানকে অস্বীকার করে তার পরিণাম হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : এশার ছালাত নির্দিষ্ট ওয়াক্তে না পড়ে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পড়া কি জায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ