শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ১- হায়েয ও নিফাস হওয়া। এ অবস্থায় ছিয়াম ভঙ্গ করে পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করে নেবে (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৫/২২০, ২৫/২৬৭, ২৬/১৭৬; মুসলিম, ৪/২৬)। নবী (ﷺ) বলেছেন, أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ ‘আর হায়িয অবস্থায় তারা কি ছালাত ও ছিয়াম হতে বিরত থাকে না?’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩০৪, ১৯৫১, ২৬৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৯, ৮০)। সুতরাং একজন নারীর জন্য উত্তম হল তার স্বভাবজাত প্রকৃতির উপর অটল থাকা। আল্লাহ তার জন্য যা লিখে রেখেছেন তার উপর সন্তুষ্ট থাকা, রক্ত বন্ধ করে এমন কিছু গ্রহণ না করা। কেননা এর মধ্যে নানাবিধ ক্ষতি আছে। তাই হায়িযের সময় ছিয়াম ভঙ্গ করা ও পরে ক্বাযা আদায় করার যে বিধান আল্লাহ তার জন্য প্রদান করেছেন, তা গ্রহণ করা কর্তব্য। এমনই করতেন উম্মুল মুমিনীনগণ, পরবর্তী ছাহাবী ও তাবি‘ঈগণের স্ত্রীরা (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১০/১৫১ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩৮০২৩)।

২- কাপিং করা বা শিঙ্গার মাধ্যমে রক্ত বের করা : এ বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ), সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ, শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) ও শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ছিয়াম থাকাবস্থায় হিজামাহ বা কাপিং করলে ছিয়াম ভঙ্গ হয়ে যায়। কেননা এর ফলে শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে (আল-ইনছাফ, ৩/২১৪; আশ-শারহুল কাবীর, ৩/৪০; মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৫/২৫২; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৫/২৭১; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ২০/১৪৫ পৃ.)। যেমন নবী (ﷺ) বলেছেন, أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُوْمُ ‘রক্তমোক্ষণকারী এবং যার রক্তমোক্ষণ করানো হয়েছে, তাদের উভয়ের ছিয়াম নষ্ট হয়েছে গিয়েছে’ (আবূ দাঊদ, হা/২৩৬৭-২৩৭০; ইবনু মাজাহ, হা/১৬৮০-১৬৮১, সনদ ছহীহ)।

৩- রক্ত পরীক্ষা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান করা : ছিয়াম থাকাবস্থায় প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করলে ছিয়াম ভঙ্গ হয় না। কেননা এতে খুবই যৎসামান্য রক্ত নেয়া হয়ে থাকে, যার ফলে শরীরে কোন প্রভাব পড়ে না। আর এটি হিজামার অন্তর্ভুক্ত নয়। পক্ষান্তরে অধিক মাত্রায় রক্ত নেয়া হলে ছিয়াম ভঙ্গ হয়ে যাবে। যেমন কাউকে রক্তদান করার উদ্দেশ্যে, কেননা এটি হিজামাহ বা কাপিং-এর অন্তর্ভুক্ত। সেই জন্য ছিয়াম থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছায় রক্তদান করা জায়েয নয়, কেননা এর ফলে ছিয়াম ভঙ্গ হয়ে যায়। তবে হ্যাঁ, যদি রোগীর অবস্থা খুবই বিপদজনক হয়, আর সে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করতে না পারে এবং ডাক্তারেরা সিদ্ধান্ত নেয় যে, ছিয়াম পালনকারী ব্যক্তির রক্ত পেলে রোগী উপকৃত হবে তার প্রয়োজন পূরণ হবে, সেক্ষেত্রে রক্তদান করা জায়েয। পরে অবশ্যই এই দিনের ক্বাযা আদায় করে নেবে (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৫/২৭৪; ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃ. ৪৭৮; মাজালিসু শাহরি রামাযান, পৃ. ৭১; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫০৪০৬)। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোন কারণে রক্তপাত হয়ে গেলে, তার ছিয়াম শুদ্ধ হবে। কেননা সে ইচ্ছাকৃতভাবে তা করেনি (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১০/২৬৪ পৃ.)। অনুরূপ দাঁত তোলা বা ক্ষতস্থান ড্রেসিং করা বা রক্ত পরীক্ষা ইত্যাদির জন্য রক্ত বের হলে ছিয়াম ভঙ্গ হয় না। কারণ তা হিজামাহ বা শিঙ্গা লাগানোর অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তা হিজামাহ বা শিঙ্গা লাগানোর ন্যায় শরীরের উপর প্রভাবও ফেলে না (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৫/২৭৪; ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃ. ৪৭৮; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫০৪০৬)।

প্রশ্নকারী : সামিঊল ইসলাম, রাজশাহী।





প্রশ্ন (১০) : কোন নাপাক কাপড়ের সাথে অন্য পাক কাপড় থাকলে কিংবা কাপড় থেকে নাপাকি শুকিয়ে গেলে ঐ কাপড় অন্যান্য পাক কাপড়ের সাথে একসাথে ধোয়া যাবে কিনা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ফুযাইল ইবনু ই‘যায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, لَوْ أَنَّ لُوْطِيًّا اغْتَسَلَ بِكُلِّ قَطْرَةٍ مِّنَ السَّمَاءِ لَقِيَ اللهَ غَيْرَ طَاهِرٍ ‘সমকামী ব্যক্তি যদি আকাশের সমস্ত পানি দিয়ে গোসল করে তারপরও সে অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে’ (যাম্মুল লিওয়াত্ব, দুরী, পৃ. ১৪২; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-২৪৩৬৭৩)। প্রশ্ন হল- কোন সমকামী ব্যক্তি ভুল বোঝার পরে অনুতপ্ত হয়ে যদি ইখলাছের সাথে তওবাহ করে, তাহলে কি তার সমকামের পাপ ক্ষমা হবে এবং সে কি অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ইমাম জুম‘আর দিন মিম্বরে বসার সময় সালাম দিবেন মর্মে কোন দলীল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : জনৈকা গর্ভবতী মহিলাকে ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছেন যে, রামাযানের ছিয়াম পালন করা যাবে না। কারণ ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : আল্লাহ তা‘আলা আসমান-যমীনের মধ্যকার সবকিছুরই সৃষ্টিকর্তা, তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করলেন, এরূপ প্রশ্ন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : যদি কেউ কোন কথা আমানত রাখতে বলে আর  অন্য কেউ সেই বিষয় জানতে চায়, তাহলে ‘আমি জানি না’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : অনেকেই বাড়িতে গৃহস্থালী কাজ (থালা-বাসন ধোঁয়া, ঝাড়– দেয়া, রান্না করা প্রভৃতি) করা অবস্থায় মোবাইল বা কোন ডিভাইসে কুরআন তিলাওয়াত শুনেন। এভাবে কাজ চলাকালীন অবস্থায় তিলাওয়াত শুনলে নেকি হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : যদি কারো মা তার দেবরের সামনে শরী‘আহ মোতাবেক পর্দা না করে এবং ছেলের বাবা তাকে কিছু না বলে, তাহলে ছেলে কি দাইয়ূছ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪২) : ‘তোমরা বেশী বেশী আল্লাহর যিকির কর, যেন লোকেরা পাগল বলে’ (ফাযায়েলে আমল (বাংলা), পৃ. ৩৬৭) মর্মে বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : জনৈক ইমাম বলেন, আযানের ধ্বনি যারা শুনবে তারা সবাই মুয়াযযিনের জন্য ক্বিয়ামতে মাঠে স্বাক্ষী দিবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : জুমু‘আর পূর্বে কত রাক‘আত এবং পরে কত রাক‘আত ছালাত পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : মুনাজাতের পর মুখে হাত মাসাহ করা কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ