বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ১- হায়েয ও নিফাস হওয়া। এ অবস্থায় ছিয়াম ভঙ্গ করে পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করে নেবে (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৫/২২০, ২৫/২৬৭, ২৬/১৭৬; মুসলিম, ৪/২৬)। নবী (ﷺ) বলেছেন, أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ ‘আর হায়িয অবস্থায় তারা কি ছালাত ও ছিয়াম হতে বিরত থাকে না?’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩০৪, ১৯৫১, ২৬৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৯, ৮০)। সুতরাং একজন নারীর জন্য উত্তম হল তার স্বভাবজাত প্রকৃতির উপর অটল থাকা। আল্লাহ তার জন্য যা লিখে রেখেছেন তার উপর সন্তুষ্ট থাকা, রক্ত বন্ধ করে এমন কিছু গ্রহণ না করা। কেননা এর মধ্যে নানাবিধ ক্ষতি আছে। তাই হায়িযের সময় ছিয়াম ভঙ্গ করা ও পরে ক্বাযা আদায় করার যে বিধান আল্লাহ তার জন্য প্রদান করেছেন, তা গ্রহণ করা কর্তব্য। এমনই করতেন উম্মুল মুমিনীনগণ, পরবর্তী ছাহাবী ও তাবি‘ঈগণের স্ত্রীরা (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১০/১৫১ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩৮০২৩)।

২- কাপিং করা বা শিঙ্গার মাধ্যমে রক্ত বের করা : এ বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ), সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ, শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) ও শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ছিয়াম থাকাবস্থায় হিজামাহ বা কাপিং করলে ছিয়াম ভঙ্গ হয়ে যায়। কেননা এর ফলে শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে (আল-ইনছাফ, ৩/২১৪; আশ-শারহুল কাবীর, ৩/৪০; মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৫/২৫২; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৫/২৭১; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ২০/১৪৫ পৃ.)। যেমন নবী (ﷺ) বলেছেন, أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُوْمُ ‘রক্তমোক্ষণকারী এবং যার রক্তমোক্ষণ করানো হয়েছে, তাদের উভয়ের ছিয়াম নষ্ট হয়েছে গিয়েছে’ (আবূ দাঊদ, হা/২৩৬৭-২৩৭০; ইবনু মাজাহ, হা/১৬৮০-১৬৮১, সনদ ছহীহ)।

৩- রক্ত পরীক্ষা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান করা : ছিয়াম থাকাবস্থায় প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করলে ছিয়াম ভঙ্গ হয় না। কেননা এতে খুবই যৎসামান্য রক্ত নেয়া হয়ে থাকে, যার ফলে শরীরে কোন প্রভাব পড়ে না। আর এটি হিজামার অন্তর্ভুক্ত নয়। পক্ষান্তরে অধিক মাত্রায় রক্ত নেয়া হলে ছিয়াম ভঙ্গ হয়ে যাবে। যেমন কাউকে রক্তদান করার উদ্দেশ্যে, কেননা এটি হিজামাহ বা কাপিং-এর অন্তর্ভুক্ত। সেই জন্য ছিয়াম থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছায় রক্তদান করা জায়েয নয়, কেননা এর ফলে ছিয়াম ভঙ্গ হয়ে যায়। তবে হ্যাঁ, যদি রোগীর অবস্থা খুবই বিপদজনক হয়, আর সে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করতে না পারে এবং ডাক্তারেরা সিদ্ধান্ত নেয় যে, ছিয়াম পালনকারী ব্যক্তির রক্ত পেলে রোগী উপকৃত হবে তার প্রয়োজন পূরণ হবে, সেক্ষেত্রে রক্তদান করা জায়েয। পরে অবশ্যই এই দিনের ক্বাযা আদায় করে নেবে (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৫/২৭৪; ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃ. ৪৭৮; মাজালিসু শাহরি রামাযান, পৃ. ৭১; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫০৪০৬)। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোন কারণে রক্তপাত হয়ে গেলে, তার ছিয়াম শুদ্ধ হবে। কেননা সে ইচ্ছাকৃতভাবে তা করেনি (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১০/২৬৪ পৃ.)। অনুরূপ দাঁত তোলা বা ক্ষতস্থান ড্রেসিং করা বা রক্ত পরীক্ষা ইত্যাদির জন্য রক্ত বের হলে ছিয়াম ভঙ্গ হয় না। কারণ তা হিজামাহ বা শিঙ্গা লাগানোর অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তা হিজামাহ বা শিঙ্গা লাগানোর ন্যায় শরীরের উপর প্রভাবও ফেলে না (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৫/২৭৪; ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃ. ৪৭৮; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫০৪০৬)।

প্রশ্নকারী : সামিঊল ইসলাম, রাজশাহী।





প্রশ্ন (৭) : কোন শ্রেণীর ভিক্ষুক স্বাদাক্বাহ পাওয়ার অধিক উপযুক্ত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : একটি ইসলামী কোম্পানীতে মানুষ তাদের উপার্জিত লক্ষ লক্ষ টাকা গচ্ছিত রাখে। কোম্পানী উক্ত টাকা দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা করে। যেমন: জমি ক্রয়-বিক্রয়, প্লট ক্রয়-বিক্রয়, বিদেশ থেকে পাথর ক্রয় ও তা বিক্রয়, ফ্লাট ক্রয়-বিক্রয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে শমিং মল পরিচালনা ইত্যাদি। উক্ত ব্যবসা করে কোম্পানী লাখে কখনো ১২০০/-, কখনো ১৩০০/- এভাবে কমবেশি লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। এখন আমি উক্ত কোম্পানীতে আমার পেনশনের প্রায় চল্লিশ লক্ষ টাকা রাখতে চাচ্ছি। প্রশ্ন হল- কোম্পানী প্রদত্ত উক্ত লভ্যাংশ গ্রহণ সূদ হবে, না-কি হালাল হবে? উল্লেখ যে, উপরিউক্ত ব্যবসায়ের মধ্যে কোন্ ব্যবসায়ে আমার টাকা ব্যয় হবে তা আমি জানি না এবং শপিং মলে কিছু মিউজিক ও পর্দার সাথে মহিলা রিপ্রেজেনটিভ রয়েছে। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ছাহাবী ছা‘লাবা ভ সম্পর্কে যাকাত দিতে অস্বীকার করা এবং রাসূল ফ, আবুবকর, ওমর, ওছমান হ তারা কেউ তার যাকাত নেননি বলে যে ঘটনা প্রচলিত আছে, তা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : ক্বদরের রাত্রে সারা রাত নফল ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : নারীদের জন্য ইসলাম অনুমোদিত পেশা কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ইসলামে শ্রমের মর্যাদা সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : জনৈক বক্তা বলেন, যে ব্যক্তি চারটি রাত জাগবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে- মিনা, আরাফা, ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের রাত। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০): মসজিদের পশ্চিম দেওয়ালে ডিজিটাল ঘড়ি লাগানো যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : তিন ব্যক্তির দু‘আ কবুল হয় না; যে তার চরিত্রহীনা স্ত্রীকে ত্বালাক্ব দেয় না, যে ঋণ প্রদান করে সাক্ষী রাখে না এবং যে মূর্খ বা বুদ্ধিহীন ব্যক্তি (অপচয়কারী)-এর হাতে অর্থ প্রদান করে। উক্ত হাদীছ কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মুসলিমরা আল্লাহ মানে এবং রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অনুসরণ করে। ইয়াহুদীরা কাকে মানে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : আল্লাহ তা‘আলার বাণী- ‘নিশ্চয় আপনি যাকে ভালোবাসেন ইচ্ছে করলেই তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না’ (সূরা আল-ক্বাছাছ : ৫৬) এবং তাঁর বাণী: ‘নিশ্চয় আপনি সরল পথের দিকে হেদায়াত করেন’ (সূরা আশ-শূরা : ৫২)। উক্ত আয়াতদ্বয়ের মাঝে সমন্বয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : ‘নাহনু খালিদাতু ফালা নাবীদু’ মর্মে জান্নাতে হূরদের গান সম্পর্কিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ