রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন
উত্তর : এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলো নিঃসন্দেহে সূদী কারবারের সঙ্গে যুক্ত। তারা ১২-২০% হারে সূদের উপর ঋণ দিয়ে থাকে। এটা হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা বহুগুণ বৃদ্ধি করে চক্রবৃদ্ধি হারে সূদ খাবে না। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও’ (সূরা আলি ইমরান: ১৩০)। নবী (ﷺ) সূদখোর, সূদদাতা, তার সাক্ষীদাতা ও তার লেখককে অভিসাম্পত করেছেন এবং বলেছেন, ‘ওরা সবাই সমান’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭-১৫৯৮)। সুতরাং সূদী কারবারের সঙ্গে সংযুক্ত ফ্যামিলির উচিত দ্রুত তওবাহ করা এবং বেশি-বেশি ইস্তিগফার, আমলে ছালিহ, ছালাত আদায় ও ছাদাক্বাহ ইত্যাদি করা।

জানা উচিত যে, হারাম সম্পদ বা মাল দুই প্রকারের। যথা:
১- মূল সম্পদ বা মালটাই হারাম। যেমন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও জোরপূর্বক দখল করা জিনিস বা টাকা-পয়সা। কারোর কাছ থেকে এই প্রকার জিনিসের উপঢৌকন গ্রহণ করা জায়েয নয়। তাই যদি কেউ সরাসরি ঐ মাল বা টাকা দ্বারা উপহার কিনে দেয় তাহলে তা গ্রহণ করা এবং ভক্ষণ করা জায়েয হবে না। অনুরূপভাবে মদ, নেশাদার বস্তু, হারাম প্রাণীর মাংস ইত্যাদিগুলো মূলতই হারাম। তাই এগুলো উপভোগ করা, উপহার দেয়া ও নেয়া সবই হারাম।
২- মূল সম্পদ বা মালটা হালাল কিন্তু তার উপার্জনের পদ্ধতিটি হারাম। অথবা যে সম্পদে হালাল ও হারামের সংমিশ্রণ রয়েছে। যেমন সূদী ব্যাংক বা বীমা কোম্পানীতে চাকুরী করে প্রাপ্ত বেতন, অথবা অন্য কোন নিষিদ্ধ উপায়ে উপার্জিত টাকা, যেমন ঘুষ, প্রতারণা, নাচ, গান এবং সিনেমা জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্য কোন পেশার পারিশ্রমিক ইত্যাদি। হারাম উপায়ে উপার্জিত অর্থ শুধু উপার্জনকারীর জন্যই হারাম। পক্ষান্তরে যারা তার কাছ থেকে বৈধ পন্থায় উক্ত অর্থ গ্রহণ করবে, তাদের জন্য তা দোষনীয় নয়। যদিও তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকাই অধিক উত্তম। এক্ষেত্রে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হল- তার দ্বারা উপকৃত হওয়া এবং খাওয়া থেকে বেঁচে থাকা। বিশেষ করে তার বিরত থাকাটা যদি মালিকের বিবেককে জাগ্রত করে এবং তাকে তা ছাড়তে সাহায্য করে (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১২৬৪৮৬)।
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘তবে উক্ত ব্যক্তির সংশোধন বা তাকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে প্রতিবাদস্বরূপ যদি কেউ সাময়িকভাবে তার দাওয়াত গ্রহণ না করে, তবে সেটাই উত্তম হবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৮/২০৬ পৃ.)।

শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যা উপার্জন সূত্রে হারাম তা শুধু উপার্জনকারীর জন্যই হারাম। (যেমন: সূদ) সূদী কারবারকারী ব্যক্তি যখন মারা যায়, তখন উক্ত সম্পত্তি তার ওয়ারিশদের জন্য হালাল। কিন্তু যার মূলই হারাম, যেমন মদ, তা মালিকের জন্যও হারাম এবং উত্তরাধিকারীদের জন্যও হারাম। অনুরূপভাবে চুরি বা ডাকাতির মাল, তা ওয়ারিশদের জন্যও হালাল নয়। মূল মালিকের সন্ধান পাওয়া গেলে তা তার নিকট ফিরিয়ে দিতে হবে, আর সন্ধান পাওয়া না গেলে তার নামে ছাদাক্বাহ করে দিতে হবে’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, ১/৩০৪ ও ১৩/১৮৮; ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ, ৩/৪৫২; আল-ক্বাউলুল মুফীদ আলা কিতাবিত তাওহীদ, ৩/১১২ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : ইফতিখার আহমাদ, কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ।





প্রশ্ন (১৮) : হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে ফার্নিচার, মাইক, সিসি ক্যামেরা, গাড়ি ইত্যাদি ভাড়া দেয়া জায়েয আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : অনিচ্ছাকৃত সূদের অংশ পেলে তা কী করব? নিকট গরিব আত্মীয়দের মাঝে ছাওয়াবের আশা ব্যতীত সূদের টাকা দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : এক সফরে একাধিক ওমরাহ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : যেসব ইয়াতীম খানা এবং মাদরাসায় বিদ‘আতী কর্মকাণ্ড চলে, বিদ‘আতী শিক্ষক দ্বারা পাঠদান হয়। এমন প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক সাহায্য চাইলে কি সাহায্য করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : যারা রাসূল (ﷺ)-কে গালি দেয়, তাদের হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : মেয়ের বাড়ীতে বিয়ের অনুষ্ঠানে বর পক্ষের লোকেরা খেতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : বর্তমানে সমাজে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এমন অবস্থায় যদি কেউ আত্মরক্ষার কোন উপায় না থাকা সত্ত্বেও সম্মান, জীবন বা সম্পদ রক্ষার নিয়তে প্রতিরোধ করে এবং এতে আহত বা নিহত হয়, তাহলে শরী‘আতের দৃষ্টিতে সে কি শহীদ হিসাবে গণ্য হবে? অপরদিকে, যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, প্রতিরোধ করলে মৃত্যুর আশঙ্কা নিশ্চিত, তারপরও কেউ দুঃসাহসিকভাবে প্রতিরোধ করে, তবে কি তা আত্মহননের শামিল বলে গণ্য হবে, না-কি ইজ্জত রক্ষার একটি শারঈ বৈধ প্রয়াস হিসাবে বিবেচিত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : মানুষ একবার মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। প্রশ্ন হল, ঈসা (আলাইহিস সালাম) যাদের জীবিত করেছিলেন তারা কি মারা গেছে, না-কি এখনো তারা জীবিত আছে, তারা কোথায় আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক যুবক। আমার ফ্যামিলির মূল উপার্জন হারাম উপায়ে অর্জিত হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় আমি হালাল ইনকাম করে আলাদা কিনে খেলে বা হোটেলে খেলে আব্বা আম্মা খুব কষ্ট পান। প্রশ্ন হল- আমি যদি তাদের খাবারই খাই কিন্তু প্রতি খাবার প্রতি মাস শেষে বিল দিয়ে দেই, তাহলে এটা কি আমার জন্য বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : মসজিদের ইমাম বলেন, যে ব্যক্তি রামাযান মাসের ২৭ তারিখের রজনী ইবাদতে কাটাবে, তার আমলনামায় আল্লাহ ২৭ হাজার বছরের ইবাদতের তুল্য ছওয়াব প্রদান করবেন এবং জান্নাতে তার জন্য অসংখ্য মনোরম বালাখানা নির্মাণ করবেন, যার সংখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ অবগত নন (আশরাফ আলী থানবী, পূর্ণাঙ্গ নামাজ শিক্ষা, পৃ. ৩১০)। উক্ত বর্ণনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : যে ব্যক্তি আল্লাহর শরী‘আত অনুযায়ী শাসন করে না, তাকে কি রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত করা যাবে? বিশেষত যদি তাকে নির্বাচিত না করলে হয়রানি, এমনকি কখনো গ্রেফতার পর্যন্ত হতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : বয়স কমিয়ে দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে বিষয়টি হারাম জানার পরে জন্ম নিবন্ধন ও অন্যান্য সার্টিফিকেট পুনরায় ঠিক করতে অনেক সময় ও অর্থ খরচ হবে এবং অনেক হয়রানির শিকার হতে হবে। এক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ