বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলো নিঃসন্দেহে সূদী কারবারের সঙ্গে যুক্ত। তারা ১২-২০% হারে সূদের উপর ঋণ দিয়ে থাকে। এটা হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা বহুগুণ বৃদ্ধি করে চক্রবৃদ্ধি হারে সূদ খাবে না। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও’ (সূরা আলি ইমরান: ১৩০)। নবী (ﷺ) সূদখোর, সূদদাতা, তার সাক্ষীদাতা ও তার লেখককে অভিসাম্পত করেছেন এবং বলেছেন, ‘ওরা সবাই সমান’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭-১৫৯৮)। সুতরাং সূদী কারবারের সঙ্গে সংযুক্ত ফ্যামিলির উচিত দ্রুত তওবাহ করা এবং বেশি-বেশি ইস্তিগফার, আমলে ছালিহ, ছালাত আদায় ও ছাদাক্বাহ ইত্যাদি করা।

জানা উচিত যে, হারাম সম্পদ বা মাল দুই প্রকারের। যথা:
১- মূল সম্পদ বা মালটাই হারাম। যেমন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও জোরপূর্বক দখল করা জিনিস বা টাকা-পয়সা। কারোর কাছ থেকে এই প্রকার জিনিসের উপঢৌকন গ্রহণ করা জায়েয নয়। তাই যদি কেউ সরাসরি ঐ মাল বা টাকা দ্বারা উপহার কিনে দেয় তাহলে তা গ্রহণ করা এবং ভক্ষণ করা জায়েয হবে না। অনুরূপভাবে মদ, নেশাদার বস্তু, হারাম প্রাণীর মাংস ইত্যাদিগুলো মূলতই হারাম। তাই এগুলো উপভোগ করা, উপহার দেয়া ও নেয়া সবই হারাম।
২- মূল সম্পদ বা মালটা হালাল কিন্তু তার উপার্জনের পদ্ধতিটি হারাম। অথবা যে সম্পদে হালাল ও হারামের সংমিশ্রণ রয়েছে। যেমন সূদী ব্যাংক বা বীমা কোম্পানীতে চাকুরী করে প্রাপ্ত বেতন, অথবা অন্য কোন নিষিদ্ধ উপায়ে উপার্জিত টাকা, যেমন ঘুষ, প্রতারণা, নাচ, গান এবং সিনেমা জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্য কোন পেশার পারিশ্রমিক ইত্যাদি। হারাম উপায়ে উপার্জিত অর্থ শুধু উপার্জনকারীর জন্যই হারাম। পক্ষান্তরে যারা তার কাছ থেকে বৈধ পন্থায় উক্ত অর্থ গ্রহণ করবে, তাদের জন্য তা দোষনীয় নয়। যদিও তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকাই অধিক উত্তম। এক্ষেত্রে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হল- তার দ্বারা উপকৃত হওয়া এবং খাওয়া থেকে বেঁচে থাকা। বিশেষ করে তার বিরত থাকাটা যদি মালিকের বিবেককে জাগ্রত করে এবং তাকে তা ছাড়তে সাহায্য করে (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১২৬৪৮৬)।
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘তবে উক্ত ব্যক্তির সংশোধন বা তাকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে প্রতিবাদস্বরূপ যদি কেউ সাময়িকভাবে তার দাওয়াত গ্রহণ না করে, তবে সেটাই উত্তম হবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ, ২৮/২০৬ পৃ.)।

শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যা উপার্জন সূত্রে হারাম তা শুধু উপার্জনকারীর জন্যই হারাম। (যেমন: সূদ) সূদী কারবারকারী ব্যক্তি যখন মারা যায়, তখন উক্ত সম্পত্তি তার ওয়ারিশদের জন্য হালাল। কিন্তু যার মূলই হারাম, যেমন মদ, তা মালিকের জন্যও হারাম এবং উত্তরাধিকারীদের জন্যও হারাম। অনুরূপভাবে চুরি বা ডাকাতির মাল, তা ওয়ারিশদের জন্যও হালাল নয়। মূল মালিকের সন্ধান পাওয়া গেলে তা তার নিকট ফিরিয়ে দিতে হবে, আর সন্ধান পাওয়া না গেলে তার নামে ছাদাক্বাহ করে দিতে হবে’ (লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, ১/৩০৪ ও ১৩/১৮৮; ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ, ৩/৪৫২; আল-ক্বাউলুল মুফীদ আলা কিতাবিত তাওহীদ, ৩/১১২ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : ইফতিখার আহমাদ, কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ।





প্রশ্ন (১২) : বাচ্চাদের আশেপাশে জিন পরী বা শয়তান যেন আসতে না পারে, সে জন্য তাদের তারকাটা, রসুন, ম্যাচের কাঠি ইত্যাদি রাখা হয়। এগুলো কি শিরক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : জনৈক আলেম বলেন, মসজিদে প্রবেশ করে ইচ্ছা করে ছালাত না পড়ে বসলে কোন গুনাহ হবে না, কারণ এটা নফল ছালাত। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : যারা পানের সাথে সাদা পাতা খায় এবং ২০ বছর বা ২৫ বছর ধরে ছালাত আদায় করে, তাদের ছালাত কবুল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ইসলামে ছেলেদের পোশাক-পরিচ্ছেদ কেমন হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ‘ষাট বছরের জীবনে কেউ এক ওয়াক্ত ছালাত ছেড়ে দিলেও সে কাফের’। সালাফদের থেকে এরকম কোন বক্তব্য পাওয়া যায় কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ইসলামী খিলাফতের দায়িত্ব ও কর্তব্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২): নিছাব পরিমাণ হওয়ার সময় আমার কাছে সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ টাকা। বছর ফুর্তির সময় সেটা বেড়ে ২ লক্ষ টাকা হয়। তাহলে কোন্ অংকটির উপর যাকাত হিসাব করতে হবে? নিছাব পরিমাণ হওয়া থেকে, না-কি বছর পুর্তি থেকে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মুক্তিপ্রাপ্ত দলের বৈশিষ্ট কী? কোন ব্যক্তির মাঝে যদি উক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহের কোন একটি অনুপস্থিত থাকে, তাহলে সে কি মুক্তিপ্রাপ্ত দলের হতে বের হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যে নারী ক্বাযা ছিয়াম পালন করার আগেই গর্ভবতী হয়ে গেছেন এবং আগত রামাযানেও তার পক্ষে ছিয়াম রাখা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় পূর্বের ক্বাযা ছিয়াম ও আগত ছিয়ামের হুকুম কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : কথিত রয়েছে যে, সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে আল্লাহ জীবনসঙ্গীর ব্যাপারে আমাদের প্রশ্ন করেছিল। আল্লাহ নাকি আমাদের জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, তোমরা কেমন জীবনসঙ্গী চাও? তখন আমরা বললাম, আমরা কেমন চাই। তারপর আল্লাহ বললেন যে তোমরা যেমন চেয়েছো তেমনই তোমাদের দেয়া হবে। এ কথাটা কতুটু সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮): হাদীছে শুধু সোনা ও রূপার নিছাব বর্ণিত হয়েছে। এমতাবস্থায় আমরা টাকার বা কাগুজে মুদ্রার নিছাব কিভাবে নির্ণয় করব, স্বর্ণের নিছাবের ভিত্তিতে, না-কি রৌপ্যের নিছাবের ভিত্তিতে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, ‘আমরা আনছারদের একজন ব্যক্তির কাছে প্রবেশ করলাম, যিনি কঠিন অসুস্থ ছিলেন। আমরা সেখান থেকে বের হইনি, যতক্ষণ না তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তখন আমরা তাঁর উপর কাপড় ঢেকে দিলাম। তিনি বলেন, অতঃপর আমি তাঁর মুখ থেকে কাপড় সরালাম, তারপর আমরা সেখান থেকে সরিনি, এমনকি আমরা তাঁর সাথে বসে খাওয়া-দাওয়া করলাম’ (আল-কাওলুল জালী ফী হুকমিত তাওয়াসসুলি বিন নাবী ওয়াল ওয়ালী, পৃ. ১২)। প্রশ্ন হল- একজন অলী (আল্লাহর নেক বান্দা)-এর দু‘আর মাধ্যমে কি মৃত ব্যক্তির আত্মা ফিরিয়ে আনা সম্ভব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ