রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন
উত্তর : প্রথমতঃ কাউকে সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে স্যালুট করা একটি অনৈসলামী সভ্যতা ও সংষ্কৃতি। এটি মূলত পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণের বিষময় ফল, যা পরিত্যাজ্য। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

‏لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا لَا تَشَبَّهُوْا بِالْيَهُوْدِ وَلَا بِالنَّصَارَى فَإِنَّ تَسْلِيْمَ الْيَهُوْدِ الْإِشَارَةُ بِالْأَصَابِعِ وَتَسْلِيْمَ النَّصَارَى الْإِشَارَةُ بِالأَكُفِّ

‘বিজাতির অনুকরণকারী ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়। তোমরা ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানদের অনুকরণ কর না। কেননা ইয়াহুদীরা আঙ্গুলের ইশারায় এবং খ্রিষ্টানরা হাতের ইশারায় সালাম দেয়’ (তিরমিযী, হা/২৬৯৫; সনদ হাসান, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২১৯৪)। তিনি আরো বলেন, لَا تُسَلِّمُوْا تَسْلِيْمَ الْيَهُوْدِ وَالنَّصَارَى فَإِنَّ تَسْلِيْمَهُمْ بِالْأَكُفِّ وَالرُّؤْسِ وَالْإِشَارَةِ ‘তোমরা ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানদের অনুকরণে সালাম দিয়ো না। কারণ তারা হাত, মাথা ও ইশারার মাধ্যমে সালাম প্রদান করে থাকে’ (নাসাঈ কুবরা, হা/১০১১৭২; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৭৮৩, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩৮৮)। ‘আত্বা ইবনু আবী রাবাহ বলেন, كَانُوْا يَكْرَهُوْنَ التَّسْلِيْمَ بِالْيَدِ أَوْ قَالَ كَانَ يَكْرَهُ التَّسْليْمَ باليدِ ‘ছাহাবীগণ হাতের ইশারায় সালাম দেয়া অপসন্দ করতেন। অথবা তিনি বলেন, তিনি হাতের ইশারায় সালাম দেয়া অপসন্দ করতেন’ (আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/১০০৪, সনদ ছহীহ)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘বিজাতীয় পদ্ধতিতে নেতা-নেত্রী অথবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্যালুট করা কোনও মুসলিমের জন্য জায়েয নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সঙ্গে সাদৃশ্য আনয়ন করতে নিষেধ করেছেন। উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা, বিশিষ্টজন ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গকে তাঁদের সামাজিক পদমর্যাদা অনুয়ায়ী সম্মান করা জায়েয। কিন্তু সম্মান প্রদর্শনের নামে সীমালঙ্ঘন করা কোন অবস্থাতেই বৈধ নয়’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৩৫-২৩৬)। পুলিশ-প্রশাসন ও সেনাবাহিনীতে সালাম আদান-প্রদানের যে রীতি-নীতি রয়েছে, সেটা পাশ্চাত্য সভ্যতার অনুকরণেই প্রবর্তিত এবং বিজাতীয় সভ্যতা  থেকে আগত। ইসলামে এর কোন অনুমোদন নেই। সুতরাং আমাদের জন্য উচিত হবে, অনৈসলামী আদর্শকে বর্জন করে, ইসলামী সংস্কৃতি ও অভিবাদনের পদ্ধতিকে গ্রহণ করা। আর তা হল- সাক্ষাৎকালে পরস্পরকে সালামের মাধ্যমে অভিবাদন জানানো এবং সর্বপ্রকারের আনুষ্ঠানিকতাকে পরিহার করা। কেননা এর জন্য কোনরূপ আনুষ্ঠানিকতা হলে সেটা বিদ‘আত হবে’ (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-১১১০৩৮)।

দ্বিতীয়তঃ ফরয ছালাত আরম্ভ করার পর তা ভঙ্গ করা নাজায়েয। কেননা আল্লাহ তা‘আলা আমল বিনষ্ট করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ  اٰمَنُوۡۤا اَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَ اَطِیۡعُوا الرَّسُوۡلَ وَ لَا تُبۡطِلُوۡۤا اَعۡمَالَکُمۡ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর, আর তোমরা তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট কর না’ (সূরা মুহাম্মাদ  : ৩৩)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় আব্দুর রহমান ইবনু নাছির আস-সা‘আদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘উক্ত আয়াতের আলোকে ফক্বীহগণ বলেন, ফরয ছালাত ভঙ্গ করা হারাম’ (তাফসীরে সা‘আদী, পৃ. ৭৮৯)। কিন্তু বিশেষ প্রয়োজন ও শরী‘আতসম্মত কারণে ভঙ্গ করা বৈধ। যেমন সাপ ও বিচ্ছু মারার জন্য, মূল্যবান সম্পদ বিনষ্টের ভয়ে, ডুবন্ত ব্যক্তিকে বাঁচানোর জন্য, আগুন নির্বাপণের জন্য, শিশুসন্তান বা অন্ধ ব্যক্তিকে আগুন অথবা কুয়া থেকে দূরে সরানোর জন্য, অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করার জন্য ইত্যাদি (মাওযূ‘আতুল ফিক্বহিয়াহ আল-কুয়েতিয়াহ, কুয়েতি ফিক্বহ বিশ্বকোষ, ৫১তম খণ্ড, পৃ. ৩৪; ইসলাম ওয়া সাওয়াল জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩০৯১২২; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-২৬৩০৩; ইবনু বায, মাজমূঊ ফাতাওয়া, ১১তম খণ্ড, পৃ. ১০৮-১০৯)।

তৃতীয়তঃ আমাদের সর্বাগ্রে আল্লাহ্ তা‘আলাকে সন্তুষ্ট করার চিন্তা-ভাবনায় নিমগ্ন থাকা অতীব যরূরী। তাই প্রয়োজনে এ ধরনের চাকুরী ছেড়ে দিতে হবে। কারণ স্রষ্টার অবাধ্যতা করে সৃষ্টির কোন আনুগত্য নেই (ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর, হা/৩৮১; মিশকাত, হা/৩৬৯৬, সনদ ছহীহ, ছহীহুল জামে‘, হা/৭৫২০)। বিশ্বাস করতে হবে রুযীর মালিক আল্লাহ। তিনি চাইলে কেউ ক্ষতি করতে পারবে না। (তিরমিযী, হা/২৪১৪; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৩১১; তাখরীজ তাহাভীয়া, পৃ. ২৭৮)।


প্রশ্নকারী : এরশাদুল ইসলাম, সরিষাবাড়ী, জামালপুর।





প্রশ্ন (৩৭) : সুতায় দু‘আ পড়ে অনেকে গিট দেয় এবং গলায় দেয়। এটা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : জনৈক আলেম বলেছেন, সিজদার জন্য যে পরিমাণ জায়গার প্রয়োজন হয় সে পরিমাণ জায়গা বাদ দিয়ে মুছল্লীর সামনে হাঁটাচলা করা যায়। সঠিকটা জানিয়ে উপকৃত করবেন। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : ‘সুবহানাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহি’ বললে আল্লাহর পথে স্বর্ণ দান করার সমান ছওয়াব পাওয়া যায়। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ছহীহ হাদীছ শুনার পরে যারা মানে না, তারা কি হাদীছ অস্বীকারকারী সাব্যস্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ছিয়াম পালনকারীর রক্ত পরীক্ষা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : ছালাতে ওযূ ছুটে গেলে কী করণীয়? এমতাবস্থায় লজ্জায় যদি কেউ ছালাত চালিয়ে যায়, তাহলে কি কাবীরা গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : ওশর-যাকাত এগুলো টাকা দিয়ে আদায় করা যাবে কি? না-কি নির্দিষ্ট প্রাণী, শস্য বা বস্তুর যাকাত সেই জিনিস দিয়েই আদায় করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ইসলাম ‘ক্রেডিট কার্ড’ সম্পর্কে কী বলে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : ফুটবল, ক্রিকেট কিংবা ভলিবল খেলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের পূর্বে দু’রাক‘আত সুন্নাত ছালাত ও বিতর ছালাত কখনো ছাড়তেন না। প্রশ্ন হল- যদি কেউ ছেড়ে দেন, তাহলে কি তিনি গুনাহাগার হবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : মানুষ একবার মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। প্রশ্ন হল, ঈসা (আলাইহিস সালাম) যাদের জীবিত করেছিলেন তারা কি মারা গেছে, না-কি এখনো তারা জীবিত আছে, তারা কোথায় আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ইসলামী বইপুস্তক যেমন- ফিক্বহ, আক্বীদা, তাফসীর ইত্যাদি বিষয়ক বইপুস্তকের উপর অন্য কোন জিনিসপত্র রাখা কিংবা ইসলামী বইপুস্তক একটার উপর আরেকটি রাখার ব্যাপারে আলেমগণের বক্তব্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ