বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:২০ অপরাহ্ন
উত্তর :  প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতিকে ইসলামী পরিভাষায় বাইয়ে সালাম বা সালাফ বলা হয়। সালাম শব্দের অর্থ অগ্রিম কেনাবেচা। ‘বাইয়ে সালাম বা সালাফ’ ক্রয়-বিক্রয়ের এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে বিক্রেতা পণ্যে অগ্রিম মূল্য নিয়ে এই দায়িত্ব গ্রহণ করে যে, সে ভবিষ্যতের কোন একটি নির্ধারিত তারিখে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের পণ্য ক্রেতাকে সরবরাহ করবে। এখানে মূল্য নগদ কিন্তু পণ্য (বিক্রিতব্য জিনিস) পরিশোধে বিলম্বিত হয় (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ-র্দাব, ৯/১৪৯ পৃ.)। হাফিয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, واتفق العلماء على مشروعيته ‘আলেমগণের সর্বসম্মতিক্রমে বাইয়ে সালাম জায়েয’ (ফাৎহুল বারী, ৭/৭৬ পৃ.)। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন,

قَدِمَ النَّبِيُّ ﷺ الْمَدِيْنَةَ وَهُمْ يُسْلِفُوْنَ بِالتَّمْرِ(وفيْ رِوَايَةِ مُسْلِمٍ فِي الثِّمَارِ السَّنَةَ) السَّنَتَيْنِ وَالثَّلَاثَ فَقَالَ مَنْ أَسْلَفَ فِيْ شَيْءٍ فَفِيْ كَيْلٍ مَعْلُوْمٍ وَوَزْنٍ مَعْلُوْمٍ إِلَى أَجَلٍ مَعْلُوْمٍ .

‘আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন মদীনায় আসেন তখন মদীনাবাসী ফলে বা খেজুরে এক, দুই ও তিন বছরের মেয়াদে সালাম (অর্থাৎ অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) করতেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, কোন ব্যক্তি সালাম (অর্থাৎ অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) করলে, সে যেন নির্ধারিত পরিমাপে এবং নির্দিষ্ট ওযনে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২২৩৯; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০৪)।

উপরিউক্ত হাদীছে রাসূল (ﷺ) বিশেষ কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে বাইয়ে সালাম চুক্তির অনুমতি দিয়েছেন। যেমন ১- বাইয়ে সালাম জায়েয হওয়ার জন্য যরূরী হল, ক্রেতা চুক্তির সময়ই বিক্রেতাকে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করবে। কেননা, চুক্তির সময় ক্রেতা যদি সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ না করে, তাহলে তা ঋণের বিনিময়ে ঋণ বিক্রির সাদৃশ্য হয়ে যাবে, যা করতে রাসূল (ﷺ) নিষেধ করেছেন (আল-মুগনী, ৪/৩৭; আশ-শারহুল মুমতি‘, ৮/৪৪৪; কুয়েতি ফিকাহ বিশ্বকোষ, ৯/১৭৬ পৃ.)। ২- বাইয়ে সালাম শুধু সেই সব পণ্য দ্রব্যে জায়েয হবে, যে সব পণ্যের কোয়ালিটি বা গুণগত মান, পরিমাণ, পরিমাপ ও সংখ্যা পূর্বেই পরিপূর্ণরূপে নির্ধারণ করা সম্ভব। ৩- যে পণ্যে সালাম করার ইচ্ছা পোষণ করবে, তার ধরণ এবং গুণগত মান সুস্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করে নেয়াও অপিরহার্য, যাতে সেই পণ্যে এমন কোন অস্পষ্টতা বিদ্যমান না থাকে, যা পরবর্তীতে কলহ-কোন্দলের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ প্রসঙ্গে সম্ভাব্য সকল বিষয় বিশদভাবে উল্লেখ থাকা উচিত। ৪- কোন রকম অস্পষ্টতা ব্যতীত বিক্রিতব্য দ্রব্যের পরিমাণ, পরিমাপ ও সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে নেয়া অপরিহার্য। ৫- বিক্রিতব্য জিনিস পরিশোধের তারিখ এবং স্থানও চুক্তিতে নির্ধারণ করে নেয়া অপরিহার্য ।


প্রশ্নকারী : ইকবাল, ভোলা।





প্রশ্ন (২১) : মসজিদের ইমাম জর্দা দিয়ে পান খায় এবং তার কুরআন তেলাওয়াত অশুদ্ধ। তাকে বললে তিনি সংশোধন হন না। এমতাবস্থায় এরূপ ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : লাল ও হলুদ পোশাক পরিধানের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : টমেটো মূলত সবজি। বর্তমানে এটি বাণিজ্যিক পণ্য হিসাবে চাষ করা হচ্ছে। এর যাকাত আদায় করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ঘুষের বিনিময়ে চাকরি নিলে সেই চাকরির বেতন কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : রোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য কোন গাছের  শিকড় মাদুলীর মধ্যে ঢুকিয়ে গলায় ঝুলিয়ে ব্যবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : কোর্ট ম্যারেজ এবং কোর্টের মাধ্যমে ত্বালাক্ব দেয়া সম্পর্কে ইসলামের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) কোন্ কোন্ শস্যের যাকাত প্রদান করা ফরয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জন্ম নিবন্ধন প্রথমে সঠিক বয়স দিয়েই তৈরি করা ছিল। কিন্তু পরে ২ বছর কমিয়ে নতুন করে সংশোধন করা হয় এবং তার আলোকেই একাডেমিক সার্টিফিকেট ও পাসপোর্ট করা হয়েছে। এখন বুঝতে পারছি এটা গুনাহের কাজ। কিন্তু সংশোধন করার কোন উপায় পাওয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (০৭) : ইমামের সাথে শত্রুতার কারণে কেউ যদি তার পিছনে ছালাত না পড়ে জামা‘আতের আগে কিংবা পরে পড়ে, তাহলে তার ছালাত হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার উদ্দেশ্যে মুহরিম ব্যক্তির জন্য গোসল করা কি জায়েয? মুহরিমের জন্য ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : কুরআন যেমন আল্লাহর কালাম অনুরূপ হাদীছের ক্ষেত্রে আমাদের আক্বীদা কেমন হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ফুযাইল ইবনু ই‘যায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, لَوْ أَنَّ لُوْطِيًّا اغْتَسَلَ بِكُلِّ قَطْرَةٍ مِّنَ السَّمَاءِ لَقِيَ اللهَ غَيْرَ طَاهِرٍ ‘সমকামী ব্যক্তি যদি আকাশের সমস্ত পানি দিয়ে গোসল করে তারপরও সে অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে’ (যাম্মুল লিওয়াত্ব, দুরী, পৃ. ১৪২; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-২৪৩৬৭৩)। প্রশ্ন হল- কোন সমকামী ব্যক্তি ভুল বোঝার পরে অনুতপ্ত হয়ে যদি ইখলাছের সাথে তওবাহ করে, তাহলে কি তার সমকামের পাপ ক্ষমা হবে এবং সে কি অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ