উত্তর : কুরআনুল কারীম আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর তিলাওয়াত নিজেই একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি হবে..’ (তিরমিযী, হা/২৯১০, সনদ ছহীহ)। অতএব কেবল বাংলা বা অন্য কোন ভাষার অনুবাদ বা অর্থ পড়লে তা ‘কুরআন তিলাওয়াত’ বা ‘কুরআন খতম’ হিসাবে গণ্য হবে না। যদিও কুরআনের অর্থ ও তাফসীর পড়া অত্যন্ত ছওয়াবের কাজ এবং জ্ঞানার্জনের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু পারিভাষিক অর্থে ‘কুরআন খতম’ বলতে আরবী মূল পাঠ তিলাওয়াতকেই বোঝায়। তবে রেকর্ড বা ক্বারীগণের তিলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শোনাও ছওয়াবের কাজ (সূরা আল-আ‘রাফ : ২০৪)। কিন্তু রেকর্ড বা অডিও শুনে গেলে পাঠকারীর সমপরিমাণ বা খতমকারী হিসাবে গণ্য হবে না। কারণ, তিলাওয়াত বা পাঠ করার ক্ষেত্রে মুখ দিয়ে উচ্চারণ করার শারীরিক আমলটি যরূরী। রেকর্ড শোনা হল শ্রবণ করার ইবাদত, আর তিলাওয়াত হল জবান বা মুখ দিয়ে পড়ার ইবাদত। সুতরাং রেকর্ড শুনে খতম সম্পন্ন হয়েছে বলে ধরা যাবে না। আর মৃত ব্যক্তির মাগফিরাতের জন্য দু‘আ করা, ছাদাক্বাহ করা এবং ছিয়াম পালনের প্রমাণ শরী‘আতে রয়েছে। মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে জীবিত ব্যক্তি নিজের মুখে কুরআন তিলাওয়াত করে তার ছাওয়াব মৃতের উদ্দেশ্যে বখশিয়ে বিদ‘আত। এর পক্ষে কুরআন ও ছহীহ হাদীছে কোন দলীল পাওয়া যায় না।
প্রশ্নকারী : সাব্বির আহমাদ, ঢাকা।