উত্তর : ইসলামে জমি-জায়গার মালিকানা ও ব্যবহার বৈধ হওয়ার জন্য বেশকিছু শর্ত রয়েছে। তার মাঝে অন্যতম শর্ত হল, অন্যের হক নষ্ট না হওয়া, জবরদখল না করা এবং স্পষ্ট মালিকানা থাকা। বর্ণনা অনুযায়ী যদি ‘দাগ’ (খতিয়ান/রেকর্ড) ও ‘পজিশন’ (বাস্তব অবস্থান) মিল না থাকে, তাহলে বিষয়টি সন্দেহপূর্ণ অবস্থায় আছে। যদি হাউজিংয়ের জমিগুলোর মধ্যে ‘দাগ’ (রেকর্ড/খতিয়ান অনুযায়ী প্লট নম্বর) ও ‘পজিশন’ (বাস্তব অবস্থান) মিল না থাকে, এ অবস্থায় সরাসরি ব্যবহার, নির্মাণ বা বিক্রি করলে অন্যের হক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে খাওয়া হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ ‘তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ কর না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৮)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন,
مَنْ أَخَذَ مِنَ الْأَرْضِ شَيْئًا بِغَيْرِ حَقِّهِ خُسِفَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى سَبْعِ أَرَضِيْنَ
‘যে ব্যক্তি অন্যের জমি থেকে সামান্য পরিমাণও অন্যায়ভাবে দখল করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে সাত যমীন পর্যন্ত ধসিয়ে দেয়া হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৫৪)। অন্য হাদীছে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি এক বিঘত জমি অন্যায়ভাবে দখল করবে, ক্বিয়ামতের দিন তার গলায় সাত স্তর যমীন বেড়ি পরিয়ে দেয়া হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৪০২৪)। এ কারণে, যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, আপনারা যে জায়গা ব্যবহার করছেন সেটাই আপনাদের প্রকৃত জমি, তাহলে ব্যবহার করা জায়েয। কিন্তু যদি সন্দেহ থাকে যে, বাস্তবে অন্যের অংশ চলে আসতে পারে, তাহলে আগে জরিপ, মাপজোক, রেকর্ড সংশোধন ও মালিকদের পারস্পরিক সম্মতির মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা যরূরী।
সমাজের অনেক মানুষেরই এরকম সমস্যা আছে। ‘সবাই এমন করছে’-এটা শরী‘আতের দলীল নয়। অন্যের হক্ব নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সতর্ক থাকতে হবে। ইসলামী ফিক্বহের একটি মূলনীতি হল- اليقين لا يزول بالشك ‘নিশ্চিত হক সন্দেহ দ্বারা নষ্ট হয় না’। তাই জমি ব্যবহারের পূর্বে করণীয় হল, দক্ষ সার্ভেয়ার/আমীন দিয়ে পুনরায় মাপজোক করা। হাউজিং কর্তৃপক্ষ ও জমির মালিকদের সম্মতিতে সীমানা নির্ধারণ করা। প্রয়োজনে সম্ভব হলে সরকারী রেকর্ড/দাগ সংশোধন করা। ইসলামে জমির বিষয়ে ‘সতর্কতা’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ ক্বিয়ামতে বান্দার হক (হক্কুল ইবাদ) খুব কঠিনভাবে হিসাব নেয়া হবে।
প্রশ্নকারী : ইউনুস, ডাসার, মাদারীপুর।