মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামে জমি-জায়গার মালিকানা ও ব্যবহার বৈধ হওয়ার জন্য বেশকিছু শর্ত রয়েছে। তার মাঝে অন্যতম শর্ত হল, অন্যের হক নষ্ট না হওয়া, জবরদখল না করা এবং স্পষ্ট মালিকানা থাকা। বর্ণনা অনুযায়ী যদি ‘দাগ’ (খতিয়ান/রেকর্ড) ও ‘পজিশন’ (বাস্তব অবস্থান) মিল না থাকে, তাহলে বিষয়টি সন্দেহপূর্ণ অবস্থায় আছে। যদি হাউজিংয়ের জমিগুলোর মধ্যে ‘দাগ’ (রেকর্ড/খতিয়ান অনুযায়ী প্লট নম্বর) ও ‘পজিশন’ (বাস্তব অবস্থান) মিল না থাকে, এ অবস্থায় সরাসরি ব্যবহার, নির্মাণ বা বিক্রি করলে অন্যের হক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে খাওয়া হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ ‘তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ কর না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৮)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

مَنْ أَخَذَ مِنَ الْأَرْضِ شَيْئًا بِغَيْرِ حَقِّهِ خُسِفَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى سَبْعِ أَرَضِيْنَ

‘যে ব্যক্তি অন্যের জমি থেকে সামান্য পরিমাণও অন্যায়ভাবে দখল করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে সাত যমীন পর্যন্ত ধসিয়ে দেয়া হবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৫৪)। অন্য হাদীছে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি এক বিঘত জমি অন্যায়ভাবে দখল করবে, ক্বিয়ামতের দিন তার গলায় সাত স্তর যমীন বেড়ি পরিয়ে দেয়া হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৪০২৪)। এ কারণে, যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, আপনারা যে জায়গা ব্যবহার করছেন সেটাই আপনাদের প্রকৃত জমি, তাহলে ব্যবহার করা জায়েয। কিন্তু যদি সন্দেহ থাকে যে, বাস্তবে অন্যের অংশ চলে আসতে পারে, তাহলে আগে জরিপ, মাপজোক, রেকর্ড সংশোধন ও মালিকদের পারস্পরিক সম্মতির মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা যরূরী।

সমাজের অনেক মানুষেরই এরকম সমস্যা আছে। ‘সবাই এমন করছে’-এটা শরী‘আতের দলীল নয়। অন্যের হক্ব নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সতর্ক থাকতে হবে। ইসলামী ফিক্বহের একটি মূলনীতি হল- اليقين لا يزول بالشك ‘নিশ্চিত হক সন্দেহ দ্বারা নষ্ট হয় না’। তাই জমি ব্যবহারের পূর্বে করণীয় হল, দক্ষ সার্ভেয়ার/আমীন দিয়ে পুনরায় মাপজোক করা। হাউজিং কর্তৃপক্ষ ও জমির মালিকদের সম্মতিতে সীমানা নির্ধারণ করা। প্রয়োজনে সম্ভব হলে সরকারী রেকর্ড/দাগ সংশোধন করা। ইসলামে জমির বিষয়ে ‘সতর্কতা’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ ক্বিয়ামতে বান্দার হক (হক্কুল ইবাদ) খুব কঠিনভাবে হিসাব নেয়া হবে।


প্রশ্নকারী : ইউনুস, ডাসার, মাদারীপুর।





প্রশ্ন (৩৭) : ওযূ করার পর দু‘আ পড়তে হয়। কিন্তু তায়াম্মুম করলে কী দু‘আ পড়তে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক আলেম বলেন, বান্দা যখন ছাদাক্বাহ প্রদান করে, তখন যেন সে তার চোয়াল থেকে সত্তর জন শয়তানকে বিতাড়িত করল। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৫) : চার রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতে আমি যদি ইমামের ৩য় বা ৪র্থ রাক‘আত পাই, তাহলে সেটা আমার কততম রাক‘আত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : হিন্দু-খ্রিস্টান তথা বিধর্মীদের বাড়ীতে যেকোন উপলক্ষে দাওয়াত দিলে কোন মুসলিম তা গ্রহণ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ঘুমের কারণে যদি আছরের ছালাত ছুটে যায় এবং ঘুম থেকে উঠেই আছরের ছালাত আদায় করা হয়, তাহলে কি পরিবারবর্গ ও ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায় এই হাদীছের আওতাভুক্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : মসজিদ কমিটি বিবাহ পড়ানোর জন্য ২০০০-৩০০০-৩৫০০ টাকা নিয়ে থাকে। এটা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : গণতান্ত্রিক নির্বাচনে যদি অংশ গ্রহণ না করা যায়, গণতন্ত্র ছাড়া ইসলাম প্রতিষ্ঠার বিকল্প পন্থা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মসজিদে সুতরা দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : পড়ার জন্য আমার সংগ্রহে অনেক বইয়ের পিডিএফ আছে। আমি জানি না যে, প্রকাশনী বা লেখক থেকে এগুলোর অনুমোদন আছে কি নেই। যদি না থাকে তাহলে সেগুলো পড়া বা সংগ্রহে রাখা কি গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : পিতা ছেলে সন্তানের জন্য কতদিন পর্যন্ত ভরণপোষণ বা খরচ বহন করতে বাধ্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : স্বামী যদি স্ত্রীর সাথে কাজের লোকের মত আচরণ করে, উঠতে বসতে বিশ্রী গালি-গালাজ করে, রাস্তা-ঘাট অপমান ও অবহেলা করে। এমতাবস্থায় উক্ত সমস্যার সমাধানের জন্য স্ত্রী কি তার পিতা-মাতাকে জানাতে পারে? জানালে কি অন্যায় হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘ইলমের আধিক্য আমার কাছে ইবাদতের আধিক্যের চেয়ে প্রিয়। আর তোমাদের সর্বোত্তম দ্বীন হলো পরহেযগারিতা’ (মুসনাদুল বাযযার, হা/২৯৬৯; হাকিম, হা/৩১৪)। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ