বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : কারণবশত ছুটে গেলে এমনটি হবে না। নবী (ﷺ) বলেছেন, ‏مَنْ نَسِيَ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَكَفَّارَتُهَا أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا ‘কেউ কোন ছালাত আদায় করতে ভুলে গেলে অথবা ঘুমিয়ে পড়লে তার কাফফারা হল- যখনই স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করে নিবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৮৪)। এ হাদীছ প্রমাণ করে যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে ছুটে যাওয়া ছালাত পরে আদায় করে নিলে গুনাহ হবে না। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ঘুম বা ভুলের কারণে ছালাত ছুটে গেলে এবং তা পরে আদায় করলে কোন গুনাহ নেই। কারণ এটি অনিচ্ছাকৃত বিষয়’ (শারহু মুসলিম, ৫/১৩২ পৃ.)। তবে আছরের ছালাতের ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘যদি কোন ব্যক্তির আছরের ছালাত ছুটে যায়, তাহলে যেন তার পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পদ সব কিছুই ধ্বংস হয়ে গেল’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৫২)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, একদা বুরাইদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, তোমরা শীঘ্র আছরের ছালাত আদায় করে নাও। কারণ নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আছরের ছালাত ছেড়ে দেয় তার আমাল বিনষ্ট হয়ে যায়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৫৩)। তবে ঘুমের কারণে আছরের ছালাত ছুটে গেলে এবং পরে তা আদায় করে নিলে তা ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দেয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে নিয়মিত ছালাতের ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং যথাসময়ে আদায়ের চেষ্টা করা অত্যাবশ্যক। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে ছালাতের হিফাযত করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।

স্বালাত ত্যাগকারীকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হবে। সামুরা ইবনু জুনদাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, একদা রাসূল (ﷺ) আমাদের সামনে স্বপ্নে দেখা শাস্তি সম্পর্কে বলেন, ‘...তিনি চিৎ অবস্থায় শায়িত এক ব্যক্তির নিকট আসলেন, এমতাবস্থায় অন্য একজন ব্যক্তি একটি পাথর হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে, অতঃপর সে উক্ত পাথর দিয়ে তার (শায়িত ব্যক্তির) মাথায় আঘাত করছে, যার ফলে তার মাথা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে, পাথরটি ছিটকে দূরে চলে যাচ্ছে, পুনরায় সে দৌড়ে গিয়ে পাথরটি নিয়ে ফিরা মাত্র উক্ত ব্যক্তির মাথা পূর্বের ন্যায় ঠিক হয়ে যাচ্ছে। পুনরায় ঐ ব্যক্তি আপন স্থানে ফিরে তাকে ঐ ভাবেই (শাস্তি) দিচ্ছে যেভাবে প্রথমবার দিয়েছিল। নবী (ﷺ) যখন ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন তখন দুই ফিরিশতা তাঁকে অবহিত করেন যে, এতো ঐ ব্যক্তি যে কুরআন পড়ত, কিন্তু তার প্রতি আমল করত না এবং ফরয ছালাত ছেড়ে ঘুমাত (ছহীহ বুখারী, হা/৭০৪৭, ১১৪৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২২৭৪)। তাই ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘সুতরাং ইসলাম থেকে চলে যাওয়া সর্বশেষ বস্তু যখন ছালাত, তখন যে বস্তুর শেষ চলে যায় সে বস্তু সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষ হয়ে যায়। এ জন্য আপনাদের দ্বীনের সর্বশেষ অংশ (ছালাত)-কে যথাযথভাবে আঁকড়ে ধরুন, আল্লাহ আপনাদের উপর রহমত বর্ষণ করুন’ (ইমাম আহমাদের কিতাবুছ ছালাত)।


প্রশ্নকারী : মুরশিদ আলী, মুর্শিদাবাদ, ভারত।





প্রশ্ন (৩০) : মহিলারা কি কুরবানীর পশু যব্হ করতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, যে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর দরূদ পাঠ করে তার জন্য সত্তর জন ফেরেশতা এক হাজার দিন পর্যন্ত নেকী লিখেন। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : কোন্ কোন্ শর্ত পূরণ করলে তওবাহ বিশুদ্ধ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : ইসলামী উপায়ে হিকমাহ বা প্রজ্ঞা বৃদ্ধির উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত’-এটি কি ছহীহ হাদীছ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : পিতা যদি নাবালিকা সন্তানের জন্য স্বর্ণ ক্রয় করে রাখে, আর সেটা যদি নিছাব পরিমাণ হয়, তাহলে কি যাকাত দিতে হবে? আবার যদি তা নিছাব পরিমাণ না হয়, তাহলে কি পিতার সম্পদের সাথে সংযুক্ত করে পিতাকে যাকাত দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : লোন বা কিস্তিতে বাইক কেনা যাবে কি? যদি কোনো বাইকের শোরুম কিস্তিতে বাইক দেয় তাহলে তা নেয়া হারাম হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : কোন্ অবস্থায় ছাদাক্বাহ করলে নেকী বেশি পাওয়া যায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : হজ্জের সফরে গিয়ে একাধিক ওমরা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : সমাজে দেখা যায় যে, মৃত ব্যক্তির মাথার নিকট সূরা ফাতেহা এবং তার কবরে পায়ের দিকে সূরা বাক্বারার শেষের দিক থেকে কিছু আয়াত পাঠ করা হয়। শরী‘আতের দৃষ্টিতে উক্ত নিয়মের কোন ভিত্তি আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : আমার মা আমার নানার একমাত্র মেয়ে। নানার আর কোন ছেলেমেয়ে নেই। তবে ভাতিজা, ভাগিনা আছে। নানা এখনো জীবিত। আমার নানা তাঁর সমস্ত সম্পত্তি আমার মায়ের নামে লিখে দিয়েছেন। এটা কি ঠিক হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : পবিত্র কুরআনের সূরা ইবরাহীম এর ৩৪ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তার নে‘মতের শুকরিয়া আদায় করার কঠিন নির্দেশ দিয়েছেন। সাথে সাথে একথাও বলেছেন যে, মানুষ অতিশয় যালিম এবং অকৃতজ্ঞ। প্রশ্ন হল- আমরা কিভাবে আল্লাহর নে‘মতের শুকরিয়া আদায় করব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ