শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
উত্তর : হজ্জ সফরে গিয়ে একাধিক ওমরা করার কোন দলীল পাওয়া যায় না। তামাত্তু হজ্জ সম্পাদনকারী ব্যক্তি শুরুতে ওমরা করবেন এবং হালাল হয়ে যাবেন। এরপর প্রয়োজনে জেদ্দা, ত্বায়েফ, মদীনা বা অন্য কোন শহরেও যেতে পারেন। মক্কায় ফেরার পথে তাকে আর ইহরাম বাঁধতে হবে না। মীক্বাত অতিক্রম করলেও কোন সমস্যা নেই। মক্কায় পৌঁছে নিজের অবস্থান থেকে হজ্জের ইহরাম বেঁধে মিনায় যাবেন (ফাতাওয়া উছায়মীন, ২১/৩৪৪ পৃ.)। শায়খ উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ)-কে এ মর্মে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 

لَا يَلْزَمُهُ الْإِحْرَامُ، فَإِذَا أَدَّى الْمُتَمَتِّعُ الْعُمْرَةَ وَخَرَجَ مِنْ مَكَّةَ إِلَى الطَّائِفِ، أَوْ إِلَى جِدَّةَ، أَوْ إِلَى الْمَدِيْنَةِ، ثُمَّ رَجَعَ، فَإِنَّهُ لَا يَلْزَمُهُ الْإِحْرَامُ بِالْحَجِّ لِأَنَّهُ رَجَعَ إِلَى مَقَرِّهِ، فَإِنَّهُ لَمَّا جَاءَ حَاجًّا صَارَ مَقَرُّهُ مَكَّةَ، فَإِذَا سَافَرَ إِلَى الْمَدِيْنَةِ ثُمَّ رَجَعَ فَقَدْ رَجَعَ إِلَى مَقَرِّهِ؛ فَيُحْرِمُ بِالْحَجِّ يَوْمَ التَّرْوِيَةِ مِنْ مَكَّةَ

‘তার উপর ইহরাম ওয়াজিব হবে না। যে তামাত্তু হজ্জ করার ইচ্ছা করে ওমরা সম্পাদন করবে এবং মক্কা থেকে ত্বায়েফ, জেদ্দা কিংবা মদীনায় যাবে অতঃপর ফিরে আসবে তার জন্য হজ্জের ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব নয়। কারণ তিনি নিজের অবস্থানে ফিরে আসছেন। যখন তিনি হজ্জের জন্য এসেছেন, তখন মক্কা তার অবস্থান করার জায়গা হয়ে গেছে। তিনি যখন মদীনায় সফর করে ফিরে আসবেন তখন তিনি তার অবস্থানের জায়গায় ফিরে আসবেন। অতঃপর ৮ তারিখে মক্কায় তার অবস্থান থেকে হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধবেন’ (ফাতাওয়া উছায়মীন, ২২/৭৮ পৃ.)। শায়খ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 

وَأَمَّا مَنْ جَاءَ لِلْحَجِّ وَأَدَّى الْعُمْرَةَ ثُمَّ بَقِيَ فِيْ جِدَّةَ أَوِ الطَّائِفِ وَهُوَ لَيْسَ مِنْ أَهْلِهِمَا ثُمَّ أَحْرَمَ بِالْحَجِّ فَهَذَا مُتَمَتِّعٌ فَخُرُوْجُهُ إِلَى الطَّائِفِ أَوْ جِدَّةَ أَوِ الْمَدِيْنَةِ لَا يُخْرِجُهُ عَنْ كَوْنِهِ مُتَمَتِّعًا؛ لِأَنَّهُ جَاءَ لِأَدَائِهِمَا جَمِيْعًا وَإِنَّمَا سَافَرَ إِلَى جِدَّةَ أَوِ الطَّائِفِ لِحَاجَةٍ ، وَكَذَا مَنْ سَافَرَ إِلَى الْمَدِيْنَةِ لِلزِّيَارَةِ كُلُّ ذَلِكَ لَا يُخْرِجُهُ عَنْ كَوْنِهِ مُتَمَتِّعًا فِي الْأَظْهُرِ

‘যে ব্যক্তি হজ্জ করার জন্য আসবে এবং ওমরা আদায় করবে অতঃপর জেদ্দা বা ত্বায়েফ অবস্থান করবে কিন্তু তারা সেখানকার বাসিন্দা নয় তারপর তিনি হজ্জের ইহরাম বাঁধবেন এটাই তামাত্তু হজ্জকারী। জেদ্দা বা ত্বায়েফ যাওয়ার কারণে তিনি তামাত্তু হজ্জকারীর হুকুম থেকে বেরিয়ে যাবেন না। কারণ তিনি হজ্জ ও ওমরা দুইটি এক সঙ্গে করার জন্য এসেছেন। তিনি জেদ্দা ও তায়েফ তার প্রয়োজনে সফর করেছে। অনুরূপ যে ব্যক্তি যিয়ারতের জন্য মদীনায় সফর করেছেন তার হুকুমও একই। মূলত কেউই তামাত্তু হজ্জকারীর হুকুম থেকে বেরিয়ে যাবে না (ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৭/৯৬ পৃ.)। শায়খ আলবানী বলেন, ‘হজ্জের পরের হল ঋতুবতী মহিলাদের ওমরা, যারা হায়েযের কারণে হজ্জের ওমরা করতে পারেনি। যেমন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ঋতুবতী হয়েছিলেন, যা তাঁর ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়। অনুরূপ অন্যান্য মহিলারাও যদি ওমরা করতে না পারে, তবে তারাও হজ্জের পর তানঈম থেকে ওমরা করতে পারবে। এটা শরী‘আত সম্মত। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ হাজী তারা বোকামি করে যে ওমরা করছে, একে আমরা শরী‘আত সম্মত মনে করি না। কারণ রাসূল (ﷺ)-এর অনেক ছাহাবী তাঁর সাথে হজ্জ করেছেন, কিন্তু কেউই হজ্জের পর ওমরা করেননি। বরং আমি মনে করি এটা মহিলাদের সাথে পুরুষদের সাদৃশ্য। মনে হচ্ছে মহিলাদের মত পুরুষদেরও হায়েয হচ্ছে’ (সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৯৮৪-এর আলোচনা দ্র.)।

অতএব যে সমস্ত মহিলা ঋতুবতী হওয়ার কারণে ওমরা করতে পারবে না, তারাই কেবল মাসজিদে আয়েশা বা তানঈম থেকে ইহরাম বেঁধে ক্বাযা ওমরা পূরণ করতে পারবে। এছাড়া অন্য কোন নারী-পুরুষ তানঈম থেকে ইহরাম বাঁধতে পারবে না। মক্কায় বসবাসকারীরাও তানঈম থেকে ওমরা করতে পারবে না। তাদেরকে মীক্বাত থেকে ওমরার ইহরাম বাঁধতে হবে (ছহীহ বুখারী, হা/১৫১৮)।

উল্লেখ্য যে, হজ্জ করতে গিয়ে বিনা প্রয়োজনে হারামের বাইরে গিয়ে ঘুরাঘুরি করা উচিত নয় (ইবনু কুদামা, আল-কাফী ফী ফিক্বহিল ইমাম আহমাদ, ১/৪৮০ পৃ.)। যেহেতু বায়তুল্লাহ দু‘আ কবুলের জায়গা, সেজন্য সেখানে অবস্থান করে বেশি বেশি নফল ছালাত আদায় করবে, কুরআন তেলাওয়াত করবে, দু‘আ করবে, যিকির-আযকার করবে সুযোগ পেলে ত্বাওয়াফ করবে (ফাতাওয়া উছায়মীন, ২২/২৬০ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : ইকবাল, আমেরিক প্রবাসী।





প্রশ্ন (২০) : মসজিদের ফরয ছালাত কিংবা জুম‘আর ছালাতের পর কেউ কেউ পিতা-মাতা বা নিজের রোগমুক্তির জন্য সবার কাছে দু‘আ চায়। অনেকে ইমামের নিকট পত্র লিখে দু‘আ চায়। এভাবে কেউ দু‘আ চাইলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : রাতে ছালাত আদায়ের সময় মুছল্লীর ছায়া সামনে পড়লে কি কোন সমস্যা হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত কোন অমুসলিম জিম্মিকে হত্যা করার পরিণাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ‘হাজারে আসওয়াদ ভূপৃষ্ঠে আল্লাহর ডান হাত। সুতরাং যে তাতে হাত লাগাল এবং চুমু খেল সে যেন আল্লাহর সাথে মুছাফাহা করল এবং তার ডান হাতে চুমু খেল’। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : বিতর ছালাতে কুনূত পড়তে ভুলে গেলে এবং সিজাদায় গিয়ে মনে পড়লে করণীয় কী? দু‘আ কুনূত ছাড়াই বিতর ছালাত পড়ার পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মসজিদে সুতরা দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : পিতা কর্তৃক ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিড থেকে ওয়ারিছসূত্রে প্রাপ্ত টাকা দ্বারা হজ্জ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : দুগ্ধদানকারিণী মা ছিয়াম ভঙ্গ করতে পারবে কি? ভঙ্গ করলে কখন তা পূরণ করবে, না-কি ফিদইয়া দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : সূরা নিসার ৯৩ আয়াতে বলা হয়েছে যে, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করলে সে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে’। আর হাদীছে আছে, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান আছে সে একদিন জান্নাতে যাবে’। চিরকাল মানে অনন্তকাল বোঝায়। প্রশ্ন হল- এক জায়গায় বলা হচ্ছে চিরকাল জাহান্নামে যাবে আর এক জায়গায় বলা হচ্ছে যে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। এই দু’টি কি বিরোধী নয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : স্ত্রীর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সংকটের কারণে স্বামী সন্তান নিতে চাচ্ছে না। এতে পাপ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : শরী‘আতে শরীরে ট্যাটু করা হারাম। কিন্তু ভিটিলিগো বা শ্বেত রোগের চিকিৎসা হিসাবে ট্যাটুর মত করে কালার করা হয়; যা ত্বকের পূর্বের রং ফিরিয়ে আনে। এমতাবস্থায় শ্বেত রোগ থেকে মুক্তির জন্য এমনটি করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : হিসাববিজ্ঞান পড়ার ক্ষেত্রে সূদী লেনদেনের হিসাব শিখতে হয়। প্রশ্ন হল, হিসাব বিজ্ঞান সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ