বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : হজ্জ সফরে গিয়ে একাধিক ওমরা করার কোন দলীল পাওয়া যায় না। তামাত্তু হজ্জ সম্পাদনকারী ব্যক্তি শুরুতে ওমরা করবেন এবং হালাল হয়ে যাবেন। এরপর প্রয়োজনে জেদ্দা, ত্বায়েফ, মদীনা বা অন্য কোন শহরেও যেতে পারেন। মক্কায় ফেরার পথে তাকে আর ইহরাম বাঁধতে হবে না। মীক্বাত অতিক্রম করলেও কোন সমস্যা নেই। মক্কায় পৌঁছে নিজের অবস্থান থেকে হজ্জের ইহরাম বেঁধে মিনায় যাবেন (ফাতাওয়া উছায়মীন, ২১/৩৪৪ পৃ.)। শায়খ উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ)-কে এ মর্মে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 

لَا يَلْزَمُهُ الْإِحْرَامُ، فَإِذَا أَدَّى الْمُتَمَتِّعُ الْعُمْرَةَ وَخَرَجَ مِنْ مَكَّةَ إِلَى الطَّائِفِ، أَوْ إِلَى جِدَّةَ، أَوْ إِلَى الْمَدِيْنَةِ، ثُمَّ رَجَعَ، فَإِنَّهُ لَا يَلْزَمُهُ الْإِحْرَامُ بِالْحَجِّ لِأَنَّهُ رَجَعَ إِلَى مَقَرِّهِ، فَإِنَّهُ لَمَّا جَاءَ حَاجًّا صَارَ مَقَرُّهُ مَكَّةَ، فَإِذَا سَافَرَ إِلَى الْمَدِيْنَةِ ثُمَّ رَجَعَ فَقَدْ رَجَعَ إِلَى مَقَرِّهِ؛ فَيُحْرِمُ بِالْحَجِّ يَوْمَ التَّرْوِيَةِ مِنْ مَكَّةَ

‘তার উপর ইহরাম ওয়াজিব হবে না। যে তামাত্তু হজ্জ করার ইচ্ছা করে ওমরা সম্পাদন করবে এবং মক্কা থেকে ত্বায়েফ, জেদ্দা কিংবা মদীনায় যাবে অতঃপর ফিরে আসবে তার জন্য হজ্জের ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব নয়। কারণ তিনি নিজের অবস্থানে ফিরে আসছেন। যখন তিনি হজ্জের জন্য এসেছেন, তখন মক্কা তার অবস্থান করার জায়গা হয়ে গেছে। তিনি যখন মদীনায় সফর করে ফিরে আসবেন তখন তিনি তার অবস্থানের জায়গায় ফিরে আসবেন। অতঃপর ৮ তারিখে মক্কায় তার অবস্থান থেকে হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধবেন’ (ফাতাওয়া উছায়মীন, ২২/৭৮ পৃ.)। শায়খ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 

وَأَمَّا مَنْ جَاءَ لِلْحَجِّ وَأَدَّى الْعُمْرَةَ ثُمَّ بَقِيَ فِيْ جِدَّةَ أَوِ الطَّائِفِ وَهُوَ لَيْسَ مِنْ أَهْلِهِمَا ثُمَّ أَحْرَمَ بِالْحَجِّ فَهَذَا مُتَمَتِّعٌ فَخُرُوْجُهُ إِلَى الطَّائِفِ أَوْ جِدَّةَ أَوِ الْمَدِيْنَةِ لَا يُخْرِجُهُ عَنْ كَوْنِهِ مُتَمَتِّعًا؛ لِأَنَّهُ جَاءَ لِأَدَائِهِمَا جَمِيْعًا وَإِنَّمَا سَافَرَ إِلَى جِدَّةَ أَوِ الطَّائِفِ لِحَاجَةٍ ، وَكَذَا مَنْ سَافَرَ إِلَى الْمَدِيْنَةِ لِلزِّيَارَةِ كُلُّ ذَلِكَ لَا يُخْرِجُهُ عَنْ كَوْنِهِ مُتَمَتِّعًا فِي الْأَظْهُرِ

‘যে ব্যক্তি হজ্জ করার জন্য আসবে এবং ওমরা আদায় করবে অতঃপর জেদ্দা বা ত্বায়েফ অবস্থান করবে কিন্তু তারা সেখানকার বাসিন্দা নয় তারপর তিনি হজ্জের ইহরাম বাঁধবেন এটাই তামাত্তু হজ্জকারী। জেদ্দা বা ত্বায়েফ যাওয়ার কারণে তিনি তামাত্তু হজ্জকারীর হুকুম থেকে বেরিয়ে যাবেন না। কারণ তিনি হজ্জ ও ওমরা দুইটি এক সঙ্গে করার জন্য এসেছেন। তিনি জেদ্দা ও তায়েফ তার প্রয়োজনে সফর করেছে। অনুরূপ যে ব্যক্তি যিয়ারতের জন্য মদীনায় সফর করেছেন তার হুকুমও একই। মূলত কেউই তামাত্তু হজ্জকারীর হুকুম থেকে বেরিয়ে যাবে না (ফাতাওয়া ইবনে বায, ১৭/৯৬ পৃ.)। শায়খ আলবানী বলেন, ‘হজ্জের পরের হল ঋতুবতী মহিলাদের ওমরা, যারা হায়েযের কারণে হজ্জের ওমরা করতে পারেনি। যেমন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ঋতুবতী হয়েছিলেন, যা তাঁর ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়। অনুরূপ অন্যান্য মহিলারাও যদি ওমরা করতে না পারে, তবে তারাও হজ্জের পর তানঈম থেকে ওমরা করতে পারবে। এটা শরী‘আত সম্মত। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ হাজী তারা বোকামি করে যে ওমরা করছে, একে আমরা শরী‘আত সম্মত মনে করি না। কারণ রাসূল (ﷺ)-এর অনেক ছাহাবী তাঁর সাথে হজ্জ করেছেন, কিন্তু কেউই হজ্জের পর ওমরা করেননি। বরং আমি মনে করি এটা মহিলাদের সাথে পুরুষদের সাদৃশ্য। মনে হচ্ছে মহিলাদের মত পুরুষদেরও হায়েয হচ্ছে’ (সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৯৮৪-এর আলোচনা দ্র.)।

অতএব যে সমস্ত মহিলা ঋতুবতী হওয়ার কারণে ওমরা করতে পারবে না, তারাই কেবল মাসজিদে আয়েশা বা তানঈম থেকে ইহরাম বেঁধে ক্বাযা ওমরা পূরণ করতে পারবে। এছাড়া অন্য কোন নারী-পুরুষ তানঈম থেকে ইহরাম বাঁধতে পারবে না। মক্কায় বসবাসকারীরাও তানঈম থেকে ওমরা করতে পারবে না। তাদেরকে মীক্বাত থেকে ওমরার ইহরাম বাঁধতে হবে (ছহীহ বুখারী, হা/১৫১৮)।

উল্লেখ্য যে, হজ্জ করতে গিয়ে বিনা প্রয়োজনে হারামের বাইরে গিয়ে ঘুরাঘুরি করা উচিত নয় (ইবনু কুদামা, আল-কাফী ফী ফিক্বহিল ইমাম আহমাদ, ১/৪৮০ পৃ.)। যেহেতু বায়তুল্লাহ দু‘আ কবুলের জায়গা, সেজন্য সেখানে অবস্থান করে বেশি বেশি নফল ছালাত আদায় করবে, কুরআন তেলাওয়াত করবে, দু‘আ করবে, যিকির-আযকার করবে সুযোগ পেলে ত্বাওয়াফ করবে (ফাতাওয়া উছায়মীন, ২২/২৬০ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : ইকবাল, আমেরিক প্রবাসী।





প্রশ্ন (১১) : নারীরা বাড়িতে ছালাত আদায় করলে পুরুষের জামা‘আতের ন্যায় ২৭ বা ২৫ গুন ছাওয়াব পাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জনৈক ব্যক্তির একটি স্কুল আছে, সেখানে ছাত্র-ছাত্রীর জন্য নির্দিষ্ট একটি প্রকাশনীর বই নির্বাচন করায় প্রকাশনী হতে কিছু টাকা দেয়। উক্ত টাকা নেয়া জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : সন্তান বেশি হলে মানুষ গরীব হয়ে যাবে। এ কথা বলা কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : শুধু কুলি করে ও নাকে পানি দিয়ে সারা শরীরে পানি দিয়ে গোসল করলে কি ফরয গোসল আদায় হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : বাসা-বাড়িতে জিন সাপ চেনার উপায় কী? দেখার পর করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : জনৈক লেখক তার বইয়ে লিখেছেন যে, আশূরার দিনেই আদম (আলাইহিস সালাম)-এর তাওবা কবুল হয়েছে, নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর নৌকা যেদিন জূদী পাহাড়ে থেমেছিল, এই দিনেই ইউনুস (আলাইহিস সালাম)-এর দু‘আ কবুল হয়েছিল। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : দুনিয়াতে আপন ভাই-বোনের মাঝে সম্পর্কই নাকি শেষ। পরকালে পরস্পরের মাঝে আর নাকি কখনো দেখা হবে না। এটা কি সত্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : ‘তোমরা হজ্জ কর, কারণ হজ্জ গুনাহকে ধুয়ে ফেলে যেরূপ পানি ময়লা ধুয়ে ফেলে’ (ত্বাবারাণী-আল-মু‘জামুল আওসাত্ব, হা/৪৯৯৭)। বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : একই কাতারে ইমাম মুক্তাদিরা দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করতে পারবে কি? অনেক সময় দু’জন দাঁড়িয়ে ছালাত শুরু করে পরবর্তীতে তাদের সাথে আরো লোকজন শামিল হয়। এমতাবস্থায় ইমাম সামনে না যেয়ে বা মুক্তাদিদের পিছনে না ঠেলে যদি একই কাতারে থেকে ছলাত শেষ করে তাহলে কি সেটা নাজায়েয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : ছালাতে সিজদায় বাংলাতে দু‘আ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : কোন মুসলিমকে কাফের বলার জন্য কোন শর্ত আছে কী? তাকফীরের মূলনীতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : মেরু অঞ্চলের শীত প্রধান দেশে কিভাবে ছালাতের সময় নির্ধারণ করব? যেমন ফিনল্যান্ডে সূর্য ডুবে রাত ১২ টার পরে। আবার সূর্য উঠে ২টার দিকে। আসলে এখানে সূর্যই ডুবে না। এক্ষেত্রে ছালাত, ছিয়াম, ইফতার ইত্যাদির সময় কিভাবে নির্ধারণ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ