বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:১২ অপরাহ্ন
উত্তর : যদি মানবীয় আকার-আকৃতি গঠিত হওয়ার পর, অর্থাৎ হাত, মাথা, পা বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হওয়ার পর ভ্রুণ বা বাচ্চা বিনষ্ট হয়, তবে এটি নিফাস (প্রসবোত্তর স্রাব) বলেই বিবেচিত হবে। এ অবস্থায় পবিত্র হওয়ার পূর্বে অথবা চল্লিশ দিন পরিপূর্ণ হওয়ার পূর্বে সহবাস, ছালাত ও ছিয়াম থেকে বিরত থাকবে। অতঃপর যখন ৪০ দিন পূর্ণ হবে কিংবা যদি চল্লিশ দিন পরিপূর্ণ হওয়ার আগেই পবিত্র হয়ে যায়, তৎক্ষণাৎ ফরয গোসল করে ছালাত আদায় ও ছিয়াম পালন করা তার জন্য অপরিহার্য এবং স্বামীর সাথে সহবাস করাও বৈধ হবে। আর যদি মানবীয় আকার-আকৃতি গঠিত হওয়ার পূর্বেই রক্তপিণ্ড অথবা মাংসপিণ্ড অবস্থায় বিনষ্ট হয়! তখন সেটি মুস্তাহাযা (হায়েয ও নিফাস ব্যতীত অতিরিক্ত রজঃস্রাবকে ইসতিহাযা এবং সে মহিলাকে মুস্তাহাযা বলা হয়) বলে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে তাকে ছালাত আদায়, ছিয়াম পালন সহ সব কিছুই করতে হবে। বিশেষজ্ঞগণ বলেন, মাতৃগর্ভে ভ্রুণের বয়স ৮১ (একাশি) দিন অতিবাহিত হলে মানুষের আকার-আকৃতি ধারণ করে। যদি নিশ্চিত হয় যে, তিন মাস বয়সের ভ্রুণ পতিত হয়েছে, তবে নির্গত স্রাব নিফাসের স্রাব বলেই গণ্য হবে। কিন্তু যদি এই গর্ভপাত ৮০ (আশি) দিনের কমে হয়, তবে ক্ষরিত পদার্থ নষ্ট রক্তস্রাব বলে গণ্য হবে। তাই এই অবস্থায় সে ছালাত, ছিয়াম, সহবাস প্রভৃতি পরিত্যাগ করবে না। অতএব নারীর উপর আবশ্যক হচ্ছে, দিনগুলোকে স্মরণে রাখা এবং ৮০ দিনের পূর্বে গর্ভপাত হচ্ছে, না-কি অতিবাহিত হওয়ার পর, সে সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়া (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৪২২-৪২৩; ইবনু বায, ফাতাওয়া ইসলামিয়্যা, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৪৩; ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, প্রশ্ন নং-১৮২ ‘ত্বাহারাত’ অধ্যায়)।

সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করলে প্রাকৃতিক নিয়মের তুলনায় রক্তপাত কম হয়। অতএব যখন রক্তপাত বন্ধ হবে, অথবা পবিত্রতার দু’টি লক্ষণের মধ্যে কোন একটি পরিলক্ষিত হবে। (১) লজ্জাস্থান শুষ্ক হয়ে যাওয়া, (২) সাদা স্রাব; তাহলে সে প্রসবোত্তর রক্তপাত থেকে পবিত্র হিসাবে বিবেচিত হবে। এমতাবস্থায় তার জন্য গোসল করা, ছালাত আদায় করা, ছিয়াম পালন করা এবং সহবাস করা অপরিহার্য। তবে আলেমগণ চল্লিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সহবাস করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সিজার করার পর যদি লজ্জাস্থান থেকে কোন প্রকার রক্ত নির্গত না হয়, সেক্ষেত্রে নিফাসের কোন বিধান তার উপর কার্যকর হবে ন। উক্ত অবস্থায় ছালাত আদায় করা, ছিয়াম পালন করা, সহবাস করা, ইত্যাদি অবিরত থাকবে। তবে সহবাসের ক্ষেত্রে শারীরিক সুস্থতার প্রতি সজাগ থাকা অতীব যরূরী। সিজার করা অবস্থায় পেট থেকে যে রক্ত নির্গত হয় তা নিফাসের রক্ত নয়’ (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-১৪২০১, ৫৮৩১৫, ৮১০৮৫, ৮২৯৩; ফিক্বহ বিশ্বকোষ, ৪১তম খণ্ড, পৃ. ১৬; আল-ফিক্বহুল ইসলামী, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৩৩; শারহুল বিক্বায়া, ১ম খণ্ড, পৃ. ১১৪)।


প্রশ্নকারী : আবূ সালেহ, দিনাজপুর।





প্রশ্ন (৩০) : হজ্জ মানুষের পাপকে ধুয়ে দেয়, যেভাবে পানি ময়লাকে ধুয়ে দেয়। এই হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : জনৈক আলেম لَهُ مَقَالِيدُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ এই আয়াত সম্পর্কে বলেন যে, এর ব্যাখ্যা হল নিম্নে দু‘আ- لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، وَسُبْحَانَ اللهِ، وَبِحَمْدِهِ، وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ، الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ، يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ আর এর ফযীলত হল, যে ব্যক্তি প্রত্যেক দিন সকালে উক্ত আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য ছয়টি ফযীলত রয়েছে- (ক) সে শয়তান ও তার সহযোগীদের থেকে রক্ষা পাবে। (খ) তাকে এক কিনতার (অঢেল মাপ) পরিমাণ নেকী দেয়া হবে। (গ) তার জন্য জান্নাতে একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেয়া হবে। (ঘ) তার সাথে চোখ জুড়ানো হুরদের বিবাহ দেয়া হবে। (ঙ) তার নিকট দশজন ফেরেশতা উপস্থিত থাকবে। (চ) কুরআন, তাওরাত, ইঞ্জীল ও যাবূর তেলাওয়াত করার মত নেকী দেওয়া হবে। বিশেষ করে সে একটি কবুল হজ্জ ও ওমরার নেকী পাবে। যদি সে ঐ দিন মারা যায় তবে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : কেউ যদি তার ঘরে বসবাস শুরু করার পর থেকেই রোগে ও মুছীবতে আক্রান্ত হয়, তাহলে উক্ত ঘরে বসবাস করাকে অমঙ্গলের কারণ হিসাবে মনে করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : কতদিনে আক্বীক্বা দিতে হয় এবং ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য কয়টি করে আক্বীক্বা দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : তাওহীদ ৩ প্রকার। তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ, উলূহিয়্যাহ, আসমা ওয়াছ ছিফাত। এভাবে তাওহীদের প্রকার করা ও এই নামগুলো কখন থেকে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : কোন মুসলিম নামের সাথে prince ব্যবহার করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : কবরস্থানের ফাঁকা জায়গায় (যেখানে কবর নেই) জানাযার ছালাত পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : কোন ভবনের দ্বিতীয় তলায় মসজিদ। নিচতলায় রংয়ের গুদাম, মসজিদের টয়লেট এবং ওযূখানা। দ্বিতীয় তলায় মসজিদের মিম্বার বরাবর নিচ তলায় হাতের বায়ে দেয়াল ঘেষে একটি কবর। প্রশ্ন হল, উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : সমাজে মারা যাওয়ার পর মৃত ব্যক্তির চুল, নখ ইত্যাদি কাটার রেওয়াজ চালু রয়েছে। এটা কতটুকু শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : আমার বাবা সূদের উপরে টাকা নিয়ে গরুর খামার দিতে যাচ্ছে আমি ঐ খামারে কাজ করতে চাচ্ছি না বিধায় আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাচ্ছেন। এখন আমার কী করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : অনেকেই বিশেষ ফযীলত মনে করে শুধুই ১৫ই শা‘বানে ছিয়াম পালন করে। এরূপ করা যাবে কি? শা‘বান মাসে ছিয়াম পালনের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১): আঙ্গুরের যাকাত সম্পর্কে নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, ইহা অনুমান করা হবে, যেভাবে খেজুর অনুমান করা হয়। অতঃপর আঙ্গুর শুকিয়ে গেলে তার যাকাত আদায় করা হবে। যেভাবে খেজুরের যাকাত আদায় করা হয়। এটা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ