বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : শাফা‘আত বা সুপারিশ দুই প্রকার। যথা: ১- খাছ বা নির্দিষ্ট: অর্থাৎ এমন শাফা‘আত যা শুধু রাসূল (ﷺ)-এর জন্য নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত। এর অনেকগুলো স্তর বা প্রকার আছে। সব থেকে বড় ও সম্মানিত শাফা‘আত হল, ‘মাক্বামে মাহমূদ’, আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে তা প্রদান করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আর রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ুন, এটা আপনার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায় আপনার প্রতিপালক আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে (মাক্বামে মাহমুদে)’ (সূরা বানী ইসরাঈল: ৭৯)। এটি এমন একটি শাফা‘আত যার মাধ্যমে তিনি ক্বিয়ামতের দিন তাওহীদ পন্থীদের ও ঈমানদারদের কষ্ট লঘু করণার্থে বা  দূরীকরণার্থে সুপারিশ করবেন।

২- আম বা অনির্দিষ্ট: অর্থাৎ এমন শাফ‘আত যা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এবং সমস্ত মুমিনদের জন্য সাধারণ। এগুলোর অনেক প্রকার আছে। যথা: (ক) এমন মুমিন বা তাওহীদপন্থী ব্যক্তি যে কোন পাপের কারণে জাহান্নামের অধিকারী হয়ে গিয়েছে। জানাযার ছালাতের মাধ্যমে তার জন্য যদি এমন চল্লিশজন বা ততোধিক মুমিন ব্যক্তি বা তাওহীদপন্থী ব্যক্তি সুপারিশ করেন, যারা কখনো আল্লাহ্র সঙ্গে শিরক করেননি, তাহলে তার পক্ষে তাদের সুপারিশ মঞ্জুর করা হয়। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি,

‏مَا مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَمُوْتُ فَيَقُوْمُ عَلَى جَنَازَتِهِ أَرْبَعُوْنَ رَجُلًا لَا يُشْرِكُوْنَ بِاللهِ شَيْئًا إِلَّا شَفَّعَهُمُ اللهُ فِيْهِ‏.‏

‘কোন মুসলিম ব্যক্তি মারা গেলে, তার জানাযার ছালাতে যদি এমন চল্লিশজন ব্যক্তি অংশ গ্রহণ করে যারা কখনো কোন কিছুকে আল্লাহর সাথে শরীক করেননি তবে মহান আল্লাহ তার অনুকূলে তাদের সুপারিশ কবুল করেন’। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে ‘জানাযার ছালাত আদায় করে এবং তারা তার জন্য সুপারিশ করে, তবে তার জন্য তাদের সুপারিশকে মঞ্জুর করা হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৪৭; তিরমিযী, হা/১০২৯)।

(খ) ঈমানদার ও তাওহীদপন্থী জাহান্নামীদের জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য সুপারিশ। রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, ঐ দিন মুমিনগণ তাঁদের ঐ সব ভাই যারা জাহান্নামে রয়ে গেছে তাদের স্বার্থে আল্লাহর সাথে এত অধিক বিতর্কে লিপ্ত হবে যে, তোমাদের পার্থিব অধিকারের ক্ষেত্রেও এমন বিতর্কে কেউ লিপ্ত হয় না। তাঁরা বলবেন, হে আমাদের প্রতিপালক! এরা তো আমাদের সাথেই ছিয়াম পালন করত, ছালাত আদায় করত, হাজ্জ করত। তখন তাঁদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে যে, যাও, তোমাদের পরিচিতদের উদ্ধার করে নিয়ে এসো। উল্লেখ্য, এরা জাহান্নামে পতিত হলেও মুখমণ্ডল আযাব থেকে রক্ষিত থাকবে। (তাই তাদেরকে চিনতে কোন অসুবিধা হবে না।) মুমিনগণ জাহান্নাম হতে এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে আনবে। এদের অবস্থা এমন হবে যে, কারোর তো পায়ের নলা পর্যন্ত, আবার কারো হাঁটু পর্যন্ত আগুনে জ্বলে ভস্মীভূত হয়ে যাবে। উদ্ধার শেষ করে মুমিনগণ বলবেন, হে আমাদের প্রতিপালক! যাদের সম্পর্কে আপনি নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, তাদের মাঝে আর কেউ অবশিষ্ট নেই। আল্লাহ বলবেন, পুনরায় যাও, যার অন্তরে এক দীনার পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট পাবে তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন তাঁরা আরো একদলকে উদ্ধার করে আনবে এবং তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! অনুমতিপ্রাপ্তদের কাউকেও রেখে আসিনি। আল্লাহ বলবেন, আবার যাও, যার অন্তরে অর্ধ দীনার পরিমাণও ঈমান অবশিষ্ট পাবে তাকেও বের করে আন। তখন আবার এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে এনে তাঁরা বলবেন, হে আমাদের প্রতিপালক! যাদের আপনি উদ্ধার করতে বলেছিলেন তাদের কাউকে ছেড়ে আসিনি। আল্লাহ বলবেন, আবার যাও, যার অন্তরে অণু পরিমাণও ঈমান বিদ্যমান আছে, তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন আবারও এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে এনে তাঁরা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! যাদের কথা বলেছিলেন তাঁদের কাউকেও রেখে আসিনি ...’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৪৩৯; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৩)।

(গ) মুমিনদের পদমর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ। আর এটি এক মুমিন অপর মুমিনদের জন্য করে থাকেন (ছহীহ মুসলিম, হা/৯২০)। যেমন জানাযার ছালাতে দু‘আ করা হয়ে থাকে (আল-ক্বাউলুল মুফীদ আলা কিতাবিত তাওহীদ, ১/৩৩১; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১১৯৩১)।


প্রশ্নকারী : মামুন, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (৭) : সোশাল মিডিয়া, ইউটিউব থেকে উপার্জন করা কি হারাম? বর্তমানে ফেসবুক বা ইউটিউবে বিভিন্নভাবে দাওয়া প্রচার বা বৈধ শিক্ষামূলক অথবা ব্যবসায়ী কাজে ভিডিও তৈরি করে কন্টেন্ট বানানো হচ্ছে। এতে দেখা যায় অনেক ইসলামিক বক্তা, আলেম ও ইসলামী শিল্পীদের একাউন্টেও মনিটারাইজেশন চালু থাকে! যদি উপার্জন করা হারাম হয়, তাহলে তারা কোন্ ফাতায়ার ভিত্তিতে একাউন্টে মনিটারাইজেশন চালু রেখেছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করার পর নবী (ﷺ)-এর উপর দুরূদ পাঠ করা যাবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : পায়ের লোম অতিরিক্ত বড় হলে কেটে ফেলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : পিতা তার মৃত্যুর সময় সন্তান-সন্ততির মাঝে সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে যা বলেন তাতে করে মেয়েদের অংশ একটু কম হয়ে যায়। অর্থাৎ ছেলেদেরকে প্রপারে এবং মেয়েদেরকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে জমি বণ্টনের কথা বলেন। এ বিষয়ে পিতার মৃত্যুর পর ছেলে-মেয়েদের মাঝে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এখন তারা কী করতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : সমাজে দেখা যায় যে, মৃত ব্যক্তির মাথার নিকট সূরা ফাতেহা এবং তার কবরে পায়ের দিকে সূরা বাক্বারার শেষের দিক থেকে কিছু আয়াত পাঠ করা হয়। শরী‘আতের দৃষ্টিতে উক্ত নিয়মের কোন ভিত্তি আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : সন্তানের নাম রাফি, রাব্বি, আবুল কাশেম, মীম, নুন, আলিফ, বাদশা রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : ‘ফাযায়েলে কুরআন’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, ‘ছালাতে কুরআন তেলাওয়াত করা ছালাতের বাইরে কুরআন তেলাওয়াত করা অপেক্ষা উত্তম। ছালাতের বাইরে কুরআন তেলাওয়াত করা ‘সুবহানাল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ বলার চেয়ে উত্তম। ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা ছাদাক্বাহ হতে উত্তম; ছাদাক্বাহ ছিয়াম হতে উত্তম। আর ছিয়াম হচ্ছে জাহান্নামের ঢাল স্বরূপ’ (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/২০৯৫; মিশকাত, হা/২১৬৬; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২০৬২; ফাযায়েলে আমল, পৃ. ২৩০)। উল্লিখিত বক্তব্যগুলো কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : বাবা-মা পরিবারের বড় ছেলের তুলনায় ছোট ভাই-বোনদেরকে সবকিছুই বেশি দিয়ে থাকেন। তারা মোটেও ইনছাফ করেন না। এজন্য কি তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে না আল্লাহ তা‘আলার কাছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : মসজিদ কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ছালাত আদায় করে না। এমন ব্যক্তিকে মসজিদের কমিটিতে রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : মানুষ মারা গেলে মাইকিং করে শোক সংবাদ প্রচার করা কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : জনৈক ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণের অর্থ হালাল-হারাম সন্দেহ করেন এবং মসজিদের ইমাম বিদ‘আত করেন বিধায় তিনি মসজিদে ছালাত আদায় করেন না, এমতাবস্থায় তার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : কারো নাম পরিবর্তন করে রাখলে তার জন্য নতুন করে আক্বীক্বা করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ