উত্তর : ছালাতের পর “সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার” ইত্যাদি যিকির করা আল্লাহর শুকর আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে এটিই শুকরের পূর্ণাঙ্গ রূপ নয়। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে শুকরের তিনটি স্তম্ভ রয়েছে। যথা:
(১) অন্তরে আল্লাহর নে‘মত স্বীকার করা এবং সকল নে‘মত আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে বলে অন্তরে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ مَا بِکُمۡ مِّنۡ نِّعۡمَۃٍ فَمِنَ اللّٰہِ ‘তোমাদের কাছে যেসব নে‘মত রয়েছে, সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে’ (সূরা আন-নাহল : ৫৩)।
(২) মুখে আল্লাহর প্রশংসা ও শুকর আদায় করা। আলহামদুলিল্লাহ বলা, যিকির করা এবং আল্লাহর প্রশংসা করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَاذۡکُرُوۡنِیۡۤ اَذۡکُرۡکُمۡ وَ اشۡکُرُوۡا لِیۡ وَ لَا تَکۡفُرُوۡنِ ‘তোমরা আমার যিকির কর, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আমার শুকর আদায় কর এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৫২)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, الطُّهُوْرُ شَطْرُ الإِيْمَانِ، وَالْحَمْدُ لِلهِ تَمْلَأُ الْمِيْزَانَ ‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক, আর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ মীযান (আমলের পাল্লা) পূর্ণ করে দেয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২২৩)।
(৩) নে‘মতকে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যবহার করা। এটাই শুকরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اِعۡمَلُوۡۤا اٰلَ دَاوٗدَ شُکۡرًا ‘হে দাঊদের পরিবার! তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আমল কর’ (সূরা সাবা : ১৩)। অর্থাৎ, শুধু মুখে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলাই যথেষ্ট নয়; বরং আল্লাহর দেয়া সম্পদ, জ্ঞান, সময়, শক্তি সবকিছু তাঁর সন্তুষ্টির পথে ব্যয় করাই প্রকৃত শুকর। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ اِنۡ تَعُدُّوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ لَا تُحۡصُوۡہَا ؕ اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَظَلُوۡمٌ کَفَّارٌ ‘তোমরা যদি আল্লাহর নে‘মত গণনা করতে চাও, কখনো তার হিসাব শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ বড়ই যালিম, বড়ই অকৃতজ্ঞ’ (সূরা ইবরাহীম : ৩৪)।
অতএব, মানুষের পক্ষে আল্লাহর সকল নে‘মতের যথাযথ শুকর আদায় করা সম্ভব নয়। তাই বান্দা সর্বদা শুকর আদায়ের চেষ্টা করবে, বেশি বেশি যিকির করবে এবং নে‘মতকে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যবহার করবে। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘শুকর হল- অন্তরে নে‘মত স্বীকার করা, মুখে তার প্রশংসা করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আল্লাহর আনুগত্যে নিয়োজিত রাখা’ (মাদারিজুস সালিকীন, ২/২৪৬ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : আনাস মাহমূদ, বসুদ্ধরা, ঢাকা।