উত্তর : ইসলামে বিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান ও পবিত্র সুন্নাহ। তবে শরী‘আতের বিধান অনুযায়ী সবার জন্য বিয়ের হুকুম বা বাধ্যবাধকতা এক রকম নয়; ব্যক্তিবিশেষের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিয়ের হুকুম ভিন্ন হতে পারে। যেমন- (১) ওয়াজিব : যে ব্যক্তির তীব্র শারীরিক চাহিদা বা বিয়ের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং সে নিশ্চিতভাবে ভয় করে যে বিয়ে না করলে সে ব্যভিচার বা কোন চারিত্রিক পাপে লিপ্ত হয়ে যাবে, তার ওপর বিয়ে করা ফরয বা ওয়াজিব। কারণ নিজের চরিত্র রক্ষা করা আবশ্যক। এই অবস্থায় বিয়ে না করলে ব্যক্তি গুনাহগার হবে (বুখারী হা/৫০৬৫)। (২) মুস্তাহাব বা সুন্নাত : এটি সাধারণ অবস্থার বিধান। যে ব্যক্তির শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, কিন্তু বিয়ে না করলেও সে নিজেকে পাপ থেকে রক্ষা করতে পারবে, তার জন্য বিয়ে করা সুন্নাত বা মুস্তাহাব। (৩) হারাম (নিষিদ্ধ) : যদি কোন ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে জানে যে সে স্ত্রীর শারীরিক (দাম্পত্য) বা আর্থিক (ভরণপোষণ ও মোহরানা) কোন অধিকারই আদায় করতে পারবে না এবং বিয়ে করলে স্ত্রীর ওপর অবধারিতভাবে যুলুম হবে, তবে তার জন্য বিয়ে করা হারাম। (৪) মাকরূহ (অপসন্দনীয়) : যদি কোন ব্যক্তির তীব্র বৈবাহিক ইচ্ছা না থাকে এবং সে আশঙ্কা করে যে বিয়ে করলে স্ত্রীর হক বা অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে অবহেলা হতে পারে (কিন্তু চূড়ান্ত যুলুমের পর্যায়ে যাবে না), তবে তার জন্য বিয়ে করা মাকরূহ। (৫) মুবাহ (সাধারণ বৈধ) : যার বিয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষাও নেই, আবার স্ত্রীর প্রতি কোন অন্যায় বা যুলুম করার আশঙ্কাও নেই, তার জন্য এটি মুবাহ (ছহীহ ফিকহুস সুন্নাহ’, ৩/১১২- ১১৪; আল-মুলাখখাছ আল-ফিকহী, ২/৩১০-৩১১ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : নাহিদ হাসান শিমুল, সবুজবাগ, ঢাকা।