প্রশ্ন (২৮) : সালাফদের আক্বীদাগুলো কী কী?
উত্তর : সালাফে ছালেহীন বলতে ছাহাবায়ে কিরাম, তাবেঈন এবং তাঁদের অনুসারী প্রথম যুগের নেককার মুসলিমদের বোঝানো হয়। তাঁদের আক্বীদা হল—কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহকে ছাহাবায়ে কিরামের বুঝ ও ব্যাখ্যা অনুযায়ী গ্রহণ করা এবং দ্বীনের মৌলিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তাঁদের পথ অনুসরণ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَاِنۡ اٰمَنُوۡا بِمِثۡلِ مَاۤ اٰمَنۡتُمۡ بِہٖ فَقَدِ اہۡتَدَوۡا ‘অতএব তারা যদি তোমাদের মত ঈমান আনে, তবে নিশ্চয় তারা হিদায়াত পাবে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৩৭)। এখানে ‘তোমরা’ বলতে পূর্বাপর আয়াতের প্রেক্ষাপটে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ছাহাবীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সালাফে ছালেহীনের আক্বীদার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিম্নরূপ:
(১) তাওহীদ ও আল্লাহর একত্ব : আল্লাহই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও বিশ্বজগতের পরিচালনাকারী। ইবাদতের সকল প্রকার একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করা। আল্লাহর সুন্দর নাম ও পরিপূর্ণ গুণাবলীতে বিশ্বাস করা।
(২) ঈমান হল অন্তরের বিশ্বাস, মুখের স্বীকৃতি এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমল। আনুগত্যের মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং পাপাচারের কারণে হ্রাস পায়।
(৩) আল্লাহর নাম ও গুণাবলীতে বিশ্বাস : কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহয় আল্লাহর যেসব নাম ও গুণাবলী প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলোকে যথাযথভাবে স্বীকার করা; বিকৃতি, অস্বীকার, ধরন নির্ধারণ এবং সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য আরোপ থেকে বিরত থাকা (সূরা আশ-শূরা : ১১)।
(৪) তাক্বদীরে বিশ্বাস : আল্লাহর জ্ঞান, লিপিবদ্ধকরণ, ইচ্ছা এবং সৃষ্টিতে বিশ্বাস করা। একই সঙ্গে বান্দার ইচ্ছা ও কর্মের বাস্তবতা স্বীকার করা; বান্দা তার কর্মের জন্য দায়বদ্ধ (সূরা আল-ক্বামার : ৪৯)।
(৫) কুরআন আল্লাহর কালাম: আল-কুরআন আল্লাহর কালাম; এটি সৃষ্ট নয়। আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী কথা বলেন।
(৬) আখিরাত ও পরকালীন বিষয়াবলী : মৃত্যুর পরের জীবন, কবরের নে‘মত ও শাস্তি, পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ, আমলনামা, মীযান, ছিরাত, হাউয, শাফা‘আত, জান্নাত ও জাহান্নামে বিশ্বাস করা।
(৭) ছাহাবায়ে কিরামের মর্যাদা: সকল ছাহাবিকে ভালোবাসা, তাঁদের মর্যাদা স্বীকার করা, তাঁদের পারস্পরিক মতবিরোধের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখা এবং তাঁদের গালিগালাজ ও বিদ্বেষ থেকে বিরত থাকা।
(৮) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ অনুসরণ: কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহকে দ্বীনের মূল উৎস হিসাবে গ্রহণ করা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশনা অনুসরণ করা (সূরা আল-হাশর: ৭)।
(৯) বিদ‘আত থেকে সতর্কতা: দ্বীনের নামে এমন বিশ্বাস, ইবাদত বা বিধান প্রবর্তন না করা, যার পক্ষে শরী‘আতসম্মত ভিত্তি নেই। ইবাদতের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা।
(১০) কাবীরা গুনাহকারী মুসলিমের বিধান: কোন মুসলিম কাবীরা গুনাহ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাফির হয়ে যায় না। তার ঈমানের মূলনীতি, গুনাহের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট শারঈ বিধান বিবেচনা করতে হয়।
(১১) শাফা‘আত ও আল্লাহর রহমত: ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর অনুমতিক্রমে শাফা‘আত সংঘটিত হবে। কোন নবী, ফেরেশতা বা নেককার ব্যক্তি আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারও জন্য শাফা‘আত করতে পারবেন না (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৫৫)।
(১২) ছাহাবী ও সালাফের বুঝ অনুসরণ: আক্বীদা ও দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলো বোঝার ক্ষেত্রে ছাহাবায়ে কিরাম, তাবেঈন এবং তাঁদের অনুসারী সালাফে ছালেহীনের ব্যাখ্যা ও পথকে গুরুত্ব দেয়া (সূরা আত-তাওবাহ : ১০০)।
প্রশ্নকারী : নাহিদ, ঢাকা।