উত্তর : আমল করা যাবে। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘শরী‘আতের কোন বিধান প্রমাণের ক্ষেত্রে এমন দুর্বল হাদীছের উপর নির্ভর করা বৈধ নয়, যা ছহীহও নয় এবং হাসানও নয়’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ, ১/২৫০ পৃ.)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘আলিমগণ বলেছেন, হাদীছ তিন প্রকারের ছহীহ, হাসান ও যঈফ বা দুর্বল। তাঁরা বলেছেন, শরী‘আতের বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে কেবল ছহীহ অথবা হাসান হাদীছ দ্বারা দলীল গ্রহণ করা বৈধ। পক্ষান্তরে দুর্বল হাদীছ দ্বারা বিধি-বিধান ও আক্বীদার ক্ষেত্রে দলীল গ্রহণ করা বৈধ নয়...’ (আল-মাজমূঊ লিন নাবাবী, ১/৯৮ পৃ.)। হাদীছ বিশারদগণ বলেন, হাসান হাদীছ দুই প্রকারের (১) হাসান লিযাতিহি حسن لذاته)) (২) হাসান লিগাইরিহি (حسن لغيره)। যথা: (১) হাসান লিযাতিহি হল- এমন হাদীছ, যার সনদ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সংযুক্ত থাকে এবং প্রত্যেক বর্ণনাকারী ন্যায়পরায়ণ (আদিল) হলেও তার স্মরণশক্তি ও সংরক্ষণক্ষমতা (ضبط) ছহীহ হাদীছের বর্ণনাকারীর তুলনায় কিছুটা কম হয়। একই সঙ্গে হাদীছটি যেন শায (নির্ভরযোগ্য বর্ণনার বিরোধী) এবং মু‘আল্লাল (গোপন ত্রুটিযুক্ত) না হয়। (২) হাসান লিগাইরিহি হল- মূলত দুর্বল হাদীছ, যার একাধিক সনদ বা বর্ণনাপথ পাওয়া যায় এবং তার দুর্বলতার কারণ বর্ণনাকারীর ফিসক (চারিত্রিক অসততা), মিথ্যাচার অথবা অতিরিক্ত দুর্বলতা না হয়।
দুর্বল হাদীছ দু’টি বিষয়ের মাধ্যমে হাসান লিগাইরিহি-এর স্তরে উন্নীত হতে পারে। প্রথমতঃ হাদীছটি অন্য একটি বা একাধিক সনদে বর্ণিত হতে হবে, তবে সেই অন্য সনদটি প্রথম সনদের সমমানের অথবা তার চেয়ে শক্তিশালী হতে হবে। দ্বিতীয়তঃ হাদীছটির দুর্বলতা সামান্য হতে হবে। যেমন বর্ণনাকারীর স্মরণশক্তির দুর্বলতার কারণে, সনদে বিচ্ছিন্নতা থাকার কারণে অথবা সনদের কোন বর্ণনাকারী অপরিচিত হওয়ার কারণে দুর্বল হওয়া। অতএব, হাসান লিগাইরিহি মূলত একটি দুর্বল হাদীছ, কিন্তু একাধিক বর্ণনাপথের মাধ্যমে তার দুর্বলতা কিছুটা পূরণ হওয়ায় তা হাসান হাদীছের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে।
হাসান লিযাতিহি ও হাসান লিগাইরিহিÑ দলীল হিসাবে গ্রহণের ক্ষেত্রে ছহীহ হাদীছের মতই। তবে শক্তির দিক থেকে এটি ছহীহ হাদীছের চেয়ে নিম্নস্তরের। এ কারণেই ফক্বীহগণ হাসান হাদীছকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন এবং এর উপর আমল করেছেন। অধিকাংশ মুহাদ্দিছ ও উছূলবিদও হাসান হাদীছকে দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য মনে করেন (তাইসীরু মুস্তালাহিল হাদীছ লিত-তাহহান, পৃ. ২৪-২৭; আল-ইয়াওয়াক্বীত ওয়াদ-দুরার, ২/১৬৮; তাহরীরু ঊলূমিল হাদীছ, ৩/১১২; ফাৎহুল মুগীছ ১/৬৮; আল-কারীর শারহু নুখবাতিল ফিকার, পৃ. ২৪৫)।
প্রশ্নকারী : আসাদ, রংপুর।