বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৪০ অপরাহ্ন
উত্তর : শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী শাওয়াল মাসের ছয়টি বা অন্যান্য সুন্নাত ছিয়ামের পূর্বে রামাযানের ক্বাযা আদায় করাটাই বিধিসম্মত। কারণ রাসূল (ﷺ) বলেছেন, مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ  ‘যে ব্যক্তি রামাযান মাসের ছিয়াম পালন করল, অতঃপর তার পিছুপিছু শাওয়াল মাসে ছয়টি ছিয়াম পালন করল, সে যেন সারা বছরই ছিয়াম পালন করল (অর্থাৎ সে সারা বছর ছিয়াম পালনের ছাওয়াব অর্জন করল)’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬৪; আবূ দাঊদ, হা/২৪৩৩; তিরমিযী, হা/৭৫৯; ইবনু মাজাহ, হা/১৭১৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৫৩৩, ২৩৫৫৬, ২৩৫৬১)।

উক্ত হাদীছের আলোকে বুঝা যায়, যে ব্যক্তি রামাযানের ক্বাযা আদায়ের পূর্বেই শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম পালন করল, সে কিন্তু সম্পূর্ণ রামাযানের অনুসারী হতে পারল না, বরং সে রামাযানের কিছু অংশের অনুসারী হয়েছে, অথচ হাদীছের মধ্যে বলা হয়েছে যে ব্যক্তি সম্পূর্ণ রামাযানের ছিয়াম পালনের পর শাওয়ালের ছয়টি ছিয়াম রাখবে, সে পুরো বছর ছিয়াম পালনের ছাওয়াব পাবে। এখানে কিন্তু শাওয়ালকে রামাযানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। অন্য দিকে রামাযানের ক্বাযা আদায় করা ফরয, আর শাওয়াল ছয়টি ছিয়াম পালন মুস্তাহাব। সেক্ষেত্রে ফরয সর্বদা অগ্রাধিকার পাবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া লিইবনি বায, ১৫/৩৯২ পৃ.)।

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘নফল ছিয়ামের পূর্বে ক্বাযা আদায় করাটাই সর্বাধিক উত্তম এবং নিরাপদ। এমনকি শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম ছুটে গেলেও তার জন্য ফরয ছিয়ামের ক্বাযা আগে আদায় করাটা শরী‘আতসম্মত। কেননা রাসূল (ﷺ) এমনটিই বলেছেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬৪; আবূ দাঊদ, হা/২৪৩৩; তিরমিযী, হা/৭৫৯)।

হাদীসের মধ্যে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি রামাযান মাসের পূর্ণাঙ্গ ছিয়াম পালন করল’, সুতরাং যে ব্যক্তির ছিয়াম ক্বাযা আছে, সে উক্ত ক্বাযা আদায় না করা পর্যন্ত তার ক্ষেত্রে এ কথা বলা যায় না যে সে রামাযান মাসের ছিয়াম পালন করেছে। পক্ষান্তরে ব্যক্তির উপর ক্বাযা আদায় করা ওয়াজিব, সুতরাং তাকে আগে আদায় করাটাই সর্বাধিক উত্তম’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৯/২৯৩-২৯৫ পৃ.)। কিন্তু কেউ যদি আগে শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম রাখে, তার পর ক্বাযা আদায় করে সেক্ষেত্রে সে গুনাহগার হবে না এ কথা নিশ্চিত, তবে হাদীছে বর্ণিত ছাওয়াব অর্জিত হবে না। কেননা এর জন্য রামাযান মাসের ছিয়াম পূর্ণ করা শর্ত (ঐ, ৯/৩০৪-৩০৫ পৃ. ও ১০/৩৯২-৩৯২ পৃ.)।

শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যে মহিলার উপর রামাযানের ছিয়াম ক্বাযা আছে, সে যেন ক্বাযা আদায় করার আগেই শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম পালন না করে। কারণ রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি রামাযান মাসের ছিয়াম পালন করল, অতঃপর তার পিছুপিছু শাওয়াল মাসে ছয়টি ছিয়াম পালন করল, সে যেন সারা বছরই ছিয়াম পালন করল (অর্থাৎ সে সারা বছর ছিয়াম পালনের ছাওয়াব অর্জন করল)’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬৪; আবূ দাঊদ, হা/২৪৩৩; তিরমিযী, হা/৭৫৯)। কোনো ব্যক্তির উপর ক্বাযা থাকা সত্ত্বেও যদি শাওয়াল মাসের ছয়টি ছিয়াম আগে রাখে, তাহলে কি বলা যাবে যে, সে রামাযানের পূর্ণাঙ্গ ছিয়াম পালন করেছে এবং তার পিছুপিছু শাওয়ালের ছয়টি ছিয়াম পালন করেছে? না, কারণ সে রামাযানের পূর্ণাঙ্গ ছিয়াম পালন করেনি, আর ক্বাযা আদায় না করা পর্যন্ত এ কথা বলাও যাবে না। সুতরাং প্রমাণিত হল যে, ক্বাযা আদায় না করে শাওয়াল মাসের ছিয়াম রাখলে হাদীছে বর্ণিত ছাওয়াবের অধিকারী হওয়া যাবে না। অতএব যার উপর ক্বাযা আছে সে কিন্তু রামাযান মাসের ছিয়াম পরিপূর্ণ করেনি। আর ক্বাযা আদায় না করা পর্যন্ত কিন্তু শাওয়ালের ছয়টি ছিয়ামের ছাওয়াব হাসিল হবে না। যদি ধরে নেয়া যায় যে, কোন একজন মহিলা ‘নিফাসের’ (প্রসব পরবর্তী রক্তপাতের) কারণে রামাযান মাসে একটিও ছিয়াম রাখতে পারেনি, এখন সে পুরো শাওয়াল মাসে রামাযানের ক্বাযা আদায় করছে। আর ক্বাযা আদায় করতে করতেই যুলকা‘দাহ মাস চলে এসেছে, এখন সে যদি ঐ ছয়টি ছিয়াম রাখে তবুও কিন্তু ছাওয়াব পাবে, কেননা এই বিলম্ব বিশেষ কারণে হয়েছে। এক্ষেত্রে সে নির্দোষ এবং ছাওয়াবের অধিকারী’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল লিইবনি উছাইমীন, ২০/১৯-২০ পৃ.)।

প্রশ্নকারী : ওমর ফারুক, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (২১) : অনেক আগের তৈরি করা মসজিদ। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যদি সেই মসজিদের ক্বিবলা ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে সেই মসজিদে ছালাত আদায় করলে ছালাত আদায় হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : লায়লাতুল ক্বদরের দু‘আটি প্রত্যেক ফরয ছালাতের শেষে পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : বাবার অনুমতি ব্যতীত ছেলে ও মেয়ে প্রেম করে বিয়ে করে। বিবাহের অনুষ্ঠানে মেয়ের বড় বোন ও বাগিনা উপস্থিত ছিল। এমনকি বিবাহের পর তারা পালিয়েও যায়নি বরং নিজ নিজ বাড়ি চলে যায়। পরবর্তীতে উভয়ের পিতা-মাতার সম্মতি ও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে মেয়ের বাড়ি থেকে মেয়েকে অনুষ্ঠান করে আনা হয় এবং পরের দিন ওয়ালীমা করা হয়। প্রশ্ন হল- তাদের এই বিবাহ কি বৈধ হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : একজন সাবালক মেয়ে আরেক সাবালক মেয়ের নিকট কতটুকু শরীর প্রকাশ করতে পারে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : ‘আপনাকে প্রেরণের উদ্দেশ্য না হলে আমি বিশ্বমণ্ডল সৃষ্টি করতাম না’ মর্মে প্রচলিত বর্ণনাট কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : তারাবীহর ছালাত দীর্ঘ করে পড়া ভাল, না-কি সংক্ষিপ্ত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : অপবিত্র কাপড় পরিধান অবস্থায় ওযূ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) কোন্ কোন্ শস্যের যাকাত প্রদান করা ফরয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : সফরে সর্বোচ্চ কতদিন পর্যন্ত ক্বছর করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : যে ব্যক্তি পূর্বে নিয়মিত ছালাত আদায় করত না, সে যদি শেষ জীবনে ছালাত আদায় করে এবং তওবা করে তাহলে তার পাপ ক্ষমা হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : লাল ও হলুদ পোশাক পরিধানের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ওযূতে কিভাবে কান মাসাহ করতে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ