বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ইসলামের মূলনীতি হল, কোন কিছু হারাম প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা বৈধ বলে গণ্য হবে। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে ছালাত পরিত্যাগ করা শরী‘আতসম্মত নয়। আলেমগণ বলেন, মসজিদ একবার নির্মিত হলে তা আল্লাহর ঘর হয়ে যায় এবং মুসল্লিদের জন্য ছালাত পড়া জায়েয হয়, যদিও তার নির্মাণের অর্থ সন্দেহযুক্ত হয়। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কারও ইবাদত করো না’ (সূরা আল-জিন: ১৮)। ইবনু তায়মিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি কোন মসজিদ হারাম অর্থ দিয়ে নির্মিত হয়, তবুও তাতে ছালাত শুদ্ধ হবে। কারণ একবার মসজিদ হয়ে গেলে তা আল্লাহর ঘর হিসাবে গণ্য হয়’ (মাজমূ‘ঊল ফাতাওয়া, ৩১/২০৬ পৃ.)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি কোন হারাম সম্পদ মসজিদ নির্মাণে ব্যবহৃত হয়, তাহলে এটি গুনাহ হবে; তবে মুছল্লীদের জন্য তাতে ছালাত পড়া হারাম হবে না’ (আল-মাজমূ‘, ৩/১৫৭ পৃ.)। সন্দেহের ভিত্তিতে ইবাদত বর্জন করা জায়েয নয়।  রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা সেই জিনিস ছেড়ে দাও যা সন্দেহজনক এবং যা সন্দেহমুক্ত তা গ্রহণ করো’ (তিরমিযী, হা/২৫১৮, সনদ ছহীহ)।

দ্বিতীয়তঃ বিদ‘আতকারী ইমামের পিছনে ছালাত পড়ার বিধান হল- মনে রাখতে হবে, বিদ‘আত দুই ধরনের। বিদ‘আতে মুকাফফিরাহ, যা কুফরের পর্যায়ে পড়ে, যেমন শিরক ও কুফরি বিশ্বাস এবং বিদ‘আতে মুফাসসিকাহ, যা বিদ‘আত হলেও কুফরের পর্যায়ে যায় না। ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ফাসিক বা বিদ‘আতকারী হলেও মুছল্লীরা যদি তাকে ইমাম হিসাবে গ্রহণ করে, তবে তার পিছনে ছালাত পড়তে হবে এবং জামা‘আতকে পরিত্যাগ করা যাবে না’ (আল-মাসায়েল লি আবি দাঊদ, হা/১১৭৪)। ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘বিদ‘আত যদি কুফর না হয়, তাহলে তার পিছনে ছালাত পড়া জায়েয। বিদ‘আত ছড়িয়ে পড়লে বিদ‘আতীদের পিছনে ছালাত না পড়লে অনেক সময় জামা‘আতই ছুটে যাবে, যা শরী‘আতের দৃষ্টিতে আরও বড় ক্ষতি’ (মাজমূ‘ঊল ফাতাওয়া, ২৩/৩৪৩ পৃ.)।

তবে, বিদ‘আত গুরুতর হলে করণীয় হল- আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা নেক কাজের আদেশ দাও এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করো’ (সূরা আলে ইমরান: ১১০)। যদি ইমামের বিদ‘আত শিরক বা কুফর হয়, তবে তার পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে না। অন্য মসজিদ খোঁজতে হবে। যদি বিদ‘আত ছোটখাটো হয়, তবে জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করাই উত্তম।


প্রশ্নকারী: আরিফ, কিশোরগঞ্জ।





প্রশ্ন (৩০) : বন্দকী জমি চাষাবাদ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : জনৈক আলেম বলেন, কেউ যদি মদীনায় মারা যায় তবে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জন্য সুপারিশ করবেন। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪২) : ওষুধ কোম্পানিগুলো ডাক্তারদের খুশি করার জন্য গিফট ও টাকা দিয়ে থাকে। যাতে করে ঐ ডাক্তার প্রেসক্রিপশন করার সময় তাদের কোম্পানির ওষুধ লেখে। যদিও কোম্পানির ওষুধের মান ভালও হয়। উক্ত কোম্পানিতে চাকরি করা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক শিক্ষামূলক অনেক প্রোগ্রামের আয়োজন করে। প্রশ্ন হল- এমন সূদী ব্যাংক থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : নখে রঙ লাগিয়ে তথা নেইল পলিশ লাগিয়ে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : নানীর আপন ভাইয়ের মেয়ে মাহরাম, না-কি গায়রে মাহরাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : অনেকেই হাই তোলার পর أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ বলে থাকে। এব্যাপারে কি কোন হাদীছ বর্ণিত হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : আমার তৃতীয় স্ত্রীর আগের স্বামীর একটি সন্তান ছিল, সেই সন্তান এখন আমার সংসারে থাকে। তার ভরণ-পোষণ, যাবতীয় সকল খরচ আমাকে বহন করতে হচ্ছে। আমাকে প্রতি বছর যাকাত দিতে হয়। আমার স্ত্রীর আগের সন্তানের যে খরচ আমাকে বহন করতে হচ্ছে, সেই খরচ কি আমি যাকাত হিসাবে গণ্য করতে পারবো? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার উপর দরূদ পাঠ করতে ভুলে যাবে, সে জান্নাতের পথ ভুলে যাবে’ মর্মে বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : মহিলাদের দ্বারা একটি ইয়াতীম বালিকা মাদরাাসা পরিচালিত হয়। যেখানে ৪৫/৫০ জন বাচ্চা আছে। যাদের বয়স ৭ বৎসর থেকে ১৫/১৬ বৎসর পর্যন্ত। তাদের ঘরের বাইরে খেলাধূলা করার কোনো সুযোগ নেই।  এমতাবস্থায়  তারা কি ঘরের মধ্যে লুডু, ক্যারাম বোর্ড ও দাবা, খেলতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : তাকফীর বা কাউকে কাফের বলার ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে সাধারণ মুসলিমরা কী করবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : যারা বলেন, নবীজি (ﷺ) হাজির নাযির। তারা দলীল দেয় যে, ‘যখনই যে কেউ আমাকে সালাম করেন তখনই আল্লাহ আমার রূহকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন, যেন আমি তার সালামের উত্তর দিতে পারি’। তাহলে নবী (ﷺ) কি কবরে জীবিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ