রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন

আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণ

- মূল : ফাউযিয়া বিনতে মুহাম্মাদ আল-উক্বাইলী
- অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন*



ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কি তোমাদেরকে আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা বর্ণনা করব না? আমরা বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন, আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি আমার ভাইকে বললাম, তুমি এ উপত্যকায় যাও এবং সেই ব্যক্তির নিকট যাও, যিনি দাবি করেন যে, তিনি আল্লাহর নবী এবং তাঁর নিকট আসমান থেকে অহি আসে। তাঁর সম্পর্কে খোঁজ-খবর নাও, তাঁর সঙ্গে কথা বল, তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শোন, তারপর ফিরে এসে আমাকে সব জানাও। অতঃপর সে (আমার ভাই) রওয়ানা হয়ে গেল, তাঁর (নবী (ﷺ)-এর) সঙ্গে সাক্ষাৎ করল এবং পরে আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট ফিরে আসল। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কি সংবাদ নিয়ে এলে? সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি এমন একজন ব্যক্তিকে দেখেছি, যিনি কল্যাণ ও উত্তম চরিত্রের আদেশ দেন এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করেন। আর তাঁর কথা কবিতা নয়। আমি বললাম, আমি যে সংবাদ জানতে চেয়েছিলাম, তুমি তা স্পষ্টভাবে আনতে পারনি।*

অতঃপর আমি একটি ছড়ি ও এক পাত্র খাবার নিয়ে মক্কার দিকে রওয়ানা হলাম। মক্কায় পৌঁছে আমার অবস্থা দাঁড়াল এমন যে, আমি তাঁকে চিনি না এবং কারো নিকট জিজ্ঞাসা করাও সমীচীন মনে করি না। তাই আমি যমযমের পানি পান করে মসজিদে থাকতে লাগলাম। রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হলে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমার পাশ দিয়ে গেলেন এবং বললেন, মনে হচ্ছে, আপনি একজন অপরিচিত ব্যক্তি (মুসাফির)? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমার সঙ্গে আমার বাড়িতে চল। আবূ যার বলেন, অতঃপর আমি তার সঙ্গে তার বাড়িতে চললাম। পথে তিনি আমাকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করেননি। আর আমিও ইচ্ছা করে কোন কিছু বলিনি। তাঁর বাড়িতে রাত্রি যাপন করে ভোরবেলায় আবার মসজিদে গেলাম; কিন্তু তাঁর (নবী করীম (ﷺ)-এর) সম্পর্কে কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করলাম না। আমি খাবার ও পাত্র সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করতাম; কিন্তু কেউ আমাকে তাঁর সম্পর্কে কোনো সংবাদ দিচ্ছিল না। এভাবেই সারা দিন কেটে গেল। তবুও তিনি (আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)) নবী করীম (ﷺ)-কে দেখতে পেলেন না। অবশেষে সন্ধা নেমে এলো। অতঃপর তিনি (আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)) আবার তাঁর অবস্থানস্থলে ফিরে গেলেন।

তিনি বলেন, আবার আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, এখনো কি লোকটি তার গন্তব্যস্থল ঠিক করতে পারেনি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, আমার সাথে চল। অতঃপর আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে নিজের সঙ্গে নিয়ে গেলেন এবং সেদিন রাতে নিজের ঘরেই থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। তবে তাঁদের কেউই অপরজনকে কোনো বিষয় সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করলেন না। এভাবে তৃতীয় দিন এলে, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আগের মতই আবার তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁকে সেদিনও নিজের কাছে রাখলেন। অতঃপর তিনি বললেন, বল, তোমার ব্যাপার কি? কেন এ শহরে এসেছ? আমি বললাম, যদি আপনি আমার বিষয়টি গোপন রাখার অঙ্গীকার করেন এবং আমাকে সঠিক পথ দেখানোর প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে তা আপনাকে বলতে পারি। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি গোপন করব। অতঃপর আমি তাঁকে পুরো ঘটনার কথা জানালাম। আমি তাঁকে বললাম, আমরা জানতে পেরেছি, এখানে এমন এক লোকের আবির্ভাব হয়েছে, যিনি নিজেকে নবী বলে দাবী করেন। আমি তাঁর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার জন্য আমার ভাইকে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সে ফেরত গিয়ে আমাকে সন্তোষ্টজনক কোন কিছু বলতে পারেনি। তাই নিজে দেখা করার ইচ্ছা নিয়ে এখানে আগমন করেছি।

তখন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, তুমি সঠিক পথপ্রদর্শক পেয়েছ। নিশ্চয়ই তিনি সত্য এবং তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। আগামিকাল সকালে  আমি তাঁর কাছে উপস্থিত হওয়ার জন্য রওয়ানা হব। তুমি আমাকে অনুসরণ করবে এবং আমি যে গৃহে প্রবেশ করব তুমিও সে গৃহে প্রবেশ করবে। রাস্তায় যদি তোমার বিপদজনক কোন লোক দেখতে পাই, তবে আমি জুতা ঠিক করার অজুহাতে দেয়ালের পার্শ্বে সরে দাঁড়াব, যেন আমি জুতা ঠিক করছি অথবা পানি ঢালছি। আর তুমি চলতেই থাকবে। আমি যখন চলতে শুরু করব, তখন আমার অনুসরণ করবে। এভাবে আমি যে স্থানে প্রবেশ করব, তুমিও সেখানে প্রবেশ করবে। অতঃপর আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পথ চলতে শুরু করলেন। আমিও তাঁর অনুসরণ করে চলতে লাগলাম। তিনি নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট প্রবেশ করলে আমিও তাঁর সঙ্গে ঢুকে পড়লাম। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললাম, আমার নিকট ইসলাম পেশ করুন। তিনি পেশ করলেন। আমি তাঁর কথা শুনলাম এবং সেখানেই তৎক্ষণাৎ ইসলাম গ্রহণ করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আবূ যার! এখনকার মত তোমার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি গোপন রাখো। তোমার নিজ এলাকা ও কওমের কাছে ফিরে যাও এবং তাদেরকে (ইসলামের দাওয়াত) জানাও। পরে যখন আমার নির্দেশ তোমার নিকট পৌঁছবে এবং জানতে পারবে যে, আমরা প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি, তখন আমার নিকট চলে এসো। আমি বললাম, যে আল্লাহ আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ! আমি কাফের-মুশরিকদের সামনে উচ্চঃস্বরে তাওহীদের বাণী ঘোষণা করব।

ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এই কথা বলে আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বের হয়ে মসজিদুল হারামে এলেন। তখন সেখানে কুরাইশের লোকজনও উপস্থিত ছিল। তিনি উচ্চস্বরে ঘোষণা করে বললেন, হে কুরাইশগণ! আমি নিশ্চিতভাবে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা‘বূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। এতদশ্রবণে কুরাইশগণ বলে উঠল, ধর এই ধর্মত্যাগী লোকটিকে। তারা আমার দিকে এগিয়ে আসল এবং আমাকে এমন নির্মমভাবে প্রহার করতে লাগল, যেন আমি মরে যাই। তখন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমার নিকট পৌঁছে আমাকে ঘিরে রাখলেন। অতঃপর তিনি কুরাইশদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমাদের ধ্বংস অনিবার্য। তোমরা গিফার বংশের জনৈক ব্যক্তিকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছ, অথচ তোমাদের ব্যবসা-বানিজ্যের কাফেলাকে গিফার গোত্রের নিকট দিয়ে যাতায়াত করতে হয়? এ কথা শুনে তারা আমার নিকট থেকে দূরে সরে পড়ল। পরদিন তিনি আবারও ফিরে এলেন এবং আগের দিনের মতই একই কাজ করলেন। কুরাইশগণ বলে উঠল, ধর এই ধর্মত্যাগী লোকটিকে। আজও তারা নির্মমভাবে আমাকে মারধর করল। এই দিনও আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে রক্ষা করলেন। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, এটাই ছিল আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণের প্রথম ঘটনা।[১]

শিক্ষনীয় বিষয়

১. মানুষের কর্তব্য হল সত্যের অনুসন্ধান করা। বরং তার জীবনের স্থায়ী লক্ষ্যই হওয়া উচিত সত্যের সন্ধান করা- তা দ্বীনের মত বড় কোন বিষয় হৌক কিংবা কোন শাখাগত ফিক্বহী মাসআলায় হৌক। কেননা সত্যের অনুসন্ধানই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য ও অভ্যাস। আর সত্যের সন্ধানে তাকে কষ্ট-ক্লেশ ও নানা কঠিন পরিস্থিতি ধৈর্যসহকারে সহ্য করতে হবে।.... আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) প্রথমে তাঁর ভাইকে পাঠিয়েছিলেন, পরে আবার পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিনি নিজেই রওয়ানা হন। সত্যের সন্ধানে তিনি বারবার যাতায়াত করেছেন, নানা কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করেছেন এবং মক্কায় একজন অপরিচিত ব্যক্তি হিসেবে ত্রিশ দিন অবস্থান করেছেন। তাঁর নিকট কোন খাদ্যও ছিল না। এসবই ছিল সত্যের সন্ধানের উদ্দেশ্য। সুতরাং সত্যের অনুসন্ধান মানুষকে কষ্ট ও কঠিন পরিস্থিতি সহ্য করার মানসিকতা দান করে।

২. আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মহান মর্যাদার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), সত্যবাদিতা, ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রখর বুদ্ধিমত্তার অধিকারী। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সত্য কথা বলতে তিনি কখনো কোন নিন্দুকের নিন্দাকে পরেয়া করতেন না।

৩. নবী করীম (ﷺ) তাঁর ছাহাবীদের প্রতি অত্যন্ত কোমল ও দয়ালু ছিলেন। অর্থাৎ যখন তিনি জানতে পারলেন যে, আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এক মাস ধরে সেখানে অবস্থান করেছিলেন, তখন তিনি তার অবস্থার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করলেন এবং তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত স্নেহ ও কোমল আচরণ করলেন। এছাড়াও নবী করীম (ﷺ) তাঁর ছাহাবীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তাই তিনি আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে যেতে এবং আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদকে প্রকাশ্য বিজয় দান না করা পর্যন্ত নিজের বিষয়টি গোপন রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

৪. সালামের ফযীলত এবং এ বিষয়টি যে, আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সর্বপ্রথম ব্যক্তি ছিলেন, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এভাবে সালাম জানিয়েছিলেন; السلام عليك يا رسول الله ورحمة الله وبركاته ‘অর্থাৎ তিনি এ সালামের মাধ্যমে নবী করীম (ﷺ)-কে উদ্দেশ্য করেছিলেন।

৫. নবী করীম (ﷺ) আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চলে দাঈদের (তাওহীদের আহ্বানকারীদের) ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন, যাতে তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারে এবং তাওহীদের দ্বীন প্রচার করতে পারে। এটি ছিল তাঁর (ﷺ) প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে তাঁর ছাহাবীগণও আল্লাহ তা‘আলার দিকে মানুষকে আহ্বান করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।

৬. ছোটরা ইসলামী সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলেন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র বারো বছর; তবুও তিনি অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও প্রখর প্রজ্ঞার সঙ্গে একজন দাঈ হিসেবে কাজ করেছিলেন।

এ ঘটনা প্রমাণ করে যে, নববী যুগে মুসলিম সন্তানরা অল্প বয়সী হলেও চিন্তা-চেতনা ও চরিত্রে পরিপক্ক ছিল। অথচ বর্তমান যুগে আমাদের অধিকাংশ সন্তান তাদের মূল্যবান সময় বহু তুচ্ছ ও অনর্থক কাজে নষ্ট করে ফেলে।


* পরিচালক: দারুস সালাম ইসলামী কমপ্লেক্স, পিরুজালী ময়তাপাড়া, গাযীপুর।

তথ্যসূত্র :
[১]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৫২২ মানাকিব অধ্যায়, ‘আবূ যার গিফারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা’ অনুচ্ছেদ, হা/৩৮৬১।




মূসা ও খাযির (আলাইহিমাস সালাম)-এর কাহিনী - আল-ইখলাছ ডেস্ক
বান্দার প্রতি আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ - মুহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম
নবী করীম (ﷺ)-এর শাফা‘আত - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
অহীর সূচনা - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) ও সারা (আলাইহিস সালাম) যালিম শাসকের সঙ্গে - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হিজরত - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
যাদুকর ও যুবক - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষণীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ১০ম সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
গুহায় আশ্রয়প্রাপ্ত তিনজন ব্যক্তি - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও আহলুছ ছুফফাহ - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)- এর খলীফা নির্বাচন পদ্ধতি - হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
হাতেম বিন বালতা‘ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঘটনা - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন

ফেসবুক পেজ