বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

গুহায় আশ্রয়প্রাপ্ত তিনজন ব্যক্তি

- মূল : ফাউযিয়া বিনতে মুহাম্মাদ আল-উক্বাইলী
- অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন*



ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) সূত্রে নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের তিনজন ব্যক্তি সফরে বের হয়েছিল। হঠাৎ বৃষ্টি নামল। তখন তারা একটি পাহাড়ে প্রবেশ করে রাত্রিযাপনের জন্য একটি গুহায় আশ্রয় নিল। কিন্তু পাহাড় থেকে একটি বিশাল পাথর গড়িয়ে এসে গুহার মুখ বন্ধ করে দিল, ফলে সেখানে তারা আটকা পড়ল। তিনি (ﷺ) বললেন, তখন তাদের মধ্যে একজন বলল, ‘তোমাদেরকে এই পাথর থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র আল্লাহই। তাই তোমরা নিজেদের সৎকর্মের মাধ্যমে তাঁর নিকট দু‘আ কর। প্রত্যেকেই যেন সেই সৎকর্মের কথা উল্লেখ করে, যার মধ্যে সে আল্লাহর জন্য সত্যবাদী ছিল।

তখন তাদের একজন বলল, হে আল্লাহ! আমার দুইজন বৃদ্ধ পিতা-মাতা ছিলেন। আমি প্রতিদিন রাতে তাদের জন্য আমার ছাগলের দুধ নিয়ে আসতাম। আমি কখনো তাদের আগে আমার স্ত্রী-সন্তান বা অন্য কাউকে পান করাতাম না। আমি বাইরে গিয়ে তাদের জন্য পশু চরাতাম, ফিরে এসে দুধ দোহন করে প্রথমে তাদেরকেই পান করাতাম। একদিন আমি ফিরে এসে দেখি, তারা ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমি তাদের ঘুম ভাঙাতে অপছন্দ করলাম। তাদের আগে কাউকে পান করানোও ভালো মনে করলাম না। তাই আমি হাতে দুধের পাত্র নিয়ে তাদের জাগার অপেক্ষায় রইলাম, এভাবে দাঁড়িয়ে থেকে ফজরের আলো ফুটে উঠল। তখন তারা জেগে উঠলেন, আর আমি তাদের দুধ পান করালাম। হে আল্লাহ! আপনি জানেন, আমি যদি শুধু আপনার সন্তুষ্টির জন্যই এ কাজটি করে থাকি, তবে আপনি আমাদের হতে পাথরটা খানিক সরিয়ে দিন, যাতে করে আমরা আসমান দেখতে পাই। তিনি (ﷺ) বললেন, ফলস্বরূপ পাথর কিছুটা সরে গেল এবং তারা আসমান দেখতে পেল, কিন্তু এখনো বের হতে পারল না।

দ্বিতীয়জন বলল, হে আল্লাহ! আমি আমার চাচাতো বোনকে খুব ভালোবাসতাম, যেভাবে কোন মানুষ কোন নারীকে ভালোবাসতে পারে তার চেয়েও প্রবলভাবে। আমি তাকে পেতে চেয়েছিলাম। একসময় সে দারিদ্র্যে পতিত হল। আমি তাকে ১২০ দিনার স্বর্ণ দিলাম সম্পর্ক স্থাপনের শর্তে। সে রাজি হয়েছিল। কিন্তু যখন আমি তার দুই পায়ের মাঝে বসলাম, তখন সে বলল, হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় কর। বৈধ ছাড়া আমার সতীত্ব ভাঙতে তোমার অধিকার নেই। আমি দাঁড়িয়ে গেলাম এবং তাকে ছেড়ে দিলাম। যদিও সে আমাার কাছে মানুষের মধ্যে প্রিয় ছিল। আর আমি তাকে দেয়া স্বর্ণ ফেরত নেইনি। হে আল্লাহ! তুমি জান, আমি এটা তোমার ভয়ে করেছি, তবে আমাদের মুক্তি দাও, যে বিপদে আমরা আছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, অতঃপর তাদের থেকে দু’ই তৃতীয়াংশ অংশ আল্লাহ মুক্ত করে দিলেন, কিন্তু তারা তবুও সেখান থেকে বের হতে পারল না।

তৃতীয়জন বলল, হে আল্লাহ! আমি কয়েকজন শ্রমিক নিয়োগ করেছিলাম। সকলের পারিশ্রমিক দিয়ে দিয়েছিলাম, তবে একজন তার প্রাপ্য এক মাপ চাল নিতে অস্বীকার করেছিল। আমি সেই চাল দিয়ে চাষ করলাম, তা থেকে প্রচুর ফসল, গরু, উট ও সম্পদ হল। অনেক দিন পরে সে এসে তার পারিশ্রমিক চাইল। আমি বললাম, তুমি যা দেখছ-গরু, উট, ভেড়া, দাস সবই ঐ চাল থেকে বেড়েছে। তাই এগুলো নিয়ে যাও। সে (শ্রমিক) বলল, হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় কর। আমার তো কেবল এক মাপ চালের অধিকার ছিল। আমি বললাম, আমি ঠাট্টা করছি না, বরং এগুলো সবই তোমার। তখন সে সব নিয়ে গেল। হে আল্লাহ! যদি তুমি জান, আমি এটা তোমার ভয়েই করেছি, তবে আমাদের মুক্তি দাও। তিনি (ﷺ) বললেন, ফলস্বরূপ পাথর সম্পূর্ণ সরে গেল, আর তারা গুহা থেকে বের হয়ে হেঁটে চলে গেল’।[১]

শিক্ষণীয় বিষয়

১. গল্পের মাধ্যমে শিক্ষা ও চরিত্রগঠন ছিল নববী শিক্ষার অন্যতম পদ্ধতি। নবী করীম (ﷺ) আদর্শ, হাদীছ এবং গল্পের মাধ্যমে মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন। অতএব আমাদের কতই না প্রয়োজন, কুরআনের গল্প ও নববী কাহিনীর মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করা-যেখান থেকে আমরা সেই পবিত্র উৎস হতে জ্ঞান আহরণ করতে পারি এবং এর ফলের কিছু অংশ নিজেদের জীবনে গ্রহণ করতে পারি।

২. দু‘আ করার সময় সৎ আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট মাধ্যম গ্রহণ করা বৈধ। কারণ এটি দু‘আ কবুল হওয়ার অন্যতম কারণগুলোর একটি। আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের দু‘আর কথা উল্লেখ করে বলেন,

رَبَّنَاۤ اِنَّنَا سَمِعۡنَا مُنَادِیًا یُّنَادِیۡ لِلۡاِیۡمَانِ اَنۡ اٰمِنُوۡا بِرَبِّکُمۡ  فَاٰمَنَّا ٭ۖ رَبَّنَا فَاغۡفِرۡ لَنَا ذُنُوۡبَنَا وَ کَفِّرۡ عَنَّا سَیِّاٰتِنَا وَ تَوَفَّنَا مَعَ  الۡاَبۡرَارِ

‘হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয়ই আমরা একজন আহ্বানকারীকে (মুহাম্মাদ) শুনেছি, যিনি ঈমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এই বলে যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। অতঃপর তাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। সুতরাং হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা কর ও আমাদের দোষ-ত্রুটিসমূহ মার্জনা কর এবং আমাদেরকে সৎকর্মশীলদের সাথে মৃত্যুদান কর’ (সূরা আলে-ইমরান : ১৯৩)।

ইমাম ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, অতএব শারী‘আতসম্মত তাওয়াস্সূল তথা আল্লাহর নিকট নিকটতা অর্জনের বৈধ উপায় চার প্রকার। তিনি আরো বলেন, সৎ আমলের মাধ্যমে মাধ্যম গ্রহণ করা, অর্থাৎ তুমি তোমার ছালাত ও ছিয়ামের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবে এবং তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট প্রর্থনা করবে। যেমনটি করেছিলেন গুহাবাসী তিন ব্যক্তি। তিনি সেই হাদীছটি উল্লেখ করে এরপর বলেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, সৎ আমলের মাধ্যমে তাওয়াস্সূল করা ও বিপদ থেকে মুক্তির অন্যতম কারণ।

৩. আল্লাহ তা‘আলার প্রতি তাক্বওয়া (ভয়ভীতি ও আনুগত্য) প্রকাশের প্রভাব হল-এটি বান্দাকে তার দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি দেয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَ  مَنۡ یَّتَّقِ اللّٰہَ  یَجۡعَلۡ لَّہٗ  مَخۡرَجًا  . وَّ یَرۡزُقۡہُ  مِنۡ حَیۡثُ لَا یَحۡتَسِبُ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উপায় বের করে দেন। আর তিনি তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে রিযিক প্রদান করে থাকেন’ (সূরা আত-ত্বালাক : ২-৩)।

৪. কষ্ট ও বিপদে দু‘আ করা বৈধ হওয়ার বিষয়টি, এটি এমন অন্যতম প্রধান কারণ, যার মাধ্যমে বিপদ ও সমস্যা দূর করা যায়। কারণ আল্লাহ তাদের দু‘আ শুনেছেন এবং তাদের জন্য তা কবুল করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَ اِذَا سَاَلَکَ عِبَادِیۡ عَنِّیۡ فَاِنِّیۡ قَرِیۡبٌ ؕ اُجِیۡبُ دَعۡوَۃَ الدَّاعِ  اِذَا دَعَانِ  ۙ فَلۡیَسۡتَجِیۡبُوۡا لِیۡ وَ لۡیُؤۡمِنُوۡا بِیۡ  لَعَلَّہُمۡ  یَرۡشُدُوۡنَ

‘আর যখন আমার বান্দারা তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে (তখন তাদের বল যে,) আমি নিকটেই আছি। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেই, যখনই সে আমকে আহ্বান করে। অতএব তারা যেন আমাকে ডাকে এবং আমার উপরে বিশ্বাস রাখে, যাতে তারা সুপথপ্রাপ্ত হয়’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৬)।

৫. শায়খ ইবনু উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এই হাদীছের ব্যাখ্যায় রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। সৎ আমলের মধ্যে ইখলাছ কষ্ট ও বিপদ থেকে মুক্তির অন্যতম কারণ। কেননা প্রত্যেক ব্যক্তি বলে, হে আল্লাহ! যদি আমি এটি কেবল তোমার জন্য করেছি, তবে আমাদের এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দাও। অন্যদিকে রিয়া (মানুষের প্রশংসার জন্য কাজ করা) এবং আল্লাহর নৈকট্য ছাড়া যারা কেবল প্রশংসা বা খ্যাতি লাভের জন্য কাজ করে, তাদের কাজ ফাঁকা হয়, যেমন ঝাঁজরা ফেনা, যা বাতাসে উড়ে যায় এবং তার কোন ফল হয় না। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, যেন তিনি আমাদের এবং আপনাদের খালিছ উদ্দেশ্য দান করেন।

সমস্ত কিছুই ইখলাছ; তোমার ইবাদতের কোন অংশ কাউকে সমর্পণ করো না। সবকিছুই আল্লাহর জন্য রাখ, যাতে তা আল্লাহর কাছে কবুলযোগ্য হয়। কারণ নবী করীম (ﷺ)-এর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ مَنْ عَمِلَ عَمَلًا أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ ‘আমি শরীকদের শিরক হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। যদি কোন ব্যক্তি কোন আমল করে এবং এতে আমি ব্যতীত অন্য কাউকে শরীক করে, তবে আমি তাকে ও তার শিরকী আমলকে প্রত্যাখ্যান করি’।[২]

৬. পিতা-মাতার প্রতি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও সদাচরণ করা অন্যতম সর্বোৎকৃষ্ট সৎ আমল, যা আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন। এটি বান্দাকে এই দুনিয়ার কষ্ট ও ক্বিয়ামতের দিনে বিপদ থেকে মুক্তি দেয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ قَضٰی رَبُّکَ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّاۤ  اِیَّاہُ وَ بِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا ‘আর তোমার প্রতিপালক আদেশ করেছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং তোমরা পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করো’ (সূরা আল-ইসরা : ২৩)।

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন্ আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, যথা সময়ে ছালাত আদায় করা। ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আবার জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, অতঃপর আল্লাহর পথে জিহাদ করা’।[৩]

কিছু মানুষ আছে, আল্লাহ আমাদের তাদের মত হওয়া থেকে রক্ষা করুন। যারা তাদের পিতা-মাতার প্রতি সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার  করাকে গুরুত্বই দেয় না। বরং তুমি তাকে দেখতে পাবে, সে হয়ত কথা বা কাজে পিতা-মাতার অবাধ্য আচরণ করছে, তাদের কষ্ট দিচ্ছে বা অসম্মান করছে। অথবা তাকে এমন অবস্থায়ও দেখতে পাবে, সে পিতা-মাতার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তাদের উপেক্ষা করছে ও দায়িত্বহীনভাবে দূরে সরে আছে।

৭. ব্যভিচার থেকে বিরত থাকার শ্রেষ্টত্ব এবং এ কাজটি সবচেয়ে উত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভূক্ত। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, যেদিন আল্লাহর (আরশের) ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন আল্লাহ তা‘আলা সাত শ্রেণীর মানুষকে সে ছায়ায় আশ্রয় দিবেন। তাদের মধ্য হতে কিছু ব্যক্তির কথা স্মরণ কর, ‘এমন ব্যক্তি যাকে সম্ভ্রান্ত সুন্দরী নারী (অবৈধ মিলনের জন্য) আহ্বান জানিয়েছে। তখন সে বলছে, আমি আল্লাহকে ভয় করি’।[৪]

৮. আমানতদারিতা, অন্যের কাজ সংশোধন করা এবং তাদের অধিকার ও সম্পদ রক্ষা করার শ্রেষ্ঠত্ব। কারণ, ঐ ব্যক্তি চাইলে যখন শ্রমিক তার কাছে ফিরে এলো, তখন তাকে তার মূল পারিশ্রমিক দিয়ে বাকি সম্পদ নিজের জন্য রেখে দিতে পারত। কিন্তু তার আমানতদারিতা, ভাইয়ের প্রতি আন্তরিকতা ও সম্ভাবের কারণে, সে ঐ শ্রমিককে তার পারিশ্রমিক থেকে উৎপন্ন সব সম্পদই ফিরিয়ে দিয়েছিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর যারা তাদের আমানতসমূহ এবং অঙ্গীকারসমূহ রক্ষায় সচেষ্ট’ (সূরা আল-মুমিনূন : ৮)।

৯. আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের কারামত বা অলৌকিক সম্মান ও কৃতিত্বকে স্বীকার করা, এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদা। এই কারামত বাস্তব ও সত্য এবং তা যুগে যুগে অব্যাহতভাবে সংঘটিত হয়ে আসছে। এই সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায় বুদ্ধি ও দলীলসমূহে এবং কুরআন ও হাদীছের স্পষ্ট বর্ণনায়।

১০. যে বিষয়ই যতই কঠিন ও সংকীর্ণ হোক না কেন, তার শেষ পরিণতি আল্লাহর ইচ্ছায় মুক্তি ও স্বস্তিতেই পৌঁছায়। রাত্রি চিরস্থায়ী নয়, তার পরেই যেমন প্রভাতের আলো আসে, তেমনী জীবনের দুঃসময়ও স্থায়ী নয়; আল্লাহর অনুমতিতে প্রতিটি সংকট একসময় কেটে যায়, যেমন প্রভাতের সূর্যে অন্ধকার বিলীন হয়ে যায়। প্রত্যেক দুঃখ-কষ্টের শেষ পরিণতি হল প্রশান্তি ও স্বস্তি। অনেক সময় এমন হয়, যুবক (মানুষ) কোন বিপদে সংকীর্ণতায় পড়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু আল্লাহর কাছেই থাকে সেই বিপদ থেকে মুক্তির পথ। যখন সংকটের বেড়ি ক্রমে আরও শক্ত হয়ে যায়, ঠিক তখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তির দরজা খুলে যায়। আর আমি ভাবতাম আর কোন মুক্তি নেই।

যেমন ঐ তিন ব্যক্তি, যারা বিপদের সময় এক গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল, আল্লাহ তা‘আলা তাদের রক্ষা করেছিলেন, তারা আল্লাহকে শ্রদ্ধা ও মহিমা প্রদান করেছিলেন, ফলে আল্লাহ তাদের মুক্তি দিয়েছিলেন। ঠিক তেমনি আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি মুমিনকেও রক্ষা ও মুক্তি দান করেন।

 

* পরিচালক: দারুস সালাম ইসলামী কমপ্লেক্স, পিরুজালী ময়তাপাড়া, গাযীপুর।

তথ্যসূত্র :
[১]. ছহীহ বুখারী, হা/২২৭২, ২৩৩৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৭৪৩; মিশকাত, হা/৪৯৩৮।
[২]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৮৫; মিশকাত, হা/৫৩১৫।
[৩]. ছহীহ বুখারী, হা/৫২৭,৫৯৭০; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৫; নাসাঈ, হা/৬১০।
[৪]. ছহীহ বুখারী, হা/১৪২৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৩১; নাসাঈ, হা/৫৩৮০; মিশকাত, হা/৭০১।




আবূ যুর‘আ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং উম্মু যুর‘আ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
কা‘ব ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর তাওবাহ - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষণীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ৪র্থ সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
নবী করীম (ﷺ) এর তাঁর স্ত্রীদের থেকে কিছু সময়ের জন্য আলাদা থাকা - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষণীয় ঘটনা (১২তম পর্ব) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
বান্দার প্রতি আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ - মুহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম
যাদুকর ও যুবক - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
শিক্ষনীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ৩য় সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
শ্বেতরোগী, টাকমাথা ও অন্ধ যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা পরীক্ষা করেছিলেন - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
কুরাইশ কাফিরগণ কর্তৃক রাসূল (ﷺ)- কে কষ্ট দেয়া - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
নবী করীম (ﷺ)-এর শাফা‘আত - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষণীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ৭ম সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ