খোবায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদতবরণ
- মূল : ফাউযিয়া বিনতে মুহাম্মাদ আল-উক্বাইলী
- অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন*
যুহরী (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেন, তিনি আমর ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাহিমাহুল্লাহ) সূত্রে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-একদা দশজন ব্যক্তিকে গোয়েন্দা হিসাবে সংবাদ সংগ্রহের জন্য পাঠালেন এবং আছিম ইবনু ছাবিত আনছারীকে তাঁদের নেতা নিযুক্ত করেন, যিনি আছিম ইবনু ওমর ইবনুল খাত্ত্বাবের নানা ছিলেন। তাঁরা রওনা করলেন, যখন তাঁরা উসফান ও মক্কার মাঝে ‘হাদআত’ নামক স্থানে পৌঁছেন, তখন হুযায়েল গোত্রের একটি প্রশাখা-যাদেরকে লেহইয়ান বলা হয়, তাদের নিকট তাঁদের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়। তারা প্রায় দু’শত তীরন্দাজকে তাঁদের পিছু ধাওয়ার জন্য পাঠান। এরা তাঁদের পদচিহ্ন দেখে চলতে থাকে।
ছাহাবীগণ মদীনা থেকে সঙ্গে নিয়ে আসা খেজুর যেখানে বসে খেয়েছিলেন, অবশেষে এরা সে স্থানের সন্ধান পেয়ে গেল। তখন এরা বলল, এগুলো ইয়াছরিবের (মদীনার) খেজুর। অতঃপর এরা তাঁদের পদনিহ্ন দেখে চলতে লাগল। যখন আছিম ও তাঁর সাথীগণ এদের দেখলেন, তখন তাঁরা একটি উঁচু স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করলেন। আর কাফিররা তাঁদের ঘিরে ফেলল এবং তাঁদেরকে বলতে লাগল, তোমরা অবতরণ কর ও স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ কর। আমরা তোমাদের অঙ্গীকার ও দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, তোমাদের মধ্য হতে কাউকে আমরা হত্যা করব না। তখন গোয়েন্দা দলের নেতা আছিম ইবনু ছাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি তো আজ কাফিরদের নিরাপত্তায় অবতরণ করব না। হে আল্লাহ! আমাদের পক্ষ থেকে আপনার নবীকে সংবাদ পৌঁছে দিন’। অবশেষে কাফিররা তীর নিক্ষেপ করতে শুরু করল। আর তারা আছিম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সহ সাত জনকে শহীদ করল।
অতঃপর অবশিষ্ট তিনজন খুবাইব আনছারী, যায়দ ইবনু দাছিনা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও অপর একজন তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের উপর নির্ভর করে তাদের নিকট অবতরণ করলেন। যখন কাফিররা তাদের আয়ত্বে নিয়ে নিল, তখন তারা তাদের ধনুকের রশি খুলে ফেলে তাঁদেরকে বেঁধে ফেলল। তখন তৃতীয় জন বলে উঠলেন, ‘গোড়াতেই বিশ্বাসঘাতকতা! আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সঙ্গে যাব না, যাঁরা শহীদ হয়েছেন আমি তাঁদেরই পদাঙ্ক অনুরসণ করব’। ফলে তারা তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে তাদের সাথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু তিনি যেতে অস্বীকার করলে কাফিররা তাঁকে শহীদ করে ফেলে এবং খুবাইব ও ইবনু দাছিনাকে নিয়ে চলে যায়। অবশেষে তাঁদের উভয়কে মক্কায় বিক্রয় করে ফেলে।
এটা বদর যুদ্ধের পরের কথা। তখন খুবাইবকে হারিছ ইবনু আমিরের পুত্রগণ ক্রয় করে নেয়। আর বদর যুদ্ধের দিন খুবাইব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হারিছ ইবনু আমিরকে হত্যা করেছিলেন। খুবাইব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কিছু দিন তাদের নিকট বন্দী থাকেন। পরে তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিল। তখন তিনি বনু হারিছের এক কন্যার নিকট লোম পরিস্কার করার জন্য একটি ক্ষুর ধার চাইলেন। সে তাঁকে তা ধার দিল। ইবনু শিহাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমাকে ওবায়দুল্লাহ ইবনু ইয়ায অবহিত করেছেন, তাঁকে হারিছের কন্যা জানিয়েছে যে, যখন হারিছের পুত্রগণ খুবাইব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে শহীদ করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিল, তখন তিনি তার কাছ থেকে ক্ষৌরকার্য সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে একটা ক্ষুর ধার চাইলেন। তখন হারিছের কন্যা তাকে একখানা ক্ষুর ধার দিল।
তিনি আরো বলেন, সে সময় ঘটনাক্রমে আমার এক ছেলে আমার অজ্ঞাতে খুবাইবের নিকট চলে গেলে তিনি তাকে ধরেন এবং আমি দেখলাম যে, আমার ছেলে খুবাইবের উরুর উপর বসে রয়েছে এবং খুবাইবের হাতে রয়েছে ক্ষুর। আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম। খুবাইব আমার চেহারা দেখে তা বুঝতে পারলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি কি এ ভয় করছ যে, আমি এই শিশুটিকে হত্যা করে ফেলব? ইনশাআল্লাহ! কখনো আমি তা করব না। তিনি (হারিছের কন্যা) বলতেন, আল্লাহর কসম! আমি খুবাইবের মত উত্তম বন্দী কখনো দেখিনি। আল্লাহর শপথ! আমি একদা দেখলাম, তিনি লোহার শিকলে আবদ্ধ অবস্থায় ছড়া হতে আঙ্গুর খাচ্ছেন, যা তাঁর হাতেই ছিল। অথচ এ সময় মক্কায় কোন ফলই পাওয়া যাচ্ছিল না। হারিছের কন্যা বলতো, এ তো ছিল আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে প্রদত্ত জীবিকা, যা তিনি খুবাইবকে দান করেছেন।
অতঃপর তারা খুবাইবকে শহীদ করার উদ্দেশ্যে হারামের নিকট হতে হিল্লের দিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল, তখন খুবাইব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাদেরকে বললেন, আমাকে দু’ রাক‘আত ছালাত আদায় করতে দাও। তারা তাঁকে অনুমতি দিল। তিনি দু’ রাক‘আত ছালাত আদায় করে নিলেন। অতঃপর তিনি ফিরে এসে বললেন, আল্লাহর কসম! ‘তোমরা যদি ধারণা না করতে যে, আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছি তবে আমি ছালাতকে দীর্ঘ করতাম। এরপর তিনি দু‘আ করলেন,اللهم أَحْصِهِمْ عَدَدًا وَاقْتُلْهُمْ بَدَدًا وَلاَ تُبْقِ مِنْهُمْ أَحَدًا ‘হে আল্লাহ! আপনি তাদেরকে প্রত্যেককে গণনা করে রাখুন, তাদের একে একে ধ্বংস করুন এবং তাদের একজনকেও অবশিষ্ট রাখবেন না’। (অতঃপর তিনি এ কবিতা দু’টি আবৃত্তি করলেন)
فَلَسْتُ أُبَالِي حِينَ أُقْتَلُ مُسْلِمًا * عَلَى أَيِّ جَنْبٍ كَانَ لِلهِ مَصْرَعِي
وَذَلِكَ فِي ذَاتِ الإِلَهِ وَإِنْ يَشَأْ * يُبَارِكْ عَلَى أَوْصَالِ شِلْوٍ مُمَزَّعِ
‘আমি কোন কিছুরই পরোয়া করি না যখন আমি মুসলিম হিসাবে নিহত হই। আল্লাহর রাহে যেভাবেই আমাকে পর্যদুস্ত করা হউক, তা কেবল আল্লাহর জন্যই করা হচ্ছে। তিনি ইচ্ছা করলে আমার বিচ্ছিন্ন অঙ্গ সমূহের বরকত দান করবেন’।
অতঃপর আবূ সাওওয়াহ ‘ওক্ববা ইবনুল হারিছ এগিয়ে এসে তাঁকে শহীদ করে দিল। বস্তুত যে মুসলিম ব্যক্তিকে বন্দী অবস্থায় শহীদ করা হয়, তার জন্য দু‘ রাক‘আত ছালাত আদায়ের এ রীতি খুবাইব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-ই প্রবর্তন করে গেছেন। যেদিন আছিম শাহাদতবরণ করেছিলেন, সেদিন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দু‘আ কবুল করেছিলেন। সেদিনই আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর ছাহাবীগণকে তাঁদের সংবাদ ও তাঁদের উপর যা যা আপতিত হয়েছিল সবই অবহিত করেছিলেন। আর যখন কুরাইশ কাফিরদেরকে এ সংবাদ পৌঁছানো হয় যে, আছিম (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে শহীদ করা হয়েছে, তখন তারা তাঁর কাছে এক ব্যক্তিকে পাঠায়, যাতে সে ব্যক্তি তাঁর লাশ হতে কিছু অংশ কেটে নিয়ে আসে, যেন তারা তা দেখে চিনতে পারে। কারণ বদর যুদ্ধের দিন আছিম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কুরাইশদের এক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন। আছিমের লাশের (রক্ষার জন্য) মৌমাছির ঝাঁক প্রেরিত হল, যারা তাঁর দেহ আবৃত করে রেখে তাদের ষড়যন্ত্র হতে হেফাযত করল। ফলে তারা তাঁর শরীর হতে এক খণ্ড গোশতও কেটে নিতে পারেনি।[১]
শিক্ষনীয় বিষয়
১. এটি ছাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ঘটনাবলির অন্যতম একটি ঘটনা, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে সংঘটিত হয়েছিল। এ ঘটনা আল্লাহর দ্বীনের পথে সেই মহান ছাহাবীগণের আত্মত্যাগের কিছু উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরে এবং এটিও প্রকাশ করে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁদের মধ্য থেকে কতিপয়কে শাহাদতের মহান মর্যাদার জন্য মনোনীত করেছিলেন। .......সেই সৌভাগ্যবান ছাহাবীদের অন্যতম ছিলেন খুবাইব ইবনু ‘আদী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং তাঁর সাথীগণ, যারা ‘রাজী’ অভিযানে শাহাদতের মহান মর্যাদা লাভ করেছিলেন।
২. আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মৌলিক আক্বীদার অন্যতম একটি বিষয় হল- আল্লাহর ওলীদের কারামত (অলৌকিক অনুগ্রহ) সত্য বলে বিশ্বাস করা। আর আল্লাহ তা‘আলা তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের জ্ঞান, অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অবগত হওয়া, বিশেষ ক্ষমতা এবং আল্লাহ প্রদত্ত অলৌকিক ঘটনা প্রকাশ করেন-এগুলোকেও সত্য বলে বিশ্বাস করা। আল্লাহর ওলীদের কারামত এই ঘটনায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
(ক) খুবাইব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে আঙ্গুরের থেকে পাওয়া আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত একটি কারামত ছিল। সেই সময় মক্কায় কোন আঙ্গুর ছিল না। অথচ সেই মহিলা বিস্মিত হয়ে দেখলেন, খুবাইব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সামনে একজন মানুষের মাথার সামনে বড় একটি আঙ্গুরের থোকা রয়েছে।
(খ) আছিম ইবনু ছাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে আল্লাহ তা‘আলা মৌমাছির এমন এক বিশাল ঝাঁকের মাধ্যমে রক্ষা করেছিলেন, যা মেঘের ছায়ার মত তাঁর দেহতে আচ্ছাদিত করে রেখেছিল। এর ফলে শত্রুরা তাঁর দেহের কাছে পৌঁছাতে পারেনি এবং তাঁর দেহের কোন অংশ কাটতেও সক্ষম হয়নি। এটিও আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে তাঁর ওলীর জন্য প্রকাশিত এক মহান কারামত।
(গ) আছিম ইবনু ছাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন আল্লাহ তা‘আলার নিকট দু‘আ করেছিলেন- ‘হে আল্লাহ! আমাদের সংবাদ আপনার নবীর নিকট পৌঁছে দিন’- তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দু‘আ কবুল করেছিলেন। ফলে ঠিক সেই সময়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট তাঁদের শাহাদত ও তাঁদের ওপর সংঘটিত ঘটনার সংবাদ পৌঁছে যায়। এই ঘটনাটিও তাঁদের জন্য আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সুস্পষ্ট কারামত।
৩. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই পরীক্ষা করেন। নিঃসন্দেহে মুসলিম সমাজের জন্য এটি ছিল এক বড় পরীক্ষা যে, তাঁদের শ্রেষ্ঠ দশজন সদস্যকে একসঙ্গে হারাতে হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলার প্রতিটি ফায়ছালার পেছনেই রয়েছে গভীর প্রজ্ঞা। যেমন তিনি বলেন, وَ یَتَّخِذَ مِنۡکُمۡ شُہَدَآءَ ‘গ্রহণ করে নিতে পারেন তোমাদের মধ্য থেকে শহীদগণকে’ (সূরা আলে-ইমরান, ৩/১৪০)।
আল্লাহ তা‘আলা এসব মুসলিমকে বিশেষ সম্মান দান করতে চেয়েছিলেন এবং তাঁদের জন্য এই মহান প্রতিদান (শাহাদতের মর্যাদা) নির্ধারণ করেছিলেন। আর আল্লাহই সর্বাধিক জানেন যে, তাঁদের জন্য তাঁর সান্নিধ্যে ফিরে যাওয়াই দুনিয়ায় বেঁচে থাকার চেয়ে অধিক কল্যাণকর ছিল।
৪. একজন মুসলিম তার উত্তম চরিত্র ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের একটি উজ্জ্বল ও মনোমুগ্ধকর চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরে। যেমন খুবাইব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। বনু হারিছের সেই মহিলার ঘরে বন্দি থাকা অবস্থায় তিনি তাঁর উত্তম আচরণের পরিচয় দিয়েছিলেন। মহিলাটি যখন তাঁর চরিত্র ও আচরণ দেখলেন এবং দেখলেন যে, তিনি শিশুটিকে কোন ধরনের কষ্ট বা ক্ষতি না করেই ছেড়ে দিয়েছেন, তখন তিনি অত্যন্ত মুগ্ধ হলেন। অথচ তিনি চাইলে নিজের মৃত্যুর আগে প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে সেই শিশুটিকে হত্যা করতে সক্ষম ছিলেন। কিন্তু তিনি এমন জঘন্য কাজ মোটেই করেননি। এর ফলে তিনি মুশরিক মহিলার অন্তরে এবং যাদের কাছে তিনি এ ঘটনা বর্ণনা করেছিলেন, তাদের হৃদয়েও গভীর সম্মান ও মর্যাদা অর্জন করেছিলেন।
এ কারণেই সেই মহিলা বলেছিলেন, ولله ما رأيت أسيرا قط خيرا من خبيب ‘আল্লাহর কসম! আমি কখনো খুবাইবের চেয়ে উত্তম কোনো বন্দী দেখিনি’।
৫. কুরাইশরা হারাম এলাকার (মক্কার পবিত্র সীমার) মর্যাদাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিত। এমনকি তারা মুশরিক হওয়া সত্ত্বেও হারাম এলাকার ভিতরে কোনো বন্দীকে হত্যা করত না। বরং তারা বন্দীদের হারাম এলাকার বাইরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করত। এছাড়াও তারা নিষিদ্ধ মাসসমূহ-এও যুদ্ধ বা হত্যা থেকে বিরত থাকত।
৬. মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পূর্বে দু’ রাক‘আত ছালাত আদায় করা শরী‘আত সম্মত। এ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে- فكان خبيب أول من سن الركعتين لكل امرئ مسلم قتل صبرا ‘খুবাইব ছিলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি প্রত্যেক মুসলিমের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে দু’ রাক‘আত ছালাত আদায় করার রীতি প্রবর্তন করেছেন’। অতএব খুবাইব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পূর্বে দু’ রাক‘আত ছালাত আদায় করার এ আমলের প্রথম প্রবর্তক ছিলেন।......কিন্তু এ কথা তো সুস্পষ্ট যে, আল্লাহর আদেশ ব্যতীত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) ছাড়া অন্য কেউ দ্বীনের কোনো বিধান প্রণয়ন করতে পারে না। তাহলে এ কথার অর্থ কীভাবে বুঝব? এর অর্থ হল- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুবাইব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই আমলকে অনুমোদন দিয়েছেন। তাই এটি শরী‘আতে স্বীকৃত সুন্নাত হিসেবে গণ্য হয়েছে।
*পরিচালক, দারুস সালাম ইসলামী কমপ্লেক্স, পিরুজালী ময়তাপাড়া, গাযীপুর।
তথ্যসূত্র :
[১]. ছহীহ বুখারী, হা/৩০৪৫ ‘জিহাদ ও সিয়ার’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৭০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৯১৫।