বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

শ্বেতরোগী, টাকমাথা ও অন্ধ
যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা পরীক্ষা করেছিলেন

--মূল : ফাউযিয়া বিনতে মুহাম্মাদ আল-উক্বাইলী
-অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন*



আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, বনী  ইসরাঈলের মধ্যে তিনজন ব্যক্তি ছিল। একজন শ্বেতরোগী, একজন মাথায় টাকওয়ালা আর একজন অন্ধ। মহান আল্লাহ তাদেরকে পরীক্ষা করতে চাইলেন। কাজেই, তিনি তাদের নিকট একজন ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতা প্রথমে শ্বেত রোগীটির নিকট আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার নিকট কোন্ জিনিস অধিক প্রিয়? সে জবাব দিল, সুন্দর রং ও সুন্দর চামড়া। কেননা, মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। ফেরেশতা তার শরীরের উপর হাত বুলিয়ে দিলেন। ফলে তার রোগ সেরে গেল। তাকে সুন্দর রং এবং সুন্দর চামড়া দান করা হল। অতঃপর ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ ধরনের সম্পদ তোমার নিকট অধিক প্রিয়? সে জবাব দিল, ‘উট’ অথবা  সে বলল ‘গরু’। এ ব্যাপারে বর্ণনাকারীর সন্দেহ রয়েছে যে শ্বেতরোগী না টাকওয়ালা দু’জনের একজ বলেছিল ‘উট’ আর অপরজন বলেছিল ‘গরু’। অতএব তাকে একটি দশ মাসের গর্ভবতী উটনী দেয়া হল। তখন ফেরেশতা বললেন, ‘এতে তোমার জন্য বরকত হোক’।

বর্ণনাকারী বলেন, ফেরেশতা টাকওয়ালার নিকট গেলেন এবং বললেন, তোমার নিকট কী জিনিস পছন্দনীয়? সে বলল, সুন্দর চুল এবং আমার হতে যেন এ রোগ চলে যায়। মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। বর্ণনাকারী বলেন, ফেরেশতা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তৎক্ষণাৎ মাথার টাক চলে গেল। তাকে সুন্দর চুল দেয়া হল। ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ সম্পদ তোমার নিকট অধিক প্রিয়? সে জবাব দিল, ‘গরু’। অতঃপর তাকে একটি গর্ভবতী গাভী দান করলেন। এবং ফেরেশতা দু‘আ করলেন, এতে তোমাকে বরকত দান করা হোক। অতঃপর ফেরেশতা অন্ধের কাছে আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ জিনিস তোমার নিকট অধিক প্রিয়? সে বলল, আল্লাহ তা‘আলা যেন আমার চোখের জ্যোতি ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি মানুষকে দেখতে পারি। নবী করীম (ﷺ) বললেন, তখন ফেরশেতা তার চোখের উপর হাত ফিরিয়ে দিলেন, তৎক্ষণাৎ আল্লাহ্ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ সম্পদ তোমার নিকট অধিক প্রিয়? সে জবাব দিল, ‘ছাগল’। তখন তিনি তাকে একটি গর্ভবতী ‘ছাগী’ দিলেন। উপরে উল্লেখিত লোকদের পশুগুলো বাচ্চা দিল। ফলে একজনের উটে ময়দান ভরে গেলে, অপরজনের গরুতে মাঠ পূর্ণ হয়ে গেল এবং আর একজনের ছাগলে উপত্যকা ভরে গেল।

অতঃপর ঐ ফেরেশতা তাঁর পূর্ববর্তী আকৃতি প্রকৃতি ধারণ করে শ্বেতরোগীর নিকট এসে বললেন, আমি একজন নিঃস্ব ব্যক্তি।  আমার সফরের সম্বল শেষ হয়ে গেছে। আজ আমার গন্তব্য স্থানে পৌঁছার আাল্লাহ্ ব্যতীত কোন উপায় নেই। আমি তোমার নিকট ঐ সত্তার নামে একটি উট চাচ্ছি, যিনি তোমাকে সুন্দর রং, কোমল চামড়া এবং সম্পদ দান করেছেন। আমি এর উপর সাওয়ার হয়ে আমার গন্তব্যে পৌঁছাব। তখন লোকটি তাকে বলল, আমার উপর বহু দায়িত্ব রয়েছে। তখন ফেরেশতা তাকে বললেন, সম্ভবত আমি তোমাকে চিনি। তুমি কি এক সময় শ্বেতরোগী ছিলে না? মানুষ তোমাকে ঘৃণা করত। তুমি কি ফকীর ছিলে না? অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাকে দান করেছেন। তখন সে বলল, আমি তো এ সম্পদ আমার পূর্বপুরুষ হতে ওয়ারিস সূত্রে পেয়েছি। ফেরেশতা বললেন, তুমি যদি মিথ্যাচারী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে সেরূপ করে দিন, যেমন তুমি ছিলে। অতঃপর ফেরেশতা মাথায় টাকওয়ালার নিকট তাঁর সেই বেশভূষা ও আকৃতিতে গেলেন এবং তাকে ঠিক তেমনই বললেন, যেরূপ তিনি শ্বেত রোগীকে বলেছিলেন। এও তাকে ঠিক অনুরূপ জবাব দিল যেমন জবাব দিয়েছিল শ্বেরোগী।

তখন ফেরেশতা বললেন, যদি তুমি মিথ্যাচারী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে তেমন অবস্থায় করে দিন, যেমন তুমি ছিলে। শেষে ফেরেশতা অন্ধ লোকটির নিকট তাঁর আকৃতিতে আসলেন এবং বললেন, আমি একজন নিঃস্ব লোক, মুসাফির মানুষ; আমার সফরের সকল সম্বল শেষ হয়ে গেছে। আজ বাড়ি পৌঁছার ব্যাপারে আল্লাহ ব্যতীত কোন গতি নেই। তাই আমি তোমার নিকট সেই সত্তার নামে একটি ছাগী প্রার্থনা করছি যিনি তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন আর আমি এ ছাগীটি নিয়ে আমার এ সফরে বাড়ি পৌঁছতে পারব। সে বলল, প্রকৃতপক্ষেই আমি অন্ধ ছিলাম। আল্লাহ আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমি ফকীর ছিলাম। আল্লাহ আমাকে সম্পদশালী করেছেন। এখন তুমি যা চাও নিয়ে যাও। আল্লাহ্র কসম! আল্লাহ্র জন্য তুমি যা কিছু নিবে, তার জন্য আজ আমি তোমার নিকট কোন প্রশংসাই দাবী করব না। তখন ফেরেশতা বললেন, তোমার সম্পদ তুমি রেখে দাও। তোমাদের তিন জনের পরীক্ষা নেয়া হল মাত্র। আল্লাহ্ তোমার উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তোমার সাথীদ্বয়ের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন’।[১]

শিক্ষনীয় বিষয়

১. পরীক্ষা (বিপদ-আপদ) একটি চলমান সুন্নাত এবং কার্যকর আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, দুঃখ-কষ্ট, ভাল ও মন্দ-এসবের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন; যেমন তিনি বলেন, وَ نَبۡلُوۡکُمۡ بِالشَّرِّ وَ الۡخَیۡرِ  فِتۡنَۃً ‘আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভাল দ্বারা বিশেষ পরীরক্ষা করি’ (সূরা আম্বিয়া, ২১/৩৫)। এর মাধ্যমে তিনি মুমিনকে অন্যদের থেকে পৃথক করেন এবং সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী থেকে আলাদা করেন।

এই ঘটনাটি একটি মহান তাৎপর্যের দিকে ইঙ্গিত করে। তা হল-সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও সমৃদ্ধির মাধ্যমে পরীক্ষা, অনেক সময় দুঃখ-কষ্ট ও বিপদের  পরীক্ষার চেয়েও কঠিন হতে পারে। আর ভাল অবস্থার পরীক্ষায় আত্মসচেতনতা বজায় রাখা, মন্দ অবস্থার পরীক্ষার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অনেক মানুষ কঠিন অবস্থা সহ্য করতে এবং তাতে ধৈর্য ধরতে পারে; কিন্তু দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ও তার প্রলোভনের সামনে তারা ধৈর্য ধরতে পারে না।

অনেক মানুষ আছে যারা রোগ-ব্যাধি, দুর্বলতা, দারিদ্রতা ও নির্যাতনের পরীক্ষায় ধৈর্য ধারণ করে। কিন্তু খুবই অল্প মানুষ আছে যারা সুস্থতা, সামর্থ্য, ধন-সম্পদ এবং দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ও তার আনন্দের পরীক্ষায় ধৈর্য ধারণ করতে পারে.....!!

২. ছাদাক্বাহর ফযীলত, দুর্বলদের প্রতি কোমল আচরণ ও সম্মান প্রদর্শনের উৎসাহ এবং তাদের হৃদয় ভেঙ্গে দেওয়া ও দুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা থেকে সতর্কতা....।

ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বিপদ-আপদ দূর করতে ছাদাক্বাহর প্রভাব সম্পর্কে বলেন, فإن للصدقة تأثيراً عجيباً في دفع أنواع البلاء ولو كانت من فاجر أو من ظالم بل من كافر، فإن الله تعالى يدفع بها عنه أنواعاً من البلاء وهذا أمر معلوم عند الناس خاصتهم وعامتهم وأهل الأرض كلهم مقرون به لأنهم جربوه ‘নিশ্চয়ই ছাদাক্বাহর রয়েছে বিপদ-আপদ দূর করার ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনক প্রভাব। এমনকি যদি তা কোন পাপী, যালিম, বরং কোন কাফেরের পক্ষ থেকেও হয়-তবুও আল্লাহ তা‘আলা এর মাধ্যমে তার থেকে বিভিন্ন ধরনের বিপদ দূর করে দেন। এটি এমন একটি বিষয়, যা মানুষ-বিশেষ ও সাধারণ সবাই জানে; পৃথিবীর সকল মানুষই তা স্বীকার করে, কারণ তারা এটি অভিজ্ঞতায় পেয়েছে’।[২]

৩. সুখ-সমৃদ্ধির সময় আল্লাহর শোকর আদায়ের ফযীলত, তাঁর নে‘আমতের স্বীকৃতি দেওয়া ও তাঁর জন্য প্রশংসা করা। আর নে‘আমতের অকৃতজ্ঞতার পরিণতি...। নিশ্চয়ই নে‘আমত সংরক্ষণের সর্বোত্তম উপায় হল আল্লাহ তা‘আলার শোকর আদায় করা, যিনি এসব নে‘আমত দান করেছেন ও অনুগ্রহ করেছেন।

৪. মানুষের মধ্যে আল্লাহর নে‘মতের শোকর আদায় ও বান্দাদের উপকার করার ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। শ্বেতরোগী ও টাকমাথা ব্যক্তিকে আল্লাহ বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ দান করেছিলেন। কিন্তু তারা আল্লাহর নে‘মত অস্বীকার করে বলল, إنما ورثنا هذا المال كابرا عن كابر ‘এ সম্পদ তো আমরা পূর্বপুরুষদের নিকট থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি’। অথচ তারা ছিল মিথ্যাবাদী। বাস্তবে তারা ছিল দরিদ্র; আল্লাহ তা‘আলা তাদের সম্পদ দান করেছিলেন। কিন্তু (না‘ঊযুবিল্লাহ) তারা আল্লাহর নে‘মত অস্বীকার করে বলল, هذا من آبائنا وأجدادنا ‘এ তো আমাদের বাপ-দাদার সম্পদ’।

অন্যদিকে অন্ধ ব্যক্তি আল্লাহর নে‘মতের শোকর আদায় করেছিল এবং আল্লাহর অনুগ্রহ স্বীকার করেছিল। তাই আল্লাহ তাকে তাওফীক্ব ও হেদায়াত দান করেন। সে ফেরেশতাকে বলেছিল, خذ ما شئت ودع ما شئت ‘তুমি যা ইচ্ছা নাও এবং যা ইচ্ছা রেখে দাও’।

৫. কৃপণতার নিন্দা এবং তা থেকে সতর্কতা। কৃপণতা এক মহা অনিষ্ট ও কঠিন ব্যাধি, যা ধ্বংসের কারণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ لَا یَحۡسَبَنَّ الَّذِیۡنَ یَبۡخَلُوۡنَ بِمَاۤ اٰتٰہُمُ اللّٰہُ مِنۡ فَضۡلِہٖ ہُوَ خَیۡرًا لَّہُمۡ ؕ بَلۡ ہُوَ شَرٌّ  لَّہُمۡ ؕ سَیُطَوَّقُوۡنَ مَا بَخِلُوۡا بِہٖ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ وَ لِلّٰہِ مِیۡرَاثُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ؕ وَ اللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ  ‘আর আল্লাহ যাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে কিছু দান করেছেন তদ্বিষয়ে যারা কার্পণ্য করে তারা যেন এরূপ ধারণা না করে যে, ওরা তাদের জন্য কল্যাণকর; বরং ওটা তাদের জন্য ক্ষতিকর; তারা যে বিষয়ে কৃপণতা করেছে উত্থান দিনে ওটাই তাদের কণ্ঠ-নিগড় হবে; এবং আল্লাহ নভোমণ্ডলের স্বত্বাধিকারী এবং যা তোমরা করছ আল্লাহ তদ্বিষয়ে পূর্ণ খবর রাখেন’ (সূরা আলে-ইমরান, ৩/১৮০)।

৬. ফেরেশতাদের অস্তিত্ব প্রমাণ...। ফেরেশতারা অদৃশ্য জগতের অন্তর্ভূক্ত; আল্লাহ তা‘আলা তাঁদের নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাঁদেরকে তাঁর আদেশ বাস্তবায়নের শক্তি দিয়েছেন এবং তাঁর আনুগত্যে চলার ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন। তাঁরা আল্লাহর আদেশ অমান্য করে না এবং যা নির্দেশ দেওয়া হয় তাই করে। তাঁরা কখনও মানুষের আকৃতি ধারণ করে থাকে। যেমন-সেই ফেরেশতা ঐ তিন ব্যক্তির নিকট মানুষের রূপে এসেছিল।

৭. শর্তসাপেক্ষ দু‘আ করা জায়েয। তাঁর বাণী, إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللهُ إِلَى مَا كُنْتَ ‘যদি তুমি মিথ্যাচারী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে তেমন অবস্থায় করে দিন, যেমন তুমি ছিলে’। আর পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ الۡخَامِسَۃُ اَنَّ لَعۡنَتَ اللّٰہِ عَلَیۡہِ  اِنۡ کَانَ مِنَ  الۡکٰذِبِیۡنَ  ‘আর পঞ্চম বারে সাক্ষ্য দেবে যে, সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তাহলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহর লা‘নত’ (সূরা নূর, ২৪/৭)।

তিনি আরো বলেন, وَ الۡخَامِسَۃَ  اَنَّ غَضَبَ اللّٰہِ عَلَیۡہَاۤ  اِنۡ  کَانَ مِنَ  الصّٰدِقِیۡنَ  ‘আর পঞ্চমবারে বলবে যে, তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব’ (সূরা নূর, ২৪/৯) এবং ইস্তিখারার দু‘আতেও এসেছে, اللهم! إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ....إلخ ‘হে আল্লাহ! যদি আপনি জানেন....শেষ পর্যন্ত’।

৮. বান্দাকে আল্লাহর দান করা তার প্রতি ভালবাসার প্রমাণ নয়; বরং তা একটি পরীক্ষা ও বিপদস্বরূপ। এমনকি তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ধীরে ধীরে (শাস্তির দিকে) টেনে নেওয়া-অর্থাৎ ‘ইস্তিদরাজ’-ও হতে পারে, আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আর একজন মুসলিম এ বিশ্বাস রাখে যে, দান করা বা বঞ্চিত করা- এগুলোর সঙ্গে ভালবাসা বা ঘৃণার কোন সরাসরি সম্পর্ক নেই। কারণ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী, إِنَّ اللهَ تَعَالَى يُعْطِي الْمَالَ مَنْ أَحَبَّ وَمَنْ لَا يُحِبُّ وَلَا يُعْطِي الْإِيمَانَ إِلَّا مَنْ يُحِبُّ ‘আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন এবং যাকে ভালোবাসেন না তাদের সকলকেই সম্পদ (দুনিয়া) দান করেছেন। কিন্তু তিনি ঈমান দান করেছেন কেবল যাদেরকে তিনি ভালোবাসেন’।[৩] বরং আল্লাহর ভালবাসা অর্জন করা যায় কেবল তাঁর নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে, যা কুরআনুল কারীম ও সম্মানিত নবীর সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এই পদ্ধতি অনুসরণ করাই হলো সেই পথ, যা আল্লাহ তা‘আলার ভালবাসার দিকে পৌঁছে।

৯. মহান আল্লাহর ক্ষমতা রয়েছে এমন সব জটিল ও দুরারোগ্য রোগও আরোগ্য করার, যেগুলো সম্পর্কে মানুষ মনে করে কোনো চিকিৎসা নেই। সুতরাং বান্দার কর্তব্য হল-তার রবের প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করা। আর বান্দা তার (আল্লাহর) দিকেই ফিরে আসে, তাঁর নিকট আশ্রয় চায় এবং দু‘আয় বারবার অনুরোধ করতে থাকে। তখন সে অচিরেই বিস্ময়কর (ফলাফল) দেখতে পায়। এমন এক সত্তা, যার কাছে আসমান-যমীনের কোন কিছুই কঠিন নয়। (আল্লাহ তা‘আলা বলেন), اِنَّمَاۤ  اَمۡرُہٗۤ   اِذَاۤ   اَرَادَ  شَیۡئًا اَنۡ یَّقُوۡلَ  لَہٗ کُنۡ فَیَکُوۡنُ  ‘তাঁর ব্যাপরতো শুধু এই যে, যখন তিনি কোন কিছুর ইচ্ছা করেন তখন বলেন ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়’ (সূরা ইয়াসীন, ৩৬/৮২)।

 

* পরিচালক: দারুস সালাম ইসলামী কমপ্লেক্স, পিরুজালী ময়তাপাড়া, গাযীপুর।
তথ্যসূত্র :
[১]. মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৬৪, ৪৩৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৬৪; মিশকাত, হা/১৮৭৮।
[২]. আল-ওয়াবিলুস সাইয়িব মিনাল কালামিত ত্বিব, পৃ.৩১।
[৩]. আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/২৭৫; ছহীহাহ, হা/২৭১৪ আলবানী ঢ় হাদীছটিকে ছহীহ মাওকূফ বলেছেন।




মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ই একমাত্র সুপারিশকারী - আল-ইখলাছ ডেস্ক
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষণীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ৪র্থ সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
বান্দার প্রতি আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ - মুহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম
শ্বেতরোগী, টাকমাথা ও অন্ধ যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা পরীক্ষা করেছিলেন - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষণীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ৮ম সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
কা‘ব ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর তাওবাহ - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
নবী করীম (ﷺ)-এর শাফা‘আত - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
হাতেম বিন বালতা‘ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঘটনা - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
যিনাকারীর পরিণাম - আবূ মাহী
উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)- এর খলীফা নির্বাচন পদ্ধতি - হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) ও সারা (আলাইহিস সালাম) যালিম শাসকের সঙ্গে - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
আবূ সুফিয়ান ও হিরাক্লিয়াস - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ