বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন

ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) ও সারা (আলাইহিস সালাম) যালিম শাসকের সঙ্গে

 - মূল : ফাউযিয়া বিনতে মুহাম্মাদ আল-উক্বাইলী 
 - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন* 



আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তিনবার ব্যতীত কখনও মিথ্যা বলেননি। তন্মধ্যে দু’বার ছিল আল্লাহর ব্যাপারে। তাঁর বাণী,  اِنِّیۡ سَقِیۡمٌ ‘আমি অসুস্থ’ (সূরা আছ-ছাফফাত, ৩৭/৮৯) এবং তাঁর অন্য এক উক্তি قَالَ بَلۡ  فَعَلَہٗ ٭ۖ   کَبِیۡرُہُمۡ ہٰذَا  ‘বরং এ কাজ করেছে, এই তো তাদের বড়টি’ (সূরা আল-আম্বিয়া, ২১/৬৩)। ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) সারা (আলাইহিস সালাম)-কে নিয়ে হিজরত করলেন।  অতঃপর তিনি তাঁকে নিয়ে এমন এক জনপদে প্রবেশ করলেন, যেখানে রাজাদের মধ্য থেকে একজন রাজা ছিল অথবা অত্যাচারীদের মধ্য থেকে একজন যালিম শাসক ছিল। তাকে বলা হল- ‘এখানে একজন লোক এসেছে, যার সঙ্গে রয়েছে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী এক নরী। সে তার নিকট লোক পাঠিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘হে ইবরাহীম! তোমার সঙ্গে যে নারীটি আছে, সে কে? তিনি বললেন, ‘সে আমার বোন’। এরপর তিনি সারা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট ফিরে এসে বললেন, ‘আমার কথাকে মিথ্যা প্রমাণ করো না। আমি তাদের জানিয়েছি তুমি আমার বোন। আল্লাহর কসম! এই পৃথিবীর বুকে আমি আর তুমি ছাড়া আর কোনো মুমিন নেই। সে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছে, আমি তাকে জানিয়েছি, তুমি আমার বোন। অতএব তুমি আমাকে মিথ্যাবাদী বানায়ো না। অতঃপর সে তাকে নিজের কাছে পাঠিয়ে দিল। যখন তিনি তার নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তিনি উঠে ওযূ করলেন এবং ছালাত আদায় করলেন। আর বললেন, *

اللهم إِنْ كُنْتُ آمَنْتُ بِكَ وَبِرَسُولِكَ وَأَحْصَنْتُ فَرْجِي إِلَّا عَلَى زَوْجِي فَلاَ تُسَلِّطْ عَلَيَّ هَذَا الكَافِرَ 

‘হে আল্লাহ! যদি আমি তোমার ও তোমার রাসূলের প্রতি ঈমান এনে থাকি এবং স্বামী ব্যতীত আমার লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে থাকি, তবে এই কাফেরকে আমার উপর ক্ষমতা দিও না’। অতঃপর সেই কাফের তার উপর ক্ষমতা পেল না। যখন সে তার নিকট প্রবেশ করে হাত বাড়িয়ে তাকে ধরতে চাইল, তৎক্ষণাৎ সে এমনভাবে পাকড়াও হয়ে গেল যে, পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করতে লাগল। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, তিনি বললেন,اللهم إِنْ يَمُتْ فَيُقَالُ هِيَ قَتَلَتْهُ ‘যদি সে মারা যায়, তবে বলা হবে-এই নারীই তাকে হত্যা করেছে। সে বলল, ‘আমার জন্য আল্লাহর নিকট দু‘আ কর, আমি তোমার কোনো ক্ষতি করব না। অতঃপর তিনি আল্লাহর নিকট দু‘আ করলেন, ফলে তাকে ছেড়ে দেয়া হল এবং মুক্ত করে দেয়া হল। এরপর সে আবার দ্বিতীয়বার তার দিকে অগ্রসর হল। তিনি উঠে ওযূ করলেন এবং ছালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন। আর বলতে লাগলেন,

اللهم إِنْ كُنْتُ آمَنْتُ بِكَ وَبِرَسُولِكَ وَأَحْصَنْتُ فَرْجِي إِلَّا عَلَى زَوْجِي فَلاَ تُسَلِّطْ عَلَيَّ هَذَا الكَافِرَ

‘হে আল্লাহ! যদি আমি তোমার ও তোমার রাসূলের প্রতি ঈমান এনে থাকি এবং স্বামী ব্যতীত আমার লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে থাকি, তবে এই কাফেরকে আমার উপর ক্ষমতা দিও না’। অতঃপর সে আগের মতো বা তার চেয়েও কঠিনভাবে আক্রান্ত হলো এবং পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করতে লাগল। তিনি বললেন,اللهم إِنْ يَمُتْ فَيُقَالُ هِيَ قَتَلَتْهُ  ‘যদি সে মারা যায়, তবে বলা হবে-এই নারীই তাকে হত্যা করেছে। সে বলল, ‘আমার জন্য আল্লাহর নিকট দু‘আ কর, আমি তোমার কোনো ক্ষতি করব না। অতঃপর তিনি আল্লাহর নিকট দু‘আ করলেন, ফলে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারেও তাকে ছেড়ে দেয়া হলো। অতঃপর সে তার কিছু প্রহরীকে ডেকে বলল, তোমরা আমার নিকট কোনো মানুষ আনোনি; আল্লাহর কসম! তোমরা আমার নিকট শয়তান ছাড়া আর কিছুই পাঠাওনি। এই নারীকে ইবরাহীমের নিকট ফিরিয়ে দাও এবং তাকে হাজেরাকে দান কর। অতঃপর হাজেরা (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর দাসী হিসাবে দেওয়া হলো। অতঃপর তিনি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট ফিরে এলেন। তিনি তখন ছালাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি হাতের ইশারায় জিজ্ঞাসা করলেন, কী হয়েছে? তিনি বললেন, আপনি কি জানেন, আল্লাহ কাফেরকে অপদস্থ করেছেন, তার ষড়যন্ত্র তারই গলায় ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং আমাকে হাজেরা নামে একজন দাসী দান করেছেন? আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, [১]تِلْكَ أُمُّكُمْ يَا بَنِي مَاءِ السَّمَاءِ ‘হে আকাশের পানির ছেলেরা! হাজেরাই তোমাদের আদি মাতা’।[২]

শিক্ষনীয় বিষয়

১. মিথ্যা বলা কাবীরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভূক্ত, যার ওপর অভিশাপের ভয়াবহ হুঁশিয়ারি রয়েছে। আর আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর মিথ্যা আরোপ করা-এটি মিথ্যার সবচেয়ে ভয়ংকর স্তর। কারণ মিথ্যার বিভিন্ন স্তর রয়েছে, আর নবী করীম (ﷺ)-এর উপর মিথ্যা আরোপকারী তার ঠিকানা জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।

আর আল্লাহর নবী ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর কথিত ‘মিথ্যা’ সম্পর্কে ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এই হাদীছে كذب إبراهيم ثلاث مرات ‘ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তিনবার ব্যতীত কখনও মিথ্যা বলেননি’। এটি সেই প্রকৃত মিথ্যর অন্তর্ভূক্ত নয়। যার জন্য ব্যক্তিকে নিন্দিত করা হয়। বরং রূপকার্থে একে মিথ্যা বলা হয়েছে এবং এটি ছিল শারঈ ও দ্বীনি উদ্দেশ্যে কথার ভেতর ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য (তাওরিয়া)। অতএব তাওরিয়া বৈধ, যখন মানুষের প্রয়োজন হয় এমন কথা বলার, যাতে সে মিথ্যায় লিপ্ত না হয়- তখন সে তাওরিয়া ব্যবহার করে নিজের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে।

কিন্তু চাতুর্য প্রদর্শন, মানুষকে ধোঁকা দেওয়া বা নিজেকে অন্যদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান প্রমাণ করার জন্য তাওরিয়া ও ঘুরিয়ে কথা ব্যবহার করা-এটি একটি শয়তানি ফাঁদ। অতএব এতে সংযম অবলম্বন করা যরূরী এবং প্রকৃত প্রয়োজন ছাড়া এর ব্যবহার বিস্তৃত করা উচিত নয়।

২. ইসলামী ভ্রাতৃত্বের বৈধতা ও গুরুত্ব প্রমাণিত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ  اِخۡوَۃٌ   ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই’ (সূরা আল-হুজুরাত : ১০)। দ্বীনের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সম্পর্ক এবং ইসলামী ভ্রাতৃত্ব রক্তের সম্পর্কের চেয়েও দৃঢ়।

৩. মুশরিকের উপহার গ্রহণ করা বৈধ। কারণ যখন তাঁকে হাজেরাকে দান করা হলো, তখন সে উপহার গ্রহণ করা হয়েছিল এবং ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তা অনুমোদন করেছিলেন-যিনি ছিলেন ওহিপ্রাপ্ত নবী।

৪. আন্তরিক নিয়তে দু‘আ করলে কবুল হয়। সারা (আলাইহিস সালাম) যখন আল্লাহর নিকট দু‘আ করেছিলেন, ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বিপদ দূর করে দেন। আল্লাহ মাযলুম ও অসহায়ের দু‘আ  কবুল করেন। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই পরিস্থিতিতে সারা (আলাইহিস সালাম) চরম সংকট ও গভীর অসহায় অবস্থার মধ্যে ছিলেন। যখন তিনি আল্লাহ তা‘আলাকে ডাকলেন এবং বললেন, اللهم إِنْ كُنْتُ تَعْلَمْ أَنِّي آمَنْتُ بِكَ وَبِرَسُولِكَ ‘হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে, আমি তোমার ও তোমার রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি’। তখন তিনি ছিলেন সত্যবাদিনী ও ঈমানদার। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দু‘আ কবুল করেছিলেন।

৫. সৎ আমলের মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা বৈধ। যেমন-ঈমান ও চরিত্রের পবিত্রতার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা। এগুলো দু‘আ কবুলের অন্যতম কারণ।

৬. দু‘আর মাধ্যমে পবিত্রতা রক্ষা করা সম্ভব। সারা (আলাইহিস সালাম) দু‘আর আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন, ফলে তাকে কোনো অশুভ স্পর্শ করতে পারেনি।

দু‘আর মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের গুরুত্ব যে কতটা, তা স্পষ্ট হয় ইমাম আহমাদ (আলাইহিস সালাম)-এর মুসনাদ-এ বর্ণিত নিম্নোক্ত ঘটনাটি থেকে।

এক যুবকের উপর প্রবলভাবে কামনা-বাসনা চেপে ববে। সে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁর কাছে ব্যভিচার (যিনা) করার অনুমতি চাইল। সে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাকে ব্যভিচার করার অনুমতি দিন। তখন উপস্থিত লোকেরা তার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাকে ধমক দিয়ে বলল, থামো! থামো! নবী করীম (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি কি এ তোমার মায়ের জন্য পছন্দ কর? সে বলল, ‘না, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন।

নবী করীম (ﷺ) বললেন, ‘মানুষও তাদের মায়েদের জন্য এটা পসন্দ করে না। তিনি আবার বললেন, ‘তাহলে তুমি কি এটা তোমার মেয়েদের জন্য পসন্দ কর? সে বলল, ‘না, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। মানুষও তাদের মেয়েদের জন্য এটা পসন্দ করে না। তিনি বললেন, তুমি কি এটা তোমার বোনদের জন্য পসন্দ কর? সে বলল, না, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি কি এটা তোমার ফুফুদের জন্য পসন্দ কর? সে বলল, ‘না, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। নবী করীম (ﷺ) বললেন, মানুষও তাদের ফুফুদের জন্য এটা পৎসন্দ করে না। তিনি বললেন, তুমি কি এটা তোমার খালার জন্য পসন্দ কর? সে বলল, ‘না, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন। নবী করীম (ﷺ) বললেন, মানুষও তাদের খালাদের জন্য এটা পসন্দ করে না।

অতঃপর নবী করীম (ﷺ) তার উপর হাত রাখলেন এবং দু‘আ করলেন, اللهم اغْفِرْ ذَنْبَهُ وَطَهِّرْ قَلْبَهُ وَحَصِّنْ فَرْجَهُ ‘হে আল্লাহ! তার গুনাহ ক্ষমা করে দিন, তার হৃদয় পবিত্র করে দিন এবং তার লজ্জাস্থানকে হেফাযত করুন’। এরপর সেই যুবক আর কখনো কোন হারাম জিনিসের দিকে ফিরে তাকায়নি’।[৩] এর প্রমাণ হলো নবী করীম (ﷺ)-এর দু‘আ। সেই দু‘আর বরকতেই পবিত্রতা (সংযম) বাস্তবে রূপ নিয়েছিল। আর যে ব্যক্তি দু‘আর মাধ্যমে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করে অগ্রসর হয়, তার উদ্দেশ্যও বাস্তবায়িত হয়।

এ কারণেই আমাদের নবী (ﷺ) দু‘আ করতেন এবং বলতেন, اللهم إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পথনির্দেশ, আল্লাহভীতি, চারিত্রিক উৎকর্ষতা ও সচ্ছলতার জন্য দু‘আ করছি’।[৪]

৭. সৎ বান্দাদের পরীক্ষা করা হয় তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য। আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করার পরীক্ষায় ফেলেছিলেন; আবার এক যালিম শাসকের মাধ্যমেও তাঁকে পরীক্ষা করেছিলেন। তাঁকে আত্মসমর্পণের পরীক্ষায়, কঠিন পরিস্থিতির পরীক্ষায় এবং চরম কষ্টের পরীক্ষায় ফেলেছিলেন। এসব কিছুই ছিল তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্য, যাতে আল্লাহ তাঁর ছওয়াব ও নেক আমল আরও বাড়িয়ে দেন।

৮. মানুষ যখন কোনো বিপদে পড়ে বা কঠিন সংকটে নিপতিত হয়, তখন তার উচিত ছালাতের দিকে ছুটে যাওয়া। কারণ, আল্লাহর বন্ধু ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট থেকে যখন তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন তিনি কী করেছিলেন? তিনি কার নিকট অভিযোগ করেছিলেন? (তিনি বুঝেছিলেন) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ব্যতীত কোনো সমাধান নেই। তাই ইবরাহীম খলীল (আলাইহিস সালাম) আল্লাহ তা‘আলার দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং ছালাতে দাঁড়ালেন।

এটাই আমাদের নবী (ﷺ)-এর আদর্শ। তিনি যখনই কোনো বিষয়ে চিন্তাগ্রস্ত হতেন বা কোনো দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হতেন, তখনই ছালাতের আশ্রয় নিতেন।

এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, কঠিন বিপদ ও দুঃখ-কষ্টের সময় ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত।

৯. আল্লাহ তা‘আলার ওলীগণের কারমত প্রমাণিত; কারণ, আল্লাহ তা‘আলা সারা (আলাইহিস সালাম)-কে সম্মাণিত করেছিলেন এইভাবে যে, তিনি তাঁকে এক যালিমের হাত থেকে মুক্ত করেন, এটি ছিল তাঁর জন্য বিশেষ সম্মান ও কারামত। অতঃপর সেই যালিম ব্যক্তি যখন তাঁর হাত অবশ হয়ে গেল এবং সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল, তখন সে বলল, ‘আমার জন্য আল্লাহর নিকট দু‘আ কর, আমি তোমার কোনো ক্ষতি করব না’। তখন তিনি আল্লাহর নিকট দু‘আ করলেন, আল্লাহ তার হাত সুস্থ করে দিলেন এবং সে পূর্বাবস্থায় ফিরে গেল।

অতএব আল্লাহর ওলীগণের কারামত হল, আল্লাহ তাঁদের দু‘আ কবুল করেন। আর আল্লাহর ওলীগণের কারামতে বিশ্বাস রাখা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদার অন্তর্ভূক্ত। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কিছু ওলীর জন্য স্বাভাবিক নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটাতে পারেন।


* পরিচালক: দারুস সালাম ইসলামী কমপ্লেক্স, পিরুজালী ময়তাপাড়া, গাযীপুর।

তথ্যসূত্র :
[১]. مَاءِ السَّمَاءِ ‘দ্বারা যমযমের পানিকে বুঝানো হয়েছে’। কেননা আল্লাহ এই পানি হাজেরা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য ঝর্ণা হিসাবে বের করেছিলেন। এ পানির দ্বারাই তাঁর সন্তান জীবন ধারণ করেছিল। ফলে আরবরা তাঁর সন্তান হিসাবে পরিচিত লাভ করে। ইবনু হিব্বান বলেছেন, ইমাম আবূ হাতেম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

     كُلُّ مَنْ كَانَ مِنْ وَلَدِ هَاجَرَ يُقَالُ لَهُ وَلَدُ مَاءِ السَّمَاءِ لِأَنَّ إِسْمَاعِيلَ مِنْ هَاجَرَ وَقَدْ رُبِّيَ بِمَاءِ زَمْزَمَ وَهُوَ مَاءُ السَّمَاءِ الَّذِي أَكْرَمَ اللهُ بِهِ إِسْمَاعِيلَ حَيْثُ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ هَاجَرُ فَأَوْلَادُهَا أولاد ماء من السماء 

    ‘হাজেরা (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধরের প্রত্যেককে বলা হয়- ‘আকাশের পানির সন্তান’। কারণ ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)হাজেরা (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তান এবং তিনি যমযমের পানি দ্বারা লালিত-পালিত হয়েছেন। আর যমযম হলো সেই আকাশের পানি, যার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে সম্মানিত করেছেন, যখন তাঁর মা হাজেরা (আলাইহিস সালাম) তাঁকে প্রসব করেছিলেন। অতএব হাজেরা (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তানরা হলো- আকাশ থেকে আগত পানির সন্তান’। দ্র. ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৫৭৩৭ ছহীহ। (অনুবাদক)
[২]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৩৫৭,৩৩৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৭১।
[৩]. মুসনাদে আহমাদ, হা/২২২৬৫, সনদ ছহীহ।
[৪]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৭২১; মিশকাত, হা/২৪৮৪।




প্রসঙ্গসমূহ »: শিক্ষণীয় ঘটনা
নবী করীম (ﷺ) এর তাঁর স্ত্রীদের থেকে কিছু সময়ের জন্য আলাদা থাকা - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
মাযলূমের বদদু‘আ ও তোমার সাক্ষ্যের ভিত্তি কী? - আল-ইখলাছ ডেস্ক
হাজেরা এবং তাঁর ছেলে ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম) - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
বান্দার প্রতি আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ - মুহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষণীয় ঘটনা (১১তম পর্ব) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষণীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ৪র্থ সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
শিক্ষনীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ৩য় সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষণীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ৮ম সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
আত্মত্যাগের নযীরবিহীন ঘটনা - আল-ইখলাছ ডেস্ক
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষণীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ৬ষ্ঠ সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষণীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ১০ম সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
মূসা ও খাযির (আলাইহিমাস সালাম)-এর কাহিনী - আল-ইখলাছ ডেস্ক

ফেসবুক পেজ