মঙ্গলবার, ০৯ Jun ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন

কুরাইশ কাফিরগণ কর্তৃক রাসূল (ﷺ)- কে কষ্ট দেয়া

- মূল : ফাউযিয়া বিনতে মুহাম্মাদ আল-উক্বাইলী
- অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন*



আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কা‘বা ঘরের পাশে কা‘বার ছায়ায় দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করছিলেন। এ সময় কুরাইশদের একটি দল এবং আবূ জাহল তার সঙ্গীদের নিয়ে নিজেদের আসরে বসেছিল। এদিকে মক্কার এক পাশে একটি উট যব্হ করা হয়েছিল। তখন তাদের একজন বলল, তোমরা কি এই লোকটিকে (মুহাম্মাদকে) দেখছ না? তোমাদের মধ্যে কে যাবে অমুক গোত্রের যব্হকৃত উটের নিকটে, তার নাড়িভুঁড়ি, রক্ত ও ময়লা নিয়ে আসবে, তারপর অপেক্ষা করবে; আর যখন সে সিজদায় যাবে তখন তা তার দুই কাঁধের মাঝে রেখে দিবে? তখন তাদের সবচেয়ে হতভাগা ব্যক্তি-ওক্ববা ইবনু আবূ মু‘ঈত্ব উঠে গেল এবং সেই ময়লা নিয়ে এলো। সে অপেক্ষা করল। যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সিজদায় গেলেন, তখন সে সে-ই নোংরা বস্তু তাঁর পবিত্র পিঠে, দুই কাঁধের মাঝখানে রেখে দিল। নবী করীম (ﷺ) সাজদায় স্থির রইলেন। আর আমি তাকিয়ে দেখছিলাম, কিন্তু কিছুই করতে পারছিলাম না। যদি আমার শক্তি বা সামর্থ্য থাকত, তাহলে অবশ্যই কিছু করতাম। তখন তারা এত জোরে হাসতে লাগল যে, হাসতে হাসতে একজন আরেকজনের উপর হেলে পড়ছিল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাজদায় ছিলেন এবং মাথা উঠাচ্ছিলেন না।

অবশেষে একজন দ্রুত দৌড়ে গিয়ে ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে খবর দিল। তখন তিনি ছিলেন অল্পবয়সী এক কিশোরী। তিনি দ্রুত ছুটে এলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখনও সাজদায় ছিলেন। তিনি এসে সেই নোংরা বস্তু তাঁর পিঠ থেকে সরিয়ে ফেললেন। তারপর যারা এই কাজ করছিলেন তাদের বিরুদ্ধে দু‘আ করলেন এবং তাদেরকে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করতে লাগলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছালাত শেষ করে মাথা তুললেন এবং বললেন, اللهم عَلَيْكَ الْمَلَأَ مِنْ قُرَيْشٍ اللهم عَلَيْكَ الْمَلَأَ مِنْ قُرَيْشٍ اللهم عَلَيْكَ الْمَلَأَ مِنْ قُرَيْشٍ ‘হে আল্লাহ! কুরাইশ নেতাদের আপনি শাস্তি দিন। হে আল্লাহ! কুরাইশ নেতাদের আপনি শাস্তি দিন। হে আল্লাহ! কুরাইশ নেতাদের আপনি শাস্তি দিন’। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাদের বিরুদ্ধে দু‘আ করলেন, তখন তা তাদের কাছে কঠিন মনে হল। কারণ তারা মনে করত- এই শহরে (মক্কায়) করা দু‘আ অবশ্যই কবুল হয়। অতঃপর তিনি তাদের কয়েক জনের নাম উল্লেখ করে দু‘আ করলেন-اللهم عَلَيْكَ بِعَمْرِو بْنَ هِشَامٍ وَعُتْبَةَ بْنَ رَبِيْعَةَ وَشَيْبَةَ بْنَ رَبِيْعَةَ وَالْوَلِيْدَ بْنَ عُتْبَةَ  وَأُمَيَّةَ بْنَ خَلَفٍ وَعُقْبَةَ بْنَ أَبِيْ مُعَيْطٍ وَعُمَارَةَ بْنَ الْوَلِيْدَ ‘হে আল্লাহ! আপনি শাস্তি দিন- আমর ইবনু হিশাম (আবূ জাহল), উত্ববা ইবনু রাবি‘আহ, শায়বাহ ইবনু রাবি‘আহ, ওয়ালীদ ইবনু উত্ববা, উমাইয়া ইবনু খালফ, ওক্ববাহ ইবনু আবূ মুঈত্ব এবং উমাইরা ইবনু ওয়ালিদকে’।

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি দেখেছি, যাদের নাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উল্লেখ করেছিলেন, তারা সবাই বদরের যুদ্ধে নিহত হয়ে পড়েছিলেন এবং রোদের তাপে তাদের দেহ পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। সেদিন ছিল প্রচণ্ড গরমের দিন। পরে তাদের লাশগুলো টেনে নিয়ে বদরের কূপে নিক্ষেপ করা হয়। তবে উমাইয়া ইবনু খালফ ছিল খুবই স্থূলদেহী মানুষ। তাকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় কূপে ফেলার আগেই তার দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এই কূপে নিক্ষিপ্ত লোকদের উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক’।[১]

শিক্ষনীয় বিষয়

১. কুরাইশ কাফেরদের রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি শত্রুতা ছিল অত্যন্ত তীব্র। তারা তাঁর প্রতি বিদ্বেষ ও ঘৃণা পোষণ করত। ফলে তারা বিভিন্ন উপায়ে তাঁকে অত্যন্ত কঠোর কষ্ট দিয়েছে, কিন্তু তবুও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাওয়াত ও সত্যের পথে অটল ছিলেন। তারা কথার মাধ্যমে তাঁকে কষ্ট দিত। তারা তাঁকে বলত: গণক, যাদুকর, মিথ্যাবাদী, পাগল ইত্যাদি। তারা কাজের মাধ্যমেও তাঁকে কষ্ট দিয়েছে। একবার তিনি যখন কা‘বার নিকটে ছালাত আদায় করতে গেলেন এবং সাজদায় গেলেন, তখন আল্লাহর এক শত্রু এসে তাঁর পবিত্র পিঠের উপর উটের নাড়িভূঁড়ি রেখে দিল। তারা ইফকের ঘটনাতেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কষ্ট দিয়েছিল, তাঁর পবিত্র ও সম্মানিত পরিবারের মর্যাদা নিয়ে অপবাদ ঘটিয়ে। শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ তাদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, اِنَّا کَفَیۡنٰکَ الۡمُسۡتَہۡزِءِیۡنَ-الَّذِیۡنَ یَجۡعَلُوۡنَ مَعَ اللّٰہِ اِلٰہًا اٰخَرَ ۚ فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ ‘আমিই যথেষ্ট তোমার জন্য, বিদ্রƒপকারীদের বিরুদ্ধে’। যারা আল্লাহর সাথে অপর মা‘বূদ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং শীঘ্রই তারা জানতে পারবে!’ (সূরা আল-হিজর : ৯৫-৯৬)। তাদের মধ্যে কেউ নিহত হয়েছেÑ যেমন আবূ জাহল, নযর ইবনু হারিছ, ওক্ববা ইবনু আবূ মুঈত্ব। আবার কাউকে আল্লাহ কঠিন রোগে আক্রান্ত করেছেন এবং সেই রোগেই তারা ধ্বংস হয়েছেÑ যেমন আবূ লাহাব, আছ ইবনু ওয়াইল এবং ওয়ালীদ ইবনু মুগীরাহ।

২. দাওয়াতের পথে যে কষ্ট ও নির্যাতন এসেছে, তা সহ্য করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ধৈর্য ছিল অত্যন্ত মহান। এতে মুসলিমদের জন্য একটি আদর্শ রয়েছে। যখন কেউ নিজের দ্বীনের দিকে মানুষকে আহ্বান করে, তখন নানা সমস্যা ও কষ্টের সম্মুখীন হতে পারে। তাই প্রত্যেক দাঈর উচিত কষ্টের ওপর ধৈর্যধারণ করা। কারণ এটি আল্লাহ তা‘আলার একটি রীতিÑ যে ব্যক্তি নবীদের পথ অনুসরণ করবে, তাকে কষ্ট সহ্য করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَاصۡبِرۡ کَمَا صَبَرَ اُولُوا الۡعَزۡمِ مِنَ الرُّسُلِ وَ لَا تَسۡتَعۡجِلۡ  لَّہُمۡ  ‘অতএব তুমি ধৈর্যধারণ কর যেমন করেছিল দৃঢ় প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ এবং তাদের জন্য (শাস্তির) প্রার্থনায় তড়িঘড়ি কর না’ (সূরা আল-আহক্বাফ : ৩৫)।

৩. রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যা ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সাহসিকতাও এতে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি তাঁর পিতার ওপর থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দিতে পেরেছিলেন এবং কুরাইশের নেতাদের ধমক দিয়েছিলেন। তবুও তারা তাঁর কোন ক্ষতি করেনি, কারণ আরবদের প্রথা ছিলÑ নারীদের ওপর আক্রমণ করা নিষিদ্ধ।

৪. দু‘আ তিনবার পুনরাবৃত্তি করা উত্তম।

৫. যালিম (অত্যাচারী) ব্যক্তির বিরুদ্ধে দু‘আ করা বৈধ। ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মাযলূম (অত্যাচারিত ব্যক্তি) তার উপর যে পরিমাণ যুল্ম করা হয়েছে, সে পরিমাণ অনুযায়ী যালিমের বিরুদ্ধে আল্লাহ তা‘আলার নিকটে দু‘আ করতে পারে। এর প্রমাণ হল নবী করীম (ﷺ)-এর বাণী, اتَّقِ دَعْوَةَ المَظْلُوْمِ فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ اللهِ حِجَابٌ ‘মাযলূমের বদদু‘আকে ভয় করবে। কেননা, তার (বদদু‘আ) এবং আল্লাহ্র মাঝে কোন পর্দা থাকে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৪৯৬,২৪৪৮,৪৩৪৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৯)। কখনো কখনো মাযলুম ব্যক্তি তার ওপর অত্যাচারকারীকে সরাসরি জবাব দিতে বা মুখোমুখী হতে পারে না। হয়তো সে অত্যাচারকারী তার আত্মীয়, বন্ধু বা এমন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি যার সাথে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় তার জন্য দু‘আ করা ছাড়া আর কোন আশ্রয় থাকে না।

তবে কখনো এমনও হয়- কোন ব্যক্তি কাউকে সন্দেহ করে যে, সে তার প্রতি অন্যায় করেছে। তখন কি সে এই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি আল্লাহর নিকট দু‘আ করতে পারবে? না-কি শর্তসাপেক্ষে দু‘আ করবে; যেমন বলবে, ‘হে আল্লাহ! যদি অমুক ব্যক্তি আমার ওপর যুলম করে থাকে বা অমুক বিষয়ে আমার ক্ষতি করে থাকে, তাহলে তুমি তার বিচার কর’-এভাবে দু‘আ করবে? উত্তর হল- দ্বিতীয় পদ্ধতিটি। অর্থাৎ কখনো এমন হয় যেÑ কোন ঘনিষ্ট ব্যক্তিকে সন্দেহ করা হয়, সে হয়তো কাউকে নযর (বদনযর) দিয়েছে অথবা কাউকে যাদুর মাধ্যমে ক্ষতি করেছে। কিন্তু মানুষ সরাসরি কিছু বলতে পারে না, কারণ তার নিকট কোন প্রমাণ বা সাক্ষ্য নেই। শুধু কিছু শক্ত ইঙ্গিত থেকে মনে হয় যে, সে-ই ক্ষতি করেছে। এ অবস্থায় তো সর্বজ্ঞ আল্লাহ তা‘আলাই প্রকৃত সত্য জানেন। তাই সে এভাবে বলতে পারে-اللهم إن كان فلان هو الذي أصابني وتدعو بما ترى أنك تكافئة ‘হে আল্লাহ! যদি অমুক ব্যক্তিই আমার এই ক্ষতি করে থাকে, তবে তুমি তাকে উপযুক্ত প্রতিফল দাও’। তবে মানুষ যদি ধৈর্যধারণ করে, ছওয়াবের আশা রাখে এবং বিষয়টি আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়, তাহলে সেটাই অধিক উত্তম।

৬. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী (ﷺ)-কে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করেছেন। (আল্লাহ তা‘আলা বলেন), اِنَّا کَفَیۡنٰکَ الۡمُسۡتَہۡزِءِیۡنَ  ‘আমিই যথেষ্ট আপনার জন্য, বিদ্রƒপকারীদের বিরুদ্ধে’ (সূরা আল-হিজর : ৯৫)। শায়খ আব্দুর রহমান ইবনু নাসির আস-সা‘দী (রাহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘হে নবী! আপনি এবং আপনি যে দ্বীন ও বার্তা নিয়ে এসেছেনÑ এ ব্যাপারে যারা উপহাস করে, তাদের দ্বারা আপনার কোন ক্ষতি হবে না। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূলের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি যে, উপহাসকারীরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। বরং আল্লাহ তা‘আলাই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির মাধ্যমে তাঁর জন্য যথেষ্ট হবেন। বাস্তবেও তাই হয়েছে। যে-ই প্রকাশ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তিনি যে বার্তা নিয়ে এসেছেন তা নিয়ে উপহাস করেছে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ধ্বংস করেছেন এবং অত্যন্ত নিকৃষ্টভাবে তাকে মৃত্যুবরণ করিয়েছেন।



* পরিচালক: দারুস সালাম ইসলামী কমপ্লেক্স, পিরুজালী ময়তাপাড়া, গাযীপুর।

তথ্যসূত্র :
[১]. ছহীহ বুখারী, হা/২৪০, ৫২০, ২৯৩৪, ৩১৮৫, ৩৮৫৪, ৩৯৬০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭৯৪; মিশকাত, হা/৫৮৪৭।




নবী করীম ﷺ-এর সাথে আনছারদের ঘটনা - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
কা‘ব ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর তাওবাহ - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
নবী করীম (ﷺ)-এর শাফা‘আত - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষণীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ৬ষ্ঠ সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
কুরাইশ কাফিরগণ কর্তৃক রাসূল (ﷺ)- কে কষ্ট দেয়া - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
মূসা ও খাযির (আলাইহিমাস সালাম)-এর কাহিনী - আল-ইখলাছ ডেস্ক
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষণীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ৮ম সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষণীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ৭ম সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষণীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ৪র্থ সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
বান্দার প্রতি আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ - মুহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম
শিক্ষনীয় ঘটনা (১ম বর্ষ, ৩য় সংখ্যা) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
আবূ সুফিয়ান ও হিরাক্লিয়াস - অনুবাদ : হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ