উত্তর : যেনা ইসলামী শরী‘আতে মারাত্মক কাবীরা গুনাহ ও জঘন্য অপরাধ। তবে আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। খাঁটি তওবা করলে আল্লাহ এ পাপ ক্ষমা করে দিতে পারেন ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন,
قُلۡ یٰعِبَادِیَ الَّذِیۡنَ اَسۡرَفُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ لَا تَقۡنَطُوۡا مِنۡ رَّحۡمَۃِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَغۡفِرُ الذُّنُوۡبَ جَمِیۡعًا ؕ اِنَّہٗ ہُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ
‘(হে নবী!) আপনি বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আয যুমার : ৫৩)। নিম্নোক্ত শর্ত মেনে তওবা করতে হবে। তওবা কবুলের ৪টি মৌলিক শর্ত হল-
(১) কৃতকর্মের জন্য অন্তরে তীব্র লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া।
(২) পাপ কাজটি তৎক্ষণাৎ পুরোপুরি ছেড়ে দেয়া।
(৩) ভবিষ্যতে কখনোই এই পাপে পুনরায় লিপ্ত না হওয়া এবং
(৪) যদি কোন মানুষের হক সংক্রান্ত পাপ থাকে, তাহলে সেটা তাকে বুঝিয়ে দেয়া। এছাড়া পাপ ঢেকে রাখা (الستر) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আদব। কোন মানুষের কাছে, বন্ধু-বান্ধব বা আদালতের কাছে গিয়ে নিজের এই পাপের কথা বলা বা স্বীকার করা উচিত নয়। আল্লাহর গোপন পর্দায় পাপ ঢেকে রেখে নীরবে তাঁর কাছেই তওবা করতে হবে।
রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘নিজের অপরাধ প্রকাশকারী ব্যতীত আমার উম্মতের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। নিজদের অপরাধ প্রকাশ করার মানে হচ্ছে এই যে, মানুষ রাতে কোন অপরাধ জনিত কাজ করে, অতঃপর সকাল হয় আর তাঁর প্রতিপালক তা গোপন করে রাখেন। অথচ সে নিজেই বলে, হে অমুক! গতরাতে আমি এই কাজটি করেছি। অথচ রাত্রে তাঁর প্রতিপালক তাকে গোপন রেখেছেন এবং অবিরত তাঁর প্রতিপালক তা গোপন রাখছিলেন আর সে রাত যাপন করছিল। কিন্তু সকালে সে তাঁর প্রতিপালকের গোপন রাখা বিষয়টিকে প্রকাশ করে দিল’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৯০)।
এক্ষেত্রে ছালাতুত তাওবার হাদীছটি প্রণিধানযোগ্য। আবূ বকর ছিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি,
مَا مِنْ عَبْدٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا فَيُحْسِنُ الطُّهُوْرَ، ثُمَّ يَقُوْمُ فَيُصَلِّيْ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللهَ إِلَّا غَفَرَ اللهُ لَهُ
‘যে কোন বান্দা গুনাহ করার পর যদি উত্তমরূপে ওযূ করে দাঁড়ায় এবং দুই রাকা‘আত ছালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন’ (আবূ দাঊদ, হা/১৫২১; তিরমিযী, হা/৪০৬, সনদ ছহীহ)। এ প্রসঙ্গে শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘শর্ত পূরণকারী খাঁটি তাওবাহ যিনা ও অন্যান্য সকল কাবীরা গুনাহকে সম্পূর্ণ মুছে দেয়। যিনাকারীর জন্য বিচারক বা শাসকের কাছে গিয়ে পাপ স্বীকার করা ওয়াজিব নয়; বরং তার ওপর দায়িত্ব হল, আল্লাহর দেয়া পর্দায় তা গোপন রাখা এবং ক্ষমা চাওয়া’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ১৫/৩১৫ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ লিটন মিয়্শাু, সাভার, ঢাকা।