রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ন
উত্তর : যেনা ইসলামী শরী‘আতে মারাত্মক কাবীরা গুনাহ ও জঘন্য অপরাধ। তবে আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। খাঁটি তওবা করলে আল্লাহ এ পাপ ক্ষমা করে দিতে পারেন ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন,

قُلۡ یٰعِبَادِیَ  الَّذِیۡنَ  اَسۡرَفُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ  لَا تَقۡنَطُوۡا مِنۡ رَّحۡمَۃِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَغۡفِرُ الذُّنُوۡبَ جَمِیۡعًا ؕ اِنَّہٗ  ہُوَ  الۡغَفُوۡرُ  الرَّحِیۡمُ

‘(হে নবী!) আপনি বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আয যুমার : ৫৩)। নিম্নোক্ত শর্ত মেনে তওবা করতে হবে। তওবা কবুলের ৪টি মৌলিক শর্ত হল-
(১) কৃতকর্মের জন্য অন্তরে তীব্র লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া।
(২) পাপ কাজটি তৎক্ষণাৎ পুরোপুরি ছেড়ে দেয়া।
(৩) ভবিষ্যতে কখনোই এই পাপে পুনরায় লিপ্ত না হওয়া এবং
(৪) যদি কোন মানুষের হক সংক্রান্ত পাপ থাকে, তাহলে সেটা তাকে বুঝিয়ে দেয়া। এছাড়া পাপ ঢেকে রাখা (الستر) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আদব। কোন মানুষের কাছে, বন্ধু-বান্ধব বা আদালতের কাছে গিয়ে নিজের এই পাপের কথা বলা বা স্বীকার করা উচিত নয়। আল্লাহর গোপন পর্দায় পাপ ঢেকে রেখে নীরবে তাঁর কাছেই তওবা করতে হবে।

রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘নিজের অপরাধ প্রকাশকারী ব্যতীত আমার উম্মতের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। নিজদের অপরাধ প্রকাশ করার মানে হচ্ছে এই যে, মানুষ রাতে কোন অপরাধ জনিত কাজ করে, অতঃপর সকাল হয় আর তাঁর প্রতিপালক তা গোপন করে রাখেন। অথচ সে নিজেই বলে, হে অমুক! গতরাতে আমি এই কাজটি করেছি। অথচ রাত্রে তাঁর প্রতিপালক তাকে গোপন রেখেছেন এবং অবিরত তাঁর প্রতিপালক তা গোপন রাখছিলেন আর সে রাত যাপন করছিল। কিন্তু সকালে সে তাঁর প্রতিপালকের গোপন রাখা বিষয়টিকে প্রকাশ করে দিল’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৯০)।

এক্ষেত্রে ছালাতুত তাওবার হাদীছটি প্রণিধানযোগ্য। আবূ বকর ছিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি,

مَا مِنْ عَبْدٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا فَيُحْسِنُ الطُّهُوْرَ، ثُمَّ يَقُوْمُ فَيُصَلِّيْ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللهَ إِلَّا غَفَرَ اللهُ لَهُ

‘যে কোন বান্দা গুনাহ করার পর যদি উত্তমরূপে ওযূ করে দাঁড়ায় এবং দুই রাকা‘আত ছালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন’ (আবূ দাঊদ, হা/১৫২১; তিরমিযী, হা/৪০৬, সনদ ছহীহ)। এ প্রসঙ্গে শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,  ‘শর্ত পূরণকারী খাঁটি তাওবাহ যিনা ও অন্যান্য সকল কাবীরা গুনাহকে সম্পূর্ণ মুছে দেয়। যিনাকারীর জন্য বিচারক বা শাসকের কাছে গিয়ে পাপ স্বীকার করা ওয়াজিব নয়; বরং তার ওপর দায়িত্ব হল, আল্লাহর দেয়া পর্দায় তা গোপন রাখা এবং ক্ষমা চাওয়া’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ১৫/৩১৫ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ লিটন মিয়্শাু, সাভার, ঢাকা।





প্রশ্ন (২৬) : ছহীহ হাদীছ মেনে চলার কারণে কলেজের অন্যান্য ছাত্রীরা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে থাকে এবং দ্বীনের দাওয়াতকে উপহাস করে। তাদের কাছ থেকে দূরে থাকা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : জনৈক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘ঈমানকে মাখলূক বললে কাফির হবে’। এ ব্যাপারে আমাদের আক্বীদা কেমন হবে? অন্তরের বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি ও কর্মে বাস্তবায়ন এগুলো কী মাখলূক? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : শরী‘আত বিরোধী গঠনতন্ত্র ও সংবিধান সম্পর্কে ইসলামের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : নাভির নিচের পশম কোন্ জায়গা থেকে কাটতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : হানাফী মাযহাব ফলো করে বা আক্বীদাগত সমস্যা রয়েছে এমন কোন উস্তাযের থেকে তাজবীদ বিষয়ে জ্ঞান নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১): শিল্পী ও নর্তকীদের উপার্জন কি হালাল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : কুরবানীর দিন দুপুর পর্যন্ত না খেয়ে থাকা সুন্নাত। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৫) : গর্ভবতী মহিলাদের ছিয়াম অন্য কেউ করে দিতে পারবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : কোন্ ব্যক্তি ছিয়ামের ফিদইয়া দিবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : বড় মেয়ের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবক ছোট মেয়ের বিয়ে বন্ধ রাখতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন আল্লাহ তা‘আলা যমীন সৃষ্টি করলেন তখন তা দুলতে লাগল। অতঃপর পাহাড়গুলো সৃষ্টি করে সেগুলো পৃথিবীর উপর স্থীর করেন। অতঃপর পৃথিবী স্থীর হয়ে গেল। ফেরেশতাগণ পাহাড়ের এ শক্তি দেখে আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পাহাড় অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ; আর সেটা লোহা। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করল, হে প্রভু! আপনার সৃষ্টির মধ্যে লোহা অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আগুন। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আগুন অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; পানি। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পানি অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; বাতাস। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে বাতাস অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; আদম সন্তান। যে তার ডান হাতে দান করে আর দানকে বাম হাত হতে গোপন রাখে। এ ঘটনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : সুস্থ সক্ষম পিতা-মাতার জন্য বদলি ওমরাহ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ