শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন

প্রশ্নোত্তরে ইদ্দত ও শোকপালনের বিধানাবলী 

- শায়খ আব্দুল গাফফার মাদানী* 


(শেষ কিস্তি) 

প্রশ্ন : রজঈ ত্বালাক্বপ্রাপ্তা নারী ইদ্দতের মধ্যে স্বামী মারা গেলে সে কি তার স্বামীর মীরাছ পাবে?

উত্তর : হ্যাঁ, যদি কোন নারী রজঈ (প্রত্যাবর্তনযোগ্য) ত্বালাক্বের ইদ্দত পালনরত অবস্থায় থাকে এবং সেই সময় তার স্বামী মারা যায়, তাহলে সে স্বামীর ওয়ারিশ (মীরাছগ্রাহী) হবে। কারণ, রজঈ ত্বালাক্বের ইদ্দত চলাকালে স্ত্রী এখনো শরী‘আতের দৃষ্টিতে স্বামীর স্ত্রী হিসাবেই গণ্য হয়। স্বামী নতুন করে বিবাহ-চুক্তি ছাড়াই তাকে ফিরিয়ে নিতে পারে। তাই ইদ্দতের মধ্যে স্বামী মারা গেলে বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে বিদ্যমান ধরা হয় এবং স্ত্রী উত্তরাধিকার লাভ করে। ইমাম ইবনু কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, وَإِنْ مَاتَ أَحَدُهُمَا فِي عِدَّةِ الرَّجْعِيَّةِ وَرِثَهُ الْآخَرُ بِغَيْرِ خِلَافٍ نَعْلَمُهُ ‘রজঈ ত্বালাক্বের ইদ্দতের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর একজন মারা গেলে অপরজন তার উত্তরাধিকারী হবে- এ ব্যাপারে আমাদের জানা মতে কোন মতভেদ নেই’।[১] ইমাম আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, الرجعية زوجة ترث وتورث‘রজঈ ত্বালাক্বপ্রাপ্তা নারী (ইদ্দত চলাকালে) স্ত্রী হিসাবেই গণ্য; সে উত্তরাধিকার পায় এবং তার থেকেও উত্তরাধিকার গ্রহণ করা হয়’।[২] ‘আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ’-এ এসেছে, المطلقة طلاقا رجعيا ترث ما دامت في العدة ‘রজঈ ত্বালাক্বপ্রাপ্তা স্ত্রী ইদ্দতের মধ্যে থাকা পর্যন্ত উত্তরাধিকারী হবে’।[৩] উক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, রজঈ ত্বালাক্বপ্রাপ্তা নারীর স্বামী যদি তার ইদ্দত চলাকালে মারা যায়, তাহলে সে স্বামীর মীরাছ পাবে। ত্বালাক্বের ইদ্দত বাতিল হয়ে যাবে। তাকে মৃত্যুর ইদ্দত (চার মাস দশ দিন) পালন করতে হবে।

প্রশ্ন : একজন ব্যক্তির সঙ্গে একজন নারীর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের (সহবাসের) আগেই স্বামী তাকে ত্বালাক্ব দিয়েছে। এ অবস্থায় কি ঐ নারীর জন্য ইদ্দত পালন করা আবশ্যক?

উত্তর : না, যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস না হয়ে থাকে এবং এমন কোন নির্জন অবস্থান (খালওয়াতে ছহীহা)ও না ঘটে থাকে, যার দ্বারা ইদ্দত ও পূর্ণ মোহর আবশ্যক হয়, তাহলে ত্বালাক্বের পর ঐ নারীর উপর কোন ইদ্দত নেই। সে ত্বালাক্বের পরপরই অন্যত্র বিবাহ করতে পারবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نَکَحۡتُمُ الۡمُؤۡمِنٰتِ ثُمَّ طَلَّقۡتُمُوۡہُنَّ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ تَمَسُّوۡہُنَّ فَمَا لَکُمۡ عَلَیۡہِنَّ مِنۡ عِدَّۃٍ تَعۡتَدُّوۡنَہَا

‘হে মুমিনগণ! তোমরা যখন মুমিন নারীদের বিবাহ কর, অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ (সহবাস) করার পূর্বে ত্বালাক্ব দাও, তখন তাদের ওপর তোমাদের জন্য গণনা করার মত কোন ইদ্দত নেই’ (সূরা আল-আহযাব : ৪৯)। ইবনু কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, أجمع أهل العلم على أن غير المدخول بها لا عدة عليها إذا طلقت ‘আলেমগণ এ বিষয়ে একমত যে, যে নারীর সঙ্গে সহবাস করা হয়নি, তাকে ত্বালাক্ব দিলে তার কোন ইদ্দত নেই’।[৪] ‘আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ আল-কুয়াইতিয়্যাহ’ গ্রন্থে এসেছে, اتفق الفقهاء على أن المطلقة قبل الدخول لا عدة عليها ‘ফক্বীহগণ একমত যে, সহবাসের পূর্বে ত্বালাক্বপ্রাপ্তা নারীর কোন ইদ্দত নেই’।[৫] সুতরাং সহবাসের পূর্বে ত্বালাক্বপ্রাপ্তা নারীর ওপর কোন ইদ্দত নেই; সে সঙ্গে সঙ্গে অন্যত্র বিবাহ করতে পারবে।

প্রশ্ন : একজন নারীর সঙ্গে একজন পুরুষের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস হওয়ার আগেই স্বামী মারা গেছে। এমতাবস্থায় কি ঐ নারীর উপর ইদ্দত পালন করা আবশ্যক?

উত্তর : হ্যাঁ, যদি কোন নারীর সঙ্গে বৈধ নিকাহ সম্পন্ন হওয়ার পর সহবাসের পূর্বেই স্বামী মারা যায়, তাহলে তার ওপর মৃত্যুর ইদ্দত (চার মাস দশ দিন) পালন করা আবশ্যক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  وَ الَّذِیۡنَ یُتَوَفَّوۡنَ مِنۡکُمۡ وَ یَذَرُوۡنَ اَزۡوَاجًا یَّتَرَبَّصۡنَ بِاَنۡفُسِہِنَّ اَرۡبَعَۃَ اَشۡہُرٍ وَّ عَشۡرًا ‘তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রী রেখে যায়, তাদের স্ত্রীরা নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় রাখবে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৩৪)। এ আয়াতে সকল স্ত্রী অন্তর্ভুক্ত, সহবাস হয়েছে কি-না, তা শর্ত নয়। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে,

أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ مَسْعُوْدٍ، أُتِيَ فِيْ رَجُلٍ بِهَذَا الْخَبَرِ، قَالَ: فَاخْتَلَفُوْا إِلَيْهِ، شَهْرًا - أَوْ قَالَ: مَرَّاتٍ، قَالَ: فَإِنِّيْ أَقُوْلُ فِيْهَا إِنَّ لَهَا صَدَاقًا كَصَدَاقِ نِسَائِهَا، لَا وَكْسَ، وَلَا شَطَطَ، وَإِنَّ لَهَا الْمِيْرَاثَ وَعَلَيْهَا الْعِدَّةُ، فَإِنْ يَكُ صَوَابًا، فَمِنَ اللهِ وَإِنْ يَكُنْ خَطَأ فَمِنِّي وَمِنَ الشَّيْطَانِ، وَاللهُ وَرَسُوْلُهُ بَرِيْئَانِ، فَقَامَ نَاسٌ مِنْ أَشْجَعَ فِيْهِمُ الْجَرَّاحُ، وَأَبُوْ سِنَانٍ، فَقَالُوْا: يَا ابْنَ مَسْعُوْدٍ نَحْنُ نَشْهَدُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَضَاهَا فِيْنَا فِيْ بِرْوَعَ بِنْتِ وَاشِقٍ وَإِنَّ زَوْجَهَا هِلَالُ بْنُ مُرَّةَ الْأَشْجَعِيُّ كَمَا قَضَيْتَ قَالَ: فَفَرِحَ عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُوْدٍ فَرَحًا شَدِيْدًا حِيْنَ وَافَقَ قَضَاؤُهُ قَضَاءَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ

আব্দুল্লাহ ইবনু উতবাহ ইবনু মাসঊদ (রাহিমাহুল্লাহ) সূত্রে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট এক ব্যক্তি পূর্বোক্ত হাদীছের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা এ বিষয়ে এক মাস ধরে বা অনেকবার মতভেদ করেন। অতঃপর ইবনু মাসঊদ বললেন, ঐ নারীর ব্যাপারে আমার বক্তব্য হচ্ছে, সে তার বংশের নারীর সমপরিমাণ মোহর পাবে, এতে কমবেশি করবে না, সে মীরাছের অংশও পাবে এবং তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে। এ হল আমার অভিমত, এটা নির্ভুল হলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আর ভুল হলে তা আমার ও শয়তানের পক্ষ থেকে। তবে এ ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সম্পূর্ণ নির্দোষ। অতঃপর আশজা’ গোত্রের আল-জাররাহ ও আবূ সিনান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-সহ কতিপয় লোক দাঁড়িয়ে বললেন, হে ইবনু মাসঊদ! আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, উতবাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের মাঝে হেলাল ইবনু মুররার স্ত্রী বিরওয়াআ’ বিনতু ওয়াশিকের ব্যাপারে অনুরূপ ফৎওয়া দিয়েছিলেন যেরূপ আপনি দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন দেখলেন যে, তার ফৎওয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ফৎয়ার অনুরূপ, তখন তিনি খুবই খুশি হলেন।[৬] উল্লেখিত আয়াত এবং হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নতুন বিবাহের পরে সহবাস করার পূর্বেই স্বামী মারা গেলে স্ত্রী ইদ্দত পালন করবেন।

প্রশ্ন : এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ত্বালাক্বে বায়েন বা চূড়ান্ত/অপ্রত্যাবর্তনযোগ্য ত্বালাক্ব দিল। এরপর স্ত্রীর ত্বালাক্বের ইদ্দত চলাকালীন স্বামী মারা গেল। এমতাবস্থায় স্ত্রী কী করবে? সে কি ত্বালাক্বের ইদ্দতই পূর্ণ করবে, না-কি মৃত্যুর ইদ্দত (চার মাস দশ দিন) পালন করবে?

উত্তর : যদি ত্বালাক্বটি বায়েন হয়ে থাকে, তাহলে অধিকাংশ ফক্বীহের মতে স্ত্রী ত্বালাক্বের ইদ্দতই পূর্ণ করবে, মৃত্যুর কারণে নতুন করে চার মাস দশ দিনের ইদ্দত শুরু করবে না। কারণ বায়েন ত্বালাক্বের মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে; ফলে সে মৃত্যুকালে শারঈ অর্থে স্ত্রী হিসাবে গণ্য হয় না। আল্লাহ তা‘আলা ত্বালাক্বপ্রাপ্তা নারীদের সম্পর্কে বলেন, وَ الۡمُطَلَّقٰتُ یَتَرَبَّصۡنَ بِاَنۡفُسِہِنَّ ثَلٰثَۃَ قُرُوۡٓءٍ ‘ত্বালাক্বপ্রাপ্তা নারীরা নিজেদেরকে তিন কুরূ (হায়েয/পবিত্রতা) পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখবে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২২৮)। বায়েন ত্বালাক্বপ্রাপ্তা নারী এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। তাই তার ইদ্দত ত্বালাক্বের ইদ্দত হিসাবেই চলতে থাকবে। ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, وَإِنْ كَانَتْ بَائِنًا فَمَاتَ زَوْجُهَا فِي عِدَّتِهَا، أَتَمَّتْ عِدَّةَ الطَّلَاقِ ‘যদি নারী বায়েন ত্বালাক্বপ্রাপ্তা হয় এবং তার ইদ্দত চলাকালে স্বামী মারা যায়, তবে সে ত্বালাক্বের ইদ্দতই পূর্ণ করবে’।[৭] তবে লক্ষণীয় যে, হানাফী, মালিকী, শাফেঈ ও হাম্বালী মাযহাবের মধ্যে এই মাসআলার কিছু বিস্তারিত পার্থক্য আছে, বিশেষত মৃত্যুশয্যার রোগ অবস্থায় দেয়া বায়েন ত্বালাক্বের ক্ষেত্রে। তাই ফৎওয়া দেয়ার সময় ঘটনাটির পূর্ণ বিবরণ জানা যরূরী।

প্রশ্ন : স্বামীর মৃত্যুর পর একজন দাসী নারীর পালনীয় ইদ্দতের মেয়াদ কত?

উত্তর : স্বামীর মৃত্যুর পর দাসী (أمة) -এর ইদ্দত সম্পর্কে ফক্বীহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। জুমহূর ফক্বীহ (হানাফী, শাফেঈ, হাম্বালী)-এর মতে, দাসীর মৃত্যুর ইদ্দত হল দুই মাস পাঁচ দিন। অর্থাৎ স্বাধীন নারীর (চার মাস দশ দিন) ইদ্দতের অর্ধেক। ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, عدة الأمة المتوفى عنها زوجها شهران وخمس ليال ‘স্বামী-মৃত দাসীর ইদ্দত দুই মাস ও পাঁচ রাত’।[৮] ফক্বীহগণ ক্বিয়াস করেছেন যে, দাসীর বিধান সাধারণত স্বাধীন নারীর অর্ধেক হয়; যেমন ত্বালাক্ব ও কিছু অন্যান্য আহকামে। তাই মৃত্যুর ইদ্দতও অর্ধেক হবে। তবে মালিকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হল, দাসী ও স্বাধীন নারী উভয়ের মৃত্যুর ইদ্দত চার মাস দশ দিন, কারণ কুরআনের আয়াতটি সকল স্ত্রীর জন্য সাধারণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  وَ الَّذِیۡنَ یُتَوَفَّوۡنَ مِنۡکُمۡ وَ یَذَرُوۡنَ اَزۡوَاجًا یَّتَرَبَّصۡنَ بِاَنۡفُسِہِنَّ اَرۡبَعَۃَ اَشۡہُرٍ وَّ عَشۡرًا ‘তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রী রেখে যায়, তাদের স্ত্রীরা নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় রাখবে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৩৪)। স্বামী-মৃত দাসীর ইদ্দত সম্পর্কে জুমহুর ফক্বীহের মত হল- দুই মাস পাঁচ দিন। তবে মালিকী মাযহাবে চার মাস দশ দিন। গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসবের মাধ্যমে ইদ্দত শেষ হবে।

প্রশ্ন : উম্মু ওয়ালাদ অর্থাৎ যে দাসী তার মালিকের সন্তান জন্ম দিয়েছে, তার মালিক মারা গেলে তার ইদ্দত কত?

উত্তর : উম্মু ওয়ালাদ অর্থাৎ যে দাসী তার মালিকের সন্তান জন্ম দিয়েছে তার মালিক মারা গেলে তার ইদ্দত হল- ৪ মাস ১০ দিন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  وَ الَّذِیۡنَ یُتَوَفَّوۡنَ مِنۡکُمۡ وَ یَذَرُوۡنَ اَزۡوَاجًا یَّتَرَبَّصۡنَ بِاَنۡفُسِہِنَّ اَرۡبَعَۃَ اَشۡہُرٍ وَّ عَشۡرًا ‘তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রী রেখে যায়, তাদের স্ত্রীরা নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় রাখবে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৩৪)।  উম্মু ওয়ালাদকে এখানে ‘স্ত্রী’ বলা না হলেও, মৃত্যুর কারণে ইদ্দতের ক্ষেত্রে তাকে বিধবার হুকুমে গণ্য করা হয়, তাই এই আয়াতের বিধান তার উপর প্রযোজ্য। ইবনু উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, উম্মু ওয়ালাদ তার মালিক মারা গেলে মুক্ত হওয়ার পূর্বে ইদ্দত পালন করবে, এবং তা হলো বিধবার ইদ্দতের মত। ফিক্বহবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ছাহাবীদের আমল ও ইজমা দ্বারা এটি প্রতিষ্ঠিত।



* শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, রাজশাহী।

তথ্যসূত্র :
[১]. আল-মাজমূ‘ শারহুল মুহাযযাব, ৮/৪১৪ পৃ.।
[২]. রওযাতুত তালিবীন, ৮/৩৯৯ পৃ.।
[৩]. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, ১/৫২৮ পৃ.।
[৪]. আল-মুগনী, ১১/৩০৩, দারু আলামিল কুতুব সংস্করণ।
[৫]. আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ আল-কুয়াইতিয়্যাহ, ২৯/৩০৭ পৃ.।
[৬]. আবুদাঊদ, হা/২১১৬; তিরমিযী, হা/১১৪৫; নাসাঈ, হা/৩৫২৯; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৯১, সনদ ছহীহ।
[৭]. আল-মুগনী, কিতাবুত ত্বালাক্ব।
[৮]. আল-মুগনী, কিতাবুল ইদাদ।




প্রশ্নোত্তরে মুসলিম নারীদের ইসলাম শিক্ষা (৫ম কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (শেষ কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য (শেষ কিস্তি) - তামান্না তাসনীম
প্রশ্নোত্তরে নারীদের ছালাত শিক্ষা - আব্দুল গাফফার মাদানী
প্রশ্নোত্তরে মুসলিম নারীদের ইসলাম শিক্ষা (৪র্থ কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় নারী সমাজের ভূমিকা - আল-ইখলাছ ডেস্ক
ইসলামিক প্যারেন্টিং (২য় কিস্তি) - তিনা খান
ইসলামিক প্যারেন্টিং (৮ম কিস্তি) - তিনা খান
প্রশ্নোত্তরে মুসলিম নারীদের ইসলাম শিক্ষা (৩য় কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
ইসলামিক প্যারেন্টিং (৪র্থ কিস্তি) - তিনা খান
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (৯ম কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
ইসলামিক প্যারেন্টিং (৩য় কিস্তি) - তিনা খান

ফেসবুক পেজ