সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন

 রাফেযী শী‘আদের বিভ্রান্তি: মুসলিম উম্মাহর জন্য বিষফোঁড়া 

-ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান 


ভূমিকা 

মুসলিম বিশ্বের বহু মানুষ এমনকি একশ্রেণির আলিম ও বুদ্ধিজীবীও শী‘আ সম্প্রদায়ের বিভ্রান্তির শিকারে পরিণত হয়েছে। ফলে তাদের প্রকৃত অবস্থা এবং তাদের বিশ্বাসগত বিচ্যুতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। স্মর্তব্য, রাফেযী শী‘আরা উম্মাহর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দলগুলোর অন্যতম; বিশেষত বর্তমান যুগে তারা সাধারণ মানুষকে নিজেদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নতুন নতুন কৌশল ও পদ্ধতি অবলম্বন করছে। এ কারণেই এই প্রবন্ধটি রচিত হয়েছে। এতে সালাফ ও খালাফ উভয় যুগের নির্ভরযোগ্য আলিমদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হবে। তাদের জ্ঞানচর্চার ধারা ও মতপ্রকাশের ভিন্নতা সত্ত্বেও শী‘আ রাফেযী সম্প্রদায় সম্পর্কে তাদের মূল্যবান মন্তব্য ও সতর্কবাণী উপস্থাপন করা হবে, যাতে মুসলিমরা এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে পারে এবং তাদের সেই অসৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন হয়, যার লক্ষ্য মুসলিমদেরকে তাদের দ্বীন ও আক্বীদা থেকে বিচ্যুত করা।

শী‘আ মতবাদের আবির্ভাব কখন?

আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর যুগেই ইসলাম ধর্ম পূর্ণতা লাভ করেছে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, اَلۡیَوۡمَ اَکۡمَلۡتُ لَکُمۡ دِیۡنَکُمۡ ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ৩)। অতএব, শী‘আ মতবাদ পরবর্তীকালে আবির্ভূত একটি বিদ‘আত। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনু হাযম আল-আন্দালুসী (৩৮৪-৪৫৬ হি./৯৯৫-১০৬৩ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

إِن الروافض لَيْسُوا من الْمُسلمين إِنَّمَا هِيَ فرق حدث أَولهَا بعد موت النَّبِي ﷺ بِخمْس وَعشْرين سنة

‘রাফেযীরা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তারা এমন কিছু দল, যাদের প্রথম আবির্ভাব রাসূল (ﷺ)-এর ইন্তিকালের প্রায় পঁচিশ বছর পরে ঘটেছে’।[১] এজন্য অন্যত্র ইবনু হাযম (রাহিমাহুল্লাহ) আরো বলেন, إِنَّ الرَّوَافِضَ لَيْسُوْا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ، وَهِيَ تَجْرِي مَجْرَى الْيَهُوْدِ وَالنَّصَارَى فِي الْكَذِبِ وَالْكُفْرِ ‘নিশ্চয় রাফিযারা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত নয়। মিথ্যাচার ও কুফরের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান ইহুদী ও খ্রিস্টানদের ন্যায়’।[২]

তাদের ‘রাফেযি’ বলা হয় কেন?

প্রথম দুই খলীফা, আবূ বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ইমামত বা খিলাফত প্রত্যাখ্যান করার কারণে তাদের ‘রাফেযি’ নামকরণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইমাম আবুল হাসান আল-আশ‘আরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, وَإِنَّمَا سُمُّوا رَافِضَةً؛ لِرَفْضِهِمْ إِمَامَةَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ ‘তাদের ‘রাফেযি’ বলা হয়েছে, কারণ তারা আবু বকর ও উমরের ইমামত প্রত্যাখ্যান করেছে’।[৩] এ বিষয়ে অপর একটি মত উল্লেখ করেছেন হাফিয ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনি বলেন,

رُوِينَا أَنَّ الشِّيْعَةَ طَالَبَتْ زَيْدَ بْنَ عَلِيٍّ بِالتَّبَرِّي مِمَّنْ خَالَفَ عَلِيًّا فِيْ إِمَامَتِهِ، فَامْتَنَعَ مِنْ ذٰلِكَ، فَرَفَضُوْهُ، فَسُمُّوا الرَّافِضَةَ.

‘আমাদের কাছে বর্ণিত হয়েছে যে, একদল শী‘আ যায়েদ ইবন আলীকে (রাহিমাহুল্লাহ) দাবি জানায়, তিনি যেন আলীর ইমামতের বিরোধিতাকারীদের থেকে প্রকাশ্যে সম্পর্কচ্ছেদ (বারাআত) ঘোষণা করেন। কিন্তু তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে তারা তাঁকে পরিত্যাগ করে। এ কারণেই তাদের ‘রাফেযি’ (প্রত্যাখ্যানকারী) বলা হয়’।[৪]

রাফেযিদের সঙ্গে খারিজী ও মুরজিয়াদের সাদৃশ্য

আক্বীদাগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাফেযিদের সঙ্গে খারিজীদের যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। কারণ, উভয় দলই আহলুস সুন্নাহকে কাফির হিসাবে গণ্য করে। রাফেযিরা তাদের ভ্রান্ত ‘ইমামত’-সংক্রান্ত আক্বীদার ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ একমত না হওয়ার কারণে তাদেরকে কাফির সাব্যস্ত করে। কাযী আবদুল জাব্বার আল-মু‘তাযিলী বলেন,

وَأَمَّا الْإِمَامِيَّةُ، فَقَدْ ذَهَبَتْ إِلَى أَنَّ الطَّرِيْقَ إِلَى إِمَامَةِ الِاثْنَيْ عَشَرَ النَّصُّ الْجَلِيُّ، الَّذِيْ يَكْفُرُ مَنْ أَنْكَرَهُ، وَيَجِبُ تَكْفِيْرُهُ؛ فَكَفَّرُوْا لِذَلِكَ صَحَابَةَ النَّبِيِّ ﷺ

‘ইমামিয়্যাহ (ইছনা আশারিয়্যাহ) সম্প্রদায়ের মতে, বারো ইমামের ইমামত প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হল সুস্পষ্ট (জালী) নছ বা শারঈ ঘোষণাপত্র। যে ব্যক্তি এ নছ অস্বীকার করবে, সে কাফির হবে এবং তাকে কাফির সাব্যস্ত করা অপরিহার্য। এ কারণেই তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ছাহাবীগণকে কাফির ঘোষণা করেছে’।[৫]

এত চরমপন্থী হওয়া সত্ত্বেও তাদের আক্বীদায় আবার প্রকাশ্য ‘ইরজা’ (মুরজিয়াদের মতবাদ) বিদ্যমান। শাইখ নাসির আল-ক্বাফারী বলেন,

أَصْبَحَتْ مَعْرِفَةُ الْأَئِمَّةِ عِنْدَهُمْ كَافِيَةً فِي الْإِيمَانِ وَدُخُولِ الْجِنَانِ، فَأَخَذُوا بِمَذْهَبِ الْمُرْجِئَةِ رَأْسًا

‘তাদের মতে, ইমামদের পরিচয় ও স্বীকৃতি লাভই ঈমান এবং জান্নাতে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট। ফলে তারা সরাসরি মুরজিয়াদের মতবাদই গ্রহণ করেছে’।[৬] শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, وَكَثِيْرٌ مِنْ هَؤُلَاءِ يَقُوْلُ حُبُّ عَلِيٍّ حَسَنَةٌ لَا يَضُرُّ مَعَهَا سَيِّئَةٌ ‘এদের (শী‘আদের) অনেকেই বলে, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি ভালোবাসা এমন একটি নেক আমল, যার সঙ্গে কোন গুনাহ ক্ষতি করতে পারে না’।[৭] অতএব, তারা পথভ্রষ্ট বিভিন্ন দলের সকল অনিষ্টকর বৈশিষ্ট্য নিজেদের মধ্যে একত্র করেছে।

শী‘আদের বিভ্রান্তি

১. কুরআন বিকৃত (তাহরীফ) হয়েছে

রাফেযিদের সম্পর্কে কুরআনুল কারীম বিকৃত (তাহরীফ) হওয়ার বিশ্বাস সুপরিচিত। যদিও তাদের একটি অংশ এ বিশ্বাস অস্বীকার করে, তথাপি তাদের একদল বিশিষ্ট আলেমের বক্তব্যে এ মতের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ: তাদের নিকট ‘ছিকাতুল ইসলাম’ (বিশ্বস্ত ইসলামী আলেম) হিসাবে পরিচিত আল-কুলাইনী তাঁর ‘আল-কাফী’ গ্রন্থে একটি অধ্যায়ের শিরোনাম দিয়েছেন, بَابُ أَنَّهُ لَمْ يَجْمَعِ الْقُرْآنَ كُلَّهُ إِلَّا الْأَئِمَّةُ ‘অধ্যায়: ইমামগণ ছাড়া আর কেউ সম্পূর্ণ কুরআন সংগ্রহ করেননি’।[৮] আরেকটি অধ্যায়ের শিরোনাম দিয়েছেন, بَابٌ فِيهِ الصَّحِيفَةُ وَالْجَفْرُ وَالْجَامِعَةُ وَمُصْحَفُ فَاطِمَةَ ‘অধ্যায়: ছহীফা, জাফর, জামে‘আ এবং মুছহাফে ফাতিমা সম্পর্কে’।[৯] এই দুই অধ্যায়েই কুরআন বিকৃত হওয়ার দাবির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। কারণ, সেখানে তিনি তাদের ইমামদের সূত্রে একাধিক বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, যাতে বলা হয়েছে যে, ‘মুছহাফে ফাতিমা’-তে ১৭,০০০ আয়াত রয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে প্রচলিত কুরআনের প্রায় তিন গুণ। আরও বলা হয়েছে যে, ছাহাবীদের মধ্যে একমাত্র আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সম্পূর্ণ কুরআন সংকলন করেছিলেন এবং তাঁর পর মনোনীত উত্তরাধিকারী (আওসিয়া) ছাড়া আর কারও কাছে পূর্ণাঙ্গ কুরআন নেই।[১০]

এছাড়া, তারা প্রায়ই বিকৃত রূপে উপস্থাপিত কিছু আয়াত উদ্ধৃত করে দাবি করে যে, সেগুলো কুরআন থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। আন-নূরী আত-তাবারসী فَصْلُ الْخِطَابِ فِيْ إِثْبَاتِ تَحْرِيْفِ كِتَابِ رَبِّ الْأَرْبَابِ ‘প্রভুদের প্রভুর কিতাব বিকৃত হওয়া প্রমাণে চূড়ান্ত বক্তব্য’ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এর বিভিন্ন অধ্যায়ের মধ্যে রয়েছে, فِيْ بَيَانِ أَنَّ الْقُرْآنَ الْمَوْجُوْدَ فِيْمَا بَيْنَ أَظْهُرِنَا لَمْ يَكُنْ مُرَتَّبًا كَذَلِكَ فِيْ زَمَنِ النَّبِيِّ ﷺ ‘আমাদের হাতে বিদ্যমান কুরআনের বিন্যাস নবী (ﷺ)-এর যুগের বিন্যাসের অনুরূপ ছিল না’-এর ব্যাখ্যা।[১১] আরো বর্ণিত হয়েছে, وُقُوْعُ التَّغْيِيْرِ وَالنَّقْصِ فِيْهِ ‘কুরআনে পরিবর্তন ও ঘাটতি সংঘটিত হওয়া’।[১২] আরো বলা হয়েছে যে, شُبُهَاتُ الْقَائِلِيْنَ بِعَدَمِ تَحْرِيْفِ الْقُرْآنِ ‘যারা কুরআনের তাহরীফ অস্বীকার করে, তাদের সন্দেহসমূহ’।[১৩] এসব শিরোনামের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য এবং এর অধীনে বর্ণিত বিস্তারিত আলোচনা ও অসংখ্য বর্ণনা স্পষ্টভাবেই লেখকের অভিপ্রায় প্রকাশ করে; যার সবিস্তারে আলোচনা এখানে সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে তাদের নিকট ‘আল্লামা’, ‘হুজ্জাত’ উপাধিপ্রাপ্ত সাইয়্যিদ আদনান আল-বাহরানী তাঁর ‘মাশারিকুশ শুমূস আদ-দুররিয়্যাহ’ গ্রন্থে, কুরআন বিকৃত হওয়ার পক্ষে বিভিন্ন বর্ণনা উদ্ধৃত করার পর বলেন,

الْأَخْبَارُ الَّتِيْ لَا تُحْصَى كَثْرَةً، وَقَدْ تَجَاوَزَتْ حَدَّ التَّوَاتُرِ، وَلَا فِيْ نَقْلِهَا كَثِيْرُ فَائِدَةٍ بَعْدَ شُيُوْعِ الْقَوْلِ بِالتَّحْرِيْفِ وَالتَّغْيِيْرِ بَيْنَ الْفَرِيقَيْنِ، وَكَوْنِهِ مِنَ الْمُسَلَّمَاتِ عِنْدَ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِيْنَ، بَلْ وَإِجْمَاعِ الْفِرْقَةِ الْمُحِقَّةِ، وَكَوْنِهِ مِنْ ضَرُوْرِيَّاتِ مَذْهَبِهِمْ، وَبِهِ تَضَافَرَتْ أَخْبَارُهُمْ

‘এ বিষয়ে বর্ণনাসমূহ এত অধিক যে, তা গণনাতীত; বরং তা তাওয়াতুরের পর্যায় অতিক্রম করেছে। এগুলো উদ্ধৃত করে দীর্ঘ আলোচনা করারও বিশেষ প্রয়োজন নেই; কারণ, কুরআনের তাহরীফ ও পরিবর্তনের বিশ্বাস উভয় দলের (শী‘আ ও সুন্নিদের দাবি মতে) মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এটি ছাহাবী ও তাবেঈদের নিকটও স্বীকৃত বিষয় ছিল বলে তিনি দাবি করেন; বরং সত্যপন্থী (তার ভাষায় শী‘আ) সম্প্রদায়ের সর্বসম্মত আক্বীদা এবং তাদে  মাযহাবের অপরিহার্য বিশ্বাসসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তাদের বর্ণনাগুলোও এ বিষয়ে পরস্পরকে শক্তিশালী করেছে’।[১৪]

অন্যদিকে আহলুস সুন্নাহর আলেমগণ সর্বসম্মতিক্রমে বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন অথবা এর কোন অংশ অস্বীকার করবে, সে কাফির। ইমাম ইবনু কুদামাহ আল-মাকদিসী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

وَلَا خِلَافَ بَيْنَ الْمُسْلِمِيْنَ أَجْمَعِيْنَ أَنَّ مَنْ جَحَدَ آيَةً أَوْ كَلِمَةً مُتَّفَقًا عَلَيْهَا أَوْ حَرْفًا مُتَّفَقًا عَلَيْهِ أَنَّهُ كَافِرٌ

‘সমস্ত মুসলিমের মধ্যে এ বিষয়ে কোন মতভেদ নেই যে, যে ব্যক্তি কুরআনের এমন কোন আয়াত, শব্দ বা অক্ষর অস্বীকার করবে, যার কুরআনের অংশ হওয়া সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিষ্ঠিত, তাহলে সে কাফির’।[১৫] ইমাম ইবনু আব্দুল বার্র (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

وَأَجْمَعَ الْعُلَمَاءُ أَنَّ مَا فِيْ مُصْحَفِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ وَهُوَ الَّذِي بِأَيْدِي الْمُسْلِمِيْنَ الْيَوْمَ فِيْ أَقْطَارِ الْأَرْضِ حَيْثُ كَانُوْا هُوَ الْقُرْآنُ الْمَحْفُوْظُ الَّذِيْ لَا يَجُوْزُ لِأَحَدٍ أَنْ يَتَجَاوَزَهُ وَلَا تَحِلُّ الصَّلَاةُ لِمُسْلِمٍ إِلَّا بِمَا فِيْهِ... وَإِنَّمَا حَلَّ مُصْحَفُ عُثْمَانَ য هَذَا الْمَحَلَّ لِإِجْمَاعِ الصَّحَابَةِ وَسَائِرِ الْأُمَّةِ عَلَيْهِ وَلَمْ يُجْمِعُوْا عَلَى مَا سِوَاهُ... وَيُبَيِّنُ لَكَ هَذَا أَنَّ مَنْ دَفَعَ شَيْئًا مِمَّا فِيْ مُصْحَفِ عُثْمَانَ كَفَرَ

‘আলেমগণ সর্বসম্মত যে, উছমান ইবনু আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সংকলিত মুছহাফ যেটি আজ পৃথিবীর সর্বত্র মুসলিমদের হাতে বিদ্যমান সেটিই সংরক্ষিত কুরআন। এর সীমা অতিক্রম করা কারও জন্য বৈধ নয়। একজন মুসলিমের ছালাত ও এতে যা রয়েছে তা ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা ছহীহ হবে না... উছমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই মুছহাফ এ মর্যাদা লাভ করেছে ছাহাবায়ে কেরাম এবং সমগ্র উম্মাহর সর্বসম্মত ঐকমত্যের ভিত্তিতে। এর বাইরে অন্য কোন সংকলনের ওপর তারা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করেননি... এ কথাও এর প্রমাণ যে, যে ব্যক্তি উছমানী মুছহাফে বিদ্যমান কোন বিষয় অস্বীকার করবে, সে কাফির হয়ে যাবে’।[১৬]

শী‘আরা কি ইহুদীদের তুলনায় আমাদের বেশি নিকটবর্তী? শত্রুদের বিরুদ্ধে কি তাদের সঙ্গে জোট করা যেতে পারে?

এ ধরনের বক্তব্য সঠিক নয়। শী‘আদের ইতিহাস ইসলামের শত্রুদের অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রু উভয়ের সঙ্গে সহযোগিতার বহু ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) ছাহাবায়ে কেরাম ও রাফেযি শী‘আদের কার্যক্রমের তুলনা করতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা উভয় পক্ষের (দুই দলের) কার্যক্রম ও ঐতিহাসিক নিদর্শন পর্যালোচনা করে দেখেছি যে, সেগুলোই তাদের মধ্যে কারা সত্যের ওপর রয়েছে, তা নির্দেশ করে। আমরা দেখেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ছাহাবীগণ কুফরের দেশসমূহ বিজয় করেছিলেন এবং সেগুলোকে ইসলামের ভূখণ্ডে পরিণত করেছিলেন। তাঁরা কুরআন, ইলম ও হিদায়াতের মাধ্যমে মানুষের অন্তরসমূহও উন্মুক্ত করেছিলেন। অতএব তাঁদের কর্ম ও কীর্তিই সাক্ষ্য দেয় যে, তাঁরাই সরল-সঠিক পথের অনুসারী। অপরদিকে আমরা রাফেযিদের প্রত্যেক যুগে ও প্রত্যেক স্থানে এর সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থায় দেখতে পাই। কারণ, মুসলিমদের বিরুদ্ধে যখনই তাদের (রাফেযিদের) বাইরে থেকে কোন শত্রু দাঁড়িয়েছে, তখনই তারা ইসলামের বিরুদ্ধে সেই শত্রুদের সহায়ক হয়েছে। তারা ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর কত বিপর্যয়ই না ডেকে এনেছে! মূর্তিপূজক বাহিনী যেমন হুলাগু এবং তার অধীনস্থ তাতারদের সেনাদলÑ তাদের তরবারীর মাধ্যমে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল, তা কি তাদের (রাফেযিদের) সহযোগিতা ও পরিকল্পনা ছাড়া সম্ভব হয়েছিল? মসজিদসমূহ অচল হয়ে যাওয়া, কুরআনের মুছহাফসমূহ পুড়িয়ে ফেলা, মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ, আলিমগণ, ইবাদতগুজার ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের খলীফাকে হত্যা করা-এসব কি তাদের কারণেই এবং তাদের সহযোগিতার ফলেই সংঘটিত হয়নি? মুশরিক ও খ্রিস্টানদের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা বিশেষ ও সাধারণ উভয় শ্রেণির মানুষের কাছেই সুপরিচিত। আর দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদের রেখে যাওয়া প্রভাব ও কর্মকাণ্ডও সুবিদিত’।[১৭]

সুধী পাঠক! আজও তাদের এ নীতির পরিবর্তন হয়নি; বাস্তবতাই এর সাক্ষ্য বহন করে। উদাহরণস্বরূপ, ইরান আমেরিকাকে ‘বৃহত্তম শয়তান’ বলে আখ্যায়িত করলেও, ইরাক ও আফগানিস্তানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। যারা নবী-রাসূলগণের পর মানবজাতির সর্বোত্তম ব্যক্তিবর্গ ছাহাবায়ে কিরামের সমালোচনা ও নিন্দা করেছে, তাদের কাছ থেকে কল্যাণের আশা কীভাবে করা যেতে পারে? ইমাম আবু বকর ইবনুল আরাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

مَا رَضِيَتِ النَّصَارَى وَالْيَهُوْدُ فِيْ أَصْحَابِ مُوْسَى وَعِيْسَى مَا رَضِيَتِ الرَّوَافِضُ فِيْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ ﷺ، حِيْنَ حَكَمُوْا عَلَيْهِمْ بِأَنَّهُمْ قَدِ اتَّفَقُوْا عَلَى الْكُفْرِ وَالْبَاطِلِ. فَمَا يُرْجَى مِنْ هَؤُلَاءِ، وَمَا يُسْتَبْقَى مِنْهُمْ؟

‘ইহুদী ও খ্রিস্টানরা মূসা ও ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ছাহাবীদের সম্পর্কে যতটা বলেনি, রাফেযিরা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর ছাহাবীদের সম্পর্কে তার চেয়েও কঠোর কথা বলেছে। তারা রায় দিয়েছে যে, ছাহাবীগণ সম্মিলিতভাবে কুফর ও বাতিলের ওপর একমত হয়েছিলেন। অতএব, এদের কাছ থেকে কী কল্যাণের আশা করা যায়, আর কী-ই বা তাদের থেকে অবশিষ্ট রাখা যায়?’[১৮]

তারা কি আহলে বাইতের সকল সদস্যের প্রতিই আনুগত্য পোষণ করে?

উত্তর : না। মাহমূদ শুকরী আল-আলূসী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

الرَّوَافِضُ يُنْكِرُوْنَ نَسَبَ بَعْضِ الْعِتْرَةِ، كَرُقَيَّةَ وَأُمِّ كُلْثُوْمٍ ابْنَتَي رَسُوْلِ اللهِ ﷺ، وَلَا يَعُدُّوْنَ بَعْضَهُمْ دَاخِلًا فِيْهَا

‘রাফেযি শী‘আরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুই কন্যা রুকাইয়্যা ও উম্মে কুলসুম (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বংশপরিচয়ই অস্বীকার করে এবং আহলে বাইতের কিছু সদস্যকেও আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করে না’।[১৯] এছাড়াও সুপরিচিত যে, আহলে বাইতের প্রতি তাদের আনুগত্যের দাবি মূলত নিছক ও অসত্য। কারণ, আহলে বাইতের পবিত্র ইমামগণ কখনোই দুই বিখ্যাত ছাহাবী আবূ বকর ও উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে নিজেদের সম্পর্কচ্ছেদ (বারাআত) ঘোষণা করেননি।

ইমাম, না-কি উপাস্য?

রাফেযিদের ইমামদের জন্য এমন সব বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নবুওয়াতের মর্যাদাকেও অতিক্রম করেছে এবং উলূহিয়্যাতের সঙ্গেও সাদৃশ্যপূর্ণ। এটি সুস্পষ্ট কুফর। হাফিয ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ) আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে নিয়ে তাদের চরমপন্থা প্রসঙ্গে বলেন,

فَمِنْهُمْ مَنْ كَانَ يَقُوْلُ: هُوَ الْإِلٰهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُوْلُ: هُوَ خَيْرٌ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ

‘তাদের কেউ কেউ বলত, ‘তিনি (আলী) ইলাহ (উপাস্য)’; আবার কেউ বলত, ‘তিনি নবীদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ’।[২০] আর তাদের ইমামরা নবীগণের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এই দাবি ইসলামের আক্বীদার পরিপূর্ণ পরিপন্থী। অথচ ইমাম আত-তাহাবী আল-হানাফী (রাহিমাহুল্লাহ) ‘আহলুস সুন্নাহ’র আক্বীদা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,

وَلَا نُفَضِّلُ أَحَدًا مِنَ الْأَوْلِيَاءِ عَلَى أَحَدٍ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ وَنَقُولُ: نَبِيٌّ وَاحِدٌ أفضل من جميع الأولياء

‘আমরা কোন অলীকে কোন নবীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিই না। বরং আমরা বলি, একজন নবী সমস্ত অলীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’।[২১] কাযী ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

نَقْطَعُ بِتَكْفِيرِ غُلَاةِ الرَّافِضَةِ فِي قَوْلِهِمْ: إِنَّ الْأَئِمَّةَ أَفْضَلُ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ

‘আমরা নিশ্চিতভাবে রায় দিই যে, রাফেযিদের সেই চরমপন্থীরা কাফির, যারা বলে যে ইমামগণ নবীদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ’।[২২]

(ইনশাআল্লাহ চলবে)


তথ্যসূত্র :
[১]. ইবনু হাযম আন্দালুসী, আল-ফিছাল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নাহাল (কায়রো: মাকাতাবতু খানিজী, তাবি), ২য় খণ্ড, পৃ. ৬৫।
[২]. আবুল হাসান ‘আলী ইবনু ইসমাঈল ইবনু মূসা আল-আশ‘আরী, রিসালাতু ইলাম আহলিছ ছাগার বিবালি আবওয়াব (মদীনা মুনাওয়ারাহ: ইমাদাতুল বাহাছ আল-ইলমী বিল জামি‘আহ আল-ইসলামিয়্যাহ, ১৪১৩ হি.), পৃ. ১৭৪।
[৩]. আবুল হাসান ‘আলী ইবনু ইসমাঈল ইবনু মূসা আল-আশ‘আরী, মাক্বালাত আল-ইসলামিয়্যীন ওয়া ইখলাতিলাফিল মুছাল্লীন (জার্মানির ভিসবাডেন শহরস্থিত ফ্রানৎস স্টাইনার প্রকাশনা সংস্থা, ৩য় সংস্করণ, ১৪০০ হি./১৯৮০ খ্রি.), পৃ. ১৬।
[৪]. জামালুদ্দীন আবুল ফারজ আব্দুর রহমান ইবনু আলী ইবনু মুহাম্মাদ আল-জাওযী, তালবীসু ইবলীস (বৈরূত: দারুল ফিকর, ১ম সংস্করণ, ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.), পৃ. ৮৮।
[৫]. আব্দুল জাব্বার ইবনু আহমাদ, শারহু উছূলিল খামসাহ (কায়রো: মাকতাবাতু ওয়াহবিয়্যাহ, ৩য় সংস্করণ, ১৪১৬ হি./১৯৯৬ খ্রি.), পৃ. ৭৬১।
[৬]. নাছির ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আলী আল-ক্বাফারী, উছূলু মাযহাবিশ শী‘আ আল-ইমামিয়্যাহ আল-ইছনা আশারা (১ম সংস্করণ, ১৪১৪ হি.), ২য় খণ্ড, পৃ. ৫৭৫।
[৭]. তাক্বীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনু আব্দুল হালীম ইবনু তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী, মুখতাছার মিনহাজুুস সুন্নাহ (ছান‘আ: দারুছ ছাদীক লিন নাশর, ২য় সংস্করণ, ১৪২৬ হি./২০০৫ খ্রি.), পৃ. ৪৭।
[৮]. আবূ জা‘ফর মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াকূব ইবনু ইসহাক আল-কুলাইনী আর-রাযী, আল-উছূলু মিনাল কাফী, ১ম খণ্ড (তেহরান: মাকতাবাতুছ ছিদ্দীক, ১৩৮১ হি.), পৃ. ২২৭ ।
[৯]. আল-উছূলু মিনাল কাফী, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৩৮।
[১০]. আল-উছূলু মিনাল কাফী, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৪১; ফাতাওয়া দারুল ইফতা আল-মিছরিয়্যাহ, ৮/৭১।
[১১]. মির্যা হুসাইন আন-নূরী আল-তাবারাসী, ফাছলুল খিতাব ফী ইছবাতি তাহরীফি কিতাবি রব্বিল আরবাব (বৈরূত: মুওয়াসসাসাতুল ইনতিশার আল-‘আরাবী, ১ম সংস্করণ, ২০২১ খ্রি.), পৃ. ৯।
[১২]. ফাছলুল খিতাব ফী ইছবাতি তাহরীফি কিতাবি রব্বিল আরবাব, পৃ. ১৬৪।
[১৩]. ফাছলুল খিতাব ফী ইছবাতি তাহরীফি কিতাবি রব্বিল আরবাব, পৃ. ৭৮৬।
[১৪]. সাইয়েদ ‘আদনান ইবনু সাইয়েদ ‘আলাভী, মাশারিকুশ শুমূস আদ-দুররিয়্যাহ ফী আহাকিয়্যাহ মাযহাবিল আখবারিয়্যাহ, পৃ. ১২৬।
[১৫]. আবূ মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবুন আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ আল-মাকদিসী, হিকায়াতুল মুনাযিরাহ ফিল কুরআন মা‘আ বা‘যি আহলিল বিদ‘আহ (রিয়াদ: মাকাতাবাতুর রুশদ, ১ম সংস্করণম ১৪০৯ হি.), পৃ. ৩৩।
[১৬]. মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল বার্র ইবনু ‘আছিম আল-কুরতুবী, আত-তামহীদু লিমা ফিল মুওয়াত্তা মিনাল মা‘আনী ওয়াল আসানীদ, ৪র্থ খণ্ড (মরক্কো: ওয়াযারাতু উমূলুল আওকাফ ওয়াশ শুয়ূনিল ইসলামিয়্যাহ, ১৩৮৭ হি.), পৃ. ২৭৮-২৭৯।
[১৭]. ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম আল-জাওযিয়্যাহ, মাদারিজুস সালিকীন বাইনা মানাযিলি ইয়িকা না‘বুদ ওয়া ইয়্যিকা নাসতাঈন, ১ম খণ্ড (বৈরূত: দারুল কিতাবিল ‘আরাবী, ৩য় সংস্করণ, ১৪১৬ হি./১৯৯৬ খ্রি.), পৃ. ৯৬।
[১৮]. ক্বাযী মুহাম্মাদ ইবনু ‘আব্দুল্লাহ আবূ বকর ইবনুল আরাবী আল-মু‘আফিরী আল-ইশবীলী, আল-‘আওয়াছিম মিনাল ক্বাওয়াছিম ফী তাহক্বীকী মাওক্বিফিছ ছাহাবা বা‘দা ওয়াফাতিন নাবী (ﷺ) (সঊদী আরব: ওয়াযারাতুশ শুয়ূনিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল আওক্বাফ ওয়াদ দাওয়াহ ওয়ার ইরশাদ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৯ হি.), পৃ. ১৮৫।
[১৯]. আবুল মা‘আলী মাহমূদ শুকরী ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবুছ ছানা আল-আলূসী, ছাব্বুল ‘আযাবি আলা মান সাব্বিল আছহাব (রিয়াদ : আযওয়াউস সালাফ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৭ হি./১৯৯৭ খ্রি.), পৃ. ২৭৮।
[২০]. তালবীসু ইবলীস, পৃ. ৮৭।
[২১]. আবূ জা‘ফর আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ আত-তাহাবী, তাখরীজুল আক্বীদা আত-তাহাবিয়্যাহ (বৈরূত: আল-মাকতাবুল ইসলামী, ২য় সংস্করণ, ১৪১৪ হি.), পৃ. ৮৩।
[২২]. ইবরাহীম ইবনু ‘আমির ইবনু আলী আর-রুহাইলী, আল-ইনতিছারু লিছ ছাহবি ওয়াল আলি মিন ইফতিরায়াতিস সামাভী আয-যাল (মদীনা মুনাওয়ারাহ: মাকতাবাতুল ঊলূম ওয়াল হিকাম, ৩য় সংস্করণ, ১৪২৩ হি./২০০৩ খ্রি.), পৃ. ১০০।




প্রসঙ্গসমূহ »: ভ্রান্ত মতবাদ
আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে শাসক ও জনগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য - আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহীম
শী‘আ মতবাদের স্বরূপ ও তাদের বিভ্রান্তি (২য় কিস্তি) - অনুবাদ : ড. মো: আমিনুল ইসলাম
শী‘আ মতবাদের স্বরূপ ও তাদের বিভ্রান্তি - অনুবাদ : ড. মো: আমিনুল ইসলাম
রাফেযী শী‘আদের বিভ্রান্তি: মুসলিম উম্মাহর জন্য বিষফোঁড়া - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
ধর্মীয় সংস্কারের স্বরূপ ও প্রকৃতি - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
কোটা নয়, মেধাই হোক প্রকৃত মূল্যায়ন - ড. মুহাম্মাদ বযলুর রহমান
মুসলিমদের সাহায্য করা ও তার পদ্ধতি - শায়খ মতিউর রহমান মাদানী
উপদেশ প্রদানের আদব ও শর্তসমূহ - আল-ইখলাছ ডেস্ক
কালজয়ী লেখনীর ইতিকথা - আযহারুল ইসলাম
দারস-তাদরীস ও ইলমী হালাকার পুনর্জাগরণ: বাস্তবতা, সংকট ও দাওয়াতী রূপরেখা - আব্দুল হাকীম বিন আব্দুল হাফীজ
বিদ‘আতীদের ব্যাপারে সালাফীদের অবস্থান - ওমর ফারুক বিন মুসলিমুদ্দীন
ইসলামী রাষ্ট্রে আইন ও বিচার ব্যবস্থার স্বরূপ - হাসিবুর রহমান বুখারী

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ