উত্তর : সূদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি করা হারাম এবং যে ব্যক্তি এ কাজে লিপ্ত হয়, সে আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতাকারী (গুনাহগার)। তবে তার ইমামতিতে ছালাত শুদ্ধ হবে। কারণ সে মুসলিম এবং যদি তার ছালাতের শর্তাবলি ও ফরযসমূহ পূর্ণ হয়, তাহলে তার নিজের ছালাতও ছহীহ হবে। এটাই আলিমদের দু’টি মতের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ মত। তবে যদি সম্ভব হয়, তাহলে দ্বীনদার, সৎ ও তাক্বওয়াবান ব্যক্তির পেছনে ছালাত আদায় করাই উত্তম। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ৭/৩৭৬-৩৮০ পৃ.)।
শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তার ছালাত শুদ্ধ হবে এবং তার ছিয়ামও ছহীহ। তবে তার বেতনের বিধান সম্পর্কে স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির একটি ফাতাওয়া রয়েছে, যা নিম্নরূপ: বর্তমান অধিকাংশ ব্যাংকিং লেনদেন সূদের (রিবা) সাথে সম্পৃক্ত, আর সূদ কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মাতের ইজমার দ্বারা হারাম। রাসূল (ﷺ) ঘোষণা করেছেন, যে ব্যক্তি সূদখোরকে বা সূদদাতাকে সহযোগিতা করে, যেমন সূদের চুক্তি লিখে দেয়, সাক্ষ্য দেয় বা এ ধরনের অন্য কোন সহায়তা করে, সে সূদগ্রহীতা ও সূদদাতার সঙ্গে গুনাহ ও অভিশাপে অংশীদার হবে (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭-১৫৯৮)।
অতএব, যদি তুমি শরী‘আতের বিধান না জেনে এই চাকরি করে থাকো, তাহলে ইতিপূর্বে যে বেতন গ্রহণ করেছ তা তোমার জন্য বৈধ হবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে উপদেশ পৌঁছল এবং সে বিরত হল, তার জন্য পূর্বে যা হয়েছে তা তারই থাকবে এবং তার বিষয় আল্লাহর নিকট ন্যস্ত থাকবে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৭৫-২৭৬)। কিন্তু যদি তুমি জেনে-শুনে এমন কাজ করে থাকো, যা তোমার জন্য বৈধ নয়, তাহলে যে বেতন গ্রহণ করেছ তার সমপরিমাণ অর্থ জনকল্যাণমূলক কাজে এবং দরিদ্রদের সাহায্যে ব্যয় করবে। পাশাপাশি আল্লাহর নিকট আন্তরিক তাওবা করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা করে, আল্লাহ তার তাওবা ক্ববুল করেন এবং তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা কর। আশা করা যায় তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নদী প্রবাহিত...’ (সূরা আত-তাহরীম : ৮)। অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার’ (সূরা আন-নূর : ৩১; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাত, ১৯/৩৬৭ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : আহমাদুল্লাহ, ঢাকা।