শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ন
উত্তর : সূদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি করা হারাম এবং যে ব্যক্তি এ কাজে লিপ্ত হয়, সে আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতাকারী (গুনাহগার)। তবে তার ইমামতিতে ছালাত শুদ্ধ হবে। কারণ সে মুসলিম এবং যদি তার ছালাতের শর্তাবলি ও ফরযসমূহ পূর্ণ হয়, তাহলে তার নিজের ছালাতও ছহীহ হবে। এটাই আলিমদের দু’টি মতের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ মত। তবে যদি সম্ভব হয়, তাহলে দ্বীনদার, সৎ ও তাক্বওয়াবান ব্যক্তির পেছনে ছালাত আদায় করাই উত্তম। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ৭/৩৭৬-৩৮০ পৃ.)

শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তার ছালাত শুদ্ধ হবে এবং তার ছিয়ামও ছহীহ। তবে তার বেতনের বিধান সম্পর্কে স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির একটি ফাতাওয়া রয়েছে, যা নিম্নরূপ: বর্তমান অধিকাংশ ব্যাংকিং লেনদেন সূদের (রিবা) সাথে সম্পৃক্ত, আর সূদ কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মাতের ইজমার দ্বারা হারাম। রাসূল (ﷺ) ঘোষণা করেছেন, যে ব্যক্তি সূদখোরকে বা সূদদাতাকে সহযোগিতা করে, যেমন সূদের চুক্তি লিখে দেয়, সাক্ষ্য দেয় বা এ ধরনের অন্য কোন সহায়তা করে, সে সূদগ্রহীতা ও সূদদাতার সঙ্গে গুনাহ ও অভিশাপে অংশীদার হবে (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭-১৫৯৮)

অতএব, যদি তুমি শরী‘আতের বিধান না জেনে এই চাকরি করে থাকো, তাহলে ইতিপূর্বে যে বেতন গ্রহণ করেছ তা তোমার জন্য বৈধ হবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে উপদেশ পৌঁছল এবং সে বিরত হল, তার জন্য পূর্বে যা হয়েছে তা তারই থাকবে এবং তার বিষয় আল্লাহর নিকট ন্যস্ত থাকবে’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৭৫-২৭৬)। কিন্তু যদি তুমি জেনে-শুনে এমন কাজ করে থাকো, যা তোমার জন্য বৈধ নয়, তাহলে যে বেতন গ্রহণ করেছ তার সমপরিমাণ অর্থ জনকল্যাণমূলক কাজে এবং দরিদ্রদের সাহায্যে ব্যয় করবে। পাশাপাশি আল্লাহর নিকট আন্তরিক তাওবা করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা করে, আল্লাহ তার তাওবা ক্ববুল করেন এবং তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা কর। আশা করা যায় তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নদী প্রবাহিত...’ (সূরা আত-তাহরীম : ৮)। অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার’ (সূরা আন-নূর : ৩১; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাত, ১৯/৩৬৭ পৃ.)


প্রশ্নকারী : আহমাদুল্লাহ, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৯) : সমাজে যুলুমকারী বা অত্যাচারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বদ দু‘আ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : যদি কোন পুরুষের ছবি এডিট করে মহিলাতে রুপান্তরিত করা হয়, তাহলে কি তার কারণে কাবীরা গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : বিড়ি-সিগারেট নির্মাণ কারখানার সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরী করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : আমার তৃতীয় স্ত্রীর আগের স্বামীর একটি সন্তান ছিল, সেই সন্তান এখন আমার সংসারে থাকে। তার ভরণ-পোষণ, যাবতীয় সকল খরচ আমাকে বহন করতে হচ্ছে। আমাকে প্রতি বছর যাকাত দিতে হয়। আমার স্ত্রীর আগের সন্তানের যে খরচ আমাকে বহন করতে হচ্ছে, সেই খরচ কি আমি যাকাত হিসাবে গণ্য করতে পারবো? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : শুধু বেজোড় রাত্রিগুলোতে ই‘তিকাফ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৩) : অনেককেই দেখা যায় যে, ফরয ছালাত শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে বুকে ফুঁক দেয়। এটা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : ‘ফাযায়েলে কুরআন’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, ‘ছালাতে কুরআন তেলাওয়াত করা ছালাতের বাইরে কুরআন তেলাওয়াত করা অপেক্ষা উত্তম। ছালাতের বাইরে কুরআন তেলাওয়াত করা ‘সুবহানাল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ বলার চেয়ে উত্তম। ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা ছাদাক্বাহ হতে উত্তম; ছাদাক্বাহ ছিয়াম হতে উত্তম। আর ছিয়াম হচ্ছে জাহান্নামের ঢাল স্বরূপ’ (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/২০৯৫; মিশকাত, হা/২১৬৬; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২০৬২; ফাযায়েলে আমল, পৃ. ২৩০)। উল্লিখিত বক্তব্যগুলো কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) :  ফেতনার যুগে দ্বীনি ইলম অর্জনের উপায় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫): ইসলামী অর্থনীতির ভিত্তি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : একজন কুরআনের হাফেয দশজন বা ততোধিক ব্যক্তিকে জান্নাতে নিতে পারবেন। এই হাদীছ কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : পাশ্চাত্য সভ্যতার অনুকরণে আঙ্গুলের নখ বড় করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : আমার বন্ধু অনলাইনে জুয়া খেলে টাকা উপার্জন করে। অতঃপর ঐ টাকা দিয়ে মাঝে মাঝে আমাদের নাস্তা ও চা বিস্কুট খাওয়ায়। এক্ষেত্রে আমাদের খাওয়াটা কি হারাম হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ