রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর: ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে শপথ করা সাধারণভাবে মাকরূহ, চাই শপথকারী মিথ্যাবাদী হোক কিংবা সত্যবাদী। তবে শপথের ক্ষেত্রে কেউ যদি মিথ্যাবাদী হয়, তাহলে তা মাকরূহে তাহরীমী তথা হারাম হবে এবং এটা কঠিন পাপ ও তার জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে। কেননা এটা একটি মিথ্যা শপথ। যদিও এর মাধ্যমে পণ্যটির অধিক চাহিদা থাকে। যার ফলে তা বিক্রয়ের বরকত ও লাভকে ধ্বংস করে দেয়। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, اَلْحَلِفُ مُنَفِّقَةٌ لِلسِّلْعَةِ مُمْحِقَةٌ لِلْبَرَكَةِ ‘মিথ্যা কসম পণ্য চালু করে দেয় বটে, কিন্তু বরকত নিশ্চিহ্ন করে দেয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/২০৮৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০৬)।

আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তিন শ্রেণীর লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি করুণার দৃষ্টি দিবেন না, তাদের পরিশুদ্ধও করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তারা কারা? তারা তো ব্যর্থ হল তারা তো ক্ষতিগ্রস্ত হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, টাকনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী, অনুগ্রহ করে প্রকাশকারী এবং মিথ্যা কসমের মাধ্যমে মাল বিক্রয়কারী’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০৬)।

পক্ষান্তরে ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে শপথকারী যদি সত্যবাদী হয়, তাহলে তা মাকরূহে তানযীহি তথা পবিত্রতার দিক থেকে নিন্দনীয় হবে। কেননা অধিকহারে শপথের কারণে পণ্যটির গতিময়তা আনয়ন করে এবং এ ব্যাপারে মানুষকে অধিকহারে উৎসাহিত করা হয়ে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চয় যারা আল্লাহর প্রতি কৃত অঙ্গীকার ও স্বীয় শপথ সামান্য মূল্যে বিক্রি করে, পরকালে তাদের কোনই অংশ নেই এবং আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও ক্বিয়ামত দিবসে তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না এবং তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে’ (সূরা আলে ইমরান: ৭৭)।

অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন, احۡفَظُوۡۤا اَیۡمَانَکُمۡ وَ ‘তোমরা নিজেদের কসমসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখ’ (সূরা আল-মায়েদাহ: ৮৯)। মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘তোমরা নিজেদের শপথের জন্য আল্লাহর নামকে লক্ষবস্তু বানায়ো না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২২৪)। আবূ ক্বাতাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, إِيَّاكُمْ وَكَثْرَةَ الْحَلِفِ فِى الْبَيْعِ فَإِنَّهُ يُنَفِّقُ ثُمَّ يَمْحَقُ ‘ব্যবসার মধ্যে অধিক কসম খাওয়া হতে বেঁচে থাক। কেননা তা দ্বারা মাল বেশী বিক্রি হয় কিন্তু (বারাকাহ) বিনষ্ট হয়ে যায়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০৭; মিশকাত, হা/২৭৯৩)।


প্রশ্নকারী : আব্দুর রাযযাক, উত্তরা, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৭) : জনৈক আলেম ফৎওয়া দিয়েছেন যে, হানাফী এলাকাতে আছরের ছালাত শেষ ওয়াক্তে হওয়ায় এবং সেই এলাকায় আহলেহাদীছ মসজিদ না থাকলে বাড়িতে ছালাত আদায় করা যাবে। প্রশ্ন হল, এটা কি শরী‘আতসম্মত? আওয়াল ওয়াক্তে একাকী ফরয ছালাত পড়া উত্তম হবে, না-কি শেষ ওয়াক্ত হলেও জামা‘আতে ছালাত আদায় করা উত্তম হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : হিন্দুর সাথে পাটনার ব্যবসা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : কোন ব্যক্তি জ্বিনের আছর বা বদনযরে আক্রান্ত কি-না সেটা কিভাবে জানা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : দোকানের চতুর্দিকে অনেক ছবি আছে। এমন স্থানে ছালাত আদায় করলে ছালাত হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : তাওহীদ কাকে বলে? তাওহীদে বিশ্বাসের প্রভাব কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : ৮ লক্ষ টাকা এডভান্স দিয়ে একটি দোকান মাসিক ৮ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে। ভাড়া গ্রহীতা নিজে ব্যবসা না করে অন্যের নিকট কোন এ্যাডভ্যান্স না নিয়ে মাসিক ১৬ হাজার টাকায় ভাড়া দিতে পারবে কি? অর্থাৎ দোকান ভাড়া নিয়ে অন্যের নিকট ভাড়া দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : সমকামী অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইলে ক্ষমা পাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কারো খাবার হালাল না-কি হারাম এটা যদি জানা না যায়, তাহলে তার খাবার গ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : ‘দেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ’ মর্মে প্রচলিত কথা কি ছহীহ হাদীছ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : পাঁচটি রাত জেগে ইবাদত করলে তার জন্য জান্নাত যরূরী হয়ে যাবে। (১) তারবিয়ার রাত বা যিলহজ্জের ৮ তারিখের রাত (২) ‘আরাফার রাত (৩) কুরবানীর রাত (৪) ঈদুল ফিতরের রাত ও (৫) ১৫ শা‘বানের রাত। উক্ত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : হিন্দু ধর্মে পূজায় বা কাপড়ে যে কলকা ডিজাইন করা হয়, সে কলকা ডিজাইনের কাপড় কী ইসলামে পরা জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : খাদীজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সমস্ত সম্পদ কি তিনি রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দিয়ে দিয়েছিলেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ