রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন
উত্তর: ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে শপথ করা সাধারণভাবে মাকরূহ, চাই শপথকারী মিথ্যাবাদী হোক কিংবা সত্যবাদী। তবে শপথের ক্ষেত্রে কেউ যদি মিথ্যাবাদী হয়, তাহলে তা মাকরূহে তাহরীমী তথা হারাম হবে এবং এটা কঠিন পাপ ও তার জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে। কেননা এটা একটি মিথ্যা শপথ। যদিও এর মাধ্যমে পণ্যটির অধিক চাহিদা থাকে। যার ফলে তা বিক্রয়ের বরকত ও লাভকে ধ্বংস করে দেয়। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, اَلْحَلِفُ مُنَفِّقَةٌ لِلسِّلْعَةِ مُمْحِقَةٌ لِلْبَرَكَةِ ‘মিথ্যা কসম পণ্য চালু করে দেয় বটে, কিন্তু বরকত নিশ্চিহ্ন করে দেয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/২০৮৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০৬)।

আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তিন শ্রেণীর লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি করুণার দৃষ্টি দিবেন না, তাদের পরিশুদ্ধও করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তারা কারা? তারা তো ব্যর্থ হল তারা তো ক্ষতিগ্রস্ত হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, টাকনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী, অনুগ্রহ করে প্রকাশকারী এবং মিথ্যা কসমের মাধ্যমে মাল বিক্রয়কারী’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১০৬)।

পক্ষান্তরে ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে শপথকারী যদি সত্যবাদী হয়, তাহলে তা মাকরূহে তানযীহি তথা পবিত্রতার দিক থেকে নিন্দনীয় হবে। কেননা অধিকহারে শপথের কারণে পণ্যটির গতিময়তা আনয়ন করে এবং এ ব্যাপারে মানুষকে অধিকহারে উৎসাহিত করা হয়ে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চয় যারা আল্লাহর প্রতি কৃত অঙ্গীকার ও স্বীয় শপথ সামান্য মূল্যে বিক্রি করে, পরকালে তাদের কোনই অংশ নেই এবং আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও ক্বিয়ামত দিবসে তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না এবং তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে’ (সূরা আলে ইমরান: ৭৭)।

অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন, احۡفَظُوۡۤا اَیۡمَانَکُمۡ وَ ‘তোমরা নিজেদের কসমসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখ’ (সূরা আল-মায়েদাহ: ৮৯)। মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘তোমরা নিজেদের শপথের জন্য আল্লাহর নামকে লক্ষবস্তু বানায়ো না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২২৪)। আবূ ক্বাতাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, إِيَّاكُمْ وَكَثْرَةَ الْحَلِفِ فِى الْبَيْعِ فَإِنَّهُ يُنَفِّقُ ثُمَّ يَمْحَقُ ‘ব্যবসার মধ্যে অধিক কসম খাওয়া হতে বেঁচে থাক। কেননা তা দ্বারা মাল বেশী বিক্রি হয় কিন্তু (বারাকাহ) বিনষ্ট হয়ে যায়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০৭; মিশকাত, হা/২৭৯৩)।


প্রশ্নকারী : আব্দুর রাযযাক, উত্তরা, ঢাকা।





প্রশ্ন (৪) : সরকারি জায়গার মধ্যে যদি মসজিদ নির্মাণ করা হয় তাহলে সেখানে জুম‘আর ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : ‘সুবহানাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহি’ বললে আল্লাহর পথে স্বর্ণ দান করার সমান ছওয়াব পাওয়া যায়। উক্ত বর্ণনা কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : এক ওয়াক্ত ছালাত ক্বাযা করলে এবং পরে পড়ে নিলেও ২ লক্ষ ৮৮ বছর জাহান্নামে থাকতে হবে (ফাযায়েলে নামায, পৃ. ১১৬)। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : একটি হাদীছে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নবীদের মাঝে কাউকে শ্রেষ্ঠত্ব দিও না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৯১৬; আবূ দাঊদ, হা/৪৬৬৮)। প্রশ্ন হল- যদি তাই হল, তাহলে কি আমরা বলতে পারব না যে, আমাদের নবী (ﷺ) অন্য সব নবীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : প্যান্টের সাথে সংযুক্ত মোজার উপর মাসেহ করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : আমরা তিন বোন। আমাদের কোন ভাই নেই। ইসলামী শরী‘আহ অনুযায়ী আমার পিতার সকল সম্পদের বণ্টন নীতিমালা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : জীবনে অনেক পাপ করেছে এমন ব্যক্তি কোন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে। এখন তওবা করলে পাপ ক্ষমা হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : এশার ছালাতের জামা‘আত চলাকালীন শেষের দুই রাক‘আতে জামা‘আতে শামিল হলে ইমামের সালাম ফিরানোর পর মাসবূক ব্যক্তি কি পরের বাকি দুই রাক‘আত ছালাতে সূরা ফাতিহার পর অন্য কোন সূরা যোগ করবে, না-কি শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে বলেছেন, গর্ভবতী মায়ের পেটে কী আছে তিনি ছাড়া কেউ জানে না। কিন্তু বর্তমানে আল্ট্রাসনোগ্রাফীর মাধ্যমে জানা যাচ্ছে। কুরআনের উক্ত আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : কোন্ কোন্ শর্ত পূরণ করলে তওবাহ বিশুদ্ধ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : নবী (ﷺ)-এর হাসি-খুশি ও রসিকতার ধরন কেমন ছিল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪২) : সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য ভ্রু প্লাক (pluck) করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ