উত্তর : রিশওয়াহ বা ঘুষ দেয়া ও নেয়া উভয়ই হারাম এবং কাবীরা গুনাহ। এ সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী ও অভিশাপ এসেছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘ঘুষ গ্রহণকারী ও ঘুষ প্রদানকারী উভয়কেই রাসূল (ﷺ) লা’নত বা অভিসম্পাত করেছেন (আবূ দাঊদ, হা/৩৫৮০; তিরমিযী, হা/১৩৩৭)। শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘সুতরাং যে ব্যক্তি ঘুষের মত জঘন্য অপরাধে জড়িত রয়েছে, তার উপর অপরিহার্য আল্লাহর কাছে তাওবাহ করা, এ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং ভবিষ্যতে আর না করার দৃঢ় সংকল্প করা, সেই সাথে অতীতের জন্য অনুতপ্ত হওয়া আবশ্যক। তবে ঘুষের টাকা মালিককে ফেরত দেয়া যরূরী কী-না? এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে:
(১) যদি ঘুষদাতা তার বৈধ অধিকার আদায়ের জন্য ঘুষ দিয়ে থাকে, তবে তার টাকা ফেরত দেয়া আবশ্যক। কারণ এটি অন্যায়, যুলুম ও অবৈধভাবে নেয়া সম্পদ।
(২) আর যদি কেউ অবৈধভাবে নিজের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ঘুষ দেয় এবং সেটি অর্জন করে থাকে, তাহলে সেই ঘুষের টাকা তাকে ফেরত দেয়া হবে না! যাতে করে সে দুই দিক থেকে লাভবান না হতে পারে- একদিকে তার অবৈধ উদ্দেশ্যে সফল হওয়া এবং অন্যদিকে তার টাকা ফেরত পাওয়া।
এমতাবস্থায় তওবাহকারী ব্যক্তির কর্তব্য হল- তার কাছে থাকা ঘুষের অর্থ ফকীর-মিসকীনদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়া বা সাধারণ জনকল্যাণমূলক কাজে খরচ করা বা অন্যান্য ভালো কাজে ব্যয় করা’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৪২৪১)। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘যদি কেউ হারাম বিনিময়ের মাধ্যমে অন্য কারো সাথে লেনদেন করে এবং বিনিময় গ্রহণ করে, যেমন ব্যভিচারিণী, গায়িকা, মদ বিক্রেতা, মিথ্যা সাক্ষী প্রমুখ। অতঃপর তাওবাহ করে এবং বিনিময়কৃত সম্পদ তার কাছেই থাকে- এমতাবস্থায় একদল আলিম বলেছেন, তাকে তা মালিকের নিকট ফেরত দিতে হবে, কারণ এটি তার নিজের মাল এবং শরী‘আত সম্মত পদ্ধতি ছাড়াই তা গ্রহণ করা হয়েছে। এর বিনিময়ে মালিকের কোন বৈধ উপকারও হয়নি। আরেকদল আলিম বলেছেন, বরং তার তাওবাহ হল- এটি ছাদাক্বাহ করে দেয়া এবং যার কাছ থেকে তা নেয়া হয়েছিল তাকে ফেরত না দেয়া। এটিই শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পসন্দনীয় মত এবং এটিই দু’টি মতের মধ্যে অধিকতর সঠিক’ (মাদারিজুস সালিকীন, ১/৩৮৯ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : মুখলেসুর রহমান, সাতক্ষীরা।