বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : রিশওয়াহ বা ঘুষ দেয়া ও নেয়া উভয়ই হারাম এবং কাবীরা গুনাহ। এ সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী ও অভিশাপ এসেছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘ঘুষ গ্রহণকারী ও ঘুষ প্রদানকারী উভয়কেই রাসূল (ﷺ) লা’নত বা অভিসম্পাত করেছেন (আবূ দাঊদ, হা/৩৫৮০; তিরমিযী, হা/১৩৩৭)। শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘সুতরাং যে ব্যক্তি ঘুষের মত জঘন্য অপরাধে জড়িত রয়েছে, তার উপর অপরিহার্য আল্লাহর কাছে তাওবাহ করা, এ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং ভবিষ্যতে আর না করার দৃঢ় সংকল্প করা, সেই সাথে অতীতের জন্য অনুতপ্ত হওয়া আবশ্যক। তবে ঘুষের টাকা মালিককে ফেরত দেয়া যরূরী কী-না? এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে:
(১) যদি ঘুষদাতা তার বৈধ অধিকার আদায়ের জন্য ঘুষ দিয়ে থাকে, তবে তার টাকা ফেরত দেয়া আবশ্যক। কারণ এটি অন্যায়, যুলুম ও অবৈধভাবে নেয়া সম্পদ।
(২) আর যদি কেউ অবৈধভাবে নিজের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ঘুষ দেয় এবং সেটি অর্জন করে থাকে, তাহলে সেই ঘুষের টাকা তাকে ফেরত দেয়া হবে না! যাতে করে সে দুই দিক থেকে লাভবান না হতে পারে- একদিকে তার অবৈধ উদ্দেশ্যে সফল হওয়া এবং অন্যদিকে তার টাকা ফেরত পাওয়া।

এমতাবস্থায় তওবাহকারী ব্যক্তির কর্তব্য হল- তার কাছে থাকা ঘুষের অর্থ ফকীর-মিসকীনদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়া বা সাধারণ জনকল্যাণমূলক কাজে খরচ করা বা অন্যান্য ভালো কাজে ব্যয় করা’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১০৪২৪১)। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘যদি কেউ হারাম বিনিময়ের মাধ্যমে অন্য কারো সাথে লেনদেন করে এবং বিনিময় গ্রহণ করে, যেমন ব্যভিচারিণী, গায়িকা, মদ বিক্রেতা, মিথ্যা সাক্ষী প্রমুখ। অতঃপর তাওবাহ করে এবং বিনিময়কৃত সম্পদ তার কাছেই থাকে- এমতাবস্থায় একদল আলিম বলেছেন, তাকে তা মালিকের নিকট ফেরত দিতে হবে, কারণ এটি তার নিজের মাল এবং শরী‘আত সম্মত পদ্ধতি ছাড়াই তা গ্রহণ করা হয়েছে। এর বিনিময়ে মালিকের কোন বৈধ উপকারও হয়নি। আরেকদল আলিম বলেছেন, বরং তার তাওবাহ হল- এটি ছাদাক্বাহ করে দেয়া এবং যার কাছ থেকে তা নেয়া হয়েছিল তাকে ফেরত না দেয়া। এটিই শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পসন্দনীয় মত এবং এটিই দু’টি মতের মধ্যে অধিকতর সঠিক’ (মাদারিজুস সালিকীন, ১/৩৮৯ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : মুখলেসুর রহমান, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (২) : সরকারি চাকরিজীবীরা কল্যাণ পদ্ধতিতে (কল্যাণ ফান্ড/কল্যাণ তহবিল) প্রতি মাসে বেতন থেকে টাকা রাখেন, এবং চাকরি শেষে সেই টাকায় সরকার অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে ফেরত দেয়- এটা কি সূদ হিসাবে গণ্য হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : ছালাতের দু’টি বৈঠক। প্রথম বৈঠকে শুধু আত্তাহিইয়াতু পড়তে হয়। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল, অনেক সময় ইমামের শেষ বৈঠক আমার প্রথম বৈঠক হয়। তাহলে দীর্ঘ সময় আমি কি শুধু আত্তাহিইয়াতু পড়েই বসে থাকব, না-কি অন্য দু‘আ পড়ব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : অফিসে কোন ব্যক্তির কাজ করার পর যদি খুশি হয়ে আমি টাকা না নেয়া সত্ত্বেও ঐ ব্যক্তি জোর করে আমাকে টাকা দেয় এবং বলে আমার মন থেকে হাদিয়া দিয়েছি। তাহলে এইটা জায়েয হবে কিনা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮): আমি মার্কেটিং এ জব করি। প্রতিদিন বাহিরে যাই। এক্ষেত্রে আমি কি ছালাত কছর করতে পারব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : খতম তারাবীহ শেষ করার কোন নিয়ম আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : ‘তোমরা রাতের বেলায় রাস্তার মধ্যভাগে অবস্থান নেয়া থেকে সাবধান থাক। কেননা উহা হল, সাপ ও হিংস্র প্রাণীদের আশ্রয়স্থল’ মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মেশিনগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হয়। সেজন্য ডিউটি টাইমে সবাই মিলে একসাথে জামা‘আতে ছালাত আদায় করা সম্ভব হয় না। একজন একজন করে গিয়ে ছালাত আদায় করে থাকে। এক্ষেত্রে তাদের কি জামা‘আত ত্যাগ করার গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : ‘তাওহীদে আসমা ওয়াছ ছিফাত’ কাকে বলে এবং এর দাবি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : বাকপ্রতিবন্ধী কেউ পশু যব্হ করলে তার গোশত খাওয়া যাবে কি? তিনি ‘বিসমিল্লাহ’ বা ‘আল্লাহু আকবার’ বলছেন কি-না তা বুঝা যায় না। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫): কোন যালিম শাসক মৃত্যুবরণ করলে ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : গান শুনা ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : জানাজা ছালাতের ছুটে যাওয়া অংশ আদায় করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ