বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : মুসলিমরা ফুটবল খেলায় এতোটাই আসক্ত হয়ে পড়েছে যে, খেলোয়াড় ও ক্লাবগুলোর প্রতি অতিমাত্রায় ভক্তি ও শ্রদ্ধা দেখাতে গিয়ে শিরক ও জাহেলিয়াতের মধ্যে নিমজ্জিত হচ্ছে। কারণ অধিকাংশ জার্সিতে দেব-দেবী, মূর্তি ও বিধর্মীদের জাতীয় প্রতীক অঙ্কন করা আছে। এছাড়া খেলোয়াড়দের ছবি সর্বত্র ছড়িয়ে দিচ্ছে, দেওয়ালে সাটানো হচ্ছে, তাদের নামে সন্তানের নাম রাখছে, তাদের নম্বরযুক্ত পোশাক পরছে, তাদের চালচলন ও আচরণ অনুকরণ করছে। এগুলো সবই ইসলামের সীমালঙ্ঘন। শায়খ দিয়াব আল-গামিদী (হাফিযাহুল্লাহ) তাঁর حقيقة كرة القدم ‘ফুটবলের প্রকৃত সত্য’ নামক গ্রন্থে এ খেলাটির ৪১টি শরয়ী আপত্তির কথা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।

কোন মুসলিমের জন্য এমন পোশাক পরা বৈধ নয়, যাতে ঐসব কাফির, মুশরিক খেলোয়াড় বা তাদের ক্লাবগুলোর প্রতি ভালবাসা ও সমর্থন প্রকাশ পায়। তাই জার্সিতে খেলোয়াড়ের নাম, ক্লাবের নাম, খেলোয়াড়ের নম্বর, খেলোয়াড়ের ছবি ইত্যাদি রাখা বৈধ নয়। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ‘কাফিরদের প্রতীকযুক্ত স্পোর্টস পোশাক যেমন ইতালি, জার্মানি, আমেরিকার লোগোযুক্ত জার্সি অথবা কাফির খেলোয়াড়দের নাম লেখা জার্সি পরার হুকুম কী?’ তারা যে উত্তর দেন, তাহল: (১) যদি প্রতীকটি কাফিরদের ধর্মীয় প্রতীক হয়, যেমন ক্রস; তাহলে এমন পোশাক আমদানি করা, বিক্রি করা এবং পরিধান করা হারাম। (২) যদি প্রতীকটি কোন কাফির ব্যক্তির সম্মান ও মহত্ব প্রকাশ করে, যেমন তার ছবি বা নাম, তাহলেও তা হারাম। (৩) যদি তা কেবল বৈধ বাণিজ্যিক ট্রেডমার্ক (ব্র্যান্ড) হয়, তাহলে তাতে কোন অসুবিধা নেই’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমাহ, ২৪/২৪-২৫ পৃ.)। শায়খ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত পণ্যের হুকুম কী?’ তিনি বলেন, ‘আমার মতে, এসব পণ্য বর্জন ও বয়কট করা উচিত। ইসলামের এবং মুসলিমদের কী উপকার আছে যে অমুক খেলোয়াড়কে এত প্রচার করতে হবে? কোন উপকার নেই। বরং খেলোয়াড়দেরকে শিক্ষা দেয়া উচিত যে, ইসলামী আদব, সতর রক্ষা, জামা‘আতে ছালাত, শিষ্টাচার ইত্যাদি’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ১২/২৫৮ পৃ.)।

চতুর্থতঃ যদিও খেলোয়াড়ের নাম, ছবি বা ক্লাবের প্রতীকযুক্ত জার্সি পরা হারাম, তবুও কেউ যদি তা পরে ছালাত আদায় করে, তাহলে ছালাত বাতিল হবে না। বরং ছালাত ছহীহ হবে, কিন্তু সে গুনাহগার হবে। তবে মূর্তি বা দেবীর ছবি থাকলে ছালাত বাতিল হবে।

পঞ্চমতঃ যদিও এ ধরনের জার্সির প্রচলন ব্যাপক হয়ে গেছে, তবুও তা বৈধ হওয়ার প্রমাণ নয়। বরং এগুলো নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে আরও কঠোর হওয়া উচিত। কারণ এতে মানুষের দ্বীন ও চরিত্রের ক্ষতি হয়, আর শরী‘আত দ্বীন ও চরিত্র রক্ষার জন্যই এসেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, لَا تَجِدُ قَوۡمًا یُّؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ  یُوَآدُّوۡنَ مَنۡ حَآدَّ اللّٰہَ وَ رَسُوۡلَہٗ ‘আপনি এমন কোন সম্প্রদায় পাবেন না যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধীদের ভালোবাসে’ (সূরা আল-মুজাদালাহ :২২)। শায়খ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘হয়তো এটি সরাসরি কাফিরদের বন্ধুত্ব (মুওয়ালাত) নয়; কিন্তু যে ব্যক্তি এমন কাজ করে, তার অন্তরে কাফিরদের প্রতি এমন এক ধরনের সম্মান থাকে যা ঈমান বা পূর্ণ ঈমানের পরিপন্থী’। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উচিত এসব পোশাক বর্জন করা। কারণ এগুলো কাফিরদের সম্মান বৃদ্ধি করে। তারা গর্ববোধ করে যে মুসলিমরা তাদের নাম ও ছবি নিজেদের পোশাকে ধারণ করছে। উপরন্তু, তারা এসব পোশাকের মাধ্যমে মুসলিমদের সম্পদও হাতিয়ে নিচ্ছে’ (আল-লিক্বাউশ শাহরী, ২/১১ পৃ.)।

অতএব খেলোয়াড়ের ছবি, নাম বা নম্বরযুক্ত জার্সি কেনা, বিক্রি করা ও পরিধান করা যাবে না। পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই এ ধরনের জার্সির ব্যবসা পরিত্যাগ করা উচিত।


প্রশ্নকারী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, নরসিংদী।





প্রশ্ন (২৫) : পেশাব করে ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করা এবং ৪০ কদম হাঁটা বা উঠাবসা করার কোন বিধান আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ছালাতের শেষ বৈঠকে ভুল করে তাশাহহুদ পাঠ করার পর দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : আল্লাহর পথে দাওয়াতের হুকুম ও ফযীলত কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জানাযার ছালাতের সময় লাশ সামনে রেখে মৃতের ঋণ ও অছিয়ত সংক্রান্ত কথা বলা ছাড়াও সমাজের বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলোচনার সুযোগ দেয়া হয়। এরূপ করা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : কোমরে তাবীয ঝুলানো কি শিরক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ‘ফাজায়েলে আমল’ নামক বইয়ের ৪৭৭ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, ‘শিশুদেরকে সর্বপ্রথম ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু’ বাক্য শিক্ষা দাও এবং মৃত্যুর সময়ও ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু’ তালক্বীন করাও। কারণ যার প্রথম এবং শেষ বাক্য ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ হবে, সে এক হাজার বছর বেঁচে থাকলেও একটি পাপ সম্পর্কেও তাকে জিজ্ঞেস করা হবে না’। উক্ত বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : পিতা-মাতা যদি সন্তানকে ক্ষমা না করে, তাহলে কী করণীয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যে ব্যক্তি চারের অধিক বিয়ে করেছে, ইসলামে তার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : মাজা বা হাঁটুতে ব্যথা বা এক্সিডেন্টে পা ভাঙ্গার কারণে রুকূ‘ ও সিজদা করতে অক্ষম ব্যক্তি চেয়ারে বসে ছালাত আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : জনৈক বক্তা বলেছেন, হজ্জ করার পূর্বে কোন অবস্থাতেই ওমরাহ পালন করা যাবে না? উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১): জমি ক্রয় করার সময় কোন দৃঢ় নিয়ত ছিল না, সেখানে বাড়ি করব, না-কি ব্যবসা করব? এমতাবস্তায় উক্ত জমির উপর কি যাকাত ফরয হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : সন্তান হিসাবে পিতা-মাতার ভরণপোষণ করা কি মেয়েদের জন্য ফরয? যেখানে তাদের কোন ভাই নেই এবং সকল বোন বিবাহিত। তাদের আর্থিক সঙ্গতি ভালো। যদি মা-বাবাকে নিজস্ব গৃহে রাখা হয় এবং তাদের টাকার ও অন্য সেবার ব্যবস্থা করা হয়, তবে কি গুনাহ হবে? কারণ অনেক সময় সাধারণ বিষয়ে পিতা-মাতা অভিমান করে এবং সন্তানকে কষ্ট দেন। এমতাবস্থায় আল্লাহ কি সন্তানের উপর নাখোশ হবেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ