উত্তর : মূলনীতি হলো, উপার্জন ও ব্যবসা-বাণিজ্য করা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই বৈধ; সফরে হোক বা নিজ এলাকায় অবস্থানকালে হোক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ اَحَلَّ اللّٰہُ الۡبَیۡعَ وَ حَرَّمَ الرِّبٰوا ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৭৫)। এছাড়া নবী করীম (ﷺ)-কে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘কোন উপার্জন সবচেয়ে উত্তম?’ তিনি বলেন, ‘মানুষের নিজের হাতের উপার্জন এবং প্রত্যেক বৈধ ও সৎ ব্যবসা’ (আহমাদ, হা/১৭৩০৭; মিশকাত, হা/২৭৮৩; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৬০৭)।
আরও প্রমাণিত যে, ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে নারীরা শালীনতা ও সতর্কতা বজায় রেখে ক্রয়-বিক্রয় করতেন এবং নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ করতেন না। তবে যদি কোন নারীর ব্যবসা-বাণিজ্য তাকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায়, যাতে তাকে তার সেই সৌন্দর্য বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রকাশ করতে হয়, যা আল্লাহ প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন; যেমন মুখমণ্ডল। অথবা তাকে মাহরাম ছাড়া সফর করতে হয়, অথবা তার সঙ্গে গায়রে মাহরাম পুরুষদের এমন মেলামেশা ও মিশ্রণ ঘটে, যেখানে ফিতনার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তার জন্য এ ধরনের ব্যবসা করা বৈধ হবে না। বরং তাকে তা থেকে বিরত রাখা ও নিষেধ করা আবশ্যক। কারণ সে একটি বৈধ বিষয় অর্জনের উদ্দেশ্যে হারাম কাজের মধ্যে লিপ্ত হচ্ছে (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়েমাহ, ১৩/১৬-১৭ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : মোমেনা, সাতক্ষীরা।