যে কোন সময় (রাতে ও দিনে) পঠিতব্য দু‘আ ও যিকর
দু‘আ-১২ : মুমিনদের বৈশিষ্ট্য হলো তারা নিজেদের জন্য এবং পূর্ববর্তী মুমিনদের জন্য (বিশেষ করে ছাহাবীদের জন্য) ক্ষমা প্রার্থনা করে বলবে,
رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا وَ لِاِخۡوَانِنَا الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡاِیۡمَانِ وَ لَا تَجۡعَلۡ فِیۡ قُلُوۡبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا رَبَّنَاۤ اِنَّکَ رَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ
অর্থ : ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু’ (সূরা আল-হাশর, আয়াত : ১০)।
দু‘আ-১৩ : ক্বিয়ামতের দিন মুমিনদের আলো তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে। তারা বলবে,
رَبَّنَاۤ اَتۡمِمۡ لَنَا نُوۡرَنَا وَ اغۡفِرۡ لَنَا ۚ اِنَّکَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ
অর্থ : ‘হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে সর্বক্ষমতাবান’ (সূরা আত-তাহরীম, আয়াত : ৮)।
মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দু‘আ ও যিকর
দু‘আ-১ : আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী করীম (ﷺ)-এর অধিকাংশ সময়ের দু‘আ ছিল,
اَللّٰهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ : আল্লহুম্মা আ’তিনা ফিদ দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াক্বিনা আযাবান নারি।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়াতে ও আখেরাতে কল্যাণ দান করুন, আর আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব হতে বাঁচিয়ে রাখুন’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩৮৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৯০)।
দু‘আ-২ : আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, নবী করীম (ﷺ)-এ দু‘আ পাঠ করতেন,
اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ النَّارِ وَعَذَابِ النَّارِ ، وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَشَرِّ فِتْنَةِ الْغِنَى ، وَشَرِّ فِتْنَةِ الْفَقْرِ ، اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ ، اَللّٰهُمَّ اغْسِلْ قَلْبِىْ بِمَاءِ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ ، وَنَقِّ قَلْبِىْ مِنَ الْخَطَايَا ، كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ ، وَبَاعِدْ بَيْنِىْ وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ ، اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ
উচ্চারণ : আল্ল-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন ফিতনাতিন নারি ওয়া আযাবিন নারি, ওয়া ফিতনাতিল ক্ববরি ওয়া আযাবিল ক্ববরি, ওয়া শাররি ফিতনাতিল গিনা ওয়া শাররি ফিতনাতিল ফাক্বরি। আল্ল-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল। আল্ল-হুম্মাগসিল ক্বলবী বিমা-ইছ ছালজি ওয়াল বারাদি ওয়া নাক্কি ক্বলবী মিনাল খত্বাইয়া, কামা নাক্কাইতাছ ছাওবাল আবইয়াযু মিনাদ দানাসি, ওয়া বা‘ইদ বাইনী ওয়া বাইনা খত্বাইয়াইয়া কামা বা‘আদতা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিবি। আল্ল-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়াল মা’ছামি ওয়াল মাগরামি।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে জাহান্নামের সংকট, জাহান্নামের শাস্তি, কবরের সংকট, কবরের শাস্তি, প্রাচুর্যের ফিতনা ও অভাবের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধৌত করুন। আর আমার অন্তর গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দিন, যেভাবে আপনি শুভ্র বস্তের ময়লা পরিষ্কার করে থাকেন এবং আমাকে আমার গুনাহ থেকে এতটা দূরে সরিয়ে রাখুন, পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তকে পশ্চিম প্রান্ত থেকে যত দূরে রেখেছেন। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি অলসতা, গুনাহ এবং ঋণ হতে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৬৩৭৭; তিরমিযী, হা/৩৪৯৫, নাসাঈ, হা/৫৪৬৬)।
দু‘আ-৩ : আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেন,
اللَّهُمَّ إِنِّى أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
উচ্চারণ : ‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল আজযি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুবনি ওয়াল হারামি ওয়াল বুখলি ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন আযাবিল ক্ববরি ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি’।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, বার্ধক্য, বখিলতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আপনার নিকট আরও আশ্রয় চাচ্ছি কবরের শাস্তি, জীবন ও মরণের ফিতনার খারাবী থেকে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৭০৬)।
প্রসঙ্গসমূহ »:
দু‘আ