যে কোন সময় (রাতে ও দিনে) পঠিতব্য দু‘আ ও যিকর
নে‘মতের শুকরিয়া আদায় ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা
দু‘আ-১: আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসনীয় গুণাবলী, তাঁর পসন্দনীয় বাক্যসমূহ ও সম্মান সূচক শব্দের মাধ্যমে তাঁর নে‘মতের শুকরিয়া আদায় করা। যেমন- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, আল্লহু আকবার, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ইত্যাদি।
দু‘আ-২: কেউ কাউকে অনুগ্রহ করলে অনুগ্রহকারীকে বলা,
جَزَاكَ اللّٰهُ خَيْرًا
উচ্চারণ : জাযাকাল্ল-হু খইরান।
অর্থ: ‘আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে কল্যাণকর প্রতিদান দিন’।
ফযীলত : উসামা ইবনু যায়েদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কাউকে অনুগ্রহ করা হলে সে যদি অনুগ্রহকারীকে বলে, ‘আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে কল্যাণকর প্রতিদান দিন’ তবে সে উপযুক্ত ও পরিপূর্ণ প্রশংসা করল (তিরমিযী, হা/২০৩৫; সনদ ছহীহ)।
তওবাহ ও ইস্তেগফারের দু‘আ
দু‘আ-১: ইবনু ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আমরা একই মজলিসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইস্তিগফার একশ’ বার গুণতাম। তিনি বলেছেন,
رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُوْرُ
উচ্চারণ : রব্বিগ ফিরলী ওয়া তুব ‘আলাইয়্যা ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুল গফূর।
অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবাহ কবুল করুন। কেননা আপনি তওবাহ কবুলকারী ও ক্ষমাশীল (মুসনাদে আহমাদ, হা/৪৭২৬; তিরমিযী, হা/৩৪৩৪; আবূ দাঊদ, হা/১৫১৬; সনদ ছহীহ)।
দু‘আ-২: নবী করীম (ﷺ)-এর আযাদকৃত গোলাম যায়দের পুত্র বেলাল ইবনু ইয়াসার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমার পিতা আমার দাদার মাধ্যমে বলেন যে, আমার দাদা যায়েদ বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি বলল
أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ الَّذِيْ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লহালাল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতূব ইলাইহি।
অর্থ: ‘আল্লাহ তা‘আলার নিকট আমি ক্ষমা চাই যিনি ছাড়া সত্য কোন মাবূদ নেই, যিনি চিরজীবি, চিরস্থায়ী এবং আমি তাঁর কাছে তাওবাহ করি’।
ফযীলত: তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়, যদিও সে রণক্ষেত্র হতে পলায়ন করে থাকে (আবূ দাঊদ, হা/১৫১৭; তিরমিযী, হা/৩৫৭৭; মিশকাত, হা/২৩৫৩; সনদ ছহীহ)।
দু‘আ-৩: আদম (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর স্ত্রী হাওয়া তাঁদের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেছিলেন,
رَبَّنَا ظَلَمۡنَاۤ اَنۡفُسَنَا ٜ وَ اِنۡ لَّمۡ تَغۡفِرۡ لَنَا وَ تَرۡحَمۡنَا لَنَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ
অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছি। আর যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব (সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ২৩)।
দু‘আ-৫: নূহ (আলাইহিস সালাম) ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছিলেন,
رَبِّ اغۡفِرۡ لِیۡ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِمَنۡ دَخَلَ بَیۡتِیَ مُؤۡمِنًا وَّ لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَ الۡمُؤۡمِنٰتِ
অর্থ : ‘হে আমার রব! আপনি ক্ষমা করুন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং যারা মুমিন হয়ে আমার ঘরে প্রবেশ করে তাদেরকে এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে (সূরা নূহ, আয়াত: ২৮)।
দু‘আ-৫: ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছিলেন,
رَبَّنَا اغۡفِرۡ لِیۡ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ یَوۡمَ یَقُوۡمُ الۡحِسَابُ
অর্থ: ‘হে আমাদের রব! যেদিন হিসেব অনুষ্ঠিত হবে সেদিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদেরকে ক্ষমা করুন (সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ৪০-৪১)।
দু‘আ-৭: মূসা (আলাইহিস সালাম) মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছিলেন,
رَبِّ اِنِّیۡ ظَلَمۡتُ نَفۡسِیۡ فَاغۡفِرۡ لِیۡ
অর্থ: ‘হে আমার রব! আমি তো আমার নিজের প্রতি যুলুম করেছি; কাজেই আপনি আমাকে ক্ষমা করুন’ (সূরা আল-ক্বাছাছ, আয়াত: ১৬)।
প্রসঙ্গসমূহ »:
দু‘আ