বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) 

-হাসিবুর রহমান বুখারী* 


(১০ম কিস্তি)  

অতঃপর শাইখ আব্দুর রাযযাক ইবনু আফিফী (রাহিমাহুল্লাহ) ১৩৬৮ হিজরীতে ‘মা‘আরিফ’ অর্থাৎ শিক্ষাবিভাগে কাজের জন্য সঊদী আরবে গমন করেন। সেখানে গিয়ে তিনি ত্বায়িফের ‘দারুত তাওহীদ’ নামক মাদরাসায় শিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত হন। দুই বছর কাজ করার পর, ১৩৭০ হিজরীর মুহাররাম মাসে তাঁকে উনাইযাহ্ শহরের ‘মা‘হাদুল ‘ইল্‌মী’ নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়। অতঃপর ১৩৭০ হিজরীর শাওওয়াল মাসের শেষে তাঁকে রিয়াদে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম আলে আশ-শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তত্ত্বাবধানে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকতা করেন। পরে তাঁকে কুল্লিয়্যাতুশ শারইয়্যাহ বা শারী‘আহ কলেজে প্রভাষক হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়, যেটি ১৩৭৩ হিজরীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অতঃপর ১৩৭৫ হিজরীতে তাঁকে ‘মা‘হাদুল-আলী লিল-কাযা’ বা উচ্চতর বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর ১৩৯১ হিজরীতে তাঁকে ‘রিয়াসাতুল আম্মাহ লি-ইদারাতিল বুহূছিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা ওয়াদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ’ অর্থাৎ ইসলামিক গবেষণা, ফাতাওয়া বিভাগ, দাওয়াহ্ বিভাগ ও দিকনির্দেশনা বিষয়ক বিভাগের সাধারণ সভাপতি হিসাবে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে তাঁকে ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ তথা সঊদী আরবের স্থায়ী গবেষণা ও ফাতাওয়া পরিষদের সহ-সভাপতি হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। পাশাপাশি তিনি ‘হাইয়াতু কিবারিল উলামা’ তথা সঊদীর আরবের সিনিয়র উলামা পরিষদের সদস্যও ছিলেন।

আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে প্রখর স্মরণশক্তি ও গভীর অন্তর্দৃষ্টি সহ বহু গুণে গুণান্বিত করেন। তিনি ‘আল-আযহার’ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পরিধির বাইরে জ্ঞান অন্বেষণে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করেন এবং ভাষাতত্ত্ব, তাফসীর, উছূল (ইসলামী মূলনীতি), আক্বীদা, হাদীছ ও ফিক্বহ ইত্যাদি শাস্ত্রাবলীর জ্ঞান অর্জনে গভীর মনোনিবেশ করেন। ফলস্বরূপ যখনই তিনি এসব বিষয়ের কোন একটি বিষয়ে কথা বলা শুরু করতেন, তখন শ্রোতারা মনে করতেন যে, সেটিই তাঁর মূল বিশেষজ্ঞতার ক্ষেত্র, যাতে তিনি পুরো সময় ব্যয় করেছেন। তাঁর জ্ঞান থেকে অসংখ্য মানুষ উপকৃত হয়েছেন। তিনি উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত কিছু শিক্ষার্থীর থিসিস (ঞযবংরং) অর্থাৎ গবেষণাপত্রের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। কিছু গবেষণাপত্রের মুনাক্বাশাহ অর্থাৎ আলোচনা ও পর্যালোচনাকারী কমিটিতেও অংশ গ্রহণ করতেন, এবং সুযোগমতো জ্ঞান অন্বেষণকারী ছাত্রদের জন্য মসজিদে কিছু সময় পাঠদান করতেন। তিনি বক্তৃতা দিতেন এবং হজ্জের মৌসুমে দাওয়াত ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করতেন।[১]

লেখালেখি বা রচনার ক্ষেত্রে শাইখের অবস্থান ছিল-তিনি নিজে থেকে বেশি লেখা-রচনা সংরক্ষণ করতেন না, বরং তিনি মনে করতেন যে, পূর্বসূরিদের লেখাই যথেষ্ট। তবে মানুষের জীবনে উদ্ভাসিত নতুন, জটিল ও উদ্ভূত যে বিষয়গুলো সামনে আসে, সেগুলো ব্যতীত। তবে তিনি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিসিসের (ঞযবংরং) অর্থাৎ গবেষণাপত্রের তত্ত্বাবধায়ন করেছেন এবং তাঁর কিছু মূল্যবান রচনাও রয়েছে, যেমন : (১) ‘মুযাক্কিরাতুত-তাওহীদ’ (তাওহীদের স্মারকলিপি)‌। (২) ‘তা’লীকুহু ‘আলা কিতাবিল ইহ্কাম মিন উছূলিল আহকাম’ অর্থাৎ উছূলুল আহকাম গ্রন্থের ‘ইহকাম’ অধ্যায়ে তাঁর টীকা। (৩) ‘তা‘লীকুহু ‘আলাল জুযঈল মুক্বাররার ফিত-তাফসীর মিনাল জালালাইন লি-ত্বুল্লাবিল মা‘হিদিল ‘ইলমিয়্যাহ’ অর্থাৎ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের জন্য তাফসীরে জালালাইনের নির্ধারিত অংশে তাঁর টীকা। (৪) শাইখ মুহাম্মদ খালীল হাররাসের সঙ্গে মিলিতভাবে, আল-আক্বীদাতুল ওয়াসিত্বিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা। (৫) শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) এর নির্দেশে ইমাম বাইহাক্বী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘আল-ই‘তিক্বাদ’ গ্রন্থে তাঁর টীকা। (৬) ইমাম গাযালীর ‘আল-মুস্তাস্বফা’ গ্রন্থে টীকা‌। এছাড়াও আরো অনেক ব্যাখ্যা ও টীকা তিনি প্রদান করেছেন।

শেষ বয়সে শাইখ আব্দুর রাযযাক ইবনে আফিফী (রাহিমাহুল্লাহ) একাধিক রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। শেষ দিকে ১৪১৫ হিজরীর ১৬ই রবিউল আউয়াল, মঙ্গলবার, তিনি তীব্র লিভারের ব্যথা, কিডনির দুর্বলতা, ফুসফুসে পানি জমা এবং হৃদস্পন্দন হ্রাস পাওয়ার সমস্যায় আক্রান্ত হন। সুতরাং তাঁকে রিয়াদের সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, এবং সেখানে তাঁর অবস্থা অত্যধিক গুরুতর হওয়ায় অনেকেই মনে করেছিলেন যে, এটাই তাঁর শেষ অসুস্থতা। অবস্থা আরো অবনতি হতে থাকে, অবশেষে ১৪১৫ হিজরীর ২৫শে রবিউল আউয়াল, বৃহস্পতিবার  তাঁর মৃত্যু ঘটে। অতঃপর শুক্রবার জুমু‘আর ছালাতের পর রিয়াদের বড় মাসজিদে তাঁর জানাযার ছালাত অনুষ্ঠিত হয়। অসংখ্য মানুষ তাঁর জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। তাঁকে রিয়াদের ‘মাক্ববারাতুল আওদ’ বা আল-আওদ নামক ক্ববরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর জানাযার ছালাতে ইমামতি করেন তাঁর ছাত্র, সহকর্মী ও বন্ধুবর শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ আলে আশ-শাইখ। তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অনেক কবিতা ও শোকগাথা রচিত হয়েছিল। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর উপর রহম করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন।[২]

শাইখ আব্দুর রাযযাক ইবনে আফিফী  (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সঙ্গে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সম্পর্ক

শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী সম্পর্কে যে সব তথ্যসূত্র পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগে আমরা এমন কোন উল্লেখ পাইনি যে, শাইখ ইবনে উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) আফিফী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ছাত্র ছিলেন বা তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তবে একটি মাত্র উৎসে এই শিক্ষালাভের সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া যায়- তা হল: শাইখ আব্দুল আযীয আল-আসকার এর লেখা ‘মিন আ‘লামিনা’ নামক গ্রন্থ। তিনি তাঁর বইয়ের দু’টি স্থানে শিক্ষালাভের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। যথা:

  • (ক) শাইখ আল-আফিফী ১৩৬৮ হিজরীতে তাঁর আযহারী পোশাক পরিহিত অবস্থায় ত্বায়িফে আগমন করেন‌। সঙ্গে ছিলেন তাঁর পিতা, যিনি তাঁর সেবা-যত্ন করে গেছেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।  আব্দুর রাযযাক আল-আফিফী দুই বছর দারুত তাওহীদে অবস্থান করেন। এরপর ১৩৭০ হিজরীতে রিয়াদে ‘আল-মা‘আহাদুল ‘ইলমী’ প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি সেখানে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে পাঠদান করেন। পরে তাঁকে উনাইযার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানের জন্য স্থানান্তর করা হয়। উনাইযাহ শহরে শাইখ আব্দুর রহমান আস-সা‘দী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিছু ছাত্র শাইখ আব্দুর রাযযাক আল-আফিফীর কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন : (১) শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু স্বলিহ্ আল-উছাইমীন, (২) শাইখ আলী আল-মুহাম্মাদ আয-যামিল, (৩) হামদ আল-মুহাম্মাদ আল-বাসাম, (৪) শাইখ আব্দুল্লাহ আন-নাঈম, এছাড়াও আরো অনেকে। উনাইযাহ শহরে অবস্থানকালে তিনি উনাইযার নাগরিকদের কাছ থেকে গভীর ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও স্নেহ অর্জন করেন। কারণ, তারা তাঁর মধ্যে ধর্মপরায়ণতা, ন্যায়নিষ্ঠা, বিশুদ্ধ আক্বীদা এবং গভীর জ্ঞান লক্ষ্য করেছিলেন। এরপর তিনি রিয়াদে ফিরে আসেন এবং সেখানে ‘আল-মা‘আহাদুল ‘ইলমীর’ ‘শরী‘আহ (ঋধপঁষঃু) অনুষদে’ ও ‘আরবী ভাষা (ঋধপঁষঃু) অনুষদে’ পাঠদান করেন। এই শিক্ষাদানের মাধ্যমে তাঁর বহু ছাত্র তৈরি হয়।[৩]
  • (খ) ‘মিন আ‘লামিনা’ গ্রন্থের লেখক অন্য এক স্থানে ‘তালামিযুহু’ তাঁর অর্থাৎ আল-আফিফীর ছাত্ররা’ শিরোনামের অধীনে লিখেছেন, ‘আমাদের শাইখ আল-আফিফীর জীবনের একটি দীর্ঘ সময় শিক্ষাদানে অতিবাহিত হয়েছিল, ফলস্বরূপ তার বহু ছাত্র ও শিষ্য তৈরি হয়। তাঁদের মধ্যে কিছুজন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে ইলম্ ও ফিক্বহ (অর্থাৎ ইসলামী আইনবিদ্যা) আহরণ করতে থাকেন- আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর প্রতি রহম করুন’। তাঁর বিখ্যাত ছাত্রদের মধ্যে সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন- যেমন : ফাযীলাতুশ শাইখ রাশীদ বিন খানাইন, ফাযীলাতুশ্ শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ্ আল-উছাইমীন, ফাযীলাতুশ্ শাইখ আব্দুল আযীয আলে আশ-শাইখ, ফাযীলাতুশ্ শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে জুবায়ের, ফাযীলাতুশ্ শাইখ আব্দুল্লাহ আল-বাসাম, ফাযীলাতুশ্ শাইখ ছালিহ আল-ফাওযান, ফাযীলাতুশ্ শাইখ আব্দুল্লাহ্ ইবনে মানী‘, ফাযীলাতুশ্ শাইখ ছালিহ আস-সাদলান, ফাযীলাতুশ্ শাইখ আব্দুল্লাহ্ ইবনে জিবরীন, ফাযীলাতুশ্ শাইখ আব্দুল্লাহ্ ইবনে গুদাইয়ান, ফাযীলাতুশ্ শাইখ আব্দুল্লাহ আত-তুর্কী... আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিন।[৪]

উপরিউক্ত উদ্ধৃতি থেকে প্রতিভাত হয় যে, আমাদের মুর্তা‌জাম শাইখ ইবনে উছাইমীন- শাইখ আব্দুর রাযযাক আফিফী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর এই শিষ্যত্ব গ্রহণের বিষয়টি ‘উনাইযাহ’ শহরেই প্রমাণিত হয়েছে, যে সম্পর্কে লেখক নিশ্চিতভাবে বলেছেন। এমনটি হওয়া খুবই অসম্ভব যে, শাইখ আফিফী (রাহিমাহুল্লাহ) উনাইযাহ শহরে অবস্থান করছেন এবং সেখানে ১৩৭০ হিজরীর মুহাররাম মাস থেকে শাওওয়াল মাস পর্যন্ত পড়াচ্ছেন। উপরন্তু তিনি তাঁর জ্ঞানের ব্যাপকতা, গভীর অনুধাবন এবং সালাফী মানহাজের প্রতি আহ্বানের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। আমাদের শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) শাইখ আব্দুর রাযযাক আফিফী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সম্পর্কে শুনবেন কিন্তু তাঁর থেকে উপকৃত হবেন না, কিংবা তাঁর কাছ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে আগ্রহী হবেন না- এমনটি হওয়া সত্যিই খুবই অসম্ভব। বিশেষত যখন আমরা নিশ্চিতরূপে জানি যে, আমাদের শাইখ ছিলেন জ্ঞান অন্বেষণে অত্যন্ত আগ্রহী ও অধ্যবসায়ী। সুতরাং এটি নিশ্চিত যে, ইবনু উছাইমীন শাইখ আফিফীর ছাত্র ছিলেন।

আর যে সময়ে ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) রিয়াদের ‘আল-মা‘হাদুল ‘ইলমী’-তে অধ্যয়ন করেছিলেন- অর্থাৎ ১৩৭২ হিজরী সাল থেকে ১৩৭৩ হিজরীর শেষ পর্যন্ত- এই সময়ে শাইখ আল-আফিফী ‘আল-মা‘হাদুল ‘ইলমী-তে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি প্রতিষ্ঠানের ‘কিবারে উলামা’ অর্থাৎ বড় বড় আলিম ও শাইখদের সঙ্গে সেখানে পাঠদান করতেন।  এ বিষয়টি সুনিশ্চিত করেছেন শাইখ আলী আর-রুমী। তিনি বলেছেন, শাইখ- অর্থাৎ আল-আফিফী ছিলেন সেই ব্যক্তি- যিনি রিয়াদের ‘আল-মা‘হাদুল ‘ইলমী’-তে প্রথম দিন থেকেই, অর্থাৎ ১৩৭১ হিজরী সালে উদ্বোধনের দিন থেকেই শিক্ষাদান শুরু করেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন- ফিক্বহে, হাদীছে, তাফসীরে ও ইতিহাসে তাঁর ছিল বিস্তৃত জ্ঞান এবং বয়স বৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর প্রখর বুদ্ধিমত্তা, সম্পূর্ণ সচেতনতা ও জ্ঞানের উপর অটল ছিলেন।[৫] অতঃপর আমাদের চোখে শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর একজন প্রাচীন ছাত্র- শাইখ মুহাম্মাদ আল-উছমান আল-কাযী-এর কথা পরিলক্ষিত হয়। তিনি ইবনু উছাইমীনের শিক্ষকগণের তালিকায় সম্মানিত শাইখ আব্দুর রাযযাক আল-আফিফীকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটি একটি মূল্যবান তথ্য। আলহামদুলিল্লাহ্, আল্লাহর তাওফীক্বে আমরা এ তথ্য জানতে পেরেছি।[৬]

(২) ফাযীলাতুশ শাইখ আল-মুহাদ্দিছ আব্দুর রহমান আল-ইফরীক্বী (রাহিমাহুল্লাহ), যিনি ১৩৭৭ হিজরীতে ইন্তিকাল করেন। তিনি ছিলেন সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, যারা আমাদের শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অধ্যয়নকালীন সময়ে ‘আল-মা‘হাদুল ‘ইলমী’-তে তাঁর সঙ্গে একই সময়ে অবস্থান করছিলেন। এ তথ্যটি আমরা আমাদের শাইখ আল্লামা আব্দুর রহমান ইবনু নাছির আল-বাররাক (হাফিযাহুল্লাহ)-এর মুখ থেকে শুনেছি। তিনি জানান যে, শাইখ আল-ইফরীক্বী প্রতিষ্ঠানে হাদীছ বিষয়টি পড়াতেন। অতএব, প্রবল ধারণা করা যায় যে, তিনি ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর শাইখদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর আল্লাহ তা‘আলাই সর্বাধিক জ্ঞাত।

আমাদের শাইখ, হিজাজের মুহাদ্দিছ শাইখ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ (হাফিযাহুল্লাহ) ঐ সময় সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমি শাইখ আব্দুর রহমান আল-ইফরীক্বী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাছে রিয়াদে ১৩৭২ হিজরী ও ১৩৭৩ হিজরীতে হাদীছ ও মুছত্বালাহুল হাদীছ (হাদীছ শাস্ত্রের পরিভাষা) বিষয়ে অধ্যয়ন করেছি। তিনি ছিলেন এক নিষ্ঠাবান শিক্ষক, বিশাল জ্ঞানসম্পন্ন আলিম, সুযোগ্য পথপ্রদর্শক, উপদেশদাতা এবং কল্যাণের এক উত্তম আদর্শ। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন’ (শাইখ উমার ইবনে মুহাম্মাদ ফালাতাহ (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে ‘শাইখ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ (হাফিযাহুল্লাহ) কর্তৃক লিখিত রিসালাহ ‘কাইফা আরাফতুহু অর্থাৎ কিভাবে আমি তাঁকে (শাইখ ফালাতাহকে) চিনলাম?’[৭] এছাড়াও আরো যেসব শাইখদের কাছ থেকে শাইখ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) জ্ঞানার্জন করেছিলেন, এবং যাঁরা সেই সময়ে ‘আল-মা‘হাদুল ‘ইলমী’-তে পড়াতেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের কথা আমাদের শাইখ আল-বাররাক (রাহিমাহুল্লাহ) জানিয়েছেন।[৮]

(ইনশাআল্লাহ চলবে)


* মুর্শিদাবাদ, ভারত।

তথ্যসূত্র :
[১]. ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ-এর ভূমিকা, জীবনী অধ্যায়, ১ম অধ্যায়, পৃ. ৩-৪।
[২]. আদ-দুর্রুছ ছামীন ফী তারজামাতি ফাক্বিহিল উম্মাহ আল্লামাহ ইবনে উছাইমীন, পৃ. ৭০।
[৩]. মিন আ‘লামিনা, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৯।
[৪]. মিন আ‘লামিনা, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪১।
[৫]. মাজাল্লাতুত তাওহীদ আল-মিসরিয়্যাহ্, পঞ্চম সংখ্যা,  ২৩তম বছরের ন্য।
[৬]. জারীদাতুর রিয়াদ, সংখ্যা ১১৮৯৬।
[৭]. আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন: علماء ومفكرون عرفتهم ‘আলিম ও চিন্তাবিদ যাদের আমি চিনি’- লেখক: আল-মাজযূব, ১ম খণ্ড, পৃ. ৬-৩৭৬।
[৮]. আদ-দুর্রুছ ছামীন ফী তারজামাতি ফাক্বীহিল উম্মাহ আল্লামা ইবনে উছাইমীন, পৃ. ৭৩।




এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৪র্থ কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৫ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (১১শ কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৭ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান : শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (১০ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (২য় কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৮ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৬ষ্ঠ কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
কে ছিলেন আব্দুল মতীন সালাফী (রাহিমাহুল্লাহ) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৯ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) (৩য় কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ