বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন

এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) 

-হাসিবুর রহমান বুখারী* 


(৬ষ্ঠ কিস্তি) 

রিয়াযের ‘আল-মা‘হাদুল ইলমী’ বা ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাঊদ ইসলামী ইউনিভার্সিটিতে উলামা ও শাইখদের তত্ত্বাবধানে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)

নিঃসন্দেহে স্থানান্তরিত হওয়ার এই অধ্যায়টি শাইখের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর জন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও পরিচিতির অসংখ্য পথ উন্মুক্ত হয়েছিল।

‘আল-মা‘হাদুল ইলমী’ বা ‘ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাঊদ ইসলামী ইউনিভার্সিটি’ সূচনার এক বছর পর ১৩৭২ হিজরীতে শাইখ মা‘হাদের সঙ্গে মিলিত হন। সে সময় মা‘হাদে ‘নিযামুল ক্বাফ্‌য’ বা ‘Academic Acceleration’ নামে একটি নিয়ম চালু হয়েছিল। বাংলায় অনুবাদ করলে হয় ‘একাডেমিক ত্বরণ’ বা ‘শিক্ষা ত্বরান্বিতকরণ’। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত গতিতে শিক্ষাগত স্তর অর্জন করতে সাহায্য করা হয়। যে সম্পর্কে শাইখ বলতেন,

دخلت المعهد العلمي من السنة الثانية، والتحقت به بمشورة من الشيخ علي الصالحي، وبعد أن إستأذنت من الشيخ عبد الرحمن السعدي رحمه الله تعالى، وكان المعهد العلمي في ذلك الوقت، ينقسم الى قسمين: خاص وعام، فكنت في القسم الخاص، وكان في ذلك الوقت من شاء أن يقفز، بمعنى أنه يدرس في السنة المستقبلة له في اثناء الإجازة، ثم يختبرها في اول العام الثاني، فاذا نجح انتقل الى السنة التي بعدها وبهذا إختصرت الزمان

‘আল-মা‘হাদুল ইলমী’-এর ভিত্তি স্থাপনের দ্বিতীয় বছর আমি সেখানে ভর্তি হয়েছিলাম। শাইখ আলী আছ-ছালিহীর পরামর্শে এবং শাইখ আব্দুর রহমান আস-সা‘দী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অনুমতি নিয়ে। তৎকালীন সময়ে ‘আল-মা‘হাদুল ইলমী’ দু’টি বিভাগে বিভক্ত ছিল। যথা: খাছ বা বিশেষ এবং ‘আম বা সাধারণ। আমি খাছ তথা বিশেষ বিভাগে ছিলাম। সেই সময় যারা মনস্থির করত তারা ‘নিযামুল ক্বাফ্‌য’ বা ‘অপধফবসরপ অপপবষবৎধঃরড়হ’-এর নিয়মানুযায়ী ত্বরান্বিতকরণ করতে পারত অর্থাৎ ছুটির সময় তারা আগামী বছরের কোর্স অধ্যায়ন করত এবং দ্বিতীয় বছরের শুরুতে পরীক্ষা দিত। যদি তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হত, তাহলে তারা পরের বছরে চলে যেতে পারত। এইভাবেই আমি সময় সংক্ষিপ্ত করেছিলাম’।[১]

উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে পরিস্ফুটিত হয় যে, শাইখ মোটামুটি ২৫ বছর বয়সে ‘আল-মা‘হাদুল ইল্‌মী’-তে ভর্তি হয়েছিলেন। জীবনের এই অধ্যায়ে এসে তিনি দৈহিক, মানসিক ও বুদ্ধিভিত্তিক পরিপক্কতা অর্জন করেছিলেন। পক্ষান্তরে ইলমী তথা জ্ঞানসম্বন্ধীয় পরিপক্কতা তো তিনি উনাইযাহ শহরের আলিমদের কাছেই অর্জন করে ফেলেছিলেন, বিশেষ করে শাইখ সা‘দী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকটে। এই দিক দিয়ে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) মা‘হাদের শাইখদের কাছ থেকে উপকৃত হওয়ার এবং মুনাফা অর্জনের যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন। শাইখদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে এবং তাঁদের থেকে জ্ঞানার্জন করে তিনি পারদর্শী, সুদক্ষ এবং সুযোগ্য হয়ে উঠেছিলেন। তাঁদের থেকে তিনি ভরপুর উপকৃত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে আফসোস করতে হয় এমন কোন সময় তিনি অপচয় করেননি, জ্ঞানের ক্ষুধা নিবারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোন কর্মের সম্মুখীন হননি। সে সময় মা‘হাদ সূচনালগ্নে থাকলেও সেখানে কিন্তু অসংখ্য আল্লামা, বিদ্বান ব্যক্তি ও মাশাইখের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছিল। সচরাচর একই সময়ে একই জায়গাতে এতগুলো আল্লামার উপস্থিতি দৃষ্টিগোচর হয় না। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
(১) আল্লামা মুফাসসির শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানক্বীত্বী (রাহিমাহুল্লাহ)
(২) ইমাম মুহাদ্দিছ শাইখ আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ)
(৩) সম্মানিত উস্তায আল্লামা আব্দুর রযযাক আফিফী (রাহিমাহুল্লাহ) ও অন্যরা।
তবে এঁদের সকলের উপরে যিনি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন, যিনি এ ব্যাপারে বাদশার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন এবং তৎকালীন সময়ের বড় বড় মাশাইখ, সুনামধন্য ব্যক্তিত্ব ও নেতা-মন্ত্রীদের একত্রিত করেছিলেন। তিনি হলেন ইমাম মুহাক্কিক্ব মুদাক্কিক্ব শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম ইবনু আব্দুল লাত্বীফ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু হাসান ইবনু শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ), আল্লাহ তা‘আলা তাঁদের সকলকে ক্ষমা করুন এবং সকলকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন। এরূপ একটি পবিত্র ইলমী পরিবেশে পরিশ্রমী ছাত্র ইবনু উছাইমীন শিক্ষা জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনা করেন। অল্প দিনেই তিনি শিক্ষা গগনের আলোকিত নক্ষত্রে পরিণত হোন। শিক্ষাঙ্গনে পদার্পণের পরপরই সহপাঠীদের মধ্যে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।[২] ‘দারুল ইফতা’-এর একজন সম্মানিত সদস্য শাইখ আব্দুল আযীয আদ-দাঊদ বলেন, ‘শাইখ যখন রিয়াযে পদার্পণ করেন তখন তিনি শিক্ষা ও বুদ্ধিমত্তায় অনন্য ছিলেন। ছাত্রমহলে তার বুদ্ধিমত্তার চর্চা তুঙ্গে ছিল’।[৩]

‘আল-মা‘হাদুল ইলমী’-এর উস্তাদবৃন্দ

‘আল-মা‘হাদুল ইলমী’-তে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) যে সমস্ত মাশাইখের সাহচার্যে ছিলেন, যাঁদের কাছ থেকে জ্ঞানার্জন করেছেন, তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিম্নে বর্ণনা করা হল:

‘আল-মা‘হাদুল ইলমী’ বা ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু সাঊদ ইসলামী ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ববিখ্যাত মুফাসসির, যুগশ্রেষ্ঠ উছূলবিদ আল্লামা মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানক্বীত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) (১৩২৫-১৩৯৩ হি.)-এর তত্ত্বাবধানে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)

আলিম, আল্লামা, ফক্বীহ্, মুফাসসির, মুহাক্কিক্ব, উছূলবিদ মুহাম্মাদ আল-আমীন ইবনু মুহাম্মাদ আল-মুখতার ইবনু আব্দুল ক্বাদীর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু নূহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু..... তাঁর বংশধারা হুমাইরা গোত্রের দিকে প্রত্যাবর্তন করে হয়। তিনি ১৩২৫ হিজরীতে শানক্বীত্বে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকালেই তাঁর বাবা মৃত্যুবরণ করেন যখন তিনি আম্মাপারার কিছু অংশ পড়ছিলেন। তাঁর জন্য বাবা বিষয়-সম্পত্তি রেখে গিয়েছিলেন। তিনি মামাদের কাছে বসবাস করতেন এবং মামার কাছেই কুরআনুল কারীম হিফয্  করেছেন, যখন তার বয়স ১০ বছরও অতিক্রম করেনি। তিনি বাল্যকাল থেকে যৌবনকাল পর্যন্ত সততার সঙ্গে বেড়ে উঠেছেন এবং অসংখ্য শাইখের কাছ থেকে জ্ঞানার্জন করেছেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি নিজ গৃহে পঠন-পাঠন ও বিচার বিভাগের কাজ শুরু করেন। তাঁর শহরের যাবতীয় সমস্যার সমাধান নেয়ার জন্য লোকেরা তাঁর কাছে আসতেন। ১৩৬৭ হিজরীতে হজ্জ সম্পাদন করার পর তাঁকে মসজিদে নববীতে দারস্ দেয়ার জন্য মু‘আল্লিম হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। অতঃপর ১৩৭১ হিজরীতে তাঁকে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম রিয়াযের ‘আল-মা‘হাদুল ইলমী’-তে এবং এখানকার কলেজে শিক্ষকতা করার জন্য ডেকে পাঠান। সুতরাং তিনি রিয়াযের উদ্দেশ্যে গমন করেন।

আমাদের শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) সেখানেই তাঁর কাছ থেকে জ্ঞানার্জন করেন। অতঃপর ১৩৮১ হিজরীতে তিনি মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন আল-জামি‘আহ আল-ইসলামিয়্যাতে শিক্ষকতা করার জন্য এবং মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। তাঁকে هيئة كبار العلماء ‘বৃহত্তম উলামা পরিষদ’ এবং المجلس التأسيسي لرابطة العالم الاسلامي ‘ইসলামিক ওয়ার্ল্ড লীগের প্রতিষ্ঠা পরিষদ’-এ নিযুক্ত করা হয়।[৪]

তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা অসংখ্য, তন্মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও পরিচিত গ্রন্থটি হল- ‘আযওয়াউল বায়ান ফী ইযাহিল কুরআন বিল কুরআন’। তিনি ১৩৯৩ হিজরীর ১৭ই যিলহজ্জ বৃহস্পতিবার পবিত্র মক্কা নগরীতে মৃত্যুবরণ করেন। মসজিদে হারামে শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর জানাযার ছালাতের ইমামতি করেছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। আমীন!

আমাদের শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) মাঝে মধ্যেই বর্ণনা করতেন যে, আমরা আল্লামা মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানক্বীত্বী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাছ থেকে জ্ঞানের অথৈ সমুদ্র অর্জন করেছি এবং মা‘হাদে ক্লাসে বসার বিস্ময়কর ঘটনা বলতেন, বাকিরা খুবই মনোযোগ সহকারে শুনতেন। তিনি বলতেন, ‘আমরা রিয়াযের ‘আল-মা‘হাদুল ইল্‌মী’-এর ছাত্র ছিলাম। একদিন আমরা ক্লাসে বসে ছিলাম, এমন সময় একজন শাইখ আমাদের ক্লাসে প্রবেশ করলেন। যখন আমি তাকে দেখলাম, আমি মনে মনে বললাম, নিশ্চয় এই ব্যক্তি একজন বেদুইন, তার কাছে কোন জ্ঞান নেই, তার জামাকাপড় পুরানো, তার চেহারায় কোন ভয়ভীতির প্রভাব নেই, তিনি তার বাহ্যিক অবয়বের দিকে মনোযোগ দেন না। সুতরাং আমাদের চোখে তার মর্যাদা কমে গেল। তখন আমি শাইখ আব্দুর রহমান আস-সা‘দীকে স্মরণ করলাম এবং মনে মনে বললাম, আমি কি শাইখ আব্দুর রহমান আস-সা‘দীকে ছেড়ে এই বেদুইনের সামনে বসব!? অতঃপর যখন আল্লামা শানক্বীত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর পাঠদান শুরু করলেন, তখন তাঁর অফুরন্ত জ্ঞানের সাগর থেকে আমাদের উপর জ্ঞানের মূল্যবান মণি-মুক্তা বর্ষিত হতে লাগল। তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে, তিনি একজন মহান পণ্ডিত, দক্ষ আলিম, বিচক্ষণ ব্যক্তি এবং জ্ঞানের ক্ষেত্রে একজন অসামান্য ব্যক্তিত্ব। আমরা তাঁর ইলম্, আখলাক্ব, দুনিয়াবিমুখতা, তপস্যা, পরহেযগারী, ধার্মিকতা ও আল্লাহভীরুতা থেকে সীমাহীন উপকৃত হয়েছি’।[৫]

শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) নির্দিষ্ট করে ঐ সমস্ত দিকের কথা উল্লেখ করেন, যে সমস্ত দিকে তিনি আল্লামা শানক্বীত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। সেগুলো হল- (১) ইলম (২) আখলাক্ব (৩) দুনিয়াবিমুখতা (৪) ধার্মিকতা। এসব বিষয়ে আল্লামা শানক্বীত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) খুবই পারদর্শী ছিলেন। আমাদের শাইখ কতটা প্রভাবিত হয়েছিলেন, তা প্রকাশ করার জন্য সংক্ষিপ্তাকারে বিষয়গুলো আলোচনা করা হল:

তাঁর জ্ঞান

১- তাঁর ছাত্র ফাযিলাতুশ শাইখ আত্বিয়্যাহ সালিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তাঁর আগ্রহ ছিল জ্ঞানের প্রতি, শুধু জ্ঞানের প্রতি এবং  সর্বপ্রকারের জ্ঞান তাঁর কাছে ছিল যন্ত্র ও মাধ্যম স্বরূপ, শুধু কিতাবের জ্ঞানই ছিল চূড়ান্ত লক্ষ্য’। আল্লামা শানক্বীত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) নিজের সম্পর্কে বলেন, لا توجد آية في القرآن إلا درستها على حدة ‘কুরআনের এমন কোন আয়াত নেই যা আমি বিশেষভাবে অধ্যয়ন করিনি’। তিনি আরো বলেন, كل آية قال فيها الأقدمون شيئا فهو عندي ‘প্রতিটি আয়াত সম্পর্কে পূর্ববর্তীরা যা কিছু বলেছেন, তার জ্ঞান আমার কাছে রয়েছে’।[৬]

২- শাইখ আল্লামা মুহাদ্দিছ মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, من حيث جمعه لكثير من العلوم ما رأيت مثله ‘অনেক জ্ঞানের সংকলক হিসাবে তাঁর মত আমি আর কাউকে দেখিনি’।[৭]

তাঁর আখলাক্ব

১- শাইখ আত্বিয়্যাহ সালিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, لو أن للفضائل والمكرمات والشيم وصفات الكمال في الرجال عنوان يجمعها لكان هو أحق بها ‘নিশ্চয় যদি মর্যাদা, গুণ, শ্রেষ্ঠত্ব, উত্তম কাজ, মহৎ গুণ, মহানুভবতা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং মানুষের পরিপূর্ণ গুণাবলীর একটি শিরোনাম থাকত, যা এগুলোকে একত্রিত করে, তবে তিনি এর সবচেয়ে যোগ্য হতেন’। তিনি আরো বলেন, ‘আর যদি নৈতিকতাবিদরা নৈতিকতা ও গুণের মূলনীতিগুলোকে মর্যাদার সাথে সংজ্ঞায়িত করেন, তবে মর্যাদাই ছিল তার প্রতীক ও আবরণ এবং এটি তার সব কাজকর্মে তাকে নিয়ন্ত্রণ করত, তা সে নিজের ক্ষেত্রে হোক কিংবা তার ভাই ও ছাত্রদের সাথে হোক কিংবা অন্যদের সাথে হোক যাদের তিনি চিনতেন কিংবা চিনতেন না’।[৮]

তাঁর দুনিয়াবিমুখতা ও ধার্মিকতা

ফাযীলাতুশ শাইখ বারর আবু যায়িদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমাদের শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানক্বীত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) দুনিয়ার বিষয়ে স্বল্পে সন্তুষ্ট থাকতেন, আমি তাকে প্রত্যক্ষ দেখেছি, তিনি কাগজের মুদ্রার বিভিন্ন শ্রেণি চিনতেন না’। মালিক আব্দুল আযীযের ভাই আমীর আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান আলে সাঊদ ত্বায়িফ শহরে তাঁকে একটি বাড়ি হাদিয়া করেছিলেন। তিনি সেটি গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘যিনি এটি বানিয়েছেন, তিনি তো নিজের প্রয়োজনের জন্য বানিয়েছেন, আমি ওটা বানাইনি আর আমার প্রয়োজনও নেই। মদীনাতে আমার ঘর রয়েছে, সেটিই আমার জন্য যথেষ্ট’। তিনি বলতেন, ‘এক রিয়াল আর একশ’ রিয়াল সমান, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- যেন তার খরচটা সঠিকভাবে হয়’।[৯]

সুধী পাঠক! এগুলো যেন বিক্ষিপ্ত জ্ঞান সাগরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মূল্যবান মণি-মুক্তা। এজন্যই আমাদের শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা সকলের উপর রহম করুন। আমীন!

(ইনশাআল্লাহ চলবে)



* মুর্শিদাবাদ, ভারত।

তথ্যসূত্র :
[১]. আল-ইয়ামামাহ, সংখ্যা-৯৫৩।
[২]. আদ-দুররুছ ছামীন ফী তারজামাতি ফাক্বীহিল উম্মাহ আল্লামা ইবনু উছাইমীন, পৃ. ৪৯।
[৩]. জারীদাতুর রিয়ায, সংখ্যা-১১৮৯০।
[৪]. আদ-দুররুছ ছামীন ফী তারজামাতি ফাক্বীহিল উম্মাহ আল্লামা ইবনু উছাইমীন, পৃ. ৫১।
[৫]. মাজাল্লাতুল হিকমাহ, দ্বিতীয় সংখ্যা, পৃ. ২২।
[৬]. ইত্তিহাফুল নুবালা ইয়াসীরুল উলামা, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৩৬-১৪৭।
[৭]. ইত্তিহাফুল নুবালা ইয়াসীরুল উলামা, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৩৬-১৪৭।
[৮]. ইত্তিহাফুল নুবালা ইয়াসীরুল উলামা, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৪১।
[৯]. ইত্তিহাফুল নুবালা ইয়াসীরুল উলামা, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৩৯।




এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (১১শ কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) (৩য় কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (২য় কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৪র্থ কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৭ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৯ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৬ষ্ঠ কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
কে ছিলেন আব্দুল মতীন সালাফী (রাহিমাহুল্লাহ) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৮ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৫ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী

ফেসবুক পেজ