বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন

এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)

 -হাসিবুর রহমান বুখারী* 


(১১শ কিস্তি) 

[নভেম্বর’২৫ এর পর]  


(৩) শাইখ মুহাম্মাদ আস-সারহান আল-মিসরী আল-আযহারী। যিনি একজন প্রখ্যাত আলিমে দ্বীন ছিলেন এবং ‘ইলমুল বালাগাহ’ অর্থাৎ বক্তৃতাশৈলী ও অলঙ্কারবিদ্যা বিষয়ে পাঠদান করতেন।

(৪) শাইখ আব্দুল লত্বীফ আস-সারহান আল-মিসরী আল-আযহারী। যিনি ‘ইলমুল নাহু’ অর্থাৎ আরবী ব্যাকরণ বিষয়ে পাঠদান করতেন।[১]

(৫) শাইখ আব্দুস সালাম আল-আযহারী। যিনি ‘ইলমুল আদাব’ অর্থাৎ আরবী সাহিত্য বিষয়ে পাঠদান করতেন।

(৬) শাইখ মুহাম্মাদ আল-মুখতার আশ-শানক্বিত্বী: যিনি ‘সুনানুন নাসাঈ’-এর ব্যাখ্যাকারক ছিলেন। তিনি কিন্তু ‘মুহাম্মাদ আল- আমীন’ নন, যিনি ‘আযওয়াউল বায়ান’ গ্রন্থের লেখক এবং মাদীনায় বসবাসকারী একজন আলিম ছিলেন।  শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) নিজেই জানিয়েছেন যে, এই শাইখ তাদেরকে ‘আল-মা‘হাদুল ইলমী’-তে ইতিহাস বিষয়ে পাঠদান করতেন। 

এভাবে শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উনাইযাহ ও রিয়াযের মধ্যে মোট ১৪ জন শাইখ ছিলেন, যাঁদের কারও থেকে তিনি দীর্ঘ সময় জ্ঞান আহরণ করেছেন, আবার কারও থেকে মাত্র কয়েকদিন শিক্ষাগ্রহণ করেছেন। তবে একটি প্রশ্ন থেকেই গেল, আর সেটি হচ্ছে- শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) কি তাঁর সময়কার ‘শাইখুল জাযীরাহ’ ও যুগের শ্রেষ্ঠ আল্লামা শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম আলে শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন কি-না? রিয়াযের ‘দাখনাহ’ মহল্লায় তাঁর চাচা আল্লামা আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুল লতীফের মসজিদে যার দারস (পাঠ) দীর্ঘকাল ধরে কখনোই বন্ধ হতো না- তিনি প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে পড়াতেন, হিজরী ১৩৩৯ সাল থেকে শুরু করে ১৩৮০ সাল পর্যন্ত- যতদিন না অসুস্থতা তাঁকে বাধ্য করে থামিয়ে দেয়। তাহলে কি আমাদের শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ছাত্র ছিলেন? তিনি কি তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন? তাঁর দারসে অংশগ্রহণ করেছেন- বিশেষ করে সেই সময়ে, যখন তিনি ‘আল-মা‘হাদুল ইলমী’তে অধ্যয়ন করছিলেন, যতদিন না সেখান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন হন?

আমাদের শাইখের জীবনের এই দিকটি নিয়ে অনেক খোঁজখবর ও গবেষণা করা হয়েছে, কোথাও এমন কোন প্রমাণ বা ইশারা-ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি, যার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে- তিনি শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম-এর ছাত্র ছিলেন।

শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম-এর জীবনী সম্পর্কেও অনেক গবেষণা করা হয়েছে, বিশেষত ‘হায়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম ওয়া আছারুহু’ বইটি, যেটি দু’জন আলিম-শাইখ ছালিহ আল-আতরাম ও শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনে মূসা আল-আম্মার- লিখেছেন, কিন্তু সেখানেও এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি, যা ইবনু উছাইমীনের তাঁর শাগরেদ হওয়াকে প্রমাণ করে। আমরা বলব, তাঁরা দু’জন ( অর্থাৎ শাইখ ছালিহ আল-আতরাম ও শাইখ আব্দুল্লাহ আল-আম্মার) শাইখ ইবনু ইবরাহীমের ৩০৩ জন ছাত্রের নাম উল্লেখ করেছেন- যাদের অনেকে আমাদের শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সমবয়সী কিংবা তাঁর থেকে ছোট ছিলেন। কিন্তু তাঁদের কারো বর্ণনায় শাইখ ইবনু উছাইমীনের শাইখ ইবনে ইবরাহীমের ছাত্রত্বের কোন উল্লেখ পাওয়া যায়নি। আল্লাহ তাঁদের সকলকে রহম করুন।

শিক্ষার্থীর এই সংখ্যা এখনো পর্যন্ত আমাদের জানা সবচেয়ে বড় সংখ্যা এবং আমরা জানি যে, আমাদের শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) জ্ঞানচর্চায় অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং শাইখ ইবনে ইবরাহীম (ﷺ)-এর মর্যাদা ছিল অত্যন্ত উচ্চ-এসব বিবেচনায় আমরা এই প্রশ্নের কয়েকটি সম্ভাব্য উত্তর অনুমান করতে পারি। তা হল নিম্নরূপ:

(১) কোন বিষয় উল্লেখ না করা মানেই তার অস্তিত্ব নেই- এটা প্রমাণ করে না।

(২) যারা ইবনু ইবরাহীমের ছাত্রদের নাম উল্লেখ করেছেন, তারা হয়তো তাদেরকেই গুরুত্ব দিয়েছেন যারা দীর্ঘসময় তাঁর সঙ্গে লেগে থেকেছেন। আর এটি জানা কথা যে, শাইখের ছাত্রের সংখ্যা উল্লিখিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বরং অনেক বেশি ছিল।

(৩) আমাদের শাইখ যখন ‘আল-মা‘হাদুল ইলমী’তে অধ্যয়ন করছিলেন, তখন হয়তো তিনি ‘মা‘হাদুল ইলমীর’ পাঠগুলো আয়ত্ত ও ক্লাসের বাইরে- বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় সেগুলোর পুনরালোচনায় ব্যস্ত থাকতেন। আর শাইখের হালাক্বায় পড়ানো অনেক বই পরবর্তীতে ইনস্টিটিউটের স্থায়ী পাঠ্যসূচি হিসাবে স্থান পেয়েছিল, কারণ শাইখ ইবনু ইবরাহীমই ছিলেন সেসব পাঠ্যসূচির তত্ত্বাবধায়ক ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষক। এই প্রশ্নগুলোই আমাদের কাছে এই প্রশ্নের উত্তরের বেশকিছু দিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। আর আল্লাহ্ তা‘আলাই সঠিক জ্ঞান রাখেন, আর তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তন ও জবাবদিহি।[২]

অতঃপর আমরা তাঁর একটি বক্তব্যের দিকে দৃষ্টিপাত করি- যা শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট শিক্ষা গ্রহণের পক্ষেই মতকে আরও দৃঢ় করে। যেখানে তাঁর সমসাময়িকদের একজন- শাইখ মুহাম্মাদ আছ-ছাহি আল-মানছূর (রাহিমাহুল্লাহ), যিনি বুরাইদার আলিমদের অন্তর্ভুক্ত- শাইখ দুবইয়ান মুহাম্মাদ আদ-দুবইয়ানের মাধ্যমে যা বর্ণিত হয়েছে, তাতে তিনি বলেন, ‘শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু উছাইমীনই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি মসজিদে ইবরাহীমে নিষিদ্ধ সময়ে তাহিয়্যাতুল-মসজিদ বা মসজিদে প্রবেশের দুই রাকা‘আত ছালাত আদায় করতেন- শাইখ ইবনু ইবরাহীম উপস্থিত থাকা অবস্থায় এবং তাঁর পাঠদানের সময়। যদিও ইবনে ইবরাহীমের মত ছিল যে ‘নিষিদ্ধ সময়ে কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত ছালাতসমূহও (صلاة ذوات الأسباب) পড়া জায়েয নয়। এছাড়াও শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাপারে প্রসিদ্ধ ছিল যে, তিনি ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতানুযায়ী তিন ত্বালাক্বকে এক ত্বালাক্ব গণ্য করার ফাতাওয়া দিতেন- ইবনু ইবরাহীমের জীবদ্দশাতেই। অথচ ইবনু ইবরাহীম এই বিষয়ে হাম্বালী মাযহাবের সুপ্রচলিত মত অনুযায়ী এবং সঊদী আরবের প্রথম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলমান আমল অনুসারে ফাতাওয়া দিতেন। পরবর্তীতে শাইখ ইবনু ইবরাহীম তাঁর ফাতাওয়া ও রিসালাগুলোতে শাইখ ইবনু উছাইমীন ও শাইখ ইবনু বায-এর এই মতের প্রতি আপত্তি জানিয়েছেন, যদিও তাঁরা দু’জনই তাঁর ছাত্র ছিলেন (জারীদাতুল ওয়াত্বান, সংখ্যা নং ১০৬)।

শাইখ আল-মানছূর (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এই বক্তব্য থেকে এটা শর্তসাপেক্ষ নয় যে, তিনি এর দ্বারা ‘আল-মা‘হাদুল ইলমী’তে  অধ্যয়নের সময়কালকেই বোঝাতে চেয়েছেন, বরং প্রকাশ্য অর্থ হল- তার বিপরীত। কারণ শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) ছোট বয়সে এমন অবস্থায় ছিলেন না যে তিনি গ্র্যান্ড মুফতি শাইখ ইবনু ইবরাহীমের মতের বিরোধিতা করে নিজের মত গঠন করবেন- তা সে নিষিদ্ধ সময়ে কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত ছালাতসমূহও (صلاة ذوات الأسباب) পড়ার বিষয় হোক, কিংবা তিন ত্বালাক্বের মাস’আলা হোক। কিন্তু শাইখ আল-মানছূরের কথার যে দিকটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তা হল- তাঁর সুস্পষ্ট উক্তি- ‘তাঁরা উভয়েই তাঁর (ইবনু ইবরাহীমের) শাগরেদ’। এটি শাইখ ইবনে ইবরাহীমের শাগরেদ হওয়ার দিককে আরও শক্তিশালী করে। আর আল্লাহ‌ তা‘আলাই সর্বাধিক জানেন।  আমাদের শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) এই বরকতময় প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে দুই বছর অবস্থান করেছেন। যে প্রতিষ্ঠান থেকে বহু বিদগ্ধ আলিম বের হয়েছেন। তিনি মা‘হাদে ‘নিযামুল ক্বাফ্‌য’ বা ‘অপধফবসরপ অপপবষবৎধঃরড়হ’ অর্থাৎ ‘একাডেমিক ত্বরণ’ বা ‘শিক্ষা ত্বরান্বিতকরণ’ নীতিমালার অধীনে আমল করেছিলেন, যা আমরা এই অধ্যায়ের শুরুতে ব্যাখ্যা করেছি।

শাইখের প্রাতিষ্ঠানিক-জীবনের যে বিষয়টি এখানে উল্লেখযোগ্য, তা হল- শাইখ আল্লামা আব্দুর রহমান ইবনু নাসির আল-বাররাক (রাহিমাহুল্লাহ) জানিয়েছেন যে, শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) প্রতিষ্ঠানে দৃষ্টিহীন মেধাবী ছাত্রদের সঙ্গে বসতেন, তাদের পাঠ মুখস্থ করতে সাহায্য করতেন এবং যেসব অংশ পড়ার প্রয়োজন হত সেগুলো তাদেরকে পড়ে শোনাতেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- কী মহান শিক্ষাপ্রেমী ও বিদ্বান ছাত্র, যিনি তাঁর ভাইদের সহযোগিতায় সদা প্রস্তুত ছিলেন, তাই আল্লাহও তাঁকে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন। আমরা আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে রহমতে ঢেকে নেন। আমীন।

শাইখ ১৩৭৩ হিজরী সালের শেষ পর্যন্ত রিয়াযে অবস্থান করেন- যখন তিনি প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় বর্ষের পড়াশোনা শেষ করেন। এই বছরেই উনায়যাহ শহরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে পড়াশোনা শুরু হয় ১৩৭৩ হিজরীর রাবিউছ ছানি মাসে।[৩] এর তত্ত্বাবধানকারী ছিলেন তাঁর শাইখ- অর্থাৎ শাইখ আব্দুর রহমান ইবনু নাছির আস-সা‘দী- যিনি এ দায়িত্ব পালনের জন্য কোন পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। উনায়যার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষকের প্রয়োজন ছিল, তাই শাইখকে নিজ জন্মভূমি উনাইযায় ফিরে যেতে হয়, যাতে তাঁর এলাকাবাসী তাঁর থেকে উপকৃত হয়। এরপর ১৩৭৪ হিজরীতে তাঁকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ বর্ষের পড়াশোনা করতেন বহিরাগত বা ‘মুক্ত- শিক্ষার্থী’ (অর্থাৎ অফিসিয়ালি নিবন্ধিত কিন্তু নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত ছাত্র হিসাবে নয়) হিসাবে এবং পরে শরী‘আহ কলেজেও একইভাবে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। এসব ঘটেছে তখনই, যখন তিনি উনায়যার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন, কিন্তু শাইখের জীবনীকারদের অনেকেই এই দিকটি সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করেননি। আর শাইখ নিজেই মা‘হাদে ও কলেজে তাঁর এই পুরো শিক্ষাযাত্রা সাল-তারীখসহ বর্ণনা করেছেন, যা ‘মাজাল্লাতুদ-দাওয়াহ’ পত্রিকার ১৭৭৬ নম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

শাইখ ইবনে উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমরা ‘মা‘হাদুল ইলমীর’ পড়াশোনা সম্পন্ন করি, কারণ আমরা দ্বিতীয় বর্ষ থেকে শুরু করেছিলাম। সেই সময়ে মা‘হাদে ‘নিযামুল ক্বাফয’ অর্থাৎ ‘একাডেমিক ত্বরণ’ বা ‘শিক্ষা ত্বরান্বিতকরণ’ নীতিমালা কার্যকর ছিল। অর্থাৎ ছাত্ররা গ্রীষ্মকালীন সময়ে পরবর্তী বছরের পাঠগুলো পড়ত, তারপর দ্বিতীয় সেশনের পরীক্ষায় অংশ নিত এবং এভাবে তৃতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হত। সুতরাং আমিও ‘ক্বাফ্‌য’ করেছিলাম- অর্থাৎ দ্বিতীয় বর্ষ পড়েছি এবং স্বাভাবিকভাবে সেখান থেকে উত্তীর্ণ হয়েছি। তারপর আবার ‘ক্বাফ্‌য’ করে তৃতীয় বর্ষে পৌঁছেছি। এরপর ১৩৭৪ হিজরী সালে চতুর্থ বর্ষটি ‘মুক্ত-শিক্ষার্থী’ হিসাবে সম্পন্ন করেছি। কারণ এই সময়ে উনায়যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে গিয়েছিল এবং শিক্ষকের প্রয়োজন ছিল; তাই আমি ১৩৭৪ হিজরীতে উনায়যায় ফিরে আসি এবং প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা শুরু করি। এরপর চতুর্থ বর্ষটি আবারও ‘মুক্ত-শিক্ষার্থী’ হিসাবে সম্পন্ন করি। এবং আমি এভাবেই ‘মুক্ত- শিক্ষার্থী’ (অর্থাৎ অফিসিয়ালি নিবন্ধিত কিন্তু নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত ছাত্র হিসাবে নয়) অবস্থায় থেকে শেষ পর্যন্ত - আল্লাহর অশেষ কৃপায় - শরী‘আহ কলেজ সম্পন্ন করেছি’।

পক্ষান্তরে এর পরেও আরেকটি প্রশ্ন থেকেই যায়, সেটি হল- শাইখ কি নিয়মিতভাবে শরী‘আহ‌ কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন? এবং তিনি কি কলেজে পড়ার জন্য মা‘হাদে (ইনস্টিটিউটে) তার শিক্ষকতার কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন? তারপর কি আবার সেই প্রতিষ্ঠানে ফিরে এসেছিলেন? শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) ‘মাসিক আল-ইয়ামামাহ’ পত্রিকার সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর আমি শরী‘আহ কলেজে ভর্তি হই এবং সেখানে প্রথম বর্ষে পড়ি। এরপর উনাইযায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) খোলা হয়। এর এক বছর পর আমি উক্ত প্রতিষ্ঠানে পড়াতে শুরু করি এবং একই সঙ্গে কলেজে অধিভুক্ত (নিয়মিত নয়, নিবন্ধিত ছাত্র) হিসেবে থাকি’।[৪]


* মুর্শিদাবাদ, ভারত।

তথ্যসূত্র :
[১]. আল-ইনযাজ ফী তারজামাতিল ইমাম ইবনে বায, পৃ. ২০১।
[২]. আদ-দুর্রুছ ছামীন ফী তারজামাতি ফাক্বীহিল উম্মাহ আল্লামা ইবনু উছাইমীন, পৃ. ৭৫।
[৩]. ফিক্বহু ইবনে সা‘দী, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৫।
[৪]. মাসিক আল-ইয়ামামাহ, সংখ্যা ৯৫৩, হিজরী ১৪০৭।




প্রসঙ্গসমূহ »: মনীষী চরিত
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৮ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (২য় কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) - হাসিবুর রহমান বুখারী
কে ছিলেন আব্দুল মতীন সালাফী (রাহিমাহুল্লাহ) - আল-ইখলাছ ডেস্ক
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) (৩য় কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৫ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৬ষ্ঠ কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৯ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৭ম কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (১১শ কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী
এক চলমান প্রতিষ্ঠান: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) (৪র্থ কিস্তি) - হাসিবুর রহমান বুখারী

ফেসবুক পেজ