বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

প্রশ্নোত্তরে নারীদের ছালাত শিক্ষা

- শায়খ আব্দুল গাফফার মাদানী*


(৪র্থ কিস্তি) 

প্রশ্ন : মহিলারা কি মহিলাদের ইমামতি করতে পারবে? পারলে কোথায় দাঁড়াবে?

উত্তর : হ্যাঁ, মহিলাদের জামা‘আতে মহিলারা ইমামতি করতে পারে। সে ক্ষেত্রে মহিলা ইমাম সামনে না দাঁড়িয়ে কাতারের মাঝে দাঁড়াবে।[১]

عن عائشةَ أمِّ المؤمنينَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا أنَّها أمَّتِ النساءَ في صلاةِ المغربِ فقامتْ وسْطهنَّ، وجَهرتْ بالقراءةِ

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি মহিলাদের মাগরিবের ছালাতে ইমামতি করেন কাতারের মাঝে দাঁড়িয়ে এবং স্বরবে ক্বেরাত পড়েন।[২] অধিকাংশ হানাফী মাযহাব মতানুসারেও কাতারের মাঝে দাঁড়াবে।[৩] তবে মহিলারা জুমু‘আর ছালাতে ইমামতি করতে পারবে না। কারণ জুমু‘আর ছালাত তাদের উপর ফরয নয়। ঈদের ছালাতে মহিলারা মহিলাদের ইমামতি করতে পারবে না। বরং পুরুষদের সাথে খোলা ময়দানে গিয়ে ঈদের ছালাত আদায় করবে।[৪]

প্রশ্ন : মহিলারা যখন জামা‘আতে যেহরি ছালাতে ইমামতি করবে, তখন কি তারা ক্বেরাত স্বরবে নাকি নিরবে পড়াবে?

উত্তর : যখন নারীরা যেহরি ছালাতের ইমামতি করবে, তখন সে স্বরবে কিরাআত পড়বে, যদি সেখানে কোন পুরুষ না থাকে। আর যদি সিররি ছালাত হয়, তাহলে নীরবে পড়বে। তবে যদি আশেপাশে এমন কোনো পুরুষ থাকে, যে তার আওয়াজ শুনতে পাবে, তাহলে নীরবে তিলাওয়াত করবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নারীদের লক্ষ করে বলেন, التَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ ‘নারীরা ছালাতে হাত তালি দিবে’।[৫] উক্ত হাদীছ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাদের আওয়াজেরও পর্দা রয়েছে, যাতে করে তাদের ফেতনা থেকে দূরে থাকতে পারে।

ইবনু কুদামা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যেহরি ছালাতে স্বরবে পড়বে, যদি আশেপাশে কোনো পুরুষ না থাকে, তবে মাহরাম পুরুষ থাকলে কোন সমস্যা নেই, জোরে পড়তে পারবে।[৬]

প্রশ্ন : মহিলাদের কোন্ কাতার উত্তম এবং কোন্ কাতার নিকৃষ্ট?

উত্তর : নারী ও পুরুষ যদি একই স্থানে জামা‘আতবদ্ধ হয়ে ছালাতে দাঁড়ায়, তবে সেক্ষেত্রে নারীদের জন্য প্রথম কাতারের চেয়ে শেষের কাতার উত্তম। যেমনটি নবী (ﷺ) বলেন,خَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا ‘নারীদের জন্য উত্তম কাতার হচ্ছে শেষেরগুলো আর অনুত্তোম কাতার হচ্ছে প্রথমগুলো’।[৭]

এটা এ কারণেই যে, কাতার যত পিছন দিকে হবে, ততই তা পুরুষদের থেকে দূরে হবে। আর যত আগের দিকে হবে ততই পুরুষদের নিকটবর্তী হবে। তাই তাদের কাতার পুরুষদের থেকে যতদূরে হবে, ততই কল্যাণ জনক হবে। অবশ্য এটা একই মসজিদের ভিতরের কথা। আর নারীদের ছালাতের জন্য যদি স্বতন্ত্র স্থান নির্ধারণ করা থাকে- যেমনটি বর্তমানে অধিকাংশ মসজিদে দেখা যায়- তবে সেক্ষেত্রে পুরুষদের মত তাদের প্রথম কাতারই উত্তম।

প্রশ্ন : নারীরা ছালাতের মধ্যে কাতারের পিছনে একাকী দাঁড়াতে পারবে কি?

উত্তর : নারী একা হলে পুরুষদের পিছনে একাই কাতার করবে।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ جَدَّتَهُ، مُلَيْكَةَ دَعَتْ رَسُولَ اللهِ ﷺ لِطَعَامٍ صَنَعَتْهُ فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ قَالَ‏ قُومُوا فَلْنُصَلِّ بِكُمْ ، قَالَ أَنَسٌ فَقُمْتُ إِلَى حَصِيرٍ لَنَا قَدِ اسْوَدَّ مِنْ طُولِ مَا لُبِسَ فَنَضَحْتُهُ بِالْمَاءِ فَقَامَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَصَفَفْتُ عَلَيْهِ أَنَا وَالْيَتِيمُ وَرَاءَهُ وَالْعَجُوزُ مِنْ وَرَائِنَا فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفَ‏.‏

আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত আছে, তাঁর নানী মুলাইকা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দাওয়াত করলেন। তিনি তাঁর জন্য খাবার তৈরি করলেন। তিনি তা খেলেন, অতঃপর বললেন, উঠো, তোমাদের সাথে ছালাত আদায় করব। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ছালাত আদায়ের জন্য আমি একটি কালো পুরানো চাটাই নিলাম। এটাকে পরিষ্কার ও নরম করার জন্য পানি ছিটিয়ে দিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উপর দাঁড়ালেন। আমি এবং ইয়াতীম (ছেলে)-ও তার উপর তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম। বুড়ো নানী আমাদের পেছনে দাঁড়ালেন। তিনি আমাদের নিয়ে এভাবে দুই রাকা’আত ছালাত আদায় করার পর চলে গেলেন।[৮] মুলাইকা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে আরো বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন, আমাদের বাড়িতে আমি ও ইয়াতীম নবী (ﷺ)-এর পিছনে ছালাত পড়েছি, আর আমার মা উম্মে সুলাইম আমাদের পিছনে ছিল।[৯]

যদি উপস্থিত নারীদের সংখ্যা বেশি হয়, তাহলে তারা পুরুষদের পিছনে এক বা একাধিক কাতার করে দাঁড়াবে। কারণ, নবী (ﷺ) বাচ্চাদের সম্মুখে পুরুষদের দাঁড় করাতেন, বাচ্চারা পুরুষদের পিছনে দাঁড়াত, আর নারীরা দাঁড়াত বাচ্চাদের পিছনে।

প্রশ্ন : পুরুষ ইমাম কি শুধু এক জন গায়ের মাহরাম মহিলার ইমামতি করতে পারবে?

উত্তর : না, পুরুষ ইমাম শুধু এক জন গায়ের মাহরাম মহিলার ইমামতি করতে পারবে না।

عن عامر بن ربيعة قال قال رسول الله ﷺ لا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ ، فَإِنَّ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ

আমির বিন রাবি‘আহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো মহিলার সাথে নির্জনতা অবলম্বন না করে, কেননা তাদের তৃতীয় জন হবে শয়তান।[১০]

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ ‏ إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ‏‏ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوَ‏؟ قَالَ ‏ ‏ الْحَمْوُ الْمَوْتُ.‏

উক্ববা ইবনু আমির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মহিলাদের নিকট একাকী যাওয়া থেকে বিরত থাক। জনৈক আনসার জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল(ﷺ)! দেবরদের ব্যাপারে কি নির্দেশ? তিনি উত্তর দিলেন, দেবর তো মৃত্যুতুল্য।[১১]

তবে মহিলাদের (কিছু সংখ্যক) দল হলে সেখানে ইমামতি করতে পারবে, কেননা এখানে নির্জনতা না থাকায় জায়েয। আর যদি ফিতনা থেকে নিরাপদ হয়, তাহলে অন্যথায় জায়েয হবে না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা ফিতনা পছন্দ করেন না। মহান আল্লাহ বলেন, وَ اللّٰہُ  لَا  یُحِبُّ الۡفَسَادَ ‘আর আল্লাহ ফাসাদ ভালোবাসেন না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২০৫)।

প্রশ্ন : মহিলাদের জন্য কি জামা‘আতে ছালাত আদায় করা ওয়াজিব?

উত্তর : না, মহিলাদের জন্য জামা‘আতে ছালাত আদায় করা ওয়াজিব নয়। এ বিষয়ে কেউ কোনো দ্বিমত করেনি।

عَنْ أم سلمة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا قالت قال رسول الله ﷺ صَلاَةُ الْمَرْأَةِ فِي بَيْتِهَا خير مِنْ صَلاَتِهَا فِي حُجْرَتِهَا وصَلاَتِهَا فِي حُجْرَتِهَا خير مِنْ صَلاَتِهَا فِي دَارِهَا وَصَلاَتِهَا فِي دَارِهَا خَيْر مِنْ صَلاَتِهَا فِي مَسْجِدِ قَوْمِهَا

উম্মে সালমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোন নারীর নিজ কামরার মধ্যে নির্জন জায়গা বানিয়ে সেখানে ছালাত পড়া কামরার মধ্যে ছালাত পড়ার চেয়ে উত্তম। কামরার মধ্যে ছালাত পড়া বাড়ীর সাধারণ স্থানে ছালাত পড়ার চেয়ে উত্তম। আর নিজ বাড়ীর সাধারণ স্থানে ছালাত পড়া মহল্লার মসজিদে ছালাত পড়ার চেয়ে উত্তম।[১২]

প্রশ্ন : কোনো মহিলা অন্য মহিলার বাড়িতে ছালাত আদায় করা, না মসজিদে আদায় করা উত্তম?

উত্তর : প্রথমতঃ মহিলাদের জন্য তার নিজ বাড়িতে ছালাত আদায় করাই উত্তম, যা পূর্বের উত্তরে উল্লেখিত হাদীছে বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয়তঃ অন্যের বাড়িতে যাওয়ার চেয়ে মসজিদে যাওয়া অনেক ভালো, যেহেতু সে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেই, তাহলে এ ক্ষেত্রে অন্য কারো বাড়িতে না গিয়ে মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করাই উত্তম, আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।[১৩]

প্রশ্ন : নারী ও পুরুষের ছালাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি?

উত্তর : এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে কোন দলীল বর্ণিত হয়েছে বলে জানা নেই। এমন কি ছাহাবাদের থেকেও এ বিষয়ে বিশুদ্ধ কোনো দলিল বর্ণিত হয়নি। পুরুষ ও মহিলার ছালাতের পদ্ধতি একই প্রকার। সুতরাং মহিলাও ঐরুপ একই তরীকায় ছালাত পড়বে, যেরুপ ও যে তরীকায় পুরুষ পড়ে থাকে। কারণ, (নারী-পুরুষ উভয় জাতির) উম্মতকে সম্বোধন করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي ‘তোমরা সেভাবেই ছালাত পড়, যেরুপ আমাকে পড়তে দেখেছ’।[১৪] আর উভয়ের ছালাত পৃথক হওয়ার ব্যাপারে কোন দলীলও নেই।

সুতরাং মহিলারাও তাদের ছালাতে পুরুষদের মতই হাত তুলবে, পিঠ লম্বা করে রুকূ করবে, সিজদায় জানু হতে পেট ও পায়ের রলাকে দূরে রেখে পিঠ সোজা করে সিজদাহ করবে। তাশাহ্‌হুদেও সেইরুপ বসবে, যেরুপ পুরুষরা বসে। উম্মে দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর ছালাতে পুরুষের মতই বসতেন। আর তিনি একজন ফকীহ ছিলেন।[১৫] আর মহিলাদের জড়সড় হয়ে সিজদাহ করার ব্যাপারে কোন হাদীছ ছহীহ নয়।[১৬] এ জন্যই ইবরাহীম নাখয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ছালাতে মহিলা ঐরূপই করবে, যেরূপ পুরুষ করে থাকে’।[১৭] পক্ষান্তরে দলীলের ভিত্তিতেই ছালাতের কিছু ব্যাপারে মহিলারা পুরুষদের থেকে ভিন্নরুপ আমল করে থাকে। যেমন:

১. বেগানা পুরুষ আশেপাশে থাকলে (যেহরী ছালাতে) মহিলা সশব্দে কুরআন পড়বে না।[১৮] যেমন সে পূর্ণাঙ্গ পর্দার সাথে ছালাত পড়বে। তাছাড়া একাকিনী হলেও তার লেবাসে বিভিন্ন পার্থক্য আছে।

২. মহিলা মহিলাদের ইমামতি করলে পুরুষদের মত সামনে না দাঁড়িয়ে কাতারের মাঝে দাঁড়াবে।

৩. ইমামের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মহিলা পুরুষের মত ‘সুবহা-নাল্লাহ’ না বলে হাততালি দেবে।

৪. মহিলা মাথার চুল বেঁধে ছালাত পড়তে পারে, কিন্তু (লম্বা চুল হলে) পুরুষ তা পারে না।

অনেক মহিলা আছে, যারা মসজিদে বা বাড়িতে পুরুষদের ছালাত পড়া না হলে ছালাত পড়ে না। এটা ভুল। আযান হলে বা ছালাতের সময় হলে আওয়াল অক্তে ছালাত পড়া মহিলারও কর্তব্য।[১৯]

প্রশ্ন : মহিলারা ইমামের পিছনে সিজদা থেকে কখন মাথা উঠাবে?

উত্তর : যদি মহিলারা সরাসরি পুরুষের পেছনে ছালাত আদায় করে এবং তাদেরকে দেখা যায়, তাহলে এ ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হলো পুরুষেরা সিজদা থেকে উঠে না বসা পর্যন্ত মহিলারা মাথা উঠাবে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,

عَنْ سَهْل بْنِ سَعْدٍ قَالَ كَانَ رِجَالٌ يُصَلُّونَ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ عَاقِدِي أُزْرِهِمْ عَلَى أَعْنَاقِهِمْ كَهَيْئَةِ الصِّبْيَانِ، وَقَالَ لِلنِّسَاءِ لاَ تَرْفَعْنَ رُءُوسَكُنَّ حَتَّى يَسْتَوِيَ الرِّجَالُ جُلُوسًا‏.‏

সাহল ইবনু সা‘দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, লোকেরা বাচ্চাদের মত নিজেদের তহবন্দ কাঁধে বেঁধে নবী (ﷺ)-এর সাথে ছালাত আদায় করতেন। আর মহিলাদের প্রতি নির্দেশ ছিল যে, তাঁরা যেন পুরুষদের ঠিকমত বসে যাওয়ার পূর্বে সিজদা থেকে মাথা না উঠায়।[২০]

উক্ত হাদীছে যে মহিলাদের নিষেধ করা হয়েছে, যাতে করে পুরুষরা উঠার সময় তাদের লজ্জাস্হান মহিলাদের দৃষ্টিগোচর না হয়।[২১]

প্রশ্ন : ছালাতের মধ্যে এমন কিছু ঘটে, যা দ্বারা মহিলারা ইমাম কে সতর্ক করবে?

উত্তর : ইমাম ছালাতে ভুল করলে নারীরা তাকে সতর্ক করবে ডান হাতের কব্জি দিয়ে বাম হাতের পৃষ্ঠদেশে থাপ্পড় মেরে বা আঘাত করে।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ‏التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ‏

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, (ছালাত আদায়কালে ইমামের কোন ভুল পরিলক্ষিত হলে) পুরুষ (মুক্তাদীরা) সুবহানাল্লাহ বলবে আর নারী (মুক্তাদীরা) হাতের উপর হাত মেরে শব্দ করবে।[২২]

প্রশ্ন : মহিলারা কি ছালাতরত অবস্থায় বাচ্চাদের কোলে নিতে পারবে?

উত্তর : আমাদের জানা দরকার যে, দ্বীন-ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হল সহজতা। আল্লাহ তা‘আলা দ্বীন পালন আমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। শিশুর প্রতি আচরণের বিষয়ে ইসলামের বিশেষ নির্দেশনা তার অন্যতম প্রমাণ। শিশুরা খেলাধুলা করবে, ছালাতের সামনে দিয়ে চলাফেরা করবে, দৌড়াদৌড়ি করবে, কাপড় ধরে টানাটানি করবে, দুষ্টামি করবে, কাঁধে উঠে বসবে, এগুলো খুবই স্বাভাবিক বিষয়। তাই তাদের মানসিকতার প্রতি লক্ষ্য রেখে ইসলামে এগুলোকে সহজভাবে গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا قَتَادَةَ الأَنْصَارِيَّ يَقُولُ رَأَيْتُ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُصَلِّي لِلنَّاسِ وَأُمَامَةُ بِنْتُ أَبِي الْعَاصِ عَلَى عُنُقِهِ فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا ‏.‏

আমর ইবনু সুলায়মান (রাহিমাহুল্লাহ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ ক্বাতাদাহকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘উমামাহ বিনতু আবুল ‘আছ’-কে কাঁধে নিয়ে লোকদের ছালাতে ইমামতি করেছেন। তিনি যখন সিজদা করতেন, তখন তাকে নামিয়ে রাখতেন।[২৩]

عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ نَنْتَظِرُ رَسُولَ اللهِ ﷺ لِلصَّلاَةِ فِي الظُّهْرِ أَوِ الْعَصْرِ وَقَدْ دَعَاهُ بِلاَلٌ لِلصَّلاَةِ إِذْ خَرَجَ إِلَيْنَا وَأُمَامَةُ بِنْتُ أَبِي الْعَاصِ بِنْتُ ابْنَتِهِ عَلَى عُنُقِهِ فَقَامَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي مُصَلاَّهُ وَقُمْنَا خَلْفَهُ وَهِيَ فِي مَكَانِهَا الَّذِي هِيَ فِيهِ قَالَ فَكَبَّرَ فَكَبَّرْنَا قَالَ حَتَّى إِذَا أَرَادَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ يَرْكَعَ أَخَذَهَا فَوَضَعَهَا ثُمَّ رَكَعَ وَسَجَدَ حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْ سُجُودِهِ ثُمَّ قَامَ أَخَذَهَا فَرَدَّهَا فِي مَكَانِهَا فَمَا زَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَصْنَعُ بِهَا ذَلِكَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ حَتَّى فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ.‏

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ছাহাবী আবূ কাতাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা যোহর অথবা আছরের ছালাত আদায়ের জন্য আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অপেক্ষায় ছিলাম। এ সময় বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে ছালাতের জন্য আহ্বান করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘উমামা বিনতে আবুল ‘আছ’-কে কাঁধে নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর তিনি ইমামতির জন্য স্বীয় স্থানে দাঁড়ান এবং আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়াই এমতাবস্থায় যে, উমামা তাঁর কাঁধেই ছিল। তিনি আল্লাহু আকবার বলার পর আমরাও তাকবীর বলি। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকূ করার ইরাদা করলে তাকে নীচে নামিয়ে রেখে রুকূ ও সিজদা আদায় করেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে তাকে কাঁধে উঠিয়ে নেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছালাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাকা‘আতে এরূপ করতে থাকেন।[২৪]

এ ছাড়াও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খুত্ববা দেয়ার সময় তাঁর নাতি হাসান ও হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আসলে তিনি খুত্ববা দেয়া বন্ধ রেখে তাদেরকে জড়িয়ে ধরে আদর করতেন, কোলে তুলে নিতেন, চুম্বন করতেন আর বলতেন, খুত্ববা শেষ করা পর্যন্ত আমি ধৈর্য ধারণ করতে পারব না। তাই, আমি খুত্ববা দেয়া বন্ধ করেই এদের কাছে চলে এসেছি।[২৫]

প্রশ্ন : স্বামী স্ত্রীকে তাহাজ্জুদ পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার কোন দলীল আছে কি?

উত্তর : স্বামী স্ত্রীকে সব ধরনের নেকির কাজে উৎসাহিত, অনুপ্রেরিত করা উচিত। সে যে বিষয়গুলো জানে, সেগুলো তার স্ত্রীকে অবশ্যই জানাবে এবং শুনাবে। স্ত্রী যত দ্বীনদার আমলদার আল্লাহ ওয়ালা হবে, তার থেকে সুসন্তানের আশা ততবেশী করা যায়। অতএব প্রত্যেক স্বামীর জন্য উচিত, তার স্ত্রীকে তাহাজ্জুদের প্রতি উৎসাহিত করা।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ‏ ‏رَحِمَ اللهُ رَجُلاً قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا الْمَاءَ رَحِمَ اللهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ الْمَاءَ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ এমন ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন, যে রাতে সজাগ হয়ে নিজে ছালাত আদায় করে এবং তার স্ত্রীকেও সজাগ করে। স্ত্রী উঠতে না চাইলে সে তার মুখমণ্ডলে পানি ছিটায়।[২৬]

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ وَأَنَا رَاقِدَةٌ مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ عَلَى فِرَاشِهِ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يُوتِرَ أَيْقَظَنِي فَأَوْتَرْتُ ‏

আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) (তাহাজ্জুদের) ছালাত আদায় করতেন, তখন আমি তাঁর ও কিবলার মধ্যস্থলে নিদ্রিত অবস্থায় তাঁর বিছানায় শুয়ে থাকতাম। যখন তিনি বিতরের ছালাত আদায় করতে ইচ্ছা করতেন, তখন আমাকে জাগিয়ে দিতেন এবং আমি বিতরের ছালাত আদায় করতাম।[২৭]

أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ قَالَتْ اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيْلَةً فَزِعًا يَقُولُ سُبْحَانَ اللهِ مَاذَا أَنْزَلَ اللهُ مِنْ الْخَزَائِنِ وَمَاذَا أُنْزِلَ مِنْ الْفِتَنِ مَنْ يُوقِظُ صَوَاحِبَ الْحُجُرَاتِ يُرِيدُ أَزْوَاجَهُ لِكَيْ يُصَلِّينَ رُبَّ كَاسِيَةٍ فِي الدُّنْيَا عَارِيَةٍ فِي الْآخِرَةِ

নবী সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন এক রাতে নবী (ﷺ) ভীত অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে বলতে লাগলেন, সুবহানাল্লাহ্, আল্লাহ্ তা‘আলা কতই না ধনভাণ্ডার অবতীর্ণ করেছেন, আর কতই না ফিতনা অবতীর্ণ হয়েছে। কে আছে যে হুজরাবাসিনীদেরকে জাগিয়ে দেবে, যেন তারা ছালাত আদায় করে। এ বলে তিনি তাঁর স্ত্রীদেরকে উদ্দেশ্য করেছিলেন। তিনি আরও বললেন, দুনিয়ার মধ্যে বহু বস্ত্র পরিহিতা পরকালে উলঙ্গ থাকবে।[২৮]

প্রশ্ন : মহিলাদের জন্য কি জুমু‘আর ছালাত ওয়াজিব?

উত্তর : জুমু‘আর ছালাত পুরুষদের জন্য ফরয; নারীদের জন্য নয়। তাই নারীরা বাড়িতে জুমু‘আর সময়ে যথা নিয়মে যোহরের ছালাত পড়বে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীছের দিকনির্দেশনাও এমনই, তারিক ইবনে শিহাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

الْجُمُعَةُ حَقٌّ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فِي جَمَاعَةٍ إِلاَّ أَرْبَعَةً عَبْدٌ مَمْلُوكٌ أَوِ امْرَأَةٌ أَوْ صَبِيٌّ أَوْ مَرِيضٌ 

‘জুমু‘আর ছালাত প্রত্যেক মুসলমানের উপর জামা‘আতের সঙ্গে আদায় করা ওয়াজিব (অবশ্যক কর্তব্য)। কিন্তু তা চার প্রকার লোকের উপর ওয়াজিব নয়। (তারা হলো)-১. ক্রীতদাস ২. নারী ৩. শিশু ও ৪. রুগ্ন ব্যক্তি’।[২৯]

উল্লেখিত হাদীছের আলোকে এটা সুস্পষ্ট যে, নারীর জন্য জুমু‘আর ছালাত পড়া আবশ্যক নয়। তারা জুমু‘আর সময় যোহরের ছালাত আদায় করবে। তবে কোন নারী যদি বাড়ির সন্নিকটে অবস্থিত তাদের জন্য আলাদা নিরাপদ ছালাতের ব্যবস্থা থাকে, তবে এমন মসজিদে জুমু‘আহ আদায় করতে পারবে। তারা সেখানে স্বামী বা মাহরাম পুরুষ (তথা পিতা, ভাই, সন্তান, দাদা, চাচা... ইত্যাদি) এর সঙ্গে জুমু‘আহ মসজিদে যায়, তাহলে সেখানে পুরুষের সঙ্গে আলাদা ব্যবস্থাপনায় একই সময়ে জুমু‘আর ছালাত পড়বে। যদিও নারীদের জন্য মসজিদে না গিয়ে বাড়িতে ছালাত পড়াই অধিক উত্তম।

নারীরা যদি জুমু‘আহ মসজিদে যায়, তবে তারা অবশ্যই পূর্ণ পর্দা সহকারে যাবে, পরপুরুষদের থেকে দূরে অবস্থান করবে এবং আতর-সুগন্ধি ব্যবহার করবে না। হাদীছের দিকনির্দেশনা এমনই। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,لاَ تَمْنَعُوْا إِمَاءَ اللهِ مَسَاجِدَ اللهِ ، وَلَكِنْ لِيَخْرُجْنَ وَهُنَّ تَفِلاَتٌ ‘তোমরা আল্লাহর বান্দিদের মসজিদে যেতে নিষেধ করো না। তবে তারা যেন কোনো রকম সাজ-সজ্জা ও সুবাস-সুগন্ধ না লাগিয়ে বের হয়’।[৩০]

মনে রাখতে হবে, বাড়িতে শুধু নারীদের নিয়ে আলাদাভাবে জুমু‘আর ছালাত অথবা এককভাবে জুমু‘আর ছালাত বৈধ নয়। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির ফাতাওয়াও তা বলা হয়েছে,

إذا صلت المرأة الجمعة مع إمام الجمعة كَفَتهَا عن الظهر فلا يجوز لها أن تصليَ ظهر ذلك اليوم ، أما إن صلت وحدها فليس لها أن تصلي إلا ظهرا ، وليس لها أن تصلي جمعة انتهى

‘যদি কোনো নারী ইমামের সঙ্গে জুমু‘আর ছালাত আদায় করে, তাহলে তা যোহর ছালাতের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। (অর্থাৎ পরে পুনরায় তার যোহর ছালাত পড়ার প্রয়োজন নেই)। আর সে যদি একাকি ছালাত পড়ে, তাহলে সে কেবল যোহর পড়বে। এককভাবে তার জন্য জুমু‘আহ পড়া বৈধ নয়’।[৩১]

 (ইনশাআল্লাহ চলবে)



*  শিক্ষক, দারুল হুদা ইসলামী কমপ্লেক্স, বাঘা, রাজশাহী।

তথ্যসূত্র :
[১]. বায়হাক্বী সুনানুল কুবরা, হা/৫৯০, ৫৯১; দারাকুত্বনী, হা/১৫২৫।
[২]. আল-মহাল্লা, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ২১৯; ইবনুল মুলক্বিন এ হাদীছের সনদকে সহীহ বলেছেন; খোলাসাতু বদরুল মুনীর, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৯৮।
[৩]. তাবঈনূল হাক্বায়েক, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৩৫।
[৪]. ছহীহ মুসলিম, হা/৮৯০।
[৫]. ছহীহ বুখারী, হা/১১২৯, ১১৩০।
[৬]. জামে’ আহকামুন নিসা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৯৯।
[৭]. ছহীহ মুসলিম, হা/৪৪০; মিশকাত, হা/১০৯২।
[৮]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৭৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৫৮; তিরমিযী, হা/২৩৪।
[৯]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৯৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৬০।
[১০]. আহমাদ, হা/১৭৮, ১৫৬৯৬; আলবানী রাহি: সহীহ বলেছেন।
[১১]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৮৫৬।
[১২]. ত্বাবারানী, আল-মু‘জামুল আওসাত্ব, হা/৯১০১; আত তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৪২।
[১৩]. জামে’ আহকামূন নিসা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ১০১।
[১৪]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৩১।
[১৫]. ইবনু হাজার আসক্বালানী, ফাৎহুল বারী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৫৫।
[১৬]. সিলসিলা যঈফাহ, হা/২৬৫২।
[১৭]. নাসিরুদ্দীন আলবানী, সিফাতু ছালাতিন নাবী (ﷺ), পৃ. ১৮৯।
[১৮]. শারহুল মুমতে’, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩০৪।
[১৯]. মুত্বাসা, পৃ. ১৮৮-১৮৯।
[২০]. ছহীহ বুখারী, হা/৩৬২, ৮১৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৪৪১।
[২১]. জামে’ আহকামূন নিসা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ১০৩।
[২২]. ছহীহ বুখারী, হা/৯৩৯, ১২০৩।
[২৩]. ছহীহ মুসলিম, হা/১০৯৭,আবূ দাঊদ, হা/৯১৯।
[২৪]. আবূ দাঊদ, হা/৯২০।
[২৫]. নাসাঈ, হা/১৫৮৮; ইবনু মাজাহ, হা/৩৬০০।
[২৬]. আবূ দাঊদ, হা/১৩০৮, নাসাঈ, হা/১৬০৯।
[২৭]. ছহীহ বুখারী, হা/৫১২, ৯৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৩২।
[২৮]. ছহীহ বুখারী, হা/৭০৬৯।
[২৯]. আবূ দাঊদ, হা/১০৬৭; মুসতাদরাক হাকিম, হা/১০৬২।
[৩০]. আবূ দাঊদ, হা/৫৬৫।
[৩১]. ফাতাওয়া লাজনাহ আদ-দায়েমাহ, ৭ম খণ্ড, পৃ. ৩৩৭।




শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (৯ম কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
প্রশ্নোত্তরে নারীদের ছালাত শিক্ষা (৫ম কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
শারঈ পর্দা : একটি পর্যালোচনা (২য় কিস্তি) - ওবাইদুল্লাহ আল-আমীন
ইসলামিক প্যারেন্টিং (২য় কিস্তি) - তিনা খান
প্রশ্নোত্তরে নারীদের ছালাত শিক্ষা - আব্দুল গাফফার মাদানী
ইসলামিক প্যারেন্টিং (৮ম কিস্তি) - তিনা খান
প্রশ্নোত্তরে নারীদের ছালাত শিক্ষা (৪র্থ কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য - তামান্না তাসনীম
প্রশ্নোত্তরে নারীদের জানাযা শিক্ষা - আব্দুল গাফফার মাদানী
প্রশ্নোত্তরে মুসলিম নারীদের ইসলাম শিক্ষা (৪র্থ কিস্তি) - আব্দুল গাফফার মাদানী
প্রশ্নোত্তরে নারীদের জানাযা শিক্ষা - আব্দুল গাফফার মাদানী
সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায় নারী সমাজের ভূমিকা - আল-ইখলাছ ডেস্ক

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ