শুক্রবার, ০৫ Jun ২০২৬, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর :  ক্বিয়ামতের দিন আমলনামা ওযন করা বা ‘মীযান’ (দাঁড়িপাল্লা) স্থাপন করা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের একটি মৌলিক বিশ্বাস। তবে আমল ওযন করার বিষয়টি ব্যক্তির ঈমান ও কুফরের ওপর নির্ভর করে। যদি কোন ব্যক্তির আক্বীদাগত ভুল এমন পর্যায়ের হয়, যা তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় (যেমন: বড় শিরক, আল্লাহ বা রাসূলকে নিয়ে উপহাস, বা দ্বীনের কোন অকাট্য বিষয় অস্বীকার করা), তবে তার কোন আমলই ক্বিয়ামতের দিন ওযন করা হবে না। কারণ কুফর ও শিরক মানুষের সমস্ত নেক আমলকে ধ্বংস করে দেয়। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِاٰیٰتِ رَبِّہِمۡ وَ لِقَآئِہٖ فَحَبِطَتۡ اَعۡمَالُہُمۡ فَلَا نُقِیۡمُ لَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ  وَزۡنًا

‘তারাই ওই সমস্ত লোক যারা তাদের রবের নিদর্শনাবলী ও তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বীকার করে; ফলে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং ক্বিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য কোন ওজন (মীযান) কায়েম করব না’ (সূরা আল-কাহ্ফ : ১০৫)।

তবে যদি কোন মুসলিমের আক্বীদাগত ভুল থাকে কিন্তু তা তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়ার মত বড় কুফর বা শিরক না হয় (যেমন: বিদ‘আতে লিপ্ত হওয়া বা ভ্রান্ত ব্যাখ্যা পোষণ করা), তবে তাকে ‘মুসলিম’ হিসাবেই গণ্য করা হবে। এমতাবস্থায় তার ঈমানের ওজনে তার আমলনামা মীযানে স্থাপন করা হবে। সেখানে তার ভুল আক্বীদা বা পাপের বিপরীতে তার তাওহীদ ও নেক আমলগুলোর ওজন করা হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিখ্যাত ‘বিতাকা’ সংক্রান্ত হাদীছে বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন এক ব্যক্তির ৯৯টি পাপের দফতর আনা হবে। অতঃপর তার একটি ‘কার্ড’ (যাতে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু লেখা থাকবে) আনা হবে এবং মীযানের এক পাল্লায় রাখা হবে। দেখা যাবে সেই কালিমার ওজনের কাছে সব পাপের দফতর হালকা হয়ে গেছে’ (তিরমিযী, হা/২৬৩৯; ইবনু মাজাহ, হা/৪৩০০) ইমাম ইবনে আবিল ইয আল-হানাফী (র.) ‘আকীদাহ আত-তাহাবীয়্যাহ’-এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন: “যাদের কোনো নেকি নেই, তাদের পাল্লা ভারী হওয়ার সুযোগ নেই। তবে তাদের মন্দ আমলগুলো গণনা ও সাব্যস্ত করার জন্য ওজন করা হতে পারে।” (শারহুল আকীদাহ আত-তাহাবীয়্যাহ)

সুতরাং আক্বীদাগত ভুল যদি বড় শিরক বা কুফর হয়, তবে আমল ওযন করা হবে না। আর যদি তা সাধারণ বিচ্যুতি বা ছোট বিদআত হয়, তবে আমল ওজন করা হবে এবং ঈমান থাকলে শেষ পর্যন্ত সে ব্যক্তির জান্নাতে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। সুতরাং আমল কবুল ও ওজনের জন্য সহীহ আক্বীদা থাকা অপরিহার্য।


প্রশ্নকারী : আব্দুর রব, বরিশাল।





প্রশ্ন (১৬) : যমযম কূপের পানিতে অন্য পানি মিশিয়ে পান করলে যমযমের ফযীলত পাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : রাসূল (ﷺ)-এর আবির্ভাবের পূর্বে সমস্ত নবীর ক্বিবলাহ বাইতুল মাক্বদিছ ছিল এই কথাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : অনার্স পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১টা থেকে চার ঘণ্টা। এমতাবস্থায় কিভাবে যোহরের ছালাত আদায় করতে হবে? এই ওজরে কি ছালাত পিছিয়ে আছরের সাথে আদায় করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : কোন নাপাক কাপড়ের সাথে অন্য পাক কাপড় থাকলে কিংবা কাপড় থেকে নাপাকি শুকিয়ে গেলে ঐ কাপড় অন্যান্য পাক কাপড়ের সাথে একসাথে ধোয়া যাবে কিনা? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : বর্তমানে নাপিতেরা চুল কাটার সময় মাথার ডানে-বামে এবং পেছনে চুল ছোট করে কাটে, সামনে তারচেয়ে বেশি লম্বা রাখে। এভাবে চুল কাটলে কি গুনাহগার হব? শরী‘আতে চুলকাটার পদ্ধতি সম্পর্কে কী বলা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : কতটুকু বা কয় ঢোক দুধ পান করলে দুধ মাতা হিসাবে গণ্য হবে? যে মেয়ে বা ছেলে দুধ পান করেছে ঐ মেয়ের বা ছেলের অন্যান্য ভাই ও বোনেরা দুধ মায়ের অন্য ছেলে বা মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে কি? দুধমাতা সাব্যস্ত হওয়ার জন্য সাক্ষীর প্রয়োজন আছে কি, থাকলে কতজন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : ছালাতে সিজদা থেকে উঠে দাঁড়ানোর পর যদি সন্দেহ হয় একটা সিজদা হয়েছে না-কি দু’টি সিজদা হয়েছে? এক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : সৌন্দর্যের জন্য ভ্রু চাঁছা কি বৈধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : একাকী ছালাত আদায়ের সময় দুই পায়ের মাঝে কতটুকু ফাঁকা রাখতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : যদি কোন মুসলিম বলে, এটা কুরআনে বলা হয়েছে, অথচ সেটা কুরআনে বলা হয়নি, তাহলে সে কি মুসলিম থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : শা‘বান মাসের ছিয়াম গোটা মাস রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : যদি কেউ কোন কথা আমানত রাখতে বলে আর  অন্য কেউ সেই বিষয় জানতে চায়, তাহলে ‘আমি জানি না’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ