বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর :  ক্বিয়ামতের দিন আমলনামা ওযন করা বা ‘মীযান’ (দাঁড়িপাল্লা) স্থাপন করা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের একটি মৌলিক বিশ্বাস। তবে আমল ওযন করার বিষয়টি ব্যক্তির ঈমান ও কুফরের ওপর নির্ভর করে। যদি কোন ব্যক্তির আক্বীদাগত ভুল এমন পর্যায়ের হয়, যা তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় (যেমন: বড় শিরক, আল্লাহ বা রাসূলকে নিয়ে উপহাস, বা দ্বীনের কোন অকাট্য বিষয় অস্বীকার করা), তবে তার কোন আমলই ক্বিয়ামতের দিন ওযন করা হবে না। কারণ কুফর ও শিরক মানুষের সমস্ত নেক আমলকে ধ্বংস করে দেয়। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِاٰیٰتِ رَبِّہِمۡ وَ لِقَآئِہٖ فَحَبِطَتۡ اَعۡمَالُہُمۡ فَلَا نُقِیۡمُ لَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ  وَزۡنًا

‘তারাই ওই সমস্ত লোক যারা তাদের রবের নিদর্শনাবলী ও তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বীকার করে; ফলে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং ক্বিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য কোন ওজন (মীযান) কায়েম করব না’ (সূরা আল-কাহ্ফ : ১০৫)।

তবে যদি কোন মুসলিমের আক্বীদাগত ভুল থাকে কিন্তু তা তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়ার মত বড় কুফর বা শিরক না হয় (যেমন: বিদ‘আতে লিপ্ত হওয়া বা ভ্রান্ত ব্যাখ্যা পোষণ করা), তবে তাকে ‘মুসলিম’ হিসাবেই গণ্য করা হবে। এমতাবস্থায় তার ঈমানের ওজনে তার আমলনামা মীযানে স্থাপন করা হবে। সেখানে তার ভুল আক্বীদা বা পাপের বিপরীতে তার তাওহীদ ও নেক আমলগুলোর ওজন করা হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিখ্যাত ‘বিতাকা’ সংক্রান্ত হাদীছে বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন এক ব্যক্তির ৯৯টি পাপের দফতর আনা হবে। অতঃপর তার একটি ‘কার্ড’ (যাতে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু লেখা থাকবে) আনা হবে এবং মীযানের এক পাল্লায় রাখা হবে। দেখা যাবে সেই কালিমার ওজনের কাছে সব পাপের দফতর হালকা হয়ে গেছে’ (তিরমিযী, হা/২৬৩৯; ইবনু মাজাহ, হা/৪৩০০) ইমাম ইবনে আবিল ইয আল-হানাফী (র.) ‘আকীদাহ আত-তাহাবীয়্যাহ’-এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন: “যাদের কোনো নেকি নেই, তাদের পাল্লা ভারী হওয়ার সুযোগ নেই। তবে তাদের মন্দ আমলগুলো গণনা ও সাব্যস্ত করার জন্য ওজন করা হতে পারে।” (শারহুল আকীদাহ আত-তাহাবীয়্যাহ)

সুতরাং আক্বীদাগত ভুল যদি বড় শিরক বা কুফর হয়, তবে আমল ওযন করা হবে না। আর যদি তা সাধারণ বিচ্যুতি বা ছোট বিদআত হয়, তবে আমল ওজন করা হবে এবং ঈমান থাকলে শেষ পর্যন্ত সে ব্যক্তির জান্নাতে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। সুতরাং আমল কবুল ও ওজনের জন্য সহীহ আক্বীদা থাকা অপরিহার্য।


প্রশ্নকারী : আব্দুর রব, বরিশাল।





প্রশ্ন (৭) : জোরপূর্বক ধর্ষণ করলে এক মহিলা গর্ভবতী হয় এবং অবৈধ বাচ্চা হয়, যার বাবার পরিচয় নেই। এদিকে অবৈধ সন্তান নাকি ইসলাম বিদ্বেষী হয়। আবার বাচ্চাকে হত্যা করাও যাবে না। এমতাবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যে নারী ক্বাযা ছিয়াম পালন করার আগেই গর্ভবতী হয়ে গেছেন এবং আগত রামাযানেও তার পক্ষে ছিয়াম রাখা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় পূর্বের ক্বাযা ছিয়াম ও আগত ছিয়ামের হুকুম কী হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : জনৈক খত্বীব বলেন, মুহাররমের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত ছিয়াম রাখলে ৫০ বছর নফল ছিয়াম পালনের নেকী লেখা হয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : আযানের উত্তর না দিলে বা আযানের সময় কথা বললে কি গুনাহ হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : আল-কুরআন অবমাননাকারীর বিধান ও শাস্তি কী? অবমাননাকারীর শাস্তি কারা দিবে? সাধারণ জনগণ কি অবমাননাকারীকে শাস্তি দিতে পারে? এর প্রতিবাদে মিছিল-মিটিং ও সমাবেশ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : ‘সালামালাইকুম’ অর্থ কী? এভাবে সালাম দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : মসজিদের ফরয ছালাত কিংবা জুম‘আর ছালাতের পর কেউ কেউ পিতা-মাতা বা নিজের রোগমুক্তির জন্য সবার কাছে দু‘আ চায়। অনেকে ইমামের নিকট পত্র লিখে দু‘আ চায়। এভাবে কেউ দু‘আ চাইলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : কাঁকড়া খাওয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৯) : ছিয়াম অবস্থায় ওযূ করার পর স্ত্রীকে স্পর্শ করলে ছিয়াম ও ওযূ ভঙ্গ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : খাঁচার ভিতরে পাখি রাখা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪): গরীব-মিসকীন ছাড়া ক্বুরআনে উল্লেখিত আট শ্রেণীর অন্যদের মাঝে কি ফিতরা বণ্টন করা যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : সূর্যাস্তের সময় ‘দুখূলুল মসজিদ’ আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ