বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : তার কোন উপন্যাস পড়া যাবে না। কারণ সব নাস্তিকতা ও অশ্লীলতায় পরিপূর্ণ। এমন প্রত্যেক গ্রন্থ যা মানুষের জন্য কল্যাণকর ও উপকারী তা পড়া নিশ্চিতরূপে বৈধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, তিনি পৃথিবীর সব কিছুই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৯)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ ‘যা তোমার জন্য কল্যাণকর তা অর্জনে তুমি আগ্রহী হও’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৬৪, ৬৬৬৭; ইবনু মাজাহ, হা/৭৯, ৪১৬৮)।

দ্বিতীয়তঃ এমন গ্রন্থ যেগুলো সমাজ তথা মানুষের মধ্যে শিরক, বিদ’আত, পাপাচার, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার প্রচার-প্রসার করে, সেগুলো ক্রয়-বিক্রয় করা ও পড়া নিষিদ্ধ। যেমন, বেহেস্তি জেওর, নেয়ামুল কোরআন, ফাজায়েলে সাদাকাত, নোংরা ম্যাগাজিন, অশ্লীল উপন্যাস, চলচ্চিত্র জগতের মডেল, অভিনেত্রী ও গায়িকাদের  উলঙ্গ বা অর্ধ-উলঙ্গ চিত্র ইত্যাদি। কেননা আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহায়তা করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন, ‘তোমরা নেককাজ ও তাক্বওয়ায় পরস্পরকে সাহায্য কর এবং পাপ ও সীমালংঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না। আর আল্লাহর তাক্বওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যাতে ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে আল্লাহ্ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন (তাফসীর ইবনু কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)।

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ), শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) ও শাইখ মুহাম্মাদ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, যাদু, জ্যোতিষশাস্ত্র, গণক, মিথ্যা সমন্বিত, বিদ‘আতীমূলক, কুফরীমূলক ও বিভ্রান্তিকর গ্রন্থসমূহ বিনষ্ট করা অথবা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা অপরিহার্য। মুসলিমদের উচিত এ সম্পর্কে ভয় করা এবং কুফরীমূলক গ্রন্থসমূহ ক্রয়-বিক্রয় না করা, কেননা তা জায়েয নয়। এর মধ্যে বিধিসম্মত কোন কল্যাণ নেই। তাই একে ধ্বংস করা অপরিহার্য (আল-মাজমূঊ লিন নববী, ৯/২৫৩; ফাতাওয়া নূরুন আলাদ র্দাব, ১/১৯৪ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৫২১৯২)। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, لا ضمان في تحريق الكتب المضلة وإتلافها ‘বিভ্রান্তিকর গ্রন্থসমূহ পুড়িয়ে ফেললে বা বিনষ্ট করলে কোন কৈফিয়ত তলব করা হবে না’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৫২১৯২)।

আবূ বাকর আল-মার্রুযিয়্যু (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ)-কে বললাম যে, আমি একটি বই ধার স্বরূপ নিয়েছি, যার মধ্যে কিছু নিকৃষ্ট, খারাপ, বাজে জিনিস আছে। এ সম্পর্কে আপনার মতামত কী? আমি সেটাকে ছিঁড়ে বিনষ্ট করব, না-কি আগুনে পুড়িয়ে ফেলব? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি সেটাকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলো (আস-সুন্নাহ, ৩/৫১০; আল-আদাবুশ শারঈয়্যাহ, ১/২২৯; গিযাউল আলবাব, ১/২৪৭; আল-কানযুল আকবার, পৃ. ২৫২-২৫৯)। ‘নবী (ﷺ) উমার ফারুক্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে একটি গ্রন্থ দেখতে পেলেন, যা তিনি তাওরাত থেকে লিখেছিলেন এবং সেটি কুরআনের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন। এটি দেখে রাসূল (ﷺ)-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে উমার ফারুক্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একটি চুলার কাছে গিয়ে সেটিকে নিক্ষেপ করলেন’ (ইরওয়াউল গালীল, হা/১৫৮৯; আহমাদ, ৩/৩৮৭; আস-সুন্নাহ, ১/২৭; ইবনে আবী শাইবাহ, ৫/৩১৩; শু‘আবুল ঈমান লিল বাইহাক্বী, ১/৭৭ পৃ.)। তাহলে একবার ভেবে দেখুন তো! তাঁর মৃত্যুর পর কুরআন ও ছহীহ হাদীছের সঙ্গে সাংঘর্ষিক যে সমস্ত গ্রন্থ লেখা হয়েছে, সেগুলো তিনি দেখতে পেলে কী করতেন? (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৫২১৯২)।  

স্থীরিকৃত নীতিমালাসমূহের মধ্যে রয়েছে- إذا اجتَمَع الحلالُ والحرامُ غُلِّبَ الحرامُ ‘যখন কোন বিষয়ে হালাল ও হারামের মাসআলা একত্রিত হয়, তখন হারামের মাসআলা প্রাধান্য পায়’। (অর্থাৎ সেটাকে হারাম বলে গণ্য করতে হবে)। নবী (ﷺ) বলেন, নিশ্চয় হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর উভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়, অনেক লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে সে তার দ্বীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে, আর যে লোক সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে (ছহীহ বুখারী, হা/৫২; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৯৮৬)।


প্রশ্নকারী : এম শামসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।





প্রশ্ন (২৫) : রামাযান মাসে একই রাত্রিতে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ পড়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : কোন্ কাজগুলো ডান দিক থেকে এবং কোন্ কাজগুলো বাম দিক থেকে শুরু করা সুন্নাত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : হিবা কী ও কিভাবে সংঘটিত হয়? কোন্ ধরনের বস্তুতে হিবা শুদ্ধ হয়? হিবা এবং ছাদাক্বার মধ্যে পার্থক্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : স্বামী সংসার করতে আগ্রহী, কিন্তু স্ত্রী সংসার করতে আগ্রহী নয়। এজন্য স্ত্রী আলাদা হয়ে বাপের বাড়ী চলে যায়, তাহলে তাকে কি দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ব্যবসার ক্ষেত্রে সুন্নাহ কী? কীভাবে নবী (ﷺ) ব্যবসা করতেন, পণ্যের বিবরণ দিতেন, বিনিময় করতেন এবং ফিরিয়ে দিতেন... ইত্যাদি। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক ব্যক্তি জর্জ কোর্টে মুহুরীর সহযোগী হিসাবে কাজ করে। মজুরী হিসাবে টাকাও পায়। কিন্তু যার সহযোগী হিসাবে কাজ করে সে মানুষের কাছ থেকে মিথ্যা/প্রতারণা করে টাকা নেয় এবং বিভিন্ন সময় তাকেও মিথ্যা কথা বলতে হয়। এ ধরনের চাকরী করা বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : মেয়ের বিয়ের পরে পিতা তাকে শাসন করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : হারাম ভক্ষণকারী কি চিরস্থায়ী জাহান্নামী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : এশার ছালাতের জামা‘আত চলাকালীন শেষের দুই রাক‘আতে জামা‘আতে শামিল হলে ইমামের সালাম ফিরানোর পর মাসবূক ব্যক্তি কি পরের বাকি দুই রাক‘আত ছালাতে সূরা ফাতিহার পর অন্য কোন সূরা যোগ করবে, না-কি শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘জ্ঞান অর্জনের জন্য চীন দেশে হলেও তোমরা যাও’, হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ঈমানদার জিনরা কি ঈমানদার মানুষের সাথে বিবাহ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : ছাহাবায়ে কেরাম বলতেন, ‘আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক’। এই কথার অর্থ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ