রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ন
উত্তর : স্ত্রী ও ২ কন্যার নির্ধারিত অংশ দেয়ার পর অবশিষ্ট অংশে ‘আছাবা’ সূত্রে দুই ভাই ও এক বোন অংশীদার হবেন।
কন্যাদের অংশ: এক্ষেত্রে কন্যারা মোট পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) পাবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

فَاِنۡ کُنَّ نِسَآءً فَوۡقَ اثۡنَتَیۡنِ فَلَہُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَکَ ۚ وَ اِنۡ کَانَتۡ وَاحِدَۃً  فَلَہَا النِّصۡفُ

‘কিন্তু দু-এর অধিক কন্যা থাকলে, তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ, আর মাত্র একটি কন্যা থাকলে, তার জন্য অর্ধাংশ’ (সূরা আন-নিসা: ১১)। তাহলে এখানে ২ কন্যা পাবে সমস্ত মালের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ (৪৮÷৩ =১৬) মানে ৩২ শতাংশ। এবার ঐ ৩২ শতাংশ ২ কন্যার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করতে হবে। তাহলে প্রত্যেকে (৩২÷২) ১৬ শতাংশ করে পাবে।
স্ত্রীর অংশ: সন্তানের উপস্থিতিতে স্ত্রী পরিত্যাক্ত সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ (১/৮) পাবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَ لَہُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَکۡتُمۡ  اِنۡ لَّمۡ یَکُنۡ لَّکُمۡ وَلَدٌ ۚ فَاِنۡ کَانَ لَکُمۡ وَلَدٌ فَلَہُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَکۡتُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ وَصِیَّۃٍ تُوۡصُوۡنَ بِہَاۤ  اَوۡ دَیۡنٍ

‘তোমাদের সন্তান না থাকলে তাদের (অর্থাৎ স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ, আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের (অর্থাৎ স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ। তোমরা যা ওয়াছিয়্যাত কর তা কার্যকর ও ঋণ পরিশোধ করার পর’ (সূরা আন-নিসা: ১২)। অর্থাৎ যদি স্বামী মারা যায় এবং তার কোন সন্তান না থাকে, তবে ঋণ পরিশোধ ও ওয়াছিয়্যাত কার্যকর করার পর স্ত্রীরা মোট সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ পাবে। আর যদি মৃত স্বামীর সন্তান থাকে, এ স্ত্রীর গর্ভজাত হোক কিংবা অন্য স্ত্রীর, তবে ঋণ পরিশোধ ও ওয়াছিয়্যাত কার্যকর করার পর স্ত্রীরা এক-অষ্টমাংশ পাবে। স্ত্রী একাধিক হলেও উপরিউক্ত বিবরণ অনুযায়ী এক অংশ সকল স্ত্রীর মধ্যে সমহারে বণ্টন করা হবে। তাহলে এখানে স্ত্রী এক-অষ্টমাংশ (৪৮÷৮) অর্থাৎ ৬ শতাংশ পাবে। স্ত্রীর অংশ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা তাদের অন্যান্য ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।

তবে প্রথমে দেখা উচিত যে, স্ত্রীর মোহরানা পরিশোধ করা হয়েছে কি-না, যদি না হয় তবে অন্যান্য ঋণের মতই প্রথমে মোট পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে মোহরানা পরিশোধ করার পরে ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। মোহরানা পরিশোধ করার পর যদি মৃত স্বামীর সম্পত্তি অবশিষ্ট না থাকে, তবে অন্যান্য ঋণের মত সম্পূর্ণ সম্পত্তি মোহরানা বাবদ স্ত্রীকে সমর্পণ করা হবে এবং কোন ওয়ারিশই অংশ পাবে না। যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘শর্তসমূহের মধ্যে যা পূর্ণ করার সর্বাধিক দাবী রাখে তা হল সেই শর্ত যার দ্বারা তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের হালাল করেছ’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৭২১, ৫১৫১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪১৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৩০৪; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ১৮/৩১; ই’লামুল মুওয়াক্কিইন, ৩/৮১; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৯/৫৬; বাবুল লিক্বা আশ-শাহরী, ২/৩৬১-৩৬২ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৪৫৮৫৫, ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-১৩১৩৪৬)।

জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, সা’দ ইবনু রাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী সা’দের ঔরসজাত তাঁর দুই কন্যাসহ রাসূল (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)! এরা সা’দ ইবনু রাবীর দুই মেয়ে। এদের বাবা উহুদের যুদ্ধে আপনার সাথে অংশগ্রহণ করে শহীদ হয়েছেন। এদের সমস্ত ধন-সম্পদ এদের চাচা নিয়ে নিয়েছে, এদের জন্য সামান্য কিছুও রাখেনি। এদের কোন ধন-সম্পদ না থাকলে এদের বিয়েও তো হবে না। তিনি বললেন, এ বিষয়টি আল্লাহ তা‘আলাই সমাধান করে দিবেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মীরাস বণ্টন বিষয়ক আয়াত অবতীর্ণ হয়। তাদের চাচাকে রাসূল (ﷺ) ডেকে এনে বললেন, সা’দের দুই মেয়েকে দুই-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি এবং তাদের মাকে এক-অষ্টমাংশ সম্পত্তি দিয়ে দাও, তারপর যেটুকু অবশিষ্ট থাকবে তা তোমার’ (তিরমিযী, হা/২০৯২; আবূ দাঊদ, হা/২৮৯১; ইবনু মাজাহ, হা/২৭২০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৮৪০)।

অতঃপর অবশিষ্ট সম্পত্তি ‘আছাবাহ’ অর্থাৎ সবচেয়ে নিকটাত্মীয় উত্তরাধিকারী হিসাবে ভাই ও বোনের মধ্যে বণ্টন করা হবে এবং বোনেরা ভাইদের অর্ধেক পাবে (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৩৫৯৭৬৪)। যেমন: আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেন, وَ  اِنۡ کَانُوۡۤا اِخۡوَۃً رِّجَالًا وَّ  نِسَآءً فَلِلذَّکَرِ مِثۡلُ حَظِّ الۡاُنۡثَیَیۡنِ ‘আর যদি ভাই-বোন উভয়ই থাকে, তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান’ (সূরা আন-নিসা: ১৭৬)। তাহলে এখন অবশিষ্ট ১০ অংশের মধ্যে থেকে একজন বোন পাবে ২ শতাংশ। আর প্রত্যেক ভাই পাবে ৪ শতাংশ করে। আর এখানে চাচা ও ফুফুর উপস্থিতিতে ভাইপোরা বঞ্চিত হবে।


প্রশ্নকারী : আব্দুস সালাম, চাঁদপুর।




প্রশ্ন (২৮) : যারা মিউজিক শুনে তাদের কানে উত্তপ্ত গলিত সীসা ঢেলে দেয়ার হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : কুরবানী করার সময় কোন্ দু‘আ পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ইমাম নাভীর নিচে বা নাভী বরাবর হাত বাঁধে, সিজদায় দুই হাত কুকুরের মত বিছিয়ে রাখে, সশব্দে আমীন বলে না, রফঊল ইয়াদায়েন করে না, সম্মিলিত মুনাজাত করে ইত্যাদি। এমন ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : রাসূল (ﷺ) কি রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : পিতার চার কন্যা সন্তান, কোন ছেলে নেই। সে কি তার সমস্ত সম্পত্তি চার কন্যা সন্তানের মধ্যে জীবিত থাকাকালে ভাগ করে দিতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : আমার বাবা সূদের উপরে টাকা নিয়ে গরুর খামার দিতে যাচ্ছে আমি ঐ খামারে কাজ করতে চাচ্ছি না বিধায় আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাচ্ছেন। এখন আমার কী করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : চাকুরীজীবী ব্যক্তি অফিসের যাবতীয় পণ্য ক্রয় করে। কিছু পণ্য ক্রয় করার সময় দেখা যাচ্ছে পণ্যের দাম ৩০০/৪০০ টাকা, যা সব দোকানে একই দাম। কিন্তু ঐ ব্যক্তি সেই পণ্যটি ২৮০/৩৮০ টাকায় ক্রয় করতে পারে। উক্ত পণ্য ক্রয়ে যে ২০ টাকা সাশ্রয় হল, সেই টাকা কি তিনি নিজে গ্রহণ করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : যারা মিউজিক শুনে তাদের কানে উত্তপ্ত গলিত সীসা ঢেলে দেয়ার হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : সূর্যগ্রহণ ও চন্দগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীদের কিছু কাজ থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়। এরকম কোন বিধান ইসলামে আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : জন্মদিন লিখে কেক তৈরি করা ও তা বিপণন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ইমাম মসজিদের মেহরাবের কোথায় দাঁড়াবে? মেহরাবের ভিতরে, না-কি বাইরে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : আল্লাহ তা‘আলার বাণী- ‘নিশ্চয় আপনি যাকে ভালোবাসেন ইচ্ছে করলেই তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না’ (সূরা আল-ক্বাছাছ : ৫৬) এবং তাঁর বাণী: ‘নিশ্চয় আপনি সরল পথের দিকে হেদায়াত করেন’ (সূরা আশ-শূরা : ৫২)। উক্ত আয়াতদ্বয়ের মাঝে সমন্বয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ