বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : এগুলো থেকে বিরত থাকা যরূরী। কারণ সাম্প্রতিককালে ইসলামী সংস্কৃতি ভুলে গিয়ে নিম্নমানের নির্মাতারা আর্থিক সুবিধার্থে ও বেশি ভিউয়ার্সের লোভ-লালসায় তৈরি করছে নোংরা সুড়সুড়ি দেয়ার মত কন্টেন্ট। এতে শুধু অশ্লীলতাই আছে। বিজ্ঞাপনের নামে যৌনতার উচ্ছৃঙ্খল চিত্রায়ণ দেখানো হচ্ছে। একজন সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষ কখনো এসব অশ্লীলতার পক্ষে বলতে পারে না। আর তা ছাড়া বিজ্ঞাপনগুলোর ৯৯.৯% অশ্লীল ও হারাম পণ্যের হয়ে থাকে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা এদের শাস্তি সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করে বলেন,

اِنَّ الَّذِیۡنَ یُحِبُّوۡنَ اَنۡ تَشِیۡعَ الۡفَاحِشَۃُ فِی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ۙ فِی الدُّنۡیَا وَ الۡاٰخِرَۃِ

‘নিশ্চয় যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি’ (সূরা আন-নূর  : ১৯)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, আমার প্রতিপালক নিষিদ্ধ করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতাকে, পাপাচারকে ও অসংগত বিদ্রোহকে এবং কোন কিছুকে আল্লাহর অংশী করাকে, যার কোন দলীল তিনি প্রেরণ করেননি এবং আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলাকে যে সম্পর্কে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই’ (সূরা আল-আ‘রাফ : ৩৩)।

শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, হারাম ও অশ্লীল বিজ্ঞাপন প্রচার করা, প্রচার করে অর্থ উপার্জন করা এবং তা দেখা সব-ই হারাম। কেননা তা অন্যায়, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও পাপাচারে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। উপরিউক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এখানে আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন (তাফসীর ইবনে কাছীর, ২/১২ পৃ,; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)। ‘ইসলাম ওয়েব’-এর আলেমগণ বলেন, ‘যেহেতু হারাম ও নিষিদ্ধ বিজ্ঞাপন সম্প্রচারিত করে অর্থোপার্জন করা এবং তা দেখা জায়েয নয়। সুতরাং আপনার উপর অপরিহার্য হল নিজেকে এর থেকে মুক্ত করা’ (ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-২৬৫১০২, ১৩২১৩৯)।

তৃতীয়তঃ ইসলামী শরী‘আতের স্থিরীকৃত নীতিমালাসমূহের মধ্যে রয়েছে, إذا اجتَمَع الحلالُ والحرامُ غُلِّبَ الحرامُ ‘যখন কোন বিষয়ে হালাল ও হারামের মাসআলা একত্রিত হয়, তখন হারামের মাসআলা প্রাধান্য পায় অর্থাৎ সেটাকে হারাম বলে গণ্য করতে হবে’। কেননা নবী (ﷺ) বলেন, ‘নিশ্চয় হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর উভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়। অনেক লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে সে তার দ্বীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে, আর যে লোক সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫২; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৯৮৬)। তিনি আরো বলেন,

دَعْ مَا يَرِيْبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيْبُكَ فَإِنَّ الصِّدْقَ طُمَأْنِيْنَةٌ وَإِنَّ الْكَذِبَ رِيْبَةٌ

‘যে বিষয়ে তোমার সন্দেহ হয়, তা ছেড়ে দিয়ে যাতে সন্দেহের সম্ভাবনা নেই তা গ্রহণ কর। যেহেতু সত্য হল শান্তি ও স্বস্তি এবং মিথ্যা হল দ্বিধা-সন্দেহ’ (তিরমিযী, হা/২৫১৮, সনদ ছহীহ)। অতএব প্রত্যেক মুসলিমের উচিত সন্দেহমুক্ত আমল করা এবং পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন উপায়ে জ্ঞানার্জন করা (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২৬/২৭৪-২৭৫ ও ১৪/৪২০ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : গোলাম রাব্বি, বরিশাল।





প্রশ্ন (১৩): পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধির জন্য জাদু, তন্ত্রমন্ত্র ও বশীকরণ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : ‘ছালাতুল ইশরাক্ব’, ‘ছালাতুয যুহা’ এবং ‘ছালাতুল আউওয়াবীন’ বলতে কোন্ কোন্ ছালাতকে বুঝানো হয় এবং এই সকল ছালাতের ফযীলত কেমন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : জনৈক খত্বীব বলেন, মুহাররমের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত ছিয়াম রাখলে ৫০ বছর নফল ছিয়াম পালনের নেকী লেখা হয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : নফল ছিয়াম ভেঙ্গে ফেলা যাবে কি এবং ভেঙ্গে ফেলা ছিয়ামের কাযা আদায় করতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন  (৮) : শা‘বান মাসের প্রতি বৃহস্পতিবার দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করা যাবে কি? রাসূলুল্লাহ‌ (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সেই দিন দুই রাক‘আত ছালাত পড়বে, প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতিহা ও সূরা ইখলাছ একশ’বার পড়বে, সালাম ফিরানোর পর একশ’বার নবী (ﷺ)-এর উপর দুরূদ পড়বে আল্লাহ‌ তার দ্বীন ও দুনিয়ার সকল প্রয়োজন পূরণ করে দিবেন’ মর্মে প্রচলিত হাদীছটি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১): হতাশা, দুঃশ্চিন্তা থেকে পরিত্রাণের ইসলামী উপায় কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : আহলে কিতাবদের সবাই কাফির হওয়া সত্ত্বেও কেন তাদের কন্যাদের সাথে মুসলিম পুরুষদের বিবাহ জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, যে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর দরূদ পাঠ করে তার জন্য সত্তর জন ফেরেশতা এক হাজার দিন পর্যন্ত নেকী লিখেন। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : জনৈক আলেম বলেন, কুরবানী দিতে অক্ষম ব্যক্তিগণ কুরবানীর খালেছ নিয়তে যিলহজ্জ মাসের চাঁদ ওঠার পর নখ ও চুল না কাটলে সে আল্লাহর নিকটে তা পূর্ণাঙ্গ কুরবানী হিসাবে গৃহীত হবে। তিনি দলীল হিসাবে মিশকাত হা/১৪৭৯ পেশ করেছেন। সেই সাথে এটাও বলেছেন যে, শু‘আইব আরনাঊত্ব (রাহিমাহুল্লাহ) অত্র হাদীছটিকে হাসান বলেছেন। তবে শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) অত্র হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। এখন আমরা দুই শায়খের মধ্যে কার তাহক্বীক্বকে প্রাধান্য দিব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪১) : চুলে কালো কলপ করার শাস্তি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : বিয়ের জন্য সূরা আহযাব লিখে রাখলে ঠিক কতদিনের মধ্যে ফল পাওয়া যায়? এমন কাজ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : যিলহজ্জ মাসের প্রতিটি দিনের ছিয়াম এক বছরের ছিয়ামের সমতুল্য। এর প্রতিটি রাতের ইবাদত লায়লাতুল ক্বদরের ইবাদতের সমতুল্য। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ