রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ফরয ছালাতের পর সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা স্পষ্ট বিদ‘আত। যেমন
(১) ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ছালাতের পরে ইমাম ও মুক্তাদী একত্রে দু‘আ করার বিষয়টি নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কেউই বর্ণনা করেননি’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ২২ খণ্ড, পৃ. ৫১৬)।

(২) ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছালাতের পরে মুক্তাদীদের দিকে মুখ করে দু‘আ করেননি এবং মুক্তাদীরা তার দু‘আয় ফজর ও আছর কিংবা সমস্ত ছালাতের পরে সর্বদা ‘আমীন’ ‘আমীন’ বলেননি।…. ফলে এটা করা নিষেধ। যা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে ছোট, বড়, পুরুষ ও মহিলা একজনও বর্ণনা করেনি’ (ই‘লামুল মুওয়াক্কেঈন ২/৫৮৯-৫৯০ পৃ.)।

(৩) সউদী আরবের স্থায়ী গবেষণা ও ফাতাওয়া বোর্ডের সিদ্ধান্ত হল- ‘আমরা যা জানি তাতে ফরয ছালাতের সালামের পরে হাত তুলে দু‘আ করা নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত হয়নি। তাই ফরয ছালাতের সালামের পরে দু’হাত তুলে দু‘আ করা সুন্নাত বিরোধী কাজ’ (ফাতাওয়া লাজনা আদ-দায়েমাহ, ৭/১০৪ পৃ., ফাতাওয়া নং ৫৫৬৫)।

(৪) সঊদী আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের ফাতাওয়া হল- ‘পাঁচ ওয়াক্ত ফরয ছালাত ও নফল ছালাত সমূহের পর সজোরে দু‘আ পাঠ করা অথবা দলবদ্ধভাবে গদবাধা দু‘আ করা নিকৃষ্ট বিদ‘আত। কারণ এরূপ দু‘আ রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর ছাহাবীদের যুগে ছিল না। যে ব্যক্তি ফরয ছালাতের পর অথবা নফল ছালাতের পর দলবদ্ধভাবে দু‘আ করে, সে যেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের বিরোধিতা করে’ (হাইয়াতু কিবারিল ওলামা ,১/২৪৪ পৃ.)।

(৫) শায়খ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)-কে উক্ত বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা যা জানি তা হল নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং ছাহাবায়ে কেরাম থেকে প্রমাণিত হয়নি যে, তারা ফরয ছালাতের পরে হাত তুলে দু‘আ করেছেন। এজন্য পরিষ্কার বুঝা যায় এটা বিদ‘আত’ (মাজমূউ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাতুন মুতানাওয়াহ, ১১/১৬৭ পৃ.)।

(৬) শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘উল্লিখিত স্থানে হাত তুলার ব্যাপারে শরী‘আতে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। … এমনকি এ ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য একটি হাদীছও নেই’ (সিলসিলা যঈফাহ, ৩/৩১ পৃ.)।

(৭) শায়খ উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ফরয ছালাত সমূহের পরে দু‘আ করা ও দু’হাত তুলা যদি সম্মিলিতভাবে হয় যেমন- ইমাম দু‘আ করে আর মুক্তাদীগণ আমীন আমীন বলে, তাহলে তা নিঃসন্দেহে বিদ‘আত হবে’ (মাজমূউ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ১৩/২৫৮ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : তাহমীদ, বাগমারা, রাজশাহী।





প্রশ্ন (৩৭) : ওযূ করার পর দু‘আ পড়তে হয়। কিন্তু তায়াম্মুম করলে কী দু‘আ পড়তে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের জন্য অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব বা যা ইসলামে হারাম করা হয়েছে সেসবের ডিজাইন করতে হয়। আবার কোন সময় গানের ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে হয়। এক্ষেত্রে কেউ গান শুনলে ডিজাইনার কি গুনাহ পেতে থাকব? আবার বিদেশী নারী ক্লায়েন্টের জন্য বিদেশী নারীদের ছবি ডিজাইনের কাজ করতে হয়। প্রশ্ন হল- এরকম ডিজাইনের কাজ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : জান্নাতী দলের পরিচয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : ছিয়াম অবস্থায় সহবাস ব্যতীত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : ক্বদরের রাত্রে সারা রাত নফল ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : প্রতিবেশী যদি এমন ধরনের উম্মাদ পাগল ও মানসিক ভারসাম্যহীন হয় যে, যেকোন সময় গুরুতর বিপদ ঘটানোর আশঙ্কা থাকে। এমতাবস্থায় ইসলামের বিধান? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : সরকারী ভ্যাট বা কর হিসাবে যাকাতের টাকা প্রদান করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : জোরপূর্বক ধর্ষণ করলে এক মহিলা গর্ভবতী হয় এবং অবৈধ বাচ্চা হয়, যার বাবার পরিচয় নেই। এদিকে অবৈধ সন্তান নাকি ইসলাম বিদ্বেষী হয়। আবার বাচ্চাকে হত্যা করাও যাবে না। এমতাবস্থায় করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : কোন্ কাজগুলো ডান দিক থেকে এবং কোন্ কাজগুলো বাম দিক থেকে শুরু করা সুন্নাত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : নির্বাচন আসলে দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা শাহজালাল, শাহপরান, বায়েযীদ বুস্তামী মাযারসহ বিভিন্ন মাজার যিয়ারত করে দু‘আ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবে এবং প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান/শেখ মুজিবের মাযারে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশ পরিচালনা করার চিন্তা করে। এগুলো কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ছাদাক্বাতুল ফিতর মিসকীনকে দিতে হবে। এই মিসকীন বলতে কাকে বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : জনৈক ব্যক্তি জর্জ কোর্টে মুহুরীর সহযোগী হিসাবে কাজ করে। মজুরী হিসাবে টাকাও পায়। কিন্তু যার সহযোগী হিসাবে কাজ করে সে মানুষের কাছ থেকে মিথ্যা/প্রতারণা করে টাকা নেয় এবং বিভিন্ন সময় তাকেও মিথ্যা কথা বলতে হয়। এ ধরনের চাকরী করা বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ