রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
উত্তর : সালাফদের মানহাজ বলতে উদ্দেশ্য হল, যে আদর্শের উপর ছাহাবায়ে কিরামগণ, তাবিঈগণ ও তাবি‘ তাবিঈগণ ছিলেন এবং দ্বীনের সেই ইমামগণ, যাদের ইমাম হওয়ার ব্যাপারে সাক্ষী প্রদান করা হয়েছে, দ্বীনে তাঁদের বিশাল মর্যাদা বিদিত হয়েছে এবং তাঁদের বাণীকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল যুগের মানুষই সাদরে গ্রহণ করেছে। তারা নয়, যাদেরকে বিদ‘আতী আখ্যায়িত করা হয়েছে অথবা যারা অসন্তোষজনক উপাধি নিয়ে প্রসিদ্ধ হয়েছে। যেমন খাওয়ারিজ, রাওয়াফিয, ক্বাদারিয়্যাহ, মুরজি‘আহ্, জাবারিয়্যাহ্, জাহমিয়্যাহ, মু‘তাযিলাহ, কারামিয়্যাহ প্রভৃতি সম্প্রদায়’ (লাওয়ামিউল আনওয়ার, ১/২০ পৃ.)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‏خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِيْ ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ ثُمَّ الَّذِيْنَ يَلُوْنَهُمْ ‘আমার যুগের লোকেরাই সর্বোত্তম ব্যক্তি (অর্থাৎ ছাহাবীরা)। অতঃপর যারা তাঁদের নিকটবর্তী (অর্থাৎ তাবিঈরা)। অতঃপর যারা তাঁদের নিকটবর্তী (অর্থাৎ তাবি‘ তাবিঈরা)...’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৫২, ৩৬৫১, ৬৪২৯, ৬৬৫৮; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৩৩, ২৬৩৪)।

অর্থাৎ ছাহাবীদের যুগ, তাবিঈদের যুগ এবং তাবি‘ তাবিঈদের যুগের ব্যক্তিদেরই সালাফে ছালিহীন বুঝানো হয়েছে। অনুরূপভাবে পরবর্তী যুগের হিদায়াতপ্রাপ্ত, সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণ ইমামগণও শামিল। অর্থাৎ যে ব্যক্তি ছাহাবায়ে কিরাম এবং তাঁদের অনুগামী তাবিঈন এবং তাঁদের অনুগামী তাবি‘-তাবিঈন ও দ্বীনের ইমামগণের অনুসরণ করে ছহীহ হাদীছের সিদ্ধান্তকে মাথা পেতে গ্রহণ করে, কুরআন ও হাদীছকে তাঁদের বুঝ অনুযায়ী বোঝে এবং সেই মত আমল করে। তাওহীদে, ধর্মবিশ্বাসে, ইবাদতে, আচার-আচরণে, দাওয়াত ও তাবলীগে, শুধু তাঁদেরই অনুসরণ করে, সেই হল প্রকৃত সালাফী। সেই-ই হল সালাফী মানহাজ ও আদর্শের অনুসারী।

বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, এ ব্যাপারে সে নির্দিষ্টভাবে কোন একজনের অন্ধানুকরণ করে না, বরং আলেমদের অনুসরণ করে এবং দলীলপুষ্ট ও যুক্তিযুক্ত মতটিকে গ্রহণ করে। শায়খুল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইমাম আবুল মুযাফফার সাম‘আনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, আমরা সুন্নাতের অনুসরণ করতে আদিষ্ট হয়েছি এবং বিদ‘আত হতে আমাদেরকে নিষেধ ও তিরষ্কার করা হয়েছে। সুতরাং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের প্রতীক হল, সালাফে ছালিহীনদের অনুসরণ করা এবং প্রত্যেক নব উদ্ভূত ও বিদ‘আতকে বর্জন করা (ছাওনুল মানত্বিক, পৃ. ১৫৮)।

সালাফদের বুঝের আলোকে শরী‘আত বুঝা অপরিহার্য। আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পর্কে বলেন,

وَ مَنۡ یُّشَاقِقِ الرَّسُوۡلَ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا تَبَیَّنَ لَہُ الۡہُدٰی وَ یَتَّبِعۡ غَیۡرَ  سَبِیۡلِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ نُوَلِّہٖ مَا تَوَلّٰی وَ نُصۡلِہٖ جَہَنَّمَ ؕ وَ سَآءَتۡ مَصِیۡرًا

‘আর যে ব্যক্তি তার নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং মুমিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করবে, তাকে আমি সেদিকেই ফিরিয়ে দেব, যেদিকে সে ফিরে যেতে চায় এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা কত মন্দ আবাস!’ (সূরা আন-নিসা: ১১৫)। রাসূল (ﷺ)ও জানিয়ে দিয়েছেন, যারা ছাহাবী তথা সালাফদের মানহাজে চলবে তারা সঠিক পথের উপর অবিচল থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমার উম্মাত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। শুধু একটি দল ছাড়া তাদের সব দলগুলোই জাহান্নামী হবে। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)! সে দল কোন্টি? তিনি বললেন, ‘আমি ও আমার ছাহাবীগণ যার উপর প্রতিষ্ঠিত’ (তিরমিযী, হা/২৬৪১; মিশকাত, হা/১৬৯, ১৭১; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৩৪৮; ছহীহুল জামি‘, হা/৫৩৪৩)‌। অন্যত্র তিনি বলেন, من كان على مثل ما أنا عليه وأصحابي ‘সে দল ব্যতীত যারা আমার ও আমার ছাহাবীদের মানহাজের/পদ্ধতির উপরে রয়েছে তারা বিভ্রান্ত জাহান্নামী ৭৩ ফিরক্বার দলভুক্ত হবে না’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ৪/২৬৪ পৃ.)। ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,

فمن أحب الكون مع السلف في الآخرة، وأن يكون موجودا بما وعدوا به من الجنات والرضوان؛ فليتبعهم بإحسان، ومن اتبع غير سبيلهم؛ دخل في عموم قوله تعالى:- وَ مَنۡ یُّشَاقِقِ الرَّسُوۡلَ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا تَبَیَّنَ لَہُ الۡہُدٰی وَ یَتَّبِعۡ غَیۡرَ  سَبِیۡلِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ نُوَلِّہٖ مَا تَوَلّٰی وَ نُصۡلِہٖ جَہَنَّمَ ؕ وَ سَآءَتۡ مَصِیۡرًا

‘যে ব্যক্তি পরকালে সালাফদের সাথে থাকতে এবং তাঁদেরকে যে জান্নাত ও সন্তুষ্টির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা নিজের জন্য পেতে চায়, সে যেন তাদের যথাযথভাবে অনুসরণ করে। আর যে তাঁদের পথ ভিন্ন অন্য কোন পথের অনুসরণ করে সে আল্লাহ তা‘আলার এই ব্যাপক বিধানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে, ‘যে ব্যক্তি সত্য পথ প্রকাশিত হওয়ার পরও রাসূল (ﷺ)-এর বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই ফিরাব যে পথে সে ফিরতে যায়, আর তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব, আর তা কতই না মন্দ গন্তব্যস্থল!’ (সূরা আন-নিসা: ১১৫; যাম্মুত তা'বীল, পৃ. ১০)।


প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ হুমায়ূন কবীর, পূর্বাচল, ঢাকা।





প্রশ্ন (১২) : জনৈক ব্যক্তি স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত হয়ে স্ত্রীর সামনে স্ত্রীর নাম উল্লেখ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আল্লাহ তুমি স্বাক্ষী থাক, আল্লাহর কসম! আল্লাহর কসম! আল্লাহর কসম! আমি তোমার সাথে (স্ত্রী) আর কখনো মিলন করব না’। এরূপ কসমের জন্য করণীয় কী? এজন্য কি বিবাহ বিচ্ছিদ ঘটবে, না-কি কসমের কাফ্ফারা স্বরূপ তিনটি ছিয়াম রাখলেই যথেষ্ট হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : তাহিইয়াতুল মসজিদের ২ রাক‘আত ছালাত না পড়ে বসে পড়লে গুনাহ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ইসলামী শরী‘আতে শাফা‘আত কত প্রকার ও কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : ‘চুরি হওয়া মাল ছাদাক্বাহস্বরূপ’- কথাটি কি ইসলামসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : চাকুরীর বাধ্যবাধকতার কারণে পানি থাকা সত্ত্বেও হাত ও মুখে কসমেটিকস থাকায় তায়াম্মুম করে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : পেশাব করার পর ঢিলা কুলুখ নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : কুরআনের কোন আয়াত ওযূ ছাড়া লেখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : ‘একবার আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইটের তৈরি একটি মিম্বারে উঠে আমাদের উদ্দেশ্যে খুত্ববাহ প্রদান করলেন। তাঁর সাথে একটা তলোয়ার ছিল, যার মাঝে একটি ছহীফা ঝুলছিল’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭৩০০)। উক্ত হাদীছে পাকা ইটের তৈরি মিম্বার বলতে আসলে কী বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : ইমু, ওয়াট্সআপ ও ভয়েস মেসেজে কেউ সালাম জানালে এর উত্তর দেয়া কি ওয়াজিব? উত্তর দিতে হলে কিভাবে দিবে এবং কখন দিবে? সালাম দাতাকে ভয়েস মেসেজে বা লিখে দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : জানাযা ছালাত, না-কি দু‘আ? যদি ছালাত হয়, তাহলে রুকূ নেই কেন? সূরা ফাতিহা ব্যতীত জানাযার ছালাত কি শুদ্ধ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : মসজিদের পশ্চিম দিকে কবর থাকলে ঐ মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : মসজিদে বিয়ে পড়ানোর কি কোন ফযীলত আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ