উত্তর : ভাড়া লাভজনক ব্যবসা। সুতরাং সময় ও পরিস্থিতির নিরিখে দু’জনের সম্মতিতে ভাড়া কম-বেশি করা জায়েয (আল-মুগনী, ৮/৫৪-৫৭; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৫/৯২; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৮২৫৬৮)। ইসলামে ব্যবসার মূলনীতি হল- ক্রেতা ও বিক্রেতার সম্মতি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না। তবে তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে ব্যবসার মাধ্যমে (গ্রহণ করলে বৈধ) (সূরা আন-নিসা : ২৯)। আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘ক্রয়-বিক্রয় কেবল পারস্পরিক সম্মতিতে অনুষ্ঠিত হয়’ (ইবনু মাজাহ, হা/২১৮৫)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল ও সূদকে হারাম করেছেন’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৭৫)।
অতএব, উভয়ের পারস্পরিক সম্মতি ও চুক্তি অনুযায়ী তা বিক্রি করতে কোন অসুবিধা নেই, হোক তা এক-চতুর্থাংশ বা এক-তৃতীয়াংশ মুনাফায়। তেমনিভাবে, নিজের পণ্যের বিক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকলেও তাতে কোন দোষ নেই। তবে শর্ত হল- ক্রেতার কাছে মিথ্যা বলবেন না যে, ‘অমুককে যত দামে বিক্রি করেছি, তোমাকেও তত দামে দিলাম’, অন্যজনের দামে-ই বিক্রি করলাম, অথচ বাস্তবে তার বিক্রয়মূল্য ভিন্ন। এতে যেন কোন প্রতারণা না থাকে। বাজারমূল্যের বিরোধিতা যেন না হয়। তবে তার উচিত সহনশীলতা ও সন্তুষ্টির গুণ ধারণ করা এবং নিজের জন্য যা পসন্দ করেন তা-ই তাঁর মুসলিম ভাইয়ের জন্যও পসন্দ করা। এতে কল্যাণ ও বরকত রয়েছে। লোভ ও অতিরিক্ত লালসায় না জড়ানো উচিত, কারণ এগুলো সাধারণত হৃদয়ের কঠোরতা, স্বভাবের হীনতা ও চরিত্রের খারাপ দিক থেকে জন্ম নেয়’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৩/৮৮ পৃ.)।
শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, মূল কথা হল- তার উপর দায়িত্ব আছে যেন সে তার ভাইয়ের প্রতি খিয়ানত ও প্রতারণা না করে। যদি বাজারে কোন পণ্যের দাম সস্তা ও পরিচিত হয়, যেমন নির্দিষ্ট কোন পণ্য, খাদ্যসামগ্রী বা বাসনপত্র, তাহলে তার জন্য জায়েয নয় যে সে তার মুসলিম ভাইকে প্রতারণা করে বেশি দামে বিক্রি করবে (ফাতাওয়া নূরুন ‘আলাদ র্দাব ইবনে বায, ১৯/৫৩ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়া,ব ফৎওয়া নং-১৪৩০৬৭, ৫৮০৯৪১)।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতিভাত হয় যে, পরিবেশ-পরিস্থিতিতে রাতে ভাড়া বাড়ানো যায়, যদি উভয় পক্ষ পরস্পর সন্তুষ্ট হয়ে এতে রাজি হয়। তবে এমন পরিমাণ বাড়ানো উচিত নয়, যাতে যাত্রীর উপর যুলুম হয়। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, رَحِمَ اللهُ رَجُلًا سَمْحًا إِذَا بَاعَ وَإِذَا اشْتَرَى وَإِذَا اقْتَضَى ‘আল্লাহ সেই ব্যক্তির উপর রহমত বর্ষণ করুন, যে নম্রতার সাথে ক্রয়-বিক্রয় করে আর পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রেও সহনশীলতা ও সহজতা অবলম্বন করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২০৭৬)।
প্রশ্নকারী : সাজিদ বিন কামাল, কুমিল্লা।